বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অর্থনীতিতে কৃষি

আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় –বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অর্থনীতিতে কৃষি। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অর্থনীতিতে কৃষি

 

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অর্থনীতিতে কৃষি

 

কৃষি প্রধান বাংলাদেশে মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনের জন্য কৃষি বিপ্লবের বিকাশকে রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম মূলনীতি হিসেবে সংবিধানে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এই বিপ্লবকে সফল করার জন্য বিএনপির সাড়ে চার বছরের শাসনকালে দেশের কৃষিব্যবস্থা ও গ্রামীণ অর্থনীতি ধ্বংসের মুখে।

খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা লাভের পরিবর্তে এ বছর খাদ্য ঘাটতি ৪৫ লক্ষ টন হবে বলে আশংকা করা হচ্ছে। এই বিপুল ঘাটতি বিএনপি সরকারের ভ্রাজনীতি, দুর্নীতি ও দলীয়করণের ফল। সার কেলেংকারীর মাধ্যমে বিএনপি সরকার ১৮ জন কৃষককে গুলি করে হত্যা করেছে, সেই ভয়াবহ স্মৃতি দেশবাসী ভুলে যায়নি।

এখন আবার নতুন সার সংকটের অশুভ সংকেত দেখা যাচ্ছে। বস্তুত এই অযোগ্য ও দুর্নীতিবাজ সরকার এ-দেশের কৃষিব্যবস্থার উপর বারবার বিপর্যয় ডেকে এনেছে। কৃষি উপকরণের উপর থেকে ভর্তুকী সম্পূর্ণভাবে উঠিয়ে দেওয়ার হঠকারী সিদ্ধান্ত সবুজ বিপ্লবের সম্ভাবনাকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করেছে।

একইভাবে সরকারী শস্যক্রয়-কার্যক্রম বাতিল করে কৃষক সমাজকে বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেয়া হয়েছে। বাংলার কৃষক এই বেঈমানীর সমুচিত জবাব অবশ্যই যথাসময়ে দেবে।

 

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জন্মলগ্ন থেকেই গ্রাম বাংলার মানুষের পাশে ছিল, আজো আছে। আওয়ামী লীগ দেশের কৃষিব্যবস্থাকে আধুনিক ও আত্মনির্ভরশীল করার জন্য সুচিন্তিত পরিকল্পনার ভিত্তিতে বাস্তবমুখী বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নেয়ার সংকল্প গ্রহণ করেছে-

১. আওয়ামী লীগ কৃষি উপকরণের উপর প্রয়োজনীয় ভর্তুকি দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এ জন্য বৈদেশিক সাহায্য না পাওয়া গেলে নিজস্ব সম্পদ থেকেই এই অর্থের যোগান দেওয়া হবে। দীর্ঘমেয়াদী ব্যবস্থা হিসাবে ভর্তুকি বাঞ্ছনীয় নয়, তথাপি দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এবং বিশেষত কৃষকের ন্যায়সঙ্গত স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির হার ত্বরান্বিত করার জন্য এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

২. খাদ্যশস্যের মূল্যের স্থিতিশীলতা রক্ষা করার জন্য সরকারী খাদ্যশস্য ক্রয় কার্যক্রম জোরদার করা হবে।

৩. সহজশর্তে কৃষি ঋণ কৃষকের নিকট কার্যকর এবং দুর্নীতিমুক্তভাবে পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে। বিশেষত ক্ষুদ্র ও প্রাপ্তিক কৃষকরা যাতে কৃষিঋণ থেকে বঞ্চিত না হয় সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা হবে।

৪. কৃষি উপকরণের যাবতীয় সামগ্রী, যথা- সার, বীজ, ডিজেল, বলদ, যান্ত্রিক বা উন্নতমানের লাঙ্গল, সেচের

ব্যবস্থা, কীটনাশক ঔষধ ইত্যাদির সরবরাহ সহজলভ্য ও নিশ্চিত করা হবে। 

৫. থানা ও ইউনিয়ন ভিত্তিতে কৃষি ভা-ার ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে।

৬. ভূমি সংস্কার আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রধান কর্মসূচী। ১০০ বিঘার উপর জমির সিলিং করার নীতি ও ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা মওকুফ করার নীতি বাস্তবায়ন করে আওয়ামী লীগ ভূমি সংস্কারের প্রথম সোপান রচনা করেছে।

 

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অর্থনীতিতে কৃষি

 

বর্তমানে ভূমিহীন কৃষকদের সংগঠিত করে তাদের বিনা সালামীতে জমি বণ্টন ও অর্থকরী পেশা গ্রহণের সুযোগদানের মাধ্যমে তাদের জীবিকা নির্বাহের উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সত্যিকার ভূমিহীন ও প্রাস্তিকচাষীদের খাসজমির মালিকানা দিতে হবে।

৭. কৃষিভিত্তিক শিল্প কল-কারখানা দ্রুত প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নগর ও গ্রামাঞ্চলের জীবন যাত্রার মানের বৈষম্য ক্রমাগতভাবে দূর করা হবে এবং দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনায় কৃষিব্যবস্থার সঙ্গে শিল্পোন্নয়নের সংযোগ সাধন করা হবে।

Leave a Comment