শাসনতান্ত্রিক প্রস্তাব [ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল ]

আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় –শাসনতান্ত্রিক প্রস্তাব। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।

শাসনতান্ত্রিক প্রস্তাব 

 

শাসনতান্ত্রিক প্রস্তাব

 

ইহা পুনরুল্লেখ নিষ্প্রয়োজন যে আওয়ামী লীগ নির্ভেজাল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক বিধি-ব্যবস্থায় বিশ্বাসী এবং ইহা প্রতিষ্ঠার জন্য এই সংগঠন সর্ব প্রকার প্রচেষ্টা চালাইয়া যাইবে। এখানে বিশেষভাবে কতিপয় প্রস্তাবের উল্লেখ করা যাইতেছে যেগুলিকে পাকিস্তানের শাসনতন্ত্রে অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত করিতে হইবে :

পাকিস্তান হইবে একটি “ফেডারেশন” বা যুক্তরাষ্ট্র। এই ব্যবস্থার যৌক্তিকতা বা অপরিহার্য্যতা সম্বন্ধে আলোচনার অবকাশ নাই- ইহা সর্বজন স্বীকৃত সত্য। পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান এই উভয় অঞ্চলকে পূর্ণ আঞ্চলিক স্বায়ত্ব শাসন ও পশ্চিম পাকিস্তানের প্রদেশসমূহকে পূর্ব প্রাদেশিক স্বায়ত্ব শাসন দিতে হইবে। সরকার হইবে “পার্লামেন্টারী” ধরনের, যাহাতে প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের ভোটে প্রত্যেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত আইন সভা হইতে সার্বভৌম। যুক্তরাষ্ট্রীয় আইনসভার আসন সংখ্যা জনসংখ্যার ভিত্তিতে নির্ধারিত হইবে।যুক্তরাষ্ট্রীয় (ফেডারেল) সরকারের ক্ষমতা দুইটি বিষয়ে সীমাবদ্ধ থাকিবে, যথা, দেশরক্ষা ও বৈদেশিক নীতি । অবশিষ্ট সকল বিষয়ে অঙ্গ রাষ্ট্রগুলির ক্ষমতা থাকিবে নিরঙ্কুশ। সমগ্র দেশের জন্য দুইটি পৃথক অথচ অবাধে বিনিময়যোগ্য মুদ্রা চালু থাকিবে । 

অথবা

* বিশেষ ব্যবস্থার শর্তাধীনে মুদ্রা ও অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্রীয় বিষয়রূপে গৃহীত হইতে পারে। এই ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের কর্তৃত্বাধীন “ষ্টেইট ব্যাঙ্কের” পরিচালনার অধীনে দুই অঞ্চলে দুইটি “রিজার্ভ ব্যাংক” থাকিবে। এই আঞ্চলিক রিজার্ভ ব্যাংকগুলি আঞ্চলিক সরকারের অর্থনৈতিক ব্যাপারে পরামর্শ দান করিবে এবং যাহাতে এক অঞ্চল হইতে অন্য অঞ্চলে অবাধে অর্থ ও মূলধন পাচার হইতে না পারে তাহার কার্য্যকরী ব্যবস্থা অবলম্বন করিবে।

 

শাসনসম্বন্ধীয় কার্য নির্বাহের সুবিধার জন্য এবং নানা প্রকার জটিলতা এড়াইবার জন্য কর ও শুল্ক ধার্য্যের দায়িত্ব অঙ্গ রাষ্ট্রগুলির উপরই নাস্ত থাকা বাঞ্ছনীয়। এই ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারকে কোন ক্ষমতা অর্পণের প্রয়োজন নাই। তবে প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহের জন্য অঙ্গ রাষ্ট্রগুলির রাজস্বের একটি স্বীকৃত অংশ শাসনতান্ত্রিক ব্যবস্থানুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের অবশ্য প্রাপ্য হইবে। অঙ্গ রাষ্ট্রগুলির আয়ের একটি নির্দিষ্ট অংশ স্বয়ংক্রিয় নিয়মে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব তহবিলে জমা হইবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গ রাষ্ট্রের বহির্বাণিজ্যের পৃথক হিসাব রক্ষা করিতে হইবে এবং বহির্বাণিজের মাধ্যমে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা রাষ্ট্রগুলির এখতিয়ারাধীন থাকিবে। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা সমান হারে বা সর্বসম্মত কোন হারে অঙ্গ রাষ্ট্রগুলিই মিটাইবে। যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের বৈদেশিক নীতির সহিত সঙ্গতি রাখিয়া অঙ্গ রাষ্ট্রগুলিকে বিদেশে নিজ নিজ বাণিজ্য প্রতিনিধি প্রেরণ এবং স্বীয় স্বার্থে বাণিজ্যিক চুক্তি সম্পাদনের ক্ষমতা দান করিতে হইবে।

 

শাসনতান্ত্রিক প্রস্তাব

 

* আঞ্চলিক সংহতি ও শাসনতন্ত্র রক্ষার জন্য শাসনতন্ত্রে অঙ্গ রাষ্ট্রগুলিকে স্বীয় কর্তৃত্বাধীনে আধা সামরিক বা আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠন ও রাখার ক্ষমতা দিতে হইবে। শাসনতন্ত্রে কার্য্যকরী এবং যথোপযুক্ত ব্যবস্থা অবলম্বন করতে হইবে যাহাতে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের সামরিক ও বেসামরিক চাকুরিতে উভয় অঞ্চলের লোকসংখ্যা অনুপাতে নিযুক্ত হইতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কর্তৃত্বাধীন সরকারী, আধা-সরকারী ও বেসরকারী সংস্থা ও বিভাগসমূহ এমনভাবে স্থাপন করিতে হইবে এবং যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের ব্যয়, বিনিয়োগ ও নির্মাণকার্য্য এমনভাবে পরিচালিত হইবে যাহাতে পাকিস্তানের উভয় অঞ্চলের লোক জনসংখ্যার অনুপাতে সমান সুযোগ ও সুবিধা লাভ করিতে পারে।

Leave a Comment