ইতিহাসের ভূমিকা

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় ইতিহাসের ভূমিকা।

ইতিহাসের ভূমিকা

 

ইতিহাসের ভূমিকা

 

ইতিহাস ও ভূগোলের রয়েছে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক। মানুষের সকল কর্মকান্ডই সংঘটিত হয় ভৌগোলিক পরিমন্ডলে। ভৌগোলিক পরিবেশ প্রভাবিত করে ইতিহাসের ধারাকে। এই ইউনিটে ভারতীয় উপমহাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও বৈশিষ্ট্যাবলী এবং উপমহাদেশের ইতিহাসে এসব বৈশিষ্ট্যের প্রভাব আলোচনা করা হয়েছে। পৃথকভাবে ‘বাংলা’ অঞ্চলের ভূ-প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্যগুলো চিহ্নিত করে বাংলার ইতিহাসে এদের প্রভাব নিয়ে আলোচনা স্থান পেয়েছে প্রথম পাঠে।

ইতিহাস উৎসের ওপর নির্ভরশীল। যেসব উৎসের ভিত্তিতে প্রাচীন ও সুলতানি যুগে ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাস পুনর্গঠন করা হয়েছে তার আলোচনা রয়েছে যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় পাঠে। একই সময়কালে বাংলার ইতিহাসের উৎসসমূহ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে চতুর্থ পাঠে। ইতিহাস পাঠে উৎসের গুরুত্ব সম্পর্কে সম্যক ধারণা জন্মানোর জন্য উৎস সম্পর্কে আলোচনা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। উপমহাদেশ ও বাংলার ইতিহাস বইটি প্রাচীন আর্যসভ্যতা থেকে আরম্ভ করে ১৫২৬ সাল পর্যন্ত্ সময়কে অবলম্বন করে রচিত হয়েছে।

 

এ ভূখন্ডে আমাদের পূর্বপুরুষগণ কখন কিভাবে বসতি স্থাপন শুরু করেছিলেন, কেমন ছিল তাদের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক জীবন, কিভাবে এ অঞ্চলে একদিন জনপদ তথা ছোট ছোট রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল, কিভাবে সেগুলো ভেঙ্গে নতুন নতুন রাজ্য ও সাম্রাজ্য এ অঞ্চলে বিস্তার লাভ করেছিল- সে সম্পর্কে একমাত্র ইতিহাসের এই বইটি পাঠ করেই আপনারা শিখতে পারবেন। ইতিহাস হচ্ছে মানুষের গড়া জীবন ও সমাজের প্রতিচ্ছবি।  আমরা আমাদের সুদূর অতীত ও নিকট অতীত সম্পর্কে ইতিহাস থেকে জ্ঞান লাভ করে বর্তমানকে ভবিষ্যতের জন্য তৈরি করতে পারি।

 

ইতিহাসের ভূমিকা

 

আমাদের সুদূরের অতীত সম্পর্কে জ্ঞাত না হলে আমরা কারা, কেন আমরা পৃথিবীর এই অঞ্চলে বসবাস করছি, আমাদের অতীত জীবন ও সমাজ কেমন ছিল, আমাদের পূর্বপুরুষগণ কিভাবে আমাদের জন্য এই ভূখন্ডে সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলেন, প্রাচীন ও মধ্যযুগে উপমহাদেশ ও বাংলার সমাজ-সংস্কৃতি কিভাবে বিকশিত হয়েছিল- এসব গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞান আমরা অর্জন করতে পারবো না। আমাদের আজকের স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা, সংগ্রাম ও বাস্তবতা সম্পর্কেও সুস্পষ্ট ধারণা পেতে হলে আমাদেরকে এই পর্বের উপমহাদেশ ও বাংলার ইতিহাস সম্পর্কে জ্ঞাত হতে হবে।

Leave a Comment