দুর্নীতি দমন এর ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ

আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় –দুর্নীতি দমন এর ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।

দুর্নীতি দমন এর ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ

 

দুর্নীতি দমন এর ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ

 

আজ সত্য কথা বলতে কি আমাদের একটা কথা মনে রাখা দরকার। আওয়ামী লীগ কর্মারা, কোথায় যেন গোড়ায় একটু গলদ রয়ে গেছে। মানুষ এতো অর্থের জন্য পাগল হয়েছে কেন? শুধু টাকা কামাই করবে কি করে, এই চেষ্টা। একদিন হাসতে হাসতে বললাম যে, বাংলার কৃষক, বাংলার দুঃখী মানুষ এরা কিন্তু অসৎ নয়। ব্ল্যাকমার্কেটিং করে। এজারি রাখা করবেন না। আপনারা শিক্ষিত, বুদ্ধিমান, চিন্তাশীল, বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায় আছেন, আপনারা রাগ করবেন না।

ব্ল্যাকমার্কেটিং কারা করে? যারা বেশী লেখা-পড়া করছে তারা বেশী করে। হাইজ্যাকিং কারা করে? যারা বেশী। লেখা-পড়া শিখছে তারাই করে। ইন্টারন্যাশনাল স্মাগলিং তারাই করে। বিদেশে টাকা রাখে তারাই। আমরা যারা শিক্ষিত, আমরা যারা বুদ্ধিমান ঔষধের মধ্যে ভেজাল দিয়ে বিষাক্ত করে মানুষকে খাওয়াই তারাই। নিশ্চয়ই গ্রামের লোক এসব পারে না। নিশ্চয় আমার কৃষক ভাইরা পারে না। নিশ্চয় আমার শ্রমিক ভাইরা পারে না। পেটের মধ্যে যাদের বুদ্ধি বেশী আছে তারাই ব্ল্যাক-মার্কেটিয়ার।

আর বিদেশী এজেন্ট কারা হয়। নিশ্চয়ই আমার কৃষক নয়, নিশ্চয়ই আমার শ্রমিক নয়। আমরা যারা লেখা-পড়া শিখি, গাড়ীতে চড়ি, বিদেশে যাবার পারি, বিদেশীদের সঙ্গে মিশতে পারি, ভাল স্যুট পরতে পারি তারাই বাংলার মানুষের বিরুদ্ধে বিদেশের এজেন্ট হই।মহাবিপদের মধ্যে আছি আমরা। আপনারা যাঁরা বুদ্ধিজীবী, শিক্ষিত, যাঁরা দেশকে নেতৃত্ব দেন তাদের কর্তব্য হবে আত্মসমালোচনা করা ।

 

আর আওয়ামী লীগের সহকর্মী ভাইয়েরা তোমরা ব্ল্যাক-মার্কেটিয়ারদের পিছনে লাগো।হোর্ডারদের পিছনে লাগো। ঘুষখোরদের পেছনে লাগো। তোমরা আমার কথায় আগেও লেগেছো, এখনো লাগো। শুধু আইন দিয়ে, শুধু শক্তি দিয়ে দুর্নীতি দমন করা যায় না।এজন্য এমনভাবে জনমত সৃষ্টি করতে হবে, যেমনভাবে ১লা মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত জনমত সৃষ্টি করে আমরা আন্দোলন করেছিলাম। যেমনভাবে ২৫শে মার্চ থেকে ন’মাস পর্যন্ত জনমত সৃষ্টি করে স্বাধীনতা সংগ্রাম করেছিলাম। তেমনি বাংলার মাটিতে জনমত সৃষ্টি করতে হবে—দুর্নীতিবাজ, ঘুষখোর ও শোষকদের বিরুদ্ধে। আমি বিশ্বাস করি তা’হলে বাংলাদেশ থেকে দুর্নীতি উঠে যাবে ।

গণঐক্য জোট করেছেন আপনারা। আওয়ামী লীগের সঙ্গে কমিউনিস্ট পার্টি ও ন্যাপ আছে। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের সাথে কর্মী আছে পাঁচটি গ্রুপের- আওয়ামী লীগ, শ্রমিক লীগ, কৃষক লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ। আমি মাঝে মাঝে খবর পাই ভুল বোঝাবুঝি হয়। কোন ভুল বোঝাবুঝি হতে পারবে না। সবার সাথে আলোচনা করে নিয়ে আপনাদের পাঁচ গ্রুপকে এক সাথে কাজ করতে হবে। আপনারা কাজ করছেন দেশের মানুষের মঙ্গলের জন্য।

 

দুর্নীতি দমন এর ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ

 

সেইজন্য সংঘবদ্ধভাবে বসে আলোচনা করে আপনাদের কাজ করতে হবে। কারণ, আদর্শ আপনাদের এক। নেতৃত্ব আপনাদের এক। কর্মী আপনারা এক। সম্মুখে রাস্তা আপনাদের এক। গভর্নমেন্ট আপনাদের এক ।

Leave a Comment