চীনা প্রভাব

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয়ঃ চীনা প্রভাব। যা ” দ্য বিট্রেয়াল অব ইস্ট পাকিস্তান- এ এ কে নিয়াজি” বইয়ের অংশ।

চীনা প্রভাব

 

চীনা প্রভাব

 

চীনা প্রভাব

জুলফিকার আলী ভুট্টো চীন সফর করেন ১৯৭১ সালের নভেম্বরের প্রথম দিকে। একটি সামরিক-রাজনৈতিক প্রতিনিধি দলের প্রধান হিসেবে এবং ৭ই নভেম্বর চীনা প্রধানমন্ত্রী চৌ এন লাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ করেন।

চীনের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার জন্য ভারতকে অভিযুক্ত করেন। তিনি বলেন যে, চীন সরকার পাকিস্তানের অখণ্ডতা রক্ষায় পাকিস্তান সরকারের ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন দেবে।”

চীনের এ ঘোষণা ভারতীয় পরিকল্পনাবিদদের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে। ‘পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে একটি আঁতাতের সম্ভাবনা মাথায় রেখেই ভারতীয়রা তাদের পরিকল্পনা প্রণয়ন করে। এভাবে সময় ও সংখ্যা উভয় নিরিখে চীনের বিরুদ্ধে মোতায়েন অতিরিক্ত ফরমেশনগুলো বিচক্ষণতার সাথে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়’ (ইন্ডিয়ান ওয়ারস সিন্‌স ইনডেপেনডেন্স : মেজর জেনারেল খুসবন্ত সিং, ডেপুটি ডিরেক্টর, মিলিটারি অপারেশন, ভারত)।

ভুট্টোর চীন সফরকালে ইয়াহিয়া খানের বিরুদ্ধে একটি সামরিক অভ্যুত্থান ঘটানোর ষড়যন্ত্র করা হয়। চিফ অব জেনারেল স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল গুল হাসান, এয়ার মার্শাল রহিম খান এবং আরো কয়েকজন ছিলেন এ ষড়যন্ত্রের মূল হোতা। জেনারেল হামিদের সাথে আমার আলোচনাকালে আমি জোর দিয়ে বলি যে, পশ্চিম রণাঙ্গনে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করা উচিত হবে না।

 

কারণ, আমরা ভারতের সাথে সীমিত লড়াই করতে চাই। ভারতও বিশ্বের কাছে আগ্রাসী হিসেবে চিহ্নিত হতে চায় না বলে সীমিত যুদ্ধই চায়। যুদ্ধে চীনের সম্ভাব্য হুমকির ব্যাপারে ভারত উদ্বিগ্ন। ৩রা ডিসেম্বর পর্যন্ত আমরা কোনো উল্লেখযোগ্য। ভূখণ্ড হারাই নি।

আমাদেরকে অবহিত করা ছাড়াই পাকিস্তান ১৯৭১ সালের ৩রা ডিসেম্বর ভারত আক্রমণ করে। ভারতীয় বিমান বাহিনী সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং আমাদের চলাচল ও বিমানসহায়তা বিধ্বস্ত করে দেয়। ভারতীয় নৌবাহিনী নৌ অবরোধ আরোপ করে। ফলে আমরা কেন্দ্র (পশ্চিম পাকিস্তান) থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাই। রুশরা প্রকাশ্যে যুদ্ধে ভারতের পক্ষে অবস্থান নেয়।

আমি জেনারেল হামিদকে জানাই যে, আমরা পশ্চিম পাকিস্তান থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছি। সমুদ্র ও আকাশ পথ অবরোধ করা হলে আমরা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন ও পরিত্যক্ত হয়ে পড়ব। তখন তিনি আমাকে জানান যে, আমাকে বিচ্ছিন্ন অথবা পরিত্যক্ত হতে হবে না।

কেন্দ্র আমাকে পরিচালনা করবে এবং ‘ঘোরা পথ’ (চীন ও তিব্বতের ওপর দিয়ে)-এর মাধ্যমে আমার সাথে যোগাযোগ বজায় রাখবে। ভারতীয়রা অবরোধ আরোপ করার পর আমি জেনারেল হামিদের সাথে ‘ঘোরা পথ’ ব্যবহারের প্রসঙ্গে উত্থাপন করি।

তিনি বললেন, ‘দুঃখিত নিয়াজি। আমরা ঐ রুট ব্যবহার করতে পারছি না। আপনাকে এখন নিজের ওপর নির্ভর করতে হবে। আপনার যা আছে তাই নিয়ে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে — আপনার মঙ্গল হোক। এভাবে আমি যুদ্ধের মাঝপথে একেবারে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ি।

আমাকে পরাজিত করার পরিকল্পনা অনুযায়ী পশ্চিম রণাঙ্গনে অপ্রয়োজনীয়, অনাহুত ও নির্বোধ যুদ্ধ শুরু করা হয় এবং আমাকে পরিত্যাগ করা হয়। তাদের অশুভ উদ্দেশ্য জেনেও আমি বাইরের সাহায্য ছাড়াই ভারতীয় সৈন্যদের সাথে। লড়াই করার জন্য আমার সৈন্যদের প্রস্তুত করি। অঘোষিত যুদ্ধ শেষকালে।

 

চীনা প্রভাব

 

ঘোষিত যুদ্ধে রূপ নেয়। তবে এতে ইচ্ছাকৃতভাবে ১৩ দিন দেরি করা হয়। পূর্বাঞ্চলীয় গ্যারিসনকে পরিত্যাগ করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এ বিলম্ব করা হয়। এতে রুশদের সাহায্য নিয়ে ভারতীয়রা সর্বাত্মক হামলা চালানোর জন্য সময় পায় অনেক।

Leave a Comment