আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় –ইউনিয়ন/প্রাথমিক কমিটি। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।
ইউনিয়ন/প্রাথমিক কমিটি

ষোড়শ ধারা
(১) বাংলাদেশের প্রতিটি ইউনিয়নে দলের প্রাথমিক- কমিটি গঠিত হইবে।
(২) (ক) দেশের কলকারখানা, শিল্প-সংস্থা, কৃষি-প্রতিষ্ঠান ও খামার, সমবায় সমিতি, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানভুক্ত দলীয় সকল সদস্য লইয়া সমবেতভাবে বা পৃথক পৃথকভাবেও প্রাথমিক -কমিটি গঠিত হইতে পারে।
(খ) চেয়ারম্যানের অনুমোদন সাপেক্ষে বিভিন্ন সরকারী বা আধা-সরকারী দফতর বা প্রতিষ্ঠান, কর্পোরেশন, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা এবং সামরিক ও বেসামরিক বাহিনীসমূহে দলের প্রাথমিক -কমিটি গঠিত হইতে পারে । কার্যনির্বাহী কমিটি এই সকল প্রাথমিক- কমিটির সর্বোচ্চ সদস্য সংখ্যা নির্ধারণ করিয়া দিবে। (গ) দলের অন্যূন পাঁচজন পূর্ণ সদস্য লইয়া প্রাথমিক- কমিটি গঠিত হইবে।
(ঘ) পূর্ববর্তী (খ) দফায় বর্ণিত যে সকল সরকারী, আধা-সরকারী প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানে ও বাহিনীতে প্রাথমিক- কমিটি গঠিত হইবে সেই সকল প্রতিষ্ঠানের কার্য পরিচালনায় ও প্রশাসনে যাহাতে দলের নীতি ও উদ্দেশ্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণভাবে কমিটির সক্রিয় প্রভাব প্রতিফলিত হয় এবং কর্মে সততা ও বিশ্বস্ততা, আইনানুগতা, দক্ষতা, নিয়মানুবর্তিতা ও উদ্যমশীলতার সঞ্চার হয় এবং আমলাতান্ত্রিক মনোভাবের অবসান ঘটে সেইদিকে কমিটিকে বিশেষভাবে মনোনিবেশ করিতে হইবে। পূর্বোল্লিখিত প্রতিষ্ঠানসমূহের কর্মধারায় কোথায়ও কোন দোষ-ত্রবটি দেখা দিলে এবং ছোট বড় কোন কর্মচারীর কাজে কোনরূপ গলদ ও শৈথিল্য পরিলক্ষিত হইলে সংশ্লিষ্ট দলীয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এবং প্রয়োজনবোধ চেয়ারম্যানকে সরাসরি কমিটি তাহা জানাইবে ।
(৩) এলাকার জনগণের কিংবা প্রতিষ্ঠানের সদস্যবর্গের সঙ্গে প্রত্যক্ষ সংযোগ রক্ষা করা এবং জনগণের সার্বিক কল্যাণ সাধনে সদা তৎপর থাকা, এলাকার রাজনৈতিক কার্যকলাপ সংগঠিত করা, দলের গণ-ভিত্তি দৃঢ় করা, সংশ্লিষ্ট কর্মকেন্দ্রে দলের কাজের সুসংহত সুশৃঙ্খল শান্তিপূর্ণ প্রসার ও শক্তিবৃদ্ধি করা এবং দলের নীতি কার্যকর করা প্রতিটি প্রাথমিক- কমিটির দায়িত্ব।
(৪) দলের কাজের সুষ্ঠু অগ্রগতি ও সুবিধা বিধানের জন্য প্রাথমিক -কমিটি কর্তৃক উহার সদস্যদের কয়েকটি শাখায় ভাগ করা চলিবে।
(৫) কমিটি শাখার সদস্যদের মধ্যে কাজ বণ্টন করিবে এবং কাজের তদারক করিবে শাখাগুলির মধ্যে রাজনৈতিক আলোচনার ব্যবস্থাও করা যাইতে পারে।
(৬) প্রাথমিক কমিটির সাধারণ সভায় ইহার সম্পাদক এবং একজন সহকারী সম্পাদক নির্বাচিত হইবে। প্রাথমিক- কমিটির সদস্য সংখ্যা কুড়িজনের ঊর্ধ্বে হইলে একটি কার্যকরী কমিটি নির্বাচন করিতে হইবে এবং এই ব্যাপারে জেলা কমিটির নির্দেশনানুসারে অগ্রসর হইতে হইবে।
(৭) প্রতি মাসে অন্যূন একবার প্রাথমিক -কমিটির সাধারণ সভা বসিবে। এই সভায় সম্পাদক সকলের বিবেচনার জন্য একটি কাজের রিপোর্ট এবং প্রস্তাবাদি উপস্থাপন করিবেন।
(৮) প্রাথমিক -কমিটির সাধারণ সভা ঊর্ধ্বতন দলীয় সংগঠনের সম্মেলনের প্রতিনিধি নির্বাচন করিবে।
(৯) পূর্ববর্তী (২) (খ) ধারায় উপ-ধারায় বর্ণিত সরকারী বা আধা-সরকারী দফতর বা প্রতিষ্ঠান এবং সামরিক ও বেসামরিক বাহিনীতে গঠিত প্রাথমিক -কমিটি সরাসরি কার্যনির্বাহী কমিটির তত্ত্বাবধানে কাজ করিবে।
(১০) প্রয়োজনবোধে প্রাথমিক -কমিটির কোন সদস্য অন্য কোন কমিটির কাজের .

(১১) প্রাথমিক-কমিটি নিম্নরূপ কর্তব্য পালন করিবে :
(ক) ঊর্ধ্বতন কমিটির নির্দেশ কার্যকর করা,
(খ) দলের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সিদ্ধান্তগুলির পক্ষে দফতর, এলাকা, সংস্থা ইত্যাদিতে জনমত সৃষ্টি করা,
(গ) নিজস্ব এলাকার জনকল্যাণকর কাজে নিয়োজিত হওয়া,
(ঘ) দলের পত্রিকা, সাহিত্য প্রকাশনা প্রভৃতি প্রচার ও বিক্রয় করা,
(ঙ) স্থানীয় কর্মীদের রাজনৈতিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা,
(চ) প্রাথমিক-কমিটির সদস্যবৃন্দ উৎপাদনমূলক ও জাতিগঠনমূলক কার্যে প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করিবেন।
