আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় –বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে চাই জাতীয় জাগরণ। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।
বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে চাই জাতীয় জাগরণ

প্রিয় কাউন্সিলর ডেলিগেট ভাই ও বোনেরা,
দীর্ঘকাল যাবত সংগ্রামে আন্দোলনে পোড় খাওয়া বাংলার দুঃখী জনগণের পর্বত প্রমাণ আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশার সামনে দাঁড়িয়ে এই মহতী কাউন্সিল থেকে আমাদের প্রাণপ্রিয় সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রধান রাজনৈতিক কর্তব্য স্থির করতে হবে এবং তা শ্রম, মেধা ও একাগ্রতা দিয়ে সুপরিকল্পিতভাবে বাস্তবায়নের পথে অগ্রসর হতে হবে।
আমরা মনে করি, সমাজ ও রাষ্ট্রে মানুষই প্রথম ও প্রধান। আমাদের নিকট রাজনীতি হচ্ছে দেশ-জাতি ও জনগণের কল্যাণে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করার মন্ত্রে উজ্জীবিত হওয়া, মানুষকে ভালোবাসা, দেশকে ভালোবাসা এবং দেশ-জাতি ও মানুষের জন্য অবিরাম কাজ করা। এই লক্ষ্যে উজ্জীবিত হয়ে জাতীয় জীবনের এক সংকটময় মুহূর্তে ১৯৯৫ সালে সেপ্টেম্বর মাসের বিশেষ কাউন্সিল অধিবেশনে আমরা আমাদের দেশে একটি জনকল্যাণমুখী শোষণমুক্ত উন্নত সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যে অর্থনৈতিক- রাজনৈতিক-সামাজিক নীতিমালা ও কর্মসূচী গ্রহণ করেছিলাম।
ঐ নীতিমালা ও কর্মসূচীর আলোকেই রচিত হয়েছিল আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার। আমাদের এ সব নীতি ও কর্মসূচীর পক্ষে বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ রায় প্রদান করেছে। ঐ নীতি ও কর্মসূচী বাস্তবায়নের জন্য আমরা দেশবাসীর কাছে অঙ্গীকারাবদ্ধ। আওয়ামী লীগ সরকার দেশবাসীর কাছে প্রদত্ত ওয়াদা বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে কুণ্ঠাবোধ করে না।
ইতোমধ্যে এ কাজ শুরু হয়েছে এবং তাতে সফলতাও আসছে। বিগত সময় আপনারা দেশবাসীর ভোট ও ভাতের অধিকার আদায়ের জন্য জীবন বাজী রেখে জাতির জনকের প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আমার ডাকে সাড়া দিয়ে দীর্ঘদিন রাজপথে আন্দোলন করেছেন, সংগ্রাম করেছেন, রক্ত দিয়েছেন, জীবন দিয়েছেন।
এখন এই কাউন্সিল থেকে নতুন করে শপথ নিয়ে স্বল্পতম সময়ে দেশকে একবিংশ শতাব্দীর উপযোগী করে গড়ে তোলার জন্য, জাতির হারানো মর্যাদা পুনরুদ্ধার করার জন্য এবং সাড়ে বারো কোটি মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নের জন্য আত্ম উৎসর্গের মনোভাব নিয়ে যার যার কর্মক্ষেত্রে ঝাঁপিয়ে পড়বেন এটাই আমার আহ্বান।
এ জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। সমস্যা সংকুল দেশের উন্নয়নে দেশব্যাপী গণজাগরণ সৃষ্টি করতে হবে। অতীতে ন্যায় এই কাজে আপনাদেরই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। আমার বিশ্বাস, বঙ্গবন্ধুর সৈনিকরা এ কাজে অবশ্যই সফল হবে, কামিয়াব হবে।
১৯৭১ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীন স্বদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য সমগ্র বাঙালি জাতি যেভাবে জেগে উঠেছিল; ১৯৯০ ও ‘৯৬ সালে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সমগ্র জাতি যেভাবে সাড়া দিয়েছিল; ঠিক সেভাবেই দেশের উন্নতি ও সমৃদ্ধির জন্য, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদানের জন্য, আইনের শাসন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য আজ বাঙালি জাতিকে নতুন প্রেক্ষাপটে জেগে উঠতে হবে।
দেশব্যাপী শ্লোগান তুলতে হবে দেশকে গড়ে তোলার জন্য ‘বাঙালি আবার জাগো, ঘরে ঘরে জ্ঞানের আলো জ্বালো, ধ্বংস নয় সৃষ্টির জোয়ার তোল।’ জনগণের মুক্তি ও সুখ-সমৃদ্ধি আনয়নের কাজ জনগণকেই করতে হবে- সরকার হবে তার সেবক। তাই দেশকে গড়ে তোলার কাজে পথের বাধা দূর করে জনগণের সুপ্ত ক্ষমতাকে জাগ্রত করতে হবে- প্রতিটি ক্ষেত্রে সৃষ্টি করতে হবে সচেতন গণ-উদ্যোগ এবং জনগণের সম্মিলিত প্রয়াস। জাতীয় ও স্থানীয়ভাবে সৃষ্ট গণ-উদ্যোগ তথা রাজনৈতিক-সামাজিক আন্দোলনকে সরকারের কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত ও একীভূত করে একবিংশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতিকে পরিচালনা করতে হবে।
জাতীয় পুনর্গঠনের এই মহৎ উদ্যোগে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দল-মত-ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায় নির্বিশেষে দেশের সকল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তি, সামাজিক সংগঠন, বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবী, শ্রমিক, কৃষক, ছাত্র, যুব, নারী সমাজসহ সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার জন্য জাতীয় কাউন্সিলের এই মঞ্চ থেকে আমি আহ্বান জানাচ্ছি।

আসুন, জাতীয় উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি রাজনৈতিক-সামাজিক আন্দোলন তুলি, জাতীয় জাগরণ সৃষ্টি করি।২১ বছরব্যাপী গণতন্ত্রের অনুপস্থিতির কারণে রাষ্ট্রপরিচালনায় জনগণের অংশগ্রহণের সুযোগ ছিল না। ফলে সবকিছু উপর থেকে হবে বা সরকার সবকিছু করে দেবে- এ ধরনের একটি মানসিকতা জনমনে বন্ধ হয়ে আছে।
কিন্তু রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের পাশাপাশি যদি জনগণের স্বাধীন ভূমিকায় রাজনৈতিক-সামাজিক আন্দোলন তথা গণ-উদ্যোগ গড়ে না উঠে তবে উন্নত, সমৃদ্ধ ও সুশীল সমাজের কথা চিন্তাও করা যায় তাই এই কঠিন কাজটি অগ্রসর করার জন্য উদ্যোগ নিতে হবে আওয়ামী লীগকে। জনগণের ক্ষমতায়নের এই লড়াইতে আমাদের বিজয়ী হতে হবে।
