আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় –পুনরুজ্জীবিত পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের খসড়া ম্যানিফেস্টো ১৯৬৪। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।
পুনরুজ্জীবিত পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের
খসড়া ম্যানিফেস্টো ১৯৬৪

১. রাজনৈতিক আদর্শ
আওয়ামী লীগ গণ প্রতিষ্ঠান। ইহা বিশ্বাস করে যে, রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতা জনগণের হাতে এবং জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি কর্তৃক রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব পরিচালিত হইবে। লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে রচিত না হইলে কোন শাসনতন্ত্র জনগণের নিকট গ্রহণযোগ্য হইবে না। এই শাসনতন্ত্র অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে, শাসনকার্যে এবং দেশরক্ষা ব্যাপারে পাকিস্তানের উভয় অঞ্চলকে পূর্ণ আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন প্রদান করিবে। পাকিস্তানের সংহতি, স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা এইরূপ শাসনতন্ত্রের মাধ্যমেই সম্ভব বলিয়া আওয়ামী লীগ বিশ্বাস করে ।
রাষ্ট্রের সকল প্রতিনিধিত্বমূলক প্রতিষ্ঠান প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের সার্বজনীন ও প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হইবে। ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণী নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিক ১৮ বৎসর বয়সে ভোটাধিকার লাভ করিবে এবং ২১ বৎসর বা তদূর্ধ্ব বয়সের যে কোন ভোটার নির্বাচনপ্রার্থী হইবার অধিকারী হইবে। নির্বাচন স্বাধীনভাবে এবং গোপন ব্যালটভোটে হইবে।শাসনতন্ত্রে আইনসভার প্রাধান্য স্বীকৃত হইতে হইবে; এবং বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা থাকিতে হইবে।
২. মৌলিক অধিকার
নারী-পুরুষ নির্বিশেষে পাকিস্তানের প্রতিটি নাগরিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে স্বীকৃত প্রতিটি মৌলিক অধিকার ভোগের অধিকারী। যথা, নাগরিকদের ধর্ম, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সভ্যতা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু জীবনযাপনের অধিকার ও সুযোগ প্রতিষ্ঠা করিতে হইবে। সকল নাগরিকের মৌলিক প্রয়োজনীয় খাদ্য, বাসস্থান, বস্ত্র, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ন্যায়সঙ্গত উপায়ে উপার্জনের ব্যবস্থা থাকিতে হইবে।আইনের চক্ষে সকলে সমান বলিয়া পরিগণিত হইবে।
৩. ব্যক্তি স্বাধীনতা
পাকিস্তানের প্রতিটি নাগরিককে তাহার জীবনের সর্বক্ষেত্রে পূর্ণ স্বাধীনতা দিতে হইবে- যাহাতে সে স্বীয় প্রতিভা বিকাশের পূর্ণ সুযোগ লাভ করিয়া জাতীয় উন্নতিতে স্বীয় সামর্থ্য অনুসারে অংশগ্রহণ করিতে পারে। মতামত প্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতা, বাক-স্বাধীনতা, বই-পুস্তক, সংবাদপত্র ও প্রচারপত্র প্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতা, সমবেত হইবার ও সংগঠন করিবার স্বাধীনতা থাকিতে হইবে। বিনা বিচারে কাহাকেও আটক রাখা চলিবে না।
একমাত্র যুদ্ধকালীন সময় ব্যতীত অন্য কোন সময়ে এই সকল অধিকার খর্ব করা হইবে না। সর্বোপরি, আওয়ামী লীগ হিন্দু-মুসলিম, বাঙ্গালী-অবাঙ্গালী প্রভৃতি সাম্প্রদায়িক ও শ্রেণীগত বিদ্বেষের সম্পূর্ণ বিরোধী এবং ধর্ম, শ্রেণী, বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সমান অধিকারে বিশ্বাসী ।
৪. অর্থনৈতিক আদর্শ (শিল্প)
আওয়ামী লীগের আদর্শ শোষণহীন সমাজ-ব্যবস্থা কায়েম করা। সমাজতান্ত্রিক সমাজ-ব্যবস্থার মাধ্যমেই বর্তমানের শোষণ, বৈষম্য ও দুর্দশার হাত হইতে মুক্তিলাভ করা সম্ভব বলিয়া আওয়ামী লীগ বিশ্বাস করে। মূল শিল্পগুলিকে, যথা-খনিজ শিল্প, যুদ্ধের অস্ত্র-সরঞ্জাম শিল্প, বিদ্যুৎ ও রাসায়নিক শিল্পকে জাতীয়করণ করিতে হইবে এবং ইহাদের পরিচালনার ভার রাষ্ট্রীয় তত্ত্বাবধানে গঠিত ও পরিচালিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উপর ন্যস্ত করা হইবে।ব্যাঙ্ক, বীমা, গুরুত্বপূর্ণ যানবাহন প্রভৃতি প্রত্যক্ষ জনস্বার্থমূলক প্রতিষ্ঠানগুলিকে আবশ্যকবোধে জাতীয়করণ করা হইবে।
শিল্পে ও ব্যবসায়ে কোন প্রকারের একচেটিয়া অধিকার স্বীকার করা হইবে না। পাকিস্তানে এ যাবৎ কোন সুষ্ঠু শিল্পনীতি কার্যকরী করা হয় নাই। কেন্দ্রীয় সরকারের উচ্চপদসমূহে পশ্চিম পাকিস্তানীদের প্রায় একচেটিয়া অধিকার ও প্রাধান্য বর্তমান। সরকার ব্যক্তিগত শিল্প ও শিল্পপতিকে সাহায্যের নীতি গ্রহণ করায় উক্ত উচ্চপদস্থ কর্মচারীদের সহানুভূতিতে ও পক্ষপাতিত্বে পশ্চিম পাকিস্তানে ব্যক্তিগত শিল্প ব্যাপকভাবে গড়িয়া উঠিয়াছে। তদুপরি, পাবলিক সেক্টরেও সিংহভাগ পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়োজিত হইয়াছে।
ফলে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে পর্বতপ্রমাণ বৈষম্য সৃষ্টি হইয়াছে। এই অবস্থার প্রতিরোধ ও প্রতিকারকল্পে এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে দেশের বিভিন্ন অংশের মধ্যে ন্যায়-নীতি প্রতিষ্ঠা করিবার উদ্দেশ্যে শিল্প ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট (Earmarked) অর্থ পাবলিক সেক্টরে নিয়োজিত করিবার নীতি গ্রহণ করিতে হইবে। এবং পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীকরণের উদ্দেশ্যে দুই অর্থনীতির ভিত্তিতে একটা দীর্ঘকালীন ও কার্যকরী পরিকল্পনা গ্রহণ করিতে হইবে।
শিল্প প্রতিষ্ঠায় বিকেন্দ্রীকরণ নীতি গ্রহণ করিতে হইবে। দেশের বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কারিগরি শিক্ষা-কেন্দ্র ও ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান স্থাপন করিয়া ব্যাপক শিল্প প্রসারের ব্যবস্থা করিতে হইবে।
পাকিস্তানের, বিশেষ করিয়া পূর্ব পাকিস্তানের মত কৃষি-প্রধান দেশে কুটিরশিল্প প্রসারের প্রয়োজনীয়তা, উপযোগ্নিতা ও সাফল্য অনস্বীকার্য। সুতরাং কুটিরশিল্পকে সর্বপ্রকার সাহায্য ও উৎসাহ প্রদান করিতে হইবে। দেশের কেন্দ্রে কেন্দ্রে উহা প্রসারের ব্যবস্থা করিতে হইবে। বর্তমানের কুটিরশিল্পগুলিকে এই উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় সকল প্রকার সাহায্য করিতে হইবে।
৫. কৃষি ব্যবস্থা
কৃষি উন্নয়নের জন্য যে সব স্বভাবজাত উপাদানের প্রয়োজন, পাকিস্তান-বিশেষ করিয়া পূর্ব পাকিস্তান সেই সকল উপাদানে ঐশ্বর্যমণ্ডিত। কিন্তু স্বভাবজাত প্রাচুর্যের মধ্যেও এদেশের কৃষকেরা দারিদ্র্যের নিষ্পেষণে জর্জরিত। এই অবস্থা প্রতিকারের এবং আমাদের কৃষকদের জীবনের মান সুষ্ঠু পর্যায়ে আনয়নের উদ্দেশ্যে এক ব্যাপক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও কার্যকরী করিতে হইবে।
সমবায় পদ্ধতিতে আমাদের দেশে চাষাবাদের (Co-operative Cultivation) প্রচলন করিতে হইবে। পূর্ব পাকিস্তানে প্রতি কৃষকের জমি গড়ে এত ক্ষুদ্র এবং তাহাও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খণ্ডে দুভাগ যে, সমবায় পদ্ধতির চাষাবাদ ব্যতীত এখানে কৃষি উন্নয়নের অন্য কোন উপার নাই। কৃষি ব্যাঙ্কের, কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের এবং অন্যান্য কৃষি ঋণের টাকা কৃষকদিগকে ব্যক্তিগতভাবে বিতরণ না করিয়া সমবায় পদ্ধতির কৃষির জন্য উহা ব্যয় করা উচিত।
ইহার ফলে কৃষকদের প্রধান সমস্যা-মূলধন সমস্যার সমাধান সম্ভব হইবে। সমবায় পদ্ধতিতে কৃষি ব্যবস্থার ফলে আধুনিক কৃষি-যন্ত্রপাতি ক্রয়, উন্নত বীজ ক্রয় এবং উৎপাদিত ফসলের সংরক্ষণ ও বিক্রয়ের ব্যবস্থা সহজ হইবে।আধুনিক কৃষি ব্যবস্থার সর্বপ্রকার যন্ত্রপাতি পূর্ব পাকিস্তানে প্রস্তুত করিবার জন্য কারখানা স্থাপন করিতে হইবে। উন্নত ধরনের বীজ সরবরাহের, জমিতে সার প্রদানের ও সেচ ব্যবস্থার সর্বপ্রকার ব্যবস্থা করিতে হইবে। সরকার কর্তৃক পর্যাপ্ত সংখ্যায় আদর্শ ফার্ম (Model Firm) পরিচালিত করিয়া কৃষকদিগকে কৃষি উন্নয়নের আধুনিক পন্থা প্রদর্শন করিতে হইবে।
পাট ব্যবসা :
পাট ব্যবসা জাতীয়করণ করিতে হইবে। সরকারী তত্ত্বাবধানে গঠিত ও পরিচালিত একটা পাট ক্রয়, পাট রফতানীকারী ও প্রতিষ্ঠানের পর্যাপ্ত সংখ্যক শাখার মাধ্যমে কৃষকদের পাট সরাসরিভাবে খরিদ ব্যবস্থা করিতে হইবে। এই প্রতিষ্ঠানের মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্য (Profit Making Motive) থাকিবে না।
তবে পাট বিক্রয় ও রফতানীর মাধ্যমে যে মুনাফা দাঁড়াইবে, উহা পাট চাষীদের কল্যাণে এবং পাটজাতদ্রব্য উৎপাদনের গবেষণায় ও শিল্প প্রতিষ্ঠায় ব্যয় করা হইবে। পাট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের যে ব্যবস্থা এতদিন আংশিকভাবে করা হইয়াছিল, তাহা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হইয়াছে। পাট ব্যবসা জাতীয়করণের জন্য একটা সুষ্ঠু ও সামগ্রিক পরিকল্পনার আবশ্যক। উপরোক্ত প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় মূলধন থাকিতে হইবে যাহাতে উহা দেশের সমস্ত পাট ক্রয় করিতে সক্ষম হয়।
খাজনা ও কর :
সর্বোপরি, কৃষকদের উপর হইতে বিভিন্ন করের বোঝা কমাইতে হইবে। যেসব কৃষকের জমি ২৫ বিঘা বা তন্নিয়ে, তাহাদের জমির উপর অন্তত ২৫ বৎসর কাল কোন কর ধার্য করা হইবে না।
৬. বন্যানিয়ন্ত্রণ
সাম্প্রতিককালে পাকিস্তানে বন্যা একটা জাতীয় সংকটরূপে দেখা দিয়াছে। পূর্ব পাকিস্তানে বর্ষার শুরুতে উত্তরের নদীপথে বন্যা আসিয়া এক ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি করে; আবার সামুদ্রিক বন্যা ও লবণাক্ত পানি চট্টগ্রাম, বরিশাল, নোয়াখালী ও খুলনায় ফসল ধ্বংস করে। বন্যা রোধ করিবার জন্য ক্রুগ মিশনের ও পরিবর্তনকালীন উপদেষ্টাদের মতামতের আলোকে একটা সুষ্ঠু ও কার্যকরী পরিকল্পনা মতে সত্ত্বর কাজে হাত দিতে হইবে।
পশ্চিম পাকিস্তানের সিন্ধু উপত্যকার জলসেচ সমস্যা যেভাবে জাতীয় বিশেষ সমস্যারূপে গৃহীত হইয়াছে, পূর্ব পাকিস্তানের বন্যা সমস্যাও সেইভাবে জাতীয় বিশেষ সমস্যারূপে গ্রহণ করিয়া এই সমস্যার সমাধান করিতে হইবে।
৭. শ্রমিকদের অধিকার
আন্তর্জাতিক শ্রমিক-সংস্থার (ILO) গৃহীত সুপারিশ ও কনভেনশনের ভিত্তিতে শ্রমিকদের সকল প্রকার অধিকার ও সুযোগ-সুবিধামূলক আইন প্রণয়ন করিয়া প্রত্যেক শ্রমিকের সুষ্ঠু জীবন-যাপনের ব্যবস্থা করিতে হইবে।
প্রত্যেক শ্রমিকের উপযুক্ত বেতন ও ভাতার ব্যবস্থা করিতে হইবে। তাহাদের চাকুরীর নিরাপত্তা প্রদান করিতে হইবে। শ্রমিকদের ও শ্রমিক পরিবারের জন্য বিনা ভাড়ায় বাসযোগ্য গৃহের বন্দোবস্ত করিতে হইবে। বিনা ব্যয়ে তাহাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করিতে হইবে, পীড়িতকালে শ্রমিকদের পূর্ণ বেতনে ছুটির ব্যবস্থা থাকিবে।
পূর্ণ বেতনে বৎসরে অন্তত এক মাস প্রত্যেক শ্রমিকের ছুটির ব্যবস্থা করিতে হইবে।শ্রমিকদিগকে উন্নত ধরনের কারিগরি শিক্ষার ব্যবস্থা করিতে হইবে। তাহাদের ছেলেমেয়েদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষাব্যবস্থা (মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত) করিতে হইবে।শ্রমিকসংঘ গঠনের ও ধর্মঘট করিবার অধিকার স্বীকার করিতে হইবে। ক্রমবর্ধমান বেকার সমস্যা সমাধানের জন্য একটা সুষ্ঠু ও ব্যাপক পরিকল্পনা কার্যকরী করিতে হইবে।

৮. শিক্ষা
পাকিস্তানের প্রত্যেক নাগরিকের শিক্ষার অধিকারকে বাস্তব রূপ দানের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক করিতে হইবে; মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এরূপ ব্যাপকভাবে প্রসারিত ও এরূপ সহজলভ্য ও সুলভ করিতে হইবে যাহাতে প্রতিটি দরিদ্র নাগরিকের ছেলেমেয়েও এই শিক্ষা লাভের সুযোগ গ্রহণ করিতে পারে।
যুগের ও দেশের চাহিদানুসারে কারিগরি শিক্ষার ব্যাপক প্রসার করিতে হইবে, এই জন্য দেশে পর্যাপ্ত কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের এবং বিদেশে ট্রেনিং প্রাপ্তির ব্যবস্থা করিতে হইবে। বিশ্ববিদ্যালয়সমূহকে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানরূপে বাস্তব স্বীকৃতি প্রদান করিতে হইবে। একজন সুপ্রতিষ্ঠি শিক্ষাবিদ বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর থাকিবেন। সরকারের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ হস্তক্ষেপের ফলে বিশ্ববিদ্যালয় – অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেসব দমনমূলক আইন প্রবর্তন করা হইয়াছে, সেইসব বাতিল করিতে হইবে।”
৯. বাংলা ভাষা
শিক্ষার সর্বস্তরে বাংলাকে শিক্ষার মাধ্যম করিতে হইবে এবং পাকিস্তানের সরকারী ও বেসরকারী সকল প্রতিষ্ঠানে কার্যে বাংলা ভাষা চালু করিতে হইবে।
১০. মোহাজের
বাস্তহারা মোহাজেরদের স্থায়ী পুনর্বাসনের জন্য যথেষ্ট সংখ্যক উপ-শহর (Satellite Towns) স্থাপন করিতে এবং মোহাজেরদের কর্মসংস্থানের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক ছোট-বড় শিল্প সত্ত্বর গড়িয়া তুলিতে হইবে। কার্যকরী করিবার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে একটা ব্যাপক পরিকল্পনা সত্ত্বর কার্যকরী করিতে হইবে।
১১. বৈদেশিক সম্পর্ক
সকল রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্ব, হিংসা কারো বিরুদ্ধে নহে (Friendship to all, Malic to non) আওয়ামী লীগ বৈদেশিক সম্পর্কে এই নীতিতে বিশ্বাস করে।বিশ্ব শান্তির প্রচেষ্টায় আওয়ামী লীগ সহযোগিতা প্রদান করিবে। বৈদেশিক সম্পর্ক অনড় (Static) থাকিতে পারে না, উহা সচল ও পরিবর্তন সাপেক্ষ (Dynamic) এই সত্য উপলব্ধি করিয়া আওয়ামী লীগ আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বাস্তবাদে বিশ্বাসী। তবে বৈদেশিক সম্পর্কের ব্যাপারে পাকিস্তানের নিরাপত্তা ও মর্যাদার দৃষ্টিকোণ থেকে স্বাধীননীতি গ্রহণে আওয়ামী লীগ বিশ্বাসী।
