আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় –ফাঁকির স্বাধীনতা। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।
ফাঁকির স্বাধীনতা
![পাকিস্তানের ফাঁকির স্বাধীনতা [ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল ] 2 ফাঁকির স্বাধীনতা](https://bn.historygoln.com/wp-content/uploads/2007/01/আওয়ামী-লীগ02.jpeg)
আপনারা জানেন, কিভাবে আওয়ামী লীগের জন্ম হয়। আমরা বাংলাদেশের মানুষ যুগ যুগ ধরে পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ ছিলাম। দুইশ’ বছর ইংরেজ এ দেশকে শাসন করে। দুইশ’ বছর পরে ১৯৪৭ সালে এক ফাঁকির স্বাধীনতা আমাদের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়। আমরা বাংলাদেশের জনগণ সংখ্যাগুরু ছিলাম। কিন্তু বাংলার মানুষকে শোষণের পর শোষণ করার জন্য সামরিক শক্তি দ্বারা পরিচালিত পাকিস্তানের সংখ্যালঘু শাসকগোষ্ঠী ১৯৪৭ সালে নতুন করে বাংলাকে পরাধীন করে। বাংলাদেশ পাকিস্তানের কলোনীতে পরিণত হয়। বাংলাদেশের মানুষকে শোষণ করে পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠী গড়ে তোলে তাদের দেশকে কিন্তু বাংলার মানুষ চুপ করে থাকে না ।
এসব শাসন, শোষণ ও সংগ্রামের অনেক ইতিহাস আপনাদের জানা আছে। কারণ, অনেক আন্দোলনের মধ্য থেকে আপনাদের জন্ম। অনেক রক্ত দিয়ে আপনাদের সংগ্রাম করতে হয়েছে। আপনাদের বার বার মোকাবেলা করতে হয়েছে শোষক শ্রেণীকে; মোকাবেলা করতে হয়েছে একদল মীরজাফরকে। বাংলাদেশের একদল শোষক যদি হাতে হাত না মিলাত তাহলে পঁচিশ বছর পাকিস্তানীরা বাংলাকে শোষণ করতে পারতো না।
যতবার আমরা সংগ্রামে এগিয়ে গিয়েছি ততবারই এই বাংলার মাটিতে একদল লোক সেই শোষকদের হাতিয়ার হিসেবে আমাদের উপর চড়াও হয়েছে। বার বার আমরা এদের মোকাবেলা করেছি। বার বার আমরা মার খেয়েছি। অবশেষে আমরাও চরম আঘাত হেনেছি, যে আঘাতে বাংলাদেশ আজ স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র। সহকর্মী ভাইয়েরা ও বোনেরা, ১৯৪৭ সালের পূর্বে সালেই আমরা বুঝতে পেরেছিলাম যে, আমরা নতুন করে পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়েছি।
এর মধ্য থেকেই আমরা যারা স্বাধীনতা সংগ্রামে যোগদান করেছিলাম তখন আমাদের স্বপ্ন ছিল আমরা স্বাধীন হব। কিন্তু সাতচল্লিশ আমাদের সংগ্রাম করতে হবে। জনগণ তখন বুঝতে পারে নাই। শোষক গোষ্ঠীর নায়করা এখানে শক্তিশালী সরকার গঠন করে। তদানীন্তন পশ্চিম পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী ব্যবহার করে। এই অবস্থায়ও আমরা কিছুসংখ্যক দেশপ্রেমিক তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াবার চেষ্টা করি।
আমার মনে আছে ১৯৪৭ সালের অক্টোবর মাসে প্রথম আমরা ডেমোক্রেটিক ইয়ুথ লীগ নামে একটা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলি। উদ্দেশ্য শোষকগোষ্ঠীর মোকাবেলা করতে হবে। কিন্তু আমরা এগুতে পারলাম না। অনেক সময় থিওরি প্রাকটিসে গণ্ডগোল হয়ে যায়। থিওরি খুব ভালো। কাগজে-কলমে লেখা থিওরি অনেক মূল্যবান। পড়ে শাস্তি পাওয়া যায় । কিন্তু প্রাকটিক্যাল কাজের সঙ্গে মিল না থাকলে থিওরি কাগজে-কলমে পড়ে থাকে, কাগজে পরিণত হয় না।
তখনকার দিনে একদল লোক এ ধরনের থিওরির অনুসারী ছিল। এ সময় ভারতবর্ষে কম্যুনিস্ট পার্টির নেতা ছিলেন রণদিভে । তিনি পি.সি যোশীকে তাড়িয়ে দিয়ে কম্যুনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক হন। তিনি বললেন, এখনই অস্ত্রের সাহায্যে মোকাবেলা করা দরকার। পণ্ডিত জওয়াহেরলাল নেহেরু সরকারকে উৎখাত করতে হবে। তারা এদিক-ওদিক আঘাত হানলেন।
![পাকিস্তানের ফাঁকির স্বাধীনতা [ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল ] 3 ফাঁকির স্বাধীনতা](https://bn.historygoln.com/wp-content/uploads/2007/01/আওয়ামী-লীগ01.jpg)
আমাদের এখানেও কিছুসংখ্যক কর্মী বুঝতে না পেরে সেই পন্থা অবলম্বন করতে গেলেন। আমাদের সঙ্গে তাঁদের মতের অমিল হল। আমরা বললাম, দেশের মানুষকে না গড়ে তুলে দেশের মানুষকে মোবিলাইজ না করে এবং পরিষ্কার আদর্শ না নিয়ে চলা যায় না। তারা বুঝতে পারলেন না। ডেমোক্রেটিক ইয়ুথ লীগ ভেঙে গেল।
![পাকিস্তানের ফাঁকির স্বাধীনতা [ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল ] 1 ফাঁকির স্বাধীনতা](https://bn.historygoln.com/wp-content/uploads/2023/05/ফাঁকির-স্বাধীনতা.png)