অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি

আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় – অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি

 

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি

 

স্থানীয় সরকার

ক্ষমতার বিকেন্দ্রায়ন করে ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পরিষদকে শক্তিশালী করা হবে। জেলা পরিষদকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইন-শৃঙ্খলা ও সকল প্রকার উন্নয়নমূলক কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে । প্রতিটি ইউনিয়ন সদরকে স্থানীয় উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু, পরিকল্পিত পল্লী জনপদ এবং উপজেলা সদর ও বর্ধিষ্ণু শিল্পকেন্দ্রগুলোকে শহর-উপশহর হিসেবে গড়ে তোলা হবে। সিটি কর্পোরেশন ও অন্যান্য পৌরসভার ক্ষমতা ও দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধি এবং স্বচ্ছ-জবাবদিহিতামূলক গণতান্ত্রিক পরিচালন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। পৌর সেবা ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং যথাযথ মান উন্নয়ন করা হবে।

কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন

  • আমাদের মূল লক্ষ্য ‘সবার জন্য খাদ্য’ নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ২০১৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে পুনরায় খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা হবে। কৃষি উপকরণে ভর্তুকি বৃদ্ধি, কৃষি উপকরণ সহজলভ্য করা ও কৃষি ঋণের আওতা বৃদ্ধি এবং প্রাপ্তি সহজীকরণ করা হবে। ফসল সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়া
  • হবে। ফসল ও সকল কৃষিজাত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। মাছ, দুধ, ডিম, মুরগি, গবাদি পশু ও লবণ উৎপাদনের ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। দেশীয় চাহিদা পূরণ করে, উদ্বৃত্ত পণ্য রফতানির লক্ষ্য অর্জনের প্রচেষ্টা নেয়া হবে।
  • বর্গাচাষীদের জন্য ঋণ, ক্ষেতমজুরদের কর্মসংস্থান ও তাদের পল্লী রেশনের আওতায় আনা হবে। বাণিজ্যিক কৃষি, জৈব প্রযুক্তি, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, গ্রামীণ অকৃষিজ খাতের উন্নয়ন এবং বিশ্বায়ন মোকাবিলায় উপযুক্ত কর্মকৌশল গ্রহণ করা হবে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষির আধুনিকায়ন, প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং কৃষি গবেষণার সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হবে।
  • পল্লী উন্নয়নে নাগরিক সুযোগ-সুবিধার পরিধি বিস্তৃত করা হবে। ভূমিহীনদের মধ্যে খাসজমি বিতরণ এবং খাস জলাশয় ও জলমহাল প্রকৃত মৎস্যজীবীদের বন্দোবস্ত দেয়া হবে। সমুদয় জমির রেকর্ড কম্পিউটারায়ন করা হবে এবং জমি, জলাশয়ের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও সামাজিক ন্যায় বিচারের লক্ষ্যে ভূমি সংস্কার কমিশন গঠন করা হবে।
  • উপকূলীয় অঞ্চলে পরিকল্পিতভাবে ভূমি উদ্ধারের ব্যবস্থা করা হবে।

 

পরিবেশ ও পানি সম্পদ

বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাব থেকে রক্ষা, দূষণমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলা এবং পানিসম্পদ রক্ষায় সমন্বিত নীতি ও পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। নদী খনন, পানি সংরক্ষণ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদী ভাঙন রোধ, বনাঞ্চল ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ ও লবণাক্ততা রোধ ও সুন্দরবনসহ অববাহিকা অঞ্চলের মিঠা পানি প্রাপ্তি সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে গঙ্গা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পরিবেশ ও পানিসম্পদ রক্ষায় কার্যকর আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গড়ে তোলা হবে।

পানি ও বায়ু দূষণ রোধ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিক বিজ্ঞানসম্মত ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হবে। ভূ- উপরিস্থিত পানির যুক্তিসঙ্গত ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।

শিল্প-বাণিজ্য

  • দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থানের জন্য দ্রুত শিল্পায়নের লক্ষ্যে ব্যবস্থাপনার দক্ষতা বৃদ্ধি, পুঁজিবাজারের দ্রুত বিকাশ, আইন-শৃঙ্খলা, ঘুষ-দুর্নীতি, প্রশাসনিক জটিলতা এবং রাজনৈতিক পোষকতামুক্ত, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, প্রতিযোগিতামূলক বাজার ব্যবস্থা, উদ্ভাবনী প্রযুক্তি, ভৌত অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা, উদ্যোক্তা শ্রেণীকে আকৃষ্ট করতে সক্ষম এবং অভ্যন্তরীণ বাজার সম্প্রসারণ প্রভৃতি নীতিমালা সংবলিত স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি প্রেক্ষিত পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হবে।
  • দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী এবং প্রবাসী বাঙালিদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হবে। বিনিয়োগকারীদের জন্য আনুষ্ঠানিকতা ও আইনি জটিলতা সহজিকরণ করে ওয়ান স্টপ সার্ভিস কার্যকর করা হবে। দেশীয় শিল্পের সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হবে।
  • আইটি শিল্পের উন্নয়ন, পোশাক ও টেক্সটাইল খাতকে শক্তিশালী করা, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, ওষুধ, চামড়া, রাসায়নিক দ্রব্য, খেলনা, জুয়েলারি ও আসবাবপত্র শিল্পের বিকাশকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। পাটের বিকল্প ব্যবহার ও পাট শিল্পকে লাভজনক করতে নেয়া হবে বিশেষ উদ্যোগ ।

 

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি

 

  • ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির শিল্পের বিকাশে সহায়তা দান, তাঁত শিল্প রক্ষা ও রেশম, বেনারসি ও জামদানি পল্লী গড়ে তোলাসহ তাঁতী, কামার, কুমার ও মৃৎ শিল্পীদের বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া হবে। আখ চাষ ও চিনি। শিল্পসহ কৃষিনির্ভর শিল্পকে উৎসাহিত করা, বাজার সৃষ্টি ও রফতানিতে সর্বতোভাবে সহযোগিতা দেয়া হবে। পর্যটন খাতে বিকাশ, জনশক্তি রফতানি বৃদ্ধি এবং প্রবাসীদের প্রেরিত রেমিটেন্সের উৎপাদনশীল বিনিয়োগ নিশ্চিত করা হবে।

Leave a Comment