ঐতিহাসিক ৫ দফা দাবী

আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় –ঐতিহাসিক ৫ দফা দাবী । যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।

ঐতিহাসিক ৫ দফা দাবী

 

ঐতিহাসিক ৫ দফা দাবী

 

১। অবিলম্বে সামরিক শাসন প্রত্যাহার করতে হবে এবং সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নিতে হবে।

২। অবিলম্বে দেশে মৌলিক অধিকারসহ গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং রাজনৈতিক তৎপরতনা উপর থেকে সকল বিধি-নিষেধ তুলে নিতে হবে।

৩। দেশে অন্য যে-কোন নির্বাচন অনুষ্ঠানের আগেই আগামী শীত মৌসুমের মধ্যে সার্বভৌম জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে হবে এবং সার্বভৌম জাতীয় সংসদের অধিবেশন বসাতে হবে, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে, সকল জাতীয় ইসুতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা সার্বভৌন জাতীয় সংসদের হাতে ন্যস্ত থাকবে, সংবিধান সংক্রান্ত যে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা কেবলমাত্র জনগণের নির্বাচিত সার্বভৌম জাতীয় সংসদেরই থাকবে, অন্য কারো নয়।

৪। রাজনৈতিক কারণে আটক, বিচারাধীন এবং সামরিক আইনে দণ্ডিত সকল রাজনৈতিক নেতা ও কর্মীকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে এবং সকল রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।

৫। মরা ফেব্রুয়ারীতে সংঘটিত ছাত্র হত্যার তদন্ত, বিচার, দোষীদের শাস্তি নিহত ও আহতদের তালিকা প্রকাশ ও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এই জন্য দোষী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার এখতিয়ার তদন্ত কমিটিকে দিতে হবে। শ্রমিক, কর্মচারী, কৃষক, ক্ষেতমজুরসহ সকলের দাবী প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

 

উপরোক্ত ৫ দফা দাবী আদায়ের আন্দোলনকে গণ-আন্দোলনে রূপান্তরিত করার দৃঢ় অংগীকার নিয়ে ১৫ দল যুগপৎ আন্দোলনের ধারার ১লা নভেম্বর ৮০ দেশব্যাপী সকাল ৬টা হতে বিকাল ২টা পর্যন্ত সর্বাত্মক পালনের জন্য সমগ্র দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানালো।

১লা নভেম্বর ৮৩ স্বৈরশাসনের অবসান ও গণতন্ত্রের দাবীতে সারা দেশে স্বতঃস্ফূর্ত হরতাল পালিত হলো। গণআন্দোলনের গতি হলো তীব্রতর। ৫ দফা দাবী পরিণত হলো জাতীয় দাবীতে।

 

ঐতিহাসিক ৫ দফা দাবী

 

১১ই নভেম্বর ৮৩-তে ১৫ দলের একটি শরীক দল, যারা ইতিপূর্বে জনাব মিজান চৌধুরীর প্ররোচনায় মূল সংগঠন থেকে এক সময় চলে গিয়েছিল, আন্দোলনের এই পর্যায়ে বংগবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আস্থা স্থাপন করে জনাব দেওয়ান ফরিদ গাজী, মহিউদ্দিন আহমেদ ও মোজাফ্ফর হোসেন পল্টুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের মূল স্রোতধারার সাথে একীভূত হলো।

Leave a Comment