আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় –শিক্ষার আমূল পরিবর্তন ও মান উন্নয়ন। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।
শিক্ষার আমূল পরিবর্তন ও মান উন্নয়ন

বাংলাদেশের সংবিধানে ‘একই পদ্ধতির গণমুখী ও সার্বজনীন শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার ধারা সন্নিবেশিত রয়েছে। সে অনুসারে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার শিক্ষার সর্বস্তরে পরিবর্তন আনয়নের প্রচেষ্টা গ্রহণ করেন।
১৯৭৫ সালের পর থেকে বিভিন্ন সরকার বিচিত্রমুখী উদ্দেশ্যে শিক্ষা ব্যবস্থা পরিচালিত করে, যার ফলে সাধারণ মানুষ রাষ্ট্র শিক্ষা লাভের অধিকার থেকে বকার বিচিত্রমুখী বিধানিক মৌল ধারার আলোকে গণমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সকলের শিক্ষা লাভের বিষয়কে অধিকার হিসাবে নিশ্চিত করতে আওয়ামী লীগ সংকল্পবদ্ধ।
দেশের শিক্ষার মূল লক্ষ্য এমন হবে যাতে করে বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিক তার নিজস্ব বুদ্ধিমত্তা ও গুণা বিকাশ সাধনে সক্ষম হয় এবং সমাজের প্রতিটি স্তরে তার শিক্ষা সম্পূর্ণ কাজে লাগাতে পারে এবং সে-সঙ্গে সমাজের চাহিদা মেটাতে পারে।
প্রত্যেকের জন্য শিক্ষা-ব্যবস্থায় সমান সুযোগ সৃষ্টি করা হবে এবং ধর্ম ও মাদ্রাসা শিক্ষাকে উন্নতমানের ও আধুনিকীকরণ করবার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ডক্টর কুদরত-ই-খুদার শিক্ষা কমিশনের রিপোর্টের আলোকে বিজ্ঞানভিত্তিক আধুনিক ও কারিগরী শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে এবং সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ও মান উন্নয়ন করা হবে।
(ক) নিরক্ষরতা দূরীকরণ :
দশ বছরের মধ্যে নিরপেক্ষতা দূরীকরণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে প্রায় শতকরা ৭৫ ভাগ জনগোষ্ঠী নিরক্ষর। অতি দ্রুত নিরক্ষরতা দূর করার জন্য সম্পূর্ণ নতুন কৌশল প্রয়োগ করা হবে। এ কার্যক্রমে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের সম্পৃক্ত করে জাতীয় কল্যাণ কর্মসূচী গ্রহণ করা হবে।
(খ) প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা :
যথাসম্ভব স্বল্প সময়ে অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষা সকলের জন্য বাধ্যতামূলক করা। হবে। মাধ্যমিক শিক্ষাকে সকল শ্রেণীর মানুষের জন্য সহজলভ্য করা হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার দেশে এগার হাজার নতুন প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাসহ দেশের সমুদয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সরকারী কর্মচারীর মর্যাদা প্রদান করেন।
অনুরূপভাবে মাধ্যমিক শিক্ষার ব্যাপক মান উন্নয়নের কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়। কিন্তু বঙ্গবন্ধু শহীদ হওয়ার পর থেকে নতুন প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠা বা সাধারণ শিক্ষা বিস্তারে পরবর্তী সরকারসমূহ নিদারুণ উদাসীনতা প্রদর্শন করে আসছে।
মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষার স্তরে শিক্ষার মান ও অন্যান্য গুণগত দিকের কোন উন্নয়ন সাধন করা হয়নি। এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংকল্পবদ্ধ। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার মান উন্নয়নে সর্বাত্মক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
প্রাথমিক শিক্ষার বিভিন্ন প্রশাসনিক স্তরে বিরাজমান দুর্নীতি, অদক্ষতা ও জটিলতা নিরসনকল্পে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নির্দিষ্ট এলাকায় বসবাসরত শিশুদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভর্তির সুযোগ নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় বিধি-বিধান প্রণয়ন করা হবে। প্রতিটি গ্রামে একটি করে প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে এবং বেসরকারী বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সম্মানজনক বেতনভাতা প্রদান করা হবে।
(গ) কারিগরী এবং পেশাগত শিক্ষা ব্যবস্থা :
স্বয়ংসম্পূর্ণ শিক্ষা ব্যবস্থা ও সমাজের যথার্থ চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে কারিগরী এবং পেশাগত শিক্ষা বিস্তারের জন্য আরো প্রতিষ্ঠান স্থাপন করতে হবে। সারা দেশে পরিকল্পিত উপায়ে পর্যাপ্ত সংখ্যক কৃষি ও পলিটেকনিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে।
(ঘ) উচ্চ শিক্ষা :
বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে মেধানুসারে উচ্চ শিক্ষা লাভের সুযোগ নিশ্চিত করা হবে। দেশের সর্বস্তরের মানুষের জন্য উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ থাকবে। মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের উচ্চ শিক্ষা লাভের ক্ষেত্রে দারিদ্রা যাতে অন্তরায় সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জাতীয় জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উচ্চ শিক্ষার চাহিদা পূরণের জন্য ও দক্ষ জনশক্তি উন্নয়নের জন্য বঙ্গবন্ধুর সরকার প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিশ্ববিদ্যালয়, চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়, কৃষি ও কারিগরী বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পর্যায়ক্রমিক পরিকল্পনা গ্রহন করেছিলেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় স্বায়ত্তশাসন আইন প্রণয়ন করে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে গণতান্ত্রিক পরিবেশ গড়ে তোলার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। পরবর্তী সরকারগুলো সে আইন পরিবর্তন করে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিকাশে অন্তরায় সৃষ্টি করে। আওয়ামী লীগ বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে স্বায়ত্তশাসনে বিশ্বাসী। শিক্ষাঙ্গনে বিরাজমান।

সন্ত্রাস সমূলে উৎপাটন করে শান্তিপূর্ণ শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তুলতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বদ্ধপরিকর। মুনাফা কেন্দ্রানুগ শিক্ষা প্রসারের পরিবর্তে সরকারী ও বেসরকারী উদ্যোগে আরো চিকিৎসা মহাবিদ্যাল প্রকৌশল মহাবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় সহ দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যাতে সুসমন্বিত শিক্ষা নীতির আওতায় তাদের কার্যক্রম পরিচালিত করে সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
