শত্রুপক্ষের প্রতি আক্রমণ

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয়ঃ শত্রুপক্ষের প্রতি আক্রমণ। যা ” দ্য বিট্রেয়াল অব ইস্ট পাকিস্তান- এ এ কে নিয়াজি” বইয়ের অংশ।

শত্রুপক্ষের প্রতি আক্রমণ

 

শত্রুপক্ষের প্রতি আক্রমণ

 

শত্রুপক্ষের প্রতি আক্রমণ

এ দিকে ভারতীয়রা সীমান্তে হামলা এবং আর্টিলারি ফায়ার বৃদ্ধি করে। ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছিল তাদের মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ। ইয়াহিয়া খান সরকারের ত্রুটিপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি এবং অপপ্রচার রোধে ব্যর্থতার কারণে পাকিস্তান কূটনৈতিক, রাজনৈতিক, সামরিক ও মনস্তাত্ত্বিকভাবে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

ভারতীয় অপপ্রচার এতো সুসংগঠিত এবং এতো কার্যকর ছিল যে, এতে শুধু বাংলাদেশের স্বার্থের প্রতি আন্তর্জাতিক সহানুভূতিই বৃদ্ধি পায় নি বরং ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুটতরাজ এবং লাখ লাখ শরণার্থীদের দেশত্যাগ সম্পর্কে ভিত্তিহীন ও সাজানো কাহিনিও মানুষ বিশ্বাস করতে শুরু করে দেয়।

শত্রু পক্ষের প্রতি আক্রমণের সময়টি ছিল ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য অত্যন্ত অনুকূলে । নভেম্বরে শেষ হয় বর্ষা এবং ভ্রাম্যমাণ অপারেশনের জন্য ভূমি হয় উপযুক্ত। সময়টি আরো অনুকূল ছিল এ কারণে যে, তখন চীনের পক্ষ থেকে কোনো হুমকি ছিল না।

 

কারণ, শীতকাল শুরু হওয়ায় বরফ পড়তে শুরু করে এবং এতে চীন-ভারত সীমান্তের গিরিপথগুলো বন্ধ হয়ে যায়। এ জন্য এ রুটে চীনা সৈন্যদের ভারতে প্রবেশ সম্ভব ছিল না। ভারতীয় সেনাবাহিনী হামলার তারিখ নির্ধারণের আগে বর্ষা এবং চীনের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের বিষয়টি বিবেচনায় এনেছিল।

শত্রুর প্রস্তুতি সম্পর্কে তথ্য পাচ্ছিলাম আমরা এবং পূর্ব পাকিস্তান সীমান্তের ওপারে তাদের সৈন্য সমাবেশের প্রতি নজর রাখছিলাম। এ পরিস্থিতিতে আমরা নিষ্ক্রিয় হয়ে বসে থাকি নি। আমরা আমাদের সৈন্য মোতায়েন এবং আমাদের প্রতিরক্ষা সামর্থ্য ও অবস্থান শক্তিশালী করছিলাম।

১৯৭১ সালের নভেম্বরের মাঝামাঝি নাগাদ আমাদের সৈনা পুনঃমোতায়েন, পুনর্গঠন এবং প্রতিরক্ষা অবস্থানে গোলা-বারুদের মজুদ গড়ে তোলার কাজ শেষ হয়।

 

শত্রুপক্ষের প্রতি আক্রমণ

 

জেনারেল হেডকোয়ার্টার্স থেকে ভারতের আসন্ন হামলা সম্পর্কে খবর পাওয়ার পর সৈন্যদেরকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করা হয়। আমরা প্রার্থনা নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম এবং ২০/২১ নভেম্বরের রাতে জেগে ছিলাম যেটা ছিল ঈদের রাত। আমরা খুব উদ্বিগ্ন ছিলাম।

Leave a Comment