আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় পরিবেশ নারীবাদ – যা রাজনৈতিক আন্দোলনে বাংলার নারী |
পরিবেশ নারীবাদ

পরিবেশপ্রধান নারীবাদ (Ecofeminism) শব্দটি প্রথম পাওয়া যায় ফরাসী নারীবাদী ফ্রাঁসোয়া দোবান-এর Feminism or Death গ্রন্থে। এই গ্রন্থে তিনি দেখিয়েছেন নারীর মধ্যেই রয়েছে পরিবেশবাদী আন্দোলন গড়ে তোলার ক্ষমতা।
পরিবেশপ্রধান নারীবাদীদের প্রধান বক্তব্যগুলি হচ্ছে :
১) পিতৃতান্ত্রিক মতবাদ নারীকে প্রকৃতির সাথে এবং পুরুষকে সংস্কৃতির সাথে সংশ্লিষ্ট করে ব্যাখ্যা করে এবং এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে যেহেতু সংস্কৃতি প্রকৃতির চাইতে উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন তাই পুরুষ নারীর চাইতে উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন।
২) নারী এবং প্রকৃতি উভয়ই সমভাবে আধিপত্য ও নিপীড়নের শিকার হয়।
৩) নারী প্রকৃতিকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
৪) নারীবাদী ও পরিবেশবাদী উভয়ের লক্ষ্য বৈষম্যহীন সমতার সমাজ প্রতিষ্ঠিত করা।
পরিবেশ-নারীবাদীদের মতে, প্রকৃতির অস্তিত্ব ব্যতীত যেমন মানব অস্তিত্ব মূল্যহীন তেমন মানবসমাজেও নারীর অস্তিত্ব ছাড়া পুরুষের অস্তিত্ব মূল্যহীন। নারীর অস্তিত্বকে অমৌলিক বিষয় হিসেবে গৌণ এবং পুরুষ অস্তিত্বকে মৌলিক বিষয় হিসেবে মুখ্য বলে বিবেচনা করার পুরুষতান্ত্রিক ধারণাটিকেই পরিবেশ নারীবাদীরা বর্জন করেন।” পরিবেশ-নারীবাদী ড. ওয়ারেন-এর মতে যেভাবে মানুষের আধিপত্য বিস্তৃত হয় একইভাবে পুরুষকর্তৃক নারীর উপর আধিপত্যের বিস্তার ঘটে।
পরিবেশ-নারীবাদীরা অভিমত প্রকাশ করেন যে, গৃহে নারীর যে ভূমিকা, সন্তান জন্মদান, লালন-পালন ও গৃহস্থালি কার্যাদি তাতে নারী প্রকৃতির সঙ্গে ঘনিষ্টভাবে সম্পর্কযুক্ত থাকে, ফলে যে কোন প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও প্রাকৃতিক পরিবর্তনের প্রভাব নারীর উপর সর্বাধিক পরে। পরিবেশ-নারীবাদীরা এ কারণে পরিবেশবাদী আন্দোলনে নারীর ভূমিকার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

পরিবেশবাদী তাত্ত্বিক মারিয়ামিজ দেখিয়েছেন কীভাবে সারা পৃথিবীতে ভাষাগত বা সাংস্কৃতিক পার্থক্য সত্ত্বেও পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনে নারীরা সক্রিয়
অংশগ্রহণ করে। পরিবেশবাদী নারীবাদ নারীর বৈষম্য দূরিভূত করার কথা বলে, তবে দেখা যায় শেষ পর্যন্ত গৃহস্থালীর ভূমিকাকেই নারীর স্বাভাবিক দায়িত্ব হিসেবে চিহ্নিত করে নারীর অধস্তন অবস্থাকেই স্বীকার করে নেয়।
