ইয়াহিয়ার আবির্ভাব [ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল ]

আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় –ইয়াহিয়ার আবির্ভাব। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।

ইয়াহিয়ার আবির্ভাব

 

ইয়াহিয়ার আবির্ভাব

 

আইয়ুব খান বিদায় নিলেন। ইয়াহিয়া খানকে বসিয়ে দেয়া হল। প্রেসিডেন্ট হয়ে বসে পড়লেন আর এক জেনারেল সাহেব। তিনি বললেন, নির্বাচন দিবেন। নির্বাচন দেওয়া হল। আমাদের অনেকে বুঝতে পারলেন না। তারা বড় বড় বক্তৃতা করলেন, প্রশ্ন করলেন কেন আমরা নির্বাচনে যাচ্ছি?

বাংলার মানুষ যে একতাবদ্ধ, এক; বাংলার মানুষ যে বাঁচতে চায়, বাংলার মানুষ যে মুক্তি চায় তার জন্য আমাদের নির্বাচনে যাওয়া প্রয়োজন। তারা একথা বুঝতে পারেন নাই। বুঝতে পারেন নাই, শেখ মুজিব আর আওয়ামী লীগের উদ্দেশ্য কী?আমরা নির্বাচনে গেলাম। আমরা ১৬৯টি সিটের মধ্যে ১৬৭টি সিট ক্যাপচার করলাম। দুনিয়া দেখল, বাংলার মানুষ একতাবদ্ধ।

 

এই প্রথম একতাবদ্ধ। বাংলার মানুষের মধ্যে কনফিডেন্স ফিরে আসল। ইয়াহিয়া খান আঁতকে উঠলেন। শোষকগোষ্ঠী আঁতকে উঠল। তারা আঘাত করার জন্য প্রস্তুত হল। আমরা জনগণকে আন্দোলনের দিকে এগিয়ে নিয়ে গেলাম। আমরা শপথ গ্রহণ করলাম যে, নীতির সঙ্গে কোন আপোস নাই। জনগণ যে ম্যান্ডেট দিয়েছে তা থেকে আমরা সরতে পারি না।তারপরের ইতিহাস চরম ইতিহাস।

ধাপে ধাপে বাংলার মানুষকে এগিয়ে নিতে হয়েছে। ধাপে ধাপে বাংলার মানুষকে আন্দোলন করতে হয়েছে। অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। অনেকে বক্তৃতা করে, বড় বড় তেজি বক্তৃতা। কিন্তু তারা জানে না ১৯৪৭-৪৮ সাল কি ছিল। ১৯৫০, ৫২ সাল কি ছিল। ওরা জানে না, ১৯৫৭-৫৮, ১৯৬২, ১৯৬৫-৬৬, ১৯৬৮-৬৯ ও ‘৭০ সাল কি ছিল। ওদের কারো কারো সে দিন জন্ম হয় নাই।

 

ইয়াহিয়ার আবির্ভাব

 

অনেকে আন্দোলন দেখে নাই। আন্দোলন কাকে বলে জানে না। কোনদিন জীবনে জেলের দরজা দেখে নাই। অবিচারের সামনে পড়ে নাই । আন্দোলন গাছের ফল নয় । আন্দোলন মুখ দিয়ে বললেই করা যায় না। আন্দোলনের জন্য জনমত সৃষ্টি করতে হয়। আন্দোলনের জন্য আদর্শ থাকতে হয়। আন্দোলনের জন্য নিঃস্বার্থ কর্মী থাকতে হয়। ত্যাগী মানুষ থাকা দরকার। আর সর্বোপরি জনগণের সংঘবদ্ধ ও ঐক্যবদ্ধ সমর্থন থাকা দরকার ।

Leave a Comment