আমাদের আজকের আলোচনার বিষয়ঃ চট্টগ্রাম সেক্টর। যা ” দ্য বিট্রেয়াল অব ইস্ট পাকিস্তান- এ এ কে নিয়াজি” বইয়ের অংশ।
চট্টগ্রাম সেক্টর

চট্টগ্রাম সেক্টর
ভারতীয়রা পূর্ব পাকিস্তানে তাদের এয়ার ক্র্যাফট মোতায়েন করেছিল। আমাদের সাবমেরিন ‘গাজী’ চুপি চুপি এ বিমানবাহী জাহাজ ‘বিক্রম’-এর তলদেশে পৌঁছে যায়। খবরে জানা গেছে যে, ‘গাজী’ এতো নিচে ডুব দেয় যে, এটি ভেসে উঠতে বার্থ হয়।
কিছু কাগজপত্র ও যন্ত্রপাতি ভেসে ওঠা নাগাদ এর অস্তিত্ব টের পাওয়া যায় নি। ১৯৬৫ সালের যুদ্ধে ‘গাজী’ অত্যন্ত চমৎকার লড়াই করেছিল। তখন এর কমান্ডার ছিলেন কারামত নিয়াজী, যাকে সিতারা-ই-জুরাত’ পুরস্কার দেওয়া হয় এবং পরে তিনি নৌবাহিনী প্রধান হন।
চট্টগ্রাম রক্ষা করছিল আমাদের নৌ সেনা এবং ব্রিগেডিয়ার আতা মোহাম্মদ মালিকের নেতৃত্বাধীন একটি এডহক ব্রিগেড। মালিক চট্টগ্রাম বন্দর দখলে শত্রুর প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেন এবং তাদের সৈন্যদের আটকে রাখেন। শেষ দিন পর্যন্ত তিনি আত্মসমর্পণ করেন নি।
ব্রিগেডিয়ার তাসকীন আরেকটি এডহক ব্রিগেডের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। এ এডহক ব্রিগেডে কমান্ডো, স্থানীয় চাকমা উপজাতি ও আসামের মিজোরাও ছিল।ফেনী নদী থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি এবং ফেনী পর্যন্ত ছিল ‘সেক্টর নং ১’।
১৯৭১ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত এই সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান এবং জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত কমান্ডার ছিলেন মেজর রফিকুল ইসলাম। তারা ভারতীয়দের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের শহরগুলো দখল করতে দেয় নি এবং তারা ভারতীয় কিলো ফোর্সের উল্লেখযোগ্য ক্ষতিসাধন করেছিলেন।কক্সবাজারে ভারতীয়রা একটি উভচর হামলা চালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু তাদের এ হামলা ব্যর্থ হয়।

ভারতীয়রা যে ব্যাটালিয়ন নিয়ে এ হামলা চালিয়েছিল সেই ব্যাটালিয়নের মাত্র ১২ জন অবতরণে সক্ষম হয়েছিলেন। ২ জন পানিতে ডুবে মারা যায়। এভাবে এ অভিযান নিষ্ফল হয়। পার্বত্য চট্টগ্রামে তৎপর ভারতীয় কিলো ফোর্স কোনো উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে নি।
