আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় –রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ১৯৮১। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ১৯৮১

প্রিয় দেশবাসী ভাই ও বোনেরা,
আজ জাতীয় জীবনের এমন এক সন্ধিক্ষণে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে যখন দেশের অর্থনীতি সম্পূর্ণভাবে বিধ্বস্ত, আইন ও শৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটেছে, সমাজজীবন অনাচার ও অবিচারে জর্জরিত ও জনজীবনে নিরাপত্তার অভাব সীমাহীন। স্বৈরতন্ত্র ও এক ব্যক্তির শাসনে রাজনৈতিক পরিবেশ কলুষিত। জনমনে হতাশা ও আস্থাহীনতা আজ চরমে পৌঁছেছে, বাংলাদেশ আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে এই দেশের মানুষ দীর্ঘ সংগ্রাম ও অপরিসীম ত্যাগ এবং তিতিক্ষার মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠা করেছে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। রক্তাক্ত মুক্তিযুদ্ধের পর সদ্য প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন বাংলাদেশ ছিল ব্যাপকভাবে বিধ্বস্ত, অর্থ তহবিল শূন্য, কল-কারখানা বিধ্বস্ত বা অচল, সড়ক- সেতু, রেল যোগাযোগ, গ্রাম-নগর ধ্বংসপ্রাপ্ত। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় পরিত্যক্ত। কোটি কোটি মানুষ অন্ন-বস্ত্র- গৃহহীন।
ঐ প্রতিকূল পরিবেশ ও পরিস্থিতিতে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে। পর পর প্রলয়ঙ্করী বন্যা, খরা ও অজন্মার ফলে দেশে তীব্র খাদ্য সংকট দেখা দেয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক বাংলাদেশকে প্রতিশ্রুত খাদ্যশস্য সরবরাহ না করায় খাদ্য-সংকট দুর্ভিক্ষের রূপ নেয়; কিন্তু বঙ্গবন্ধু সরকার তার সর্বশক্তি নিয়োগ করে অল্প সময়ের মধ্যে ঐ সংকট কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়।
স্মরণীয় যে, বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মাত্র আট মাস সময়ের মধ্যে বঙ্গবন্ধু সরকার জাতিকে একটি সংবিধান দেয়, যার চারটি মূলনীতি ছিল জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা। যুদ্ধ বিধ্বস্ত স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মাত্র সাড়ে তিন বছর ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিল।
এই স্বল্প সময়ের মধ্যে আওয়ামী লীগ জাতির জন্য সংবিধান প্রণয়ন এবং দুর্ভিক্ষসহ বিভিন্ন সমস্যার মোকাবেলা ছাড়াও যা করতে পেরেছিল তা হল, এক কোটি বাস্তুহারা মুনষের পুনর্বাসন, বিধ্বস্ত ও লুণ্ঠিত অর্থনীতির পুনর্গঠন, ধ্বংসপ্রাপ্ত সড়ক-সেতুর পুনর্নির্মাণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, কল-কারখানায় স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনা, সফল পররাষ্ট্রনীতির মাধ্যমে বিশ্বের অধিকাংশ দেশের স্বীকৃতি ও জাতিসংঘে আসন লাভ, ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা মাপ ও জমির সিলিং ৩৭৫ বিঘা থেকে ১০০ বিঘা নির্ধারণ, ভূমিহীন কৃষকদের সরকারী খাস জমি বণ্টন, কৃষকদের জন্য স্বল্প মূল্যে সার, বীজ সরবরাহ এবং গণমুখী শিক্ষা ব্যবস্থার প্রচলন।
ফলে স্বাধীনতার মাত্র তিন বছর পরে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকারের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় ১৯৭৫ সালের শুরু থেকে দেশের সার্বিক অবস্থা উন্নতির দিকে মোড় নেয়। বিশ্বে অস্বাভাবিক মুদ্রাক্ষীতি সত্ত্বেও ১৯৭৫ সালের এপ্রিল মাস থেকে বাংলাদেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য কমতে থাকে। কল-কারখানার উৎপাদন পূর্ববর্তী দুই বছরকে ছাড়িয়ে যায়, আধুনিক সেচ ব্যবস্থা প্রবর্তনের ফলে ১৯৭৫ সালে দেশে রেকর্ড পরিমাণ খাদ্যশস্য উৎপন্ন হয় এবং ঐ বছর ১৫ই আগস্টের মধ্যে চালের দাম প্রতিসের পাঁচ টাকার নীচে নেমে আসে।
১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশে এক শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের মুক্তির লক্ষ্যে দেশের মানুষকে একতাবদ্ধ করার জন্যে বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ গঠন করেন এবং দ্বিতীয় বিপ্লবের তথা বাকশালের কর্মসূচী ঘোষণা করেন,
যার উল্লেখযোগ্য দিকগুলো ছিল, বহুমুখী সমবায় আন্দোলনের মাধ্যমে জনসম্পদের পূর্ণ ব্যবহার ও উৎপাদন বৃদ্ধি, জাতীয় জীবনের সকল ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা অর্জন ও দেশের প্রতিটি মানুষকে উৎপাদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংযুক্ত করে সম্পদের সুষম বণ্টন, স্বাধীন দেশের উপযোগী প্রশাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিতকরণ।
বাংলাদেশের এমন এক ক্রান্তিলগ্নে যখন দেশের অবস্থা উন্নতির দিকে মোড় নিচ্ছিল, বঙ্গবন্ধু দেশের কৃষক-শ্রমিকের অর্থনৈতিক মুক্তির কর্মসূচি গ্রহণ করছিলেন তখনই তাকে বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি এবং মার্কিন সামাজ্যবাদ ও তাদের দেশীয় এজেন্টরা সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করে। আর কিছুদিনের মধ্যেই কারাগারের অভ্যন্তরে বর্বরভাবে হত্যা করা হয় চারজন জাতীয় নেতাকে।
প্রিয় সাথী ও বন্ধুগণ,
ঐ পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের পরিণতি কি হল? পরের ছয় বছরে দেখা গেল দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এল না বরং একাত্তরের পরাজিত শত্রু কায়েমি স্বার্থবাদীরা জনগণের কাছ থেকে ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে নিজেরা কুক্ষিগত করল। দেশে পরপর চারজন রাষ্ট্রপতি ক্ষমতায় এলেন প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে, আঠারোবার চেষ্টা হল সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা হাত বদলের।
ঐ প্রক্রিয়ায় তিনজন জেনারেল, কয়েকজন ব্রিগেডিয়ার, ডজন খানেক কর্নেল, মেজর ও ক্যাপ্টেন সহ সামরিক বাহিনীর শত শত জওয়ান নিহত হলেন, কর্মচ্যুত হলেন বহু অফিসার জওয়ান। ফলে রাষ্ট্রযন্ত্রের সকল স্তরে ঘুণ ধরে গেল, সামরিক বাহিনীর শৃঙ্খলার উপর বারবার আঘাত এল, পুলিশ বাহিনীকে আইন অনুযায়ী তাদের কর্তব্য পালন করতে দেয়া হল না। কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ, বেতন কাঠামোতে অসামঞ্জস্যতা, দুর্নীতির নজিরবিহীন প্রসার বাংলাদেশের বেসামরিক প্রশাসনের মরুদণ্ড আজ ভেঙে দেয়ার উপক্রম।
স্বৈরাচারী সরকারের নীতিতে জাতীয় অর্থনীতিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে ধ্বংসের মুখে। আজ বৈদেশিক মুদ্রার তহবিলে জমার পরিমাণ প্রায় শূন্যে পৌঁছেছে। আমদানী ব্যয়ের পরিমাণ রফতানী আয়ের চাইতে প্রতি বছরই বেড়ে চলেছে।
সর্বশেষ হিসাব মতে, বাংলাদেশ সরকারের আমদানী-রফতানী ঘাটতির পরিমাণ প্রায় তিন হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। বাংলাদেশ বিশ্বের একটি দরিদ্রতম দেশে পরিণত হয়েছে। খালকাটা বিপ্লব ও স্বনির্ভর আন্দোলনের ঢাক-ঢোল পেটানোর পরেও চালের উৎপাদন গত তিন বছর ধরে ক্রমাগত কমে আসছে।
পাটের উৎপাদন হার সর্বকালের নিম্নতম রেকর্ড স্থাপন করেছে। সরকারের ভ্রান্তনীতির ফলে পাট চাষ ও পাট শিল্প আজ ধ্বংসের মুখে। রাষ্ট্রায়ত্ত কল-কারখানা একে একে ব্যক্তি মালিকানায় ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। প্রকৃত ব্যবসায়ীর পরিবর্তে ব্যাংক ঋণ ও অন্যান্য সরকারী সুবিধার কায়দা লুটছে ক্ষমতাসীন দলের লোকজন ও টাউটরা। অপরদিকে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অনিশ্চয়তার ফলে বেসরকারী উদ্যোগে নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠানও গড়ে উঠতে পারছে না।
গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি ঋণের নামে বরাদ্দ কোটি কোটি টাকা প্রকৃত কৃষকের পরিবর্তে সরকারী দলের লোকজন ও টাউটরা লুটছে। খাজনার বদলে ভূমি উন্নয়ন কর বসিয়ে খাজনার দশ গুণ আদায় করে নেয়া হচ্ছে। সার, বীজ কীটনাশক ওষুধ প্রভৃতির দাম দফায় দফায় বাড়ানো হচ্ছে।
বিশ্বব্যাংকের হিসাব মতে, বাংলাদেশের শতকরা ৮৫ জন। মানুষ আজ দারিদ্র্যসীমার নীচে জীবনযাপন করছে ও শতকরা ৫৭ জন কৃষক আজ ভূমিহীনে পরিণত হয়েছেন, প্রায় ১ কোটি কর্মক্ষম যুবক আজ বেকার। অন্যদিকে গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশে কোটিপতির সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে গেছে। গরীব আরো গরীব হচ্ছে, গরীবের সংখ্যা বাড়ছে, ধনী আরো ধনী হচ্ছে, ধনীর সংখ্যাও বাড়ছে।
অপচয় সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। দেশকে বন্ধক দিয়ে আনা বৈদেশিক ঋণ অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যয় করা হচ্ছে। কল-কারখানা নির্মাণের পরিবর্তে তা দিয়ে গড়া হচ্ছে নগরীর বিলাসবহুল জীবনযাত্রা প্রণালী। অর্থনীতির চরম সংকটের মুহূর্তেও সরকারের এ অপচয় বা বিলাস বন্ধ হয়নি। গোটা দেশ দ্রুত দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছে।
পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের ব্যর্থতা অত্যন্ত প্রকট। এই সরকার আমাদের প্রতিবেশী দেশসমূহের সঙ্গে আজ পর্যন্ত কোন সমস্যার সমাধান করতে পারেনি। তাদের ভ্রান্ত ও খেয়ালী পররাষ্ট্রনীতি আমাদের পরিচিত বন্ধুদের সঙ্গে সম্পর্কের ফাটল ধরাচ্ছে। ফারাক্কা থেকে আমাদের সময়ে আনীত ৪8000 কিউসেকের পরিবর্তে জানা (৩৪০০০ কিউসেক গঙ্গার পানি এনেছে। পাকিস্তান থেকে আমাদের প্রাপ্য ন্যায্য সম্পদ উদ্ধার করার কোন উদ্দ্যোগ
তারা নেয়নি। আটকে-পড়া পাকিস্তানী নাগরিকদের তারা ফেরত পাঠাতে পারেনি। সমুদ্র সম্পদ এবং প্রাকৃতিক গ্যাসকে অসম চুক্তির মাধ্যমে বিক্রি করে দেয়া হচ্ছে। চট্টগ্রামের ৫০০০ বর্গমাইল এলাকা তেল অনুসন্ধানের নামে বিদেশের কাজে লীজ দেয়ার প্রচেষ্টা চালানো হ সমাজজীবনে আজ দুর্বিষহ অবস্থা। দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রতিদিনই অবনতি ঘটছে। প্রধানমন্ত্র
বাসভবনে সশস্ত্র প্রহরার মধ্যেও ডাকাতি হচ্ছে। খুন-জখম ছিনতাই-রাহাজানি নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে।।
চোর-ডাকাত-গুণ্ডা-বদমাশ জনজীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে। অন্যদিকে দুর্নীতি সর্বকালের রেকর্ড ভঙ্গ করে নিয়মে পরিণত হয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্পসমূহের সিংহভাগ টাকা সরকারী দলের টাউট-বাটপাড়েরা আত্মসাৎ করছে। দেশ থেকে ন্যায়বিচার উঠে গিয়েছে, লক্ষ লক্ষ মজলুম আজ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত।
তারপরে রয়েছে আইনের শাসনের প্রতি সরকারের চরম অবহেলা। বঙ্গবন্ধু এবং চার জাতীয় নেতার চিহ্নিত ও স্বঘোষিত হত্যাকারীদের বিচার ও শাস্তির বদলে বিদেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে গোপন বিচার ও ফাঁসী এবং সম্প্রতি ১২ জন সামরিক অফিসারের ফাঁসী আইনের প্রতি সরকারের অগ্রদ্ধার চূড়ান্ত দৃষ্টান্ত ।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আজ চরম নৈরাজ্য বিরাজ করছে। অস্ত্রের ঝনঝনানিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা ক্লাস- বর্জন করে প্রতিবাদ জানানোর জন্য রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছেন। প্রাইমারী স্কুলের ছাত্রসংখ্যা গত পাঁচ বছরে ৮৯ লক্ষ হতে ৮১ লক্ষে নেমে এসেছে।
বই, কাগজ ইত্যাদির অগ্নিমূল্যের ফলে দেশের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। বঙ্গবন্ধু সরকার কর্তৃক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের জন্য গণতান্ত্রিক আইন প্রবর্তন এবং প্রাইমারী শিক্ষকদের চাকরিকে সরকারী করার মহান পদক্ষেপকে বর্তমান সরকার বারে বারে নস্যাৎ করার চেষ্টা করছে, ফলে দেশের শিক্ষক সমাজের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে।
সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ-এর নামে বাঙালীর অস্তিত্বকে নিশ্চিহ্ন করার প্রক্রিয়া চলছে। স্বাধীনতার দশ বছর পরেও বাংলা ভাষা প্রকৃত রাষ্ট্র ভাষার মর্যাদা পায়নি। প্রকাশনা শিল্পে অচলাবস্থা সৃষ্টি করে। আমাদের জাতীয় সাহিত্য বিকাশের পথ রুদ্ধ করে দেয়া হচ্ছে।
অশ্লীল ও বিকৃত সংস্কৃতি সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় বিভিন্ন প্রচার-মাধ্যমের সাহায্যে গ্রামে-গঞ্জে ছড়িয়ে দিয়ে জাতীয় সংস্কৃতিকে বিকৃত করা হচ্ছে। জনগণের সহজ-সরল চিরাচরিত মহান ধর্মীয় অনুভূতিকে সাম্প্রদায়িকতায় পরিণত করার প্রচেষ্টা চলছে।
মুক্তিযুদ্ধের সকল চিহ্নকে মুছে ফেলতে যেন এই সরকার বদ্ধপরিকর, একাত্তরের চিহ্নিত কণ্ঠগুলো বেতারে ফিরে এসেছে, একাত্তরের ঘূর্ণিত মুখগুলো টেলিভিশনে দেখা যাচ্ছে। এই চক্রান্ত শুরু হয়েছে “জয় বাংলা” নিষিদ্ধকরণ ও “বাংলাদেশ বেতারের” নাম, পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে। যার চরম বিকাশ ২৬ মার্চকে “স্বাধীনতা দিবসের” পরিবর্তে “জাতীয় দিবস” ঘোষণা।
সংগ্রামী ভাই ও বোনেরা,
এই ভয়াবহ সংকট থেকে মুক্তির একমাত্র পথ হচ্ছে সংগ্রামের মাধ্যমে দেশের ক্ষমতা জনগণের হাতে ফিরিয়ে আনা। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ছেষট্টির ৬-দফা আন্দোলন, ঊনসত্তরের মহান গণ-অভ্যুত্থান এবং একাত্তরের সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামের মত একাশিতেও জনগণের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নেতৃত্বদানে অঙ্গীকারাবদ্ধ।
আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এই সংগ্রামেরই অংশ বলে মনে করে। শুধু ক্ষমতা দখল নয়, জাতির সার্বিক মুক্তি এবং একটি সুখী সুন্দর শোষণমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আওয়ামী লীগের লক্ষ্য। আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নিম্নোক্ত কর্মসূচী ঘোষণা করছে-
১। সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা :
গত ৬ বছরের অভিজ্ঞতায় দেখা গিয়েছে যে, জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাষ্ট্রপতির শাসন স্বৈরতন্ত্রের জন্ম দেয় এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ধ্বংস করে। তাই জনগণের সত্যিকার প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বহু দলীয় সংসদীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করে স্বাধীন সার্বভৌম সংসদ গঠন করবে।
২। বাহাত্তুরের শাসনতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন :
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংসদীয় গণতন্ত্র প্রচলনের জন্য ১৯৭২সালের সংবিধান (চতুর্থ সংশোধনীর পূর্বাবস্থায়) পুনর্বহাল করবে।
৩। আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা :
আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে। বিচার বিভাগকে শাসন। বিভাগ থেকে পৃথক করে পুনর্বিন্যাস করা হবে। একই সঙ্গে ঔপনিবেশিক আইন ও বিচার কাঠামো সংস্কার করে গণমুখী আইন-কানুন ও দ্রুত বিচার নিষ্পন্নে কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও চার নেতাসহ গত ৬ বছরের সকল হত্যাকাণ্ডের বিচার করে অপরাধাদের দৃষ্টাস্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।
৪। কালাকানুন বাতিল :
সংবিধানের তৃতীয় অধ্যায়ে বর্ণিত মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী সকল রকমের আইন ও আদেশ বাতিল করা হবে। সংবাদপত্র, বাক ও ব্যক্তি স্বাধীনতা ও স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করা হবে।
৫। শোষণমুক্ত অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা :
বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচী শোষণমুক্ত সমাজ ও সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে আওয়ামী লীগ বদ্ধপরিকর। সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য অর্থনীতিকে নিম্নোক্তভাবে ঢেলে সাজানো
(ক) জাতীয়করণকৃত শিল্পে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা :
ব্যাংক, বীমা এবং ভারী ও মৌলিক শিল্পকে জাতীয়করণকৃ হবে। শিল্পের আওতাতেই রাখা হবে এবং গত ৬ বছর রাষ্ট্রায়ত্ত খাত থেকে ব্যক্তি মালিকানা সকল শিল্প প্রতিষ্ঠানের বিষয় পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। জাতীয়করণকৃত শিল্প কারখানাগুলোকে ধ্বংস করার সকল চক্রান্ত কঠোরভাবে নির্মূল করা হবে। সঙ্গে সঙ্গে জাতীয়করণকৃত শিল্পে যোগ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা আমলাতান্ত্রিক স্থবিরতা ও লাল ফিতার দৌরাত্ম্য থেকে মুক্ত করা এবং দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি নির্মূল করা হবে।
ব্যবস্থাপনায় শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্ব দেয়া হবে, পাশাপাশি জাতীয়করণকৃত শিল্পকে জনপ্রতিনিধিদের কাছে দায়ী থাকার ব্যবস্থা রাখা হবে। লভ্যাংশ বণ্টন এবং উৎসাহ প্রদানের ব্যাপারে দক্ষতা ও উৎপাদনের হার অনুযায়ী সুষম নিয়ম চালু করা হবে। জাতীয় শিল্পকে টাউট-বাটপার ও সুবিধাভোগীদের হাত থেকে মুক্ত করা হবে। জাতীয় পুঁজির বিকাশে সহায়তা করা হবে।
(খ) কৃষি, সমবায় ও ভূমি সংস্কার :
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কৃষি খাত এবং ভূমি সংস্কারের কর্মসূচীকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেবে। নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে ব্যক্তি মালিকানা বজায় রেখে গ্রামে গ্রামে বহুমুখী সমবায় ব্যবস্থা গড়ে তুলে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং উৎপাদিত দ্রব্যের সুষম বণ্টনের ব্যবস্থা করা হবে। ভূমিহীন ক্ষেত মজুরদের সমবায়ের আওতায় এনে ফসলের নির্দিষ্ট অংশ দেয়া হবে এবং উদ্বৃত্ত খাস জমি তাদের মধ্যে বণ্টন করা হবে।
কৃষি উপকরণ যথা- সার, বীজ, কীটনাশক ওষুধ ইত্যাদির দাম কমানো হবে। পাটের ন্যূনতম মূলা ২০০ টাকা ধার্যসহ কৃষকদের উৎপাদিত সকল পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হবে, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে পাটচাষীদের জন্য ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ ও পাট রফতানী ব্যবসা জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ-এর জন্য সরকারী নিয়ন্ত্রণসহ প্রয়োজনীয় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সুষ্ঠু সেচ ব্যবস্থার উপর গুরুত্ব দেয়া হবে। কৃষিভিত্তিক ক্ষুদ্র শিল্প এবং কুটির শিল্পের ব্যাপক প্রসার ঘটানো হবে। পল্লী বিদ্যুতায়ন কর্মসূচীকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে জোরদার করা হবে।
(গ) সর্বোচ্চ উৎপাদন ও বেকারত্ব দূরীকরণ :
ভারী শিল্প থেকে শুরু করে কুটির শিল্প পর্যন্ত সকল পর্যায়ে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। সব জাতীয় সম্পদের সুপরিকল্পিতভাবে সদ্ব্যবহার করা হবে।লক্ষ লক্ষ বেকারের সমস্যা সমাধানের জন্য জাতীয় পকিল্পনা প্রণয়ন করা হবে এবং এ জন্য জনশক্তি নির্ভর শিল্প স্থাপনের উপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা হবে। সকল খাতে অপচয় বন্ধ করা হবে।
(ঘ) বৈদেশিক ঋণের পূর্ণ ব্যবহার :
আত্মনির্ভরশীল অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে বৈদেশিক সাহায্যের উপর নির্ভরশীলতা ক্রমান্বয়ে হ্রাস করা হবে। অন্যদিকে বর্তমানে প্রাপ্ত ঋণ শিল্প, কৃষি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার ন্যায় অত্যাবশ্যকীয় ও উৎপাদনশীল খাতে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ব্যয় করা হবে।
(ঙ) আমদানী-রফতানী :
জাতীয় শিল্পের বিকাশের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে দেশের আমদানী-রফতানীনীতি প্রণয়ন করা হবে। বর্তমান আমদানী-রফতানী বাণিজ্যের বিপুল ঘাটতি দ্রুত হ্রাস করতে হবে। দেশীয় পণ্য ব্যবহারে দেশীয় শিল্প গড়ে তোলা হবে।
(চ) মধ্যস্বত্ব বিলোপ :
শিল্প ও কৃষির সকল ক্ষেত্র থেকে টাউট-দালাল ফড়িয়াদের নির্মূল করা হবে। অর্থকরী ফসলসমূহের প্রত্যক্ষ উৎপাদনকারীদের সরাসরি সর্বোচ্চ মূল্য পাবার ব্যবস্থা করা হবে।
(ছ) ব্যক্তি মালিকানায় শিল্প :
জাতীয়করণকৃত খাতের বাইরে ও শিল্পের দ্রুত বিকাশের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় শিল্প স্থাপনেও প্রকৃত শিল্প উদ্যোক্তাদের সাহায্য ও সহযোগিতা প্রদান করা হবে। এক্ষেত্রে সমবায় ভিত্তিতে শিল্প-কারখানা স্থাপনে আগ্রহী মালিকদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে।
৬। প্রশাসন বিকেন্দ্রীকরণ :
পুরাতন ঔপনিবেশিক প্রশাসন ব্যবস্থা ভেঙ্গে গণমুখী গণতান্ত্রিক প্রশাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ করে পর্যায়ক্রমে নিম্নতম পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হবে। প্রশাসনে জনপ্রতিনিধিদের কার্যকর অংশগ্রহণের ব্যবস্থা থাকবে। সকল কর্মচারীদের একটি সুষম বেতন কাঠামোর মধ্যে আনয়ন করা হবে।
৭। গণমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তন :
কুদরত-ই-খুদা কমিশনের সুপারিশ কার্যকরী করে সকল স্তরে শিক্ষা সংস্কার করা হবে। সকল প্রকার কারিগরি শিক্ষার প্রসারকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হবে এবং জাতীয় বেকারত্ব দূরীকরণ পরিকল্পনা ও পেশাগত চাহিদা অনুযায়ী দেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হবে। নিরক্ষরতা দূরীকরণের কর্মসূচীকে কার্যকর তাৎপর্যপূর্ণ ও সার্থকভাবে জোরদার করা হবে। সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বিশৃঙ্খলার হাত থেকে মুক্ত করে সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে।
৮। জোট নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি :
(ক) বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার আদর্শ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর পররাষ্ট্র বা বৈদেশিকনীতির মূল ভিত্তি।
(খ) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ স্বাধীন ও জোট নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতিতে বিশ্বাসী ।
(গ) সমতা এবং একে অপরের আভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ না করার নীতির ভিত্তিতে আওয়ামী লীগ বৈদেশিক সাহায্য ও সহযোগিতা গ্রহণ করবে।
(ঘ) ‘সকলের প্রতি বন্ধুত্বসুলভ মনোভাব এবং কারও প্রতি বৈরী মনোভাব নয়’ এই মূলনীতি অনুযায়ী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সকল রাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনে বিশ্বাসী।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সর্বপ্রকার সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ, বর্ণবাদ, ইহুদীবাদ ও অস্ত্রপ্রতিযোগিতার বিরুদ্ধে সংগ্রামে সমর্থন ও সহায়তা করে যাবে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বিশ্ব শান্তি এবং নিরস্ত্রীকৃত বিশ্বের পক্ষে কাজ করে যাবে। বিশ্বের নিপীড়িত মুক্তিকামী ও স্বাধীনতা সংগ্রামে নিয়োজিত জাতিসমূহের প্রতি আওয়ামী লীগ দ্ব্যর্থহীন সমর্থন জানাবে।
৯। প্রতিরক্ষা ও সামরিক বাহিনী :
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে নিশ্চিত করার জন্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে পেশাগত আধুনিক, শক্তিশালী ও সুদৃঢ় করবে। পাশাপাশি আমাদের জাতীয় সম্পদ সামরিক বাহিনীকে রাজনীতি থেকে দূরে এবং সমস্ত বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখা হবে যাতে আমাদের প্রতিরক্ষা বাহিনী তাদের জাতীয় কর্তব্য ও দায়িত্ব পালন করে নিজেদের পেশাগত মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে পারে।
১০। জনজীবনে নিরাপত্তা বিধান :
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নয়নসাধন করে জনজীবনে নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনা এবং নিশ্চয়তা বিধান করা হবে।যে কোন প্রকার বিশৃঙ্খলা ও অসামাজিক কার্যকলাপ কঠোর হস্তে দমন করা হবে।
১১। চিকিৎসা, বাসস্থান, যানবাহন :
চিকিৎসা, বাসস্থান, যানবাহন প্রভৃতি সমস্যা সমাধানের জন্য জরুরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। চিকিৎসা ও গৃহ নির্মাণের জাতীয় পরিকল্পনা তৈরী করা হবে যাতে দরিদ্র ও স্বল্পবিত্ত মানুষের ন্যূনতম চাহিদা মেটানো যায়।
১২। মহিলাদের সমানাধিকার :
দেশের জনসংখ্যার অর্ধাংশ নারী সমাজের সর্বক্ষেত্রে সমমর্যাদাদানের কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ প্রসঙ্গে সংবিধানে বর্ণিত, নারী-পুরুষের সমানাধিকার সাধন এবং কর্মক্ষেত্রে তাদের বিশেষ অধিকার ও সুবিধার ব্যবস্থা করা হবে। কর্মজীবী মহিলাদের আবাসিক সমস্যা সমাধানে গুরুত্ব দান করা হবে।
১৩। পশ্চাৎপদ অঞ্চলের উন্নয়ন :
উত্তরবঙ্গ ও পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের পশ্চাৎপদ অঞ্চলসমূহের উন্নয়নের জন্য জরুরীভিত্তিতে কর্মসূচী নেয়া হবে। সকল নাগরিকের মত উপজাতীয়দের সর্বক্ষেত্রে সমান সুযোগের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। বাংলাদেশের বিভিন্ন উপজাতির স্বকীয় বৈশিষ্ট্য রক্ষা করা হবে। সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সাম্প্রদায়িকতা চিরতরে নির্মূল করবে। ধর্ম বিশ্বাস ও ধর্ম পালনে নাগরিকের পূর্ণ স্বাধীনতা ও নিশ্চয়তা বিধান করা হবে।
১৪। প্রবাসী বাঙালীদের আয় করা মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা:
দেশের শিল্পায়নে বিনিয়োগের মাধ্যমে ছোট মাঝারি আকারের শিল্প প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে এবং সরকারীভাবে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।প্রবাসী বাঙালীদের দেশে ফেরার সময় বিমান বন্দরে বর্তমানে যে অহেতুক হয়রানি করা হয় তার কারণসমূহ দূর করা হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় ‘ব্যাগেজ রুল’ সংশোধন করা হবে। চা-শিল্পের উন্নয়ন ও বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে। এই উদ্দেশ্যে একটি সুষম চা-নীতি প্রণয়ন করা হবে। চা-শিল্পের সঙ্গে জড়িত শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য উদ্যোগ নেয়া।। হবে। বেকার চা-শ্রমিকদের চাকরির নিশ্চয়তা বিধান করা হবে।
১৫। বাঙালী সংস্কৃতির বিকাশ :
মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বিকশিত হাজার বছরের ঐতিহ্যপূর্ণ বাঙালী সংস্কৃতি ও কৃষ্টি বিকাশের সর্বপ্রকার কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে। ভাষা, সাহিত্য এবং সংস্কৃতি সব শাখাকে উন্নয়ন পরিকল্পনার আওতায় আনা হবে। বিকৃত ও অপসংস্কৃতির প্রসার কঠোরভাবে রোধ করা হবে।
১৬। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রক্ষা ও চেতনার উজ্জীবন :
একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের সকল স্মৃতি, চেতনা ও মূল্যবোধের পুনঃপ্রতিষ্ঠা, পুনরুজ্জীবন ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের হৃত সম্মান মর্যাদার সঙ্গে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে এবং কর্মসংস্থানে অগ্রাধিকার প্রদান করা হবে।

প্রিয় দেশবাসী,
উপরোক্ত কর্মসূচী বাস্তবায়নের শপথ নিয়ে আমাদের সংগ্রামের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। আমরা বিশ্বাস করি, দেশবাসী তাদের দীর্ঘদিনের সংগ্রামের বিশ্বস্ত ও পরীক্ষিত সাথী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর মনোনীত প্রার্থী বঙ্গবন্ধুর বিশ্বস্ত সহচর, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজ বাংলাদেশের প্রাক্তন আইন ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ড. কামাল হোসেনকে এই নির্বাচনে জয়যুক্ত করবেন।
আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে যোগ্যতম প্রার্থী ড. কামাল হোসেন তাঁর বিজয়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ তাদের হারানো ক্ষমতা ফিরে পাবে। জনগণের অধিকার এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শ শোষিতের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, আওয়ামী লীগের জয় শোষিত জনগণের জয়। জয় আমাদের সুনিশ্চিত।
