আজকে আমদের আলোচনার বিষয় মুক্তিযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মার্কিন প্রশাসনের পাকিস্তানের দিকে পক্ষপাতমূলক অবস্থান সর্বজনবিদিত। জন্মলগ্ন থেকেই পাকিস্তান ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে মৈত্রী সম্পর্কে আবদ্ধ। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ছিল খুবই হতাশাব্যঞ্জক ও বিতর্কিত। মার্কিন সরকারি নীতি পাকিস্তানপন্থি হলেও কংগ্রেস এবং সিনেটের বিপুল সংখ্যক সদস্য, সরকারি কতিপয় আমলা ও বুদ্ধিজীবী মুক্তিযুদ্ধের প্রতি দৃঢ় সমর্থন ব্যক্ত করেন। মার্কিন গণমাধ্যম, জনমতও ছিল বাংলাদেশের প্রতি সহানুভূতিশীল।
মুক্তিযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা

মুক্তিযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ছিল বাংলাদেশের বিবেচনায় খুব হতাশাব্যঞ্জক। অর্থাৎ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছিল অখন্ড পাকিস্তান নীতিতে বিশ্বাসী। কিন্তু মার্কিন কংগ্রেসে বাংলাদেশের সমর্থন ছিল খুবই শক্তিশালী এমনকি মার্কিন প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তর ব্যতীত সরকারের অন্যান্য স্তরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রতি ছিল ব্যাপক সমর্থন। পত্র-পত্রিকা ও প্রচার মাধ্যম এবং জনমনে মুক্তিযুদ্ধের প্রতি সমর্থন ছিল প্রশ্নাতীত।
আমেরিকার বাঙালি মহলও সর্বতোভাবে মুক্তিযুদ্ধে নানা ধরনের সহায়তা করে। এমনকি পাকিস্তানের কূটনৈতিক মিশনগুলোতে কর্মরত বাঙালিরা এক পর্যায়ে বাংলাদেশের পক্ষে তাদের সমর্থন ব্যক্ত করে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সর্বত্র আমেরিকানরা বাঙালিদের বন্ধু অথবা সাহায্য সমিতি প্রতিষ্ঠা করে জনমত গঠন করে ও প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার এবং শরণার্থী কেন্দ্রে বাঙালিদের নানা ধরনের সাহায্য করে।
অর্থাৎ প্রেসিডেন্ট নিক্সন ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার সহ মার্কিন প্রশাসনের নীতি নির্ধারক মহল ব্যতীত পাকিস্তানের বর্বর হামলা ও অমানবিক কর্মকান্ডের সমর্থন আমেরিকার কোথাও তেমন দেখা যায়নি। মুক্তিযুদ্ধকালীন পুরো নয় মাস নিক্সন প্রশাসন পাকিস্তানের জন্য নৈতিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক সমর্থন যুগিয়েছিল।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন না করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পাকিস্তানের প্রতি পক্ষপাতমূলক হওয়ার পিছনে নিম্নলিখিত কারণগুলোকে চিহ্নত করা যায় :
তৎকালীন মানসিকতা ও বাস্তবতা
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে সমসাময়িক মানসিকতা ও বাস্তবতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় বা সমসাময়িককালে মানবাধিকারের বিষয়টি বর্তমানের মত এত গুরুত্বের সংগে বিবেচনা করা হতো না। অর্থাৎ মানবাধিকার নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ তখনো তেমন দানা বাঁধেনি। এমনকি স্বাধীন দেশের সার্বভৌমত্ব সম্বন্ধে ধারণা ছিল খুবই ট্রাডিশনাল।
মুক্তিযুদ্ধে লিপ্ত নানা গোষ্ঠীকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেয়ার রেওয়াজ তখনো গড়ে ওঠেনি। বরং মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনাকারীদেরকে তখন বিচ্ছিন্নতাবাদী বা বিদ্রোহী গোষ্ঠী হিসেবেই বিবেচনা করা হতো। একটি দেশের এক গোষ্ঠীকে অপর গোষ্ঠী কর্তৃক গণহত্যা মনে করা হতো সেদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। তাই এ নিয়ে অন্য কারো উচ্চাবাচ্যের অধিকার স্বীকৃত হতো না। এ ধরনের বাস্তবতার প্রেক্ষিতে আমেরিকা সহ প্রায় সব দেশই মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি সমর্থন দিতে ইতড়ত করে।

পাকিস্তানের সাথে বিশেষ বন্ধুত্বের সম্পর্কে
পাকিস্তানের সাথে ছিল আমেরিকার বিশেষ বন্ধুত্বের সম্পর্ক। কারণ এশিয়া তথা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে আমেরিকার বিশ্বস্ত বন্ধু ছিল পাকিস্তান। এমনকি আমেরিকা যখন এশিয় রাজনীতিতে আরও বেশী প্রধান্য স্থাপনের জন্য নতুন মিত্র খুঁজছে ঠিক সেসময়ে পাকিস্তানের মাধ্যমেই শুরু হয়েছিল চীন- মার্কিন সম্পর্ক স্বাভাবিক করণের সূচনা।
১৯৭১ সালের জুলাই মাসের শেষ দিকে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এবং হেনরি কিসিঞ্জারের দূতিয়ালিতে আমেরিকার সঙ্গে চীনের বরফ শীতল সম্পর্কের অবসান ঘটে। এই ঐতিহাসিক ঘটনার মধ্যস্থতার সুযোগ পেয়ে পাকিস্তান দুই বৃহৎ শক্তির বিশিষ্ট বন্ধুতে পরিনত হয়। সুতরাং পাকিস্তানের সঙ্গে এ বিশেষ সম্পর্কের কারণে চীন ও আমেরিকার কেউই পাকিস্তান বিরোধী অবস্থান গ্রহণ করেনি।

আমেরিকার সোভিয়েত-ভারত বিরোধী নীতি
বিশ্ব রাজনীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন ছিল পরস্পর বিরোধী শিবিরের নেতৃত্বে। বিশ্ব রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করা নিয়ে উভয়ের মধ্য স্নায়ুযুদ্ধ বিদ্যমান ছিল। তাছাড়া দক্ষিণ এশিয় রাজনীতিতে ভারত ছিল আমেরিকার স্বার্থ পরিপন্থী। তাই দক্ষিণ এশিয়ায় ক্রমপ্রসারমান রুশ প্রভাব মোকাবিলা করার জন্য পাকিস্তানকে শক্তিশালী করা আমেরিকার স্বার্থেই প্রয়োজন ছিল।
সুতরাং উপর্যুক্ত নানা বিষয়ে ভেবে চিন্তেই আমেরিকার সরকারি মহল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী অবস্থান গ্রহণ করেছিল।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মার্কিন নীতি ও কর্মকান্ডকে দু’টি পর্যায়ে ভাগ করা যায়।

মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়:
মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত ছিল মার্কিন নীতির প্রথম পর্যায়। এ পর্যায়ে মার্কিন নীতির প্রকৃতি ছিল কৌশলগত নিরপেক্ষতা। পূর্ব পাকিস্তানের সমস্যা বিবেচনার জন্য ৬ মার্চ ১৯৭১ পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার মার্কিন নীতি নির্ধারণী সংস্থা ‘সিনিয়র রিভিউ গ্রুপ’এর একটি সভা আহবান করেন।
এ সভায় আন্ডার সেক্রেটারি অব স্টেট এ্যালেক্সিস জনসন এই মর্মে মত প্রকাশ করেন যে, অখন্ড পাকিস্তানের অব্যাহত অস্তিত্বের মাধ্যমেই দক্ষিণ এশিয়ায় রুশ, মার্কিন ও ভারতীয় স্বার্থ নিরাপদ থাকবে। ৮ এপ্রিল মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জোসেফ সিসকো সমস্যাটিকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার হিসেবে অভিহিত করেন।
কিন্তু ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত কেনেথ কীটিং ওয়াশিংটনের এই দৃষ্টিভঙ্গির বিরোধিতা করে বলেন, পূর্ব পাকিস্তানের ঘটনা কোনভাবেই অভ্যন্তরীণ ব্যাপার হতে পারে না এবং অভ্যন্তরীণ ব্যাপারের অজুহাতে সারা বিশ্ব দৃষ্টি ফিরিয়ে রাখতে পারে না। তবে প্রবল জনমতের চাপে ওয়াশিংটন পাকিস্তানের জন্য সমরাস্ত্র সরবরাহ ও আর্থিক সাহায্য স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
১২ জুন ১৯৭১ নিক্সন প্রশাসন আবারও পূর্ব পাকিস্তান সমস্যার রাজনৈতিক সমাধানের আহবান জানায়। তবে অস্ত্র সাহায্য বন্ধ থাকলেও প্রচুর মার্কিন অস্ত্র পাকিস্তানে যাচ্ছে বলে পত্র-পত্রিকায় সমালোচনা শুরু হলে পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে বলা হয় যে, অস্ত্রগুলো সরবরাহের জন্য ২৫ মার্চের আগেই চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছিল।
তাছাড়া অক্টোবর মাসে সৌদি আরব থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা ৭৪টি জঙ্গী বিমান পাকিস্তানকে পাঠানো হয়- যা ছিল গোপনে ও পরোক্ষভাবে পাকিস্তানকে অস্ত্র সরবরাহমূলক পদক্ষেপের একটি অংশ। তবে পাকিস্তানে অস্ত্র পাঠানো সত্ত্বেও ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের জন্য এসময় যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য পাঠানো অব্যাহত ছিল।
অবশ্য এর উদ্দেশ্য ছিল হোয়াইট হাউস বিরোধী সমালোচনার তীব্রতা কমিয়ে আনা এবং সাহায্য দান অব্যাহত রেখে রাজনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করার জন্য প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করা ।
প্রথম পর্যায়ের মার্কিন নীতির বৈশিষ্ট্য: প্রথম পর্যায়ে মার্কিন নীতির তিনটি বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায় যথা-
১। বাংলাদেশ সমস্যাকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা হিসেবে অভিহিত করা
২। ত্রাণ কাজে আর্থিক সাহায্য অব্যাহত রাখা।
৩। প্রকাশ্যে সামরিক সাহায্য স্থগিত থাকলেও বিভিন্ন পথে পাকিস্তানের জন্য সামরিক সাহায্য নিশ্চিত করা।

জুলাই হতে স্বাধীনতা লাভ পর্যন্ত পর্যায়:
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মার্কিন নীতির দ্বিতীয় ও শেষ পর্যায় শুরু হয় জুলাই মাস হতে- যা স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা এমনকি তারপরেও অব্যাহত ছিল। এ পর্যায়ে মার্কিন নীতির দু’টি বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়।
১। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জারের হঠাৎ করে বেইজিং সফরের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের পাকিস্তান-ঘেঁসা নীতি সক্রিয় হয়ে ওঠে।
২। যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা হয়েছিল যে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে জুলাই মাসে রুশ-ভারত পরিকল্পনা চুড়ান্ত করা হয়। তাই এ পরিকল্পনা মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্র তৎপর হয়।
আগস্ট থেকে অক্টোবরের মধ্যে মার্কিন কূটনীতিকগণ সমস্যার রাজনৈতিক সমাধানের লক্ষে কলকাতায় অবস্থিত অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকারের সাথে যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করে। কিন্তু কেবলমাত্র শেখ মুজিবের সাথেই এ ধরনের আলোচনা হতে পারে বলে অস্থায়ী সরকার জানানোর পর মার্কিন এ উদ্যোগ ব্যর্থ হয়। তবে ২৩ নভেম্বর হতে ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত মার্কিন প্রশাসন যুদ্ধ এড়ানোর জন্য আন্তরিক প্রচেষ্টা চালায়।
উপরন্তু নিক্সন প্রশাসন ব্যক্তিগত বার্তার মাধ্যমে পাকিস্তান, ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়নকে হিংসাত্মক সমাধানের পথ এড়িয়ে চলতে একাধিকবার অনুরোধ করেন। দ্বিতীয় পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ ছিল অখন্ড পাকিস্তানের অধীনে একটি রাজনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করা এবং যুদ্ধ এড়িয়ে যাওয়া। কিন্তু কোনটিই সম্ভব হলো না । কাজেই দ্বিতীয় পর্যায়েও মার্কিন নীতি সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয় ।
৩ ডিসেম্বর পাক-ভারত যুদ্ধ শুরুর পর নিক্সন প্রশাসনে এই সন্দেহ বদ্ধমূল হলো যে, পূর্ব পাকিস্তানে সামরিক অভিযান সফল হবার পর পশ্চিম পাকিস্তানের ওপর চরম আঘাত হানা হবে। তাই যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র প্রচন্ড ভারত বিরোধী ও পাকিস্তান ঘেঁষা নীতি অনুসরণ করতে থাকে। পাকিস্তানকে যাবতীয় নৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থন দানের জন্য প্রেসিডেন্ট নিক্সন হেনরি কিসিঞ্জারকে নির্দেশ দেন। নিক্সনের এ নীতিকে Tilt Policy নামে অভিহিত করা হয়েছে।
৬ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র ভারতের জন্য ৮৬.৬ মিলিয়ন ডলার আর্থিক সাহায্য সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে । অপর দিকে জাতিসংঘের মাধ্যমে কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগও অব্যাহত থাকে। উল্লেখ্য, ৫ ডিসেম্বর জাতিসংঘে মার্কিন প্রতিনিধি জর্জ বুশ ভারতকে প্রধান আক্রমণকারী বলে উল্লেখ করেন। ৭ ডিসেম্বর হোয়াইট হাউসে সাংবাদিক সম্মেলনে কিসিঞ্জারও ভারতকে আক্রমণকারী ও বিশ্বাসঘাতক হিসেবে অভিযুক্ত করে।
যুক্তরাষ্ট্রীয় প্রশাসনের একটি বড় চিন্তা ছিল দক্ষিণ এশিয়ায় সোভিয়েত তৎপরতা। তাই দিল্লি ও মস্কোর ওপর চাপ প্রয়োগ করতে যুক্তরাষ্ট্র ‘এন্টারপ্রাইজ’ নামক পারমানবিক জাহাজের নেতৃত্বে ৮টি জাহাজের একটি ‘টাস্ক ফোর্স’ বঙ্গোপসাগরে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। এটা ‘টাস্ক ফোর্স-৭৪’ নামে পরিচিত। একই সঙ্গে একটি যুদ্ধবিরতির লক্ষে জাতিসংঘে মার্কিন কূটনীতি সক্রিয় থাকে।
উল্লেখ্য, যুদ্ধবিরতির লক্ষে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ৪ ও ১২ ডিসেম্বর যথাক্রমে প্রথম ও দ্বিতীয় মার্কিন যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব উত্থাপিত হয়। কিন্তু সোভিয়েত ভেটোর কারণে দুটো প্রস্তাবই নাকচ হয়ে যায়। মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে ভারত মহাসাগরে মার্কিন ও সোভিয়েত নৌবহরের উপস্থিতি ঘটে- যা বল প্রয়োগিক কূটনীতি বা বোম্বেটে কূটনীতি (Gunboat Diplomacy) নামে পরিচিত।
উভয় পরাশক্তি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নৌ সমর উপকরণের সমাবেশ করেছিল। মার্কিন নৌবহরে ছিল চৌদ্দটি বড় ও কয়েকটি ছোট যুদ্ধ জাহাজ এবং সোভিয়েত নৌবহরে ছিল মোট ২৬ টি জাহাজ। যাহোক, দু’পক্ষ সংঘর্ষের জন্য প্রস্তুত থাকলেও শেষপর্যন্ত আর সংঘর্ষ হয়নি। ৮ জানুয়ারি ১৯৭২ মার্কিন ‘টাস্ক ফোর্স-৭৪’ ভারত মহাসাগর ত্যাগ করে।
যাহোক, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মার্কিন নীতি একদিকে যেমন বাংলাদেশ বিরোধী ছিল, তেমনি নিজ দেশের জনগণ কর্তৃকও নীতিটি পরিত্যক্ত হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রে বেসরকারি পর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় প্রশাসন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিরোধী শক্তি হিসেবে ভূমিকা পালন করলেও মার্কিন সংবাদপত্র, বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিবিদ সহ বেসরকারি পর্যায়ে প্রায় সর্বস্তরের মার্কিন জনগণ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। এমনকি অনেক আমলাও বাঙালির সংগ্রামের প্রতি সহনশীল ছিল।
নিম্নে এ সম্পর্কে আলোকপাত করা হলো-
মার্কিন সংবাদপত্রসমূহের মধ্যে নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট, ম্যানচেস্টার গার্ডিয়ান, নিউইয়র্ক ক্রিশ্চিয়ান সায়েন্স মনিটর, ওয়াশিংটন ইভনিং স্টার, ওয়ালস্ট্রীট জার্নাল ইত্যাদি সংবাদপত্র বাংলাদেশের ঘটনাবলী সম্পর্কে বিস্তারিত সংবাদ পরিবেশন করত। ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’ এক সম্পাদকীয় নিবন্ধে স্বদেশের নাগরিক হত্যার জন্য ইয়াহিয়াকে দায়ী করে।
আমেরিকায় কূটনীতিকগণের একযোগে বাংলাদেশের সপক্ষে আনুগত্য পরিবর্তনকে ৯ আগস্ট ‘ম্যানচেস্টার গার্ডিয়ানের সম্পাদকীয়তে একটি নাটকীয় ঘটনা ও প্রতিবাদের বলিষ্ঠ উদাহরণ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। তবে একটি বিষয় অবশ্যই উল্লেখ্য যে, মার্কিন সংবাদপত্রসমূহ প্রধানত মানবতার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিচার করে একটি সন্তোষজনক রাজনৈতিক সমাধানের সপক্ষে বক্তব্য রেখেছিল, কিন্তু প্রত্যক্ষভাবে তারা সবাই মুক্তিযুদ্ধকে সমর্থন করেনি।
তবুও মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসে ৫ এপ্রিল, ২ আগস্ট ও ৬ ডিসেম্বর মোট তিনবার নিউইয়র্কের প্রচ্ছদে বাংলাদেশ সংকট স্থান পায়। ২ আগস্ট ও ৬ ডিসেম্বর মোট ২ বার এ সুযোগ হয় টাইমসে। জাতীয় সংবাদপত্র ছাড়াও মফস্বলের সংবাদ মাধ্যমেও বাংলাদেশ সংকট হরহামেশা স্থান পেত। ন্যাশনাল ব্রডকাস্টিং (এনবিসি), ফক্স টেলিভিশন প্রভৃতি মিডিয়াতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিষয়ে অনেক আলোচনা ও সংবাদ প্রকাশিত হয়।
সামগ্রিকভাবে বলা যায় যে, সরকারি নীতি বিপক্ষে থাকলেও মার্কিন সংবাদ মাধ্যম ছিল বাংলাদেশের পরম বন্ধু । মার্কিন বুদ্ধিজীবীগণ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে একটি সক্রিয় ভূমিকা পালনের জন্য প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিল। এসোসিয়েশান ফর এশিয়ান স্টাডিজ-এর বার্ষিক সম্মেলনে প্রায় দু’হাজার শিক্ষাবিদ অবিলম্বে গণহত্যা বন্ধের জন্য আবেদন জানান।
এই সম্মেলন জরুরি ভিত্তিতে পাকিস্তানে ত্রাণ সামগ্রী পাঠানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাকে অনুরোধ করে। হার্ভার্ড অর্থনীতিবিদ এডওয়ার্ড ম্যাসন, রবার্ট ডর্ফম্যান ও স্টিফেন মার্গোনিল প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছিলেন যে, ইয়াহিয়া সামরিক চক্রের দমন নীতি সত্ত্বেও বাংলাদেশের অভ্যুদয় অবধারিত। এছাড়াও ত্রিশজনের মতো বুদ্ধিজীবী দলবদ্ধভাবে ঘোষণা করেন যে, পূর্ব পাকিস্তানের ন্যায়সঙ্গত দাবিকে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে উপেক্ষা করার কোন অধিকার পাকিস্তানের নেই ।
এছাড়া হার্ভার্ড ও শিকাগোর অধ্যাপকবৃন্দ বাংলাদেশ সম্বন্ধে অত্যন্ত ইতিবাচক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। বলা যায় শিক্ষাঙ্গনে মার্কিন পন্ডিত ব্যক্তির মধ্যে পাকিস্পনের সমর্থক পাওয়া দুষ্কর ছিল। এসব পণ্ডিতগণ বিভিন্ন বিবৃতি-বক্তৃতা ও সম্মেলনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
নিউইয়র্কে ডঃ হোমার জ্যাকের ‘ওয়ারলড কনফারেন্স অব রিলিজিয়ন ফর পিস’, জন সালজবুর্গের “ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অব জুরিস্টস’ হয়ে উঠে বাংলাদেশের বিশেষ বন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের আড্ডাখানা। ২২ এপ্রিল ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অন ইউনিভার্সিটি ইমারজেন্সী (আই.সি.ইউ.ই) ঢাকায় শিক্ষক ও ছাত্র হত্যার ওপর একটি বিবৃতি প্রচার করে।
এখানে নোবেল পুরস্কার প্রাপ্ত পন্ডিতসহ বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের একশ’-এর বেশী শিক্ষাবিদ দস্তখত করেন। নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জর্জ হ্যারিসনের ‘বাংলাদেশ কনসার্ট ছিল মুক্তিযুদ্ধে এক বিরাট অনুপ্রেরণা। এভাবে মার্কিন শিল্পী, সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবীরা নানাভাবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সহায়তা করেছিলেন। মার্কিন রাজনীতিবিদ বিশেষ করে কয়েকজন সিনেটর ও কংগ্রেস সদস্য সরকারি নীতির কঠোর সমালোচনা করে।
এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন সিনেটর এডওয়ার্ড কেনেডি, সিনেটর সাক্সবে, সিনেটর কেইস, কংগ্রেসম্যান গ্রাস হেলপান ও গালাকার, সিনেটর হ্যারিস, সিনেটর পার্সী, সিনেটর মাস্কী, ওয়াল্টার মনডেল ও এডওয়ার্ড ব্রুক প্রমূখ। তবে এডওয়ার্ড কেনেডিই ছিলেন মার্কিন প্রশাসনের সবচেয়ে শক্তিশালী সমালোচক। সিনেটর কেনেডির শরণার্থী সাব-কমিটি ভারতে শরণার্থী সমস্যা নিয়ে ২৮ জুন, ২২ জুলাই এবং ৩০ অক্টোবর মোট তিনটি শুনানির ব্যবস্থা করেন।
শেষ শুনানি অবশ্য ৩০ অক্টোবর ও ৮ নভেম্বর দু’দিন ব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম শুনানিতে পাকিস্তানে অব্যাহত সামরিক সরবরাহ, দ্বিতীয়টিতে বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষের সম্ভাবনা এবং তৃতীয় শুনানিতে সংকট সমাধানের রাজনৈতিক উদ্যোগ ও ভারত-মার্কিন সম্পর্কের পূনর্মূল্যায়ন স্থান পায়। মার্কিন কংগ্রেসে প্রায় সারা বছরই বাংলাদেশ সংকট স্থান পায়।
১ এপ্রিল হতে ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত কংগ্রেসের উভয় কক্ষে বাংলাদেশ সংকট নিয়ে ২১০টি বিবৃতি প্রদান করা হয়। ৪৫ জন সিনেটর এবং ৩৬ জন প্রতিনিধি এ বক্তৃতাগুলো প্রদান করেন। পাকিস্তানে সামরিক সাহায্য স্থগিত করা এবং যেসব সমরাস্ত্র সরবরাহ হচ্ছিল তা বন্ধ করাই ছিল কংগ্রেসের প্রথম দাবি। এ বিষয়ে কংগ্রেসে মোট পাঁচটি প্রস্তাব পেশ করা হয়। যার মধ্যে প্রথম প্রস্তাবটি ১৫ এপ্রিল ১৯৭১-এ পেশ করেন সিনেটর কেইস ও মনডেল।
শেষপর্যন্ত মার্কিন প্রশাসন এপ্রিল মাসেই ঘোষণা দেন যে পাকিস্তানে কোনো সামরিক সাহায্য দেয়া হবে না এবং সব সরবরাহ বন্ধ করা হচ্ছে। যে বিষয়টি প্রায় দুমাস ধরে অনবরত তদ্বির হয় তা ছিল বৈদেশিক সাহায্য আইনের সংশোধন। যতদিন পর্যন্ত শরণার্থীরা নিরাপদে দেশে ফেরত না যাবে ততদিন পাকিস্তানে সব ধরনের সাহায্য রহিত করার জন্য ফরেন এসিস্ট্যান্স আইনে একটি সংশোধনী উত্থাপন করা হয়।
৩ আগস্ট প্রতিনিধি পরিষদে বৈদেশিক সাহায্য বিল বিবেচিত হয়। এছাড়াও পাক-ভারত যুদ্ধ শুরু হলে নির্বাহী বিভাগ ঢালাওভাবে ভারতকে যুদ্ধবাজ আখ্যা দিলে কংগ্রেসে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। শেখ মুজিবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং প্রহসনমূলক বিচার বন্ধ করতে হস্তক্ষেপ করার জন্য ২৭ জুলাই ৫৫ জন কংগ্রেসম্যান এবং আগস্টে ১১ জন সিনেটর প্রেসিডেন্ট নিক্সনকে লিখিতভাবে অনুরোধ জানান ।
এভাবে মার্কিন রেখেছিলেন। ‘কংগ্রেস, মার্কিন সিনেট ও মার্কিন রাজনীতিবিদগণ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদান

মার্কিন প্রশাসনের সরকারি আমলাদের ভূমিকা
মার্কিন প্রশাসনের অন্দরমহলের কিছু আমলা বিশেষ করে পররাষ্ট্র দপ্তরের কিছু আমলা এবং ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের কর্মচারীগণ মার্কিন প্রশাসনের নিরপেক্ষতা বা পাকিস্তান ঘেঁষা নীতির তীব্র সমালোচনা করেন।
ঢাকার কনসাল জেনারেল আর্চার ব্লাড ১৯ জন কূটনীতিবিদের স্বাক্ষরসহ ওয়াশিংটনে পররাষ্ট্র দপ্তরকে এক কড়া পত্রে জানান যে, মার্কিন নীতি শুধু নৈতিকভাবেই অগ্রহণযোগ্য নয়, বরং মার্কিন স্বার্থেরও পরিপন্থী। এছাড়াও স্টেট ডিপাটমেন্ট, ইউ.এস.এ. আই.ডি. এবং কৃষি ডিপার্টমেন্টের অনেক কর্মকর্তা সরকারি নীতির সমালোচনা করেন।
সুতরাং দেখা যায় যে, সরকারি পর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করা হলেও বেসরকারি পর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধের জন্য ছিল ব্যাপক সহানুভূতি। কংগ্রেস, সুশীল সমাজ ও প্রচার মাধ্যমের মনোভাব ও সতর্কতা এবং প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে নিক্সন-কিসিঞ্জার প্রশাসন পাকিস্তানকে যতটা সমর্থন ও সহযোগিতা করতে চেয়েছিল ঠিক ততটা করতে সক্ষম হয়নি।

মুক্তিযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার সারসংক্ষেপ
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছিল অখন্ড পাকিস্তান নীতিতে বিশ্বাসী। স্বাভাবিক ভাবেই মার্কিন প্রশাসন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে সমর্থন করেনি। বরং পাকিস্তানকে নৈতিক অর্থনৈতিক ও সামরিক বিষয়ে সর্বদা সহযোগিতা করেছে। বাংলাদেশ বিরোধী মার্কিন নীতি ছিল একান্তভাবেই হোয়াইট হাউসের, বলা যায়, স্রেফ নিক্সন-কিসিঞ্জারের ব্যক্তিগত নীতি।
কেবলই পাকিস্তান প্রীতি ছাড়া তাদের এ নীতির কোন ভিত্তি ছিল না। চীন-মার্কিন সম্পর্ক স্থাপনে পাকিস্তান দূতিয়ালীর ভূমিকা পালন করা, সিয়াটো-সেন্টোর সদস্য হওয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের পুরানো বন্ধু হওয়ার সুবাদে পাকিস্তান আমেরিকার সহানুভুতি পেয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। মার্কিন প্রশাসন পাকিস্তানের প্রতি এতটাই ঝুঁকে পড়েছিল যে, পারমানবিক যুদ্ধ জাহাজ সম্বলিত ‘সপ্তম নৌবহর ও ‘এন্টারপ্রাইজকে বঙ্গোপসাগরে পাঠিয়েছিল।
কিন্তু সরকার পাকিস্তানপন্থী হওয়া সত্ত্বেও মার্কিন কংগ্রেস, মার্কিন সিনেট, প্রচার মাধ্যম, সর্বস্তরের জনগণ ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অকৃত্রিম সমর্থক। এদের চাপেই আমেরিকা পাকিস্তানকে সামরিক সাহায্য বন্ধ করতে হয়েছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও গোপনে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক পাকিস্তানকে অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত ছিল।
মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষে বাংলাদেশ সংকট নিয়ে ২১০টি বিবৃতি দেয়া হয়েছিল- এ থেকে বুঝা যায় যে, মার্কিন কংগ্রেস বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে একটি শক্তিশালী সমর্থকে পরিনত হয়েছিল।
কিন্তু এসব সত্ত্বেও এবং ৯ ডিসেম্বর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য নিউজার্সির কংগ্রেসম্যান হেনরি হেল স্টোস্কি কর্তৃক সিনেটে প্রস্তাব পেশ ও সর্বসম্মতভাবে ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তা পাশ হওয়া সত্ত্বেও নিক্সন প্রশাসন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করেছিল ১৯৭২ সালের ৪ এপ্রিল।
সহায়ক গ্রন্থপঞ্জি :
১। প্রফেসর সালাহউদ্দীন আহমদ, বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাস (১৯৪৭-১৯৭১), মোনায়েম সরকার, ড.
নুরুল ইসলাম মঞ্জুর, সম্পাদিত।
২। আবুল মাল আব্দুল মুহিত সম্পাদিত, Bangladesh liberation war and American Response.
৩। ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে পরাশক্তির ভূমিকা।

সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন :
১। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মার্কিন নীতির প্রথম পর্যায় আলোচনা করুন।
২। মুক্তিযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদ মাধ্যমের ভূমিকা আলোচনা করুন ।
৩। মুক্তিযুদ্ধে মার্কিন শিল্পী-সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা আলোচনা করুন।
৪। মুক্তিযুদ্ধে মার্কিন কংগ্রেস ও সিনেটের ভূমিকা মূল্যায়ন করুন ।
রচনামূলক প্রশ্ন :
১। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি নীতি আলোচনা করুন ।
২। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বেসরকারি পর্যায়ে মার্কিনীদের ভূমিকা আলোচনা করুন ।
৩। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে দ্বিতীয় পর্যায়ের মার্কিন নীতি আলোচনা করুন।
আরও দেখুন:
