শ্রমিকদের ভূমিকা

আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় –শ্রমিকদের ভূমিকা। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।

শ্রমিকদের ভূমিকা

 

শ্রমিকদের ভূমিকা

 

যে কোন সমাজতান্ত্রিক দেশে শ্রমিকদের ভূমিকা থাকে অনেক বেশি।সবাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির পথে পা বাড়াইয়াছে। শ্রমিক-শ্রেণীর স্বার্থে উদ্বুদ্ধ হইয়াই আজ সমাজতন্ত্রের পথ আমরা বাছিয়া নিয়াছি।

শ্রমিক আন্দোলন ও শ্রমিক সংগঠনের তাই আজ এক নতুন ভূমিকা যা তাকে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পালনকরিতে হইবে। অতি কষ্টার্জিত স্বাধীনতা ও বহু ত্যাগের বিনিময়ে যে বৈপ্লবিক সমাজ আমরা রচনা করিতে চলিয়াছি তাহা যাহাতে কোনভাবে নষ্ট না হইয়া যায় তাহার প্রহরী হিসাবে শ্রমিক-শ্রেণীকে কাজ করিতে হইবে ।

সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতিকে রক্ষা, সমৃদ্ধি এবং আরও উত্তরোত্তর ব্যাপ্তির দিকে আগাইয়া লইয়া যাইবার দায়িত্ব শ্রমিক-শ্রেণীর। পুঁজিবাদের গোলামী হইতে শ্রমিক-শ্রেণীকে চিরদিনের জন্য মুক্তি দেওয়াই আওয়ামী লীগের উদ্দেশ্য। শুধুমাত্র বেতন বৃদ্ধির আন্দোলনে শ্রমিক-শ্রেণীর সামগ্রিক মুক্তি সম্ভব নহে এবং মাইনা বৃদ্ধির আন্দোলন পুঁজিবাদী সমাজ-ব্যবস্থার একটি ভাওতা শ্লোগান মাত্র ।

পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় মাইনা বাড়ার সাথে সাথে জিনিসের মূল্য বৃদ্ধি একটি হতাশজনক রেসের সৃষ্টি করে মাত্র। কিন্তু সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতিতে শ্রমিক মালিকের সংঘাত ও মুনাফা শিকারের সম্পূর্ণ অবসান ঘটাইয়া শ্রমিক উপযুক্ত মূল্য ও মর্যাদা পাবে এবং দেশের সম্পদের মালিক হইবে শ্রমিক এবং দেশের আপামর জনসাধারণ । ইহার আওয়ামী লীগের মতাদর্শ।

শ্রমিকের জন্য অবিলম্বে উপযুক্ত বাসস্থান ও ন্যায্যমূল্যে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস সরবরাহের ব্যবস্থা করিতে হইবে। শ্রমিকে শ্রমিকে বিরোধের অবসান ঘটাইতে হইবে। পুঁজিপতিরা শ্রমিকে শ্রমিকে বিরোধ সৃষ্টি করিয়া তাহাদের উদ্দেশ্য সিদ্ধ করিয়া আসিয়াছে। তাই আওয়ামী লীগ শ্রমিক ঐক্যে বিশ্বাসী।

 

সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির শুরুতেই বানচাল করিবার জন্য প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি শ্রমিক সংঘর্ষ ও অসন্তোষ সৃষ্টির যে অপচেষ্টা করিতেছে এবং ভবিষ্যতেও করিতে পারে শ্রমিক-শ্রেণী তাহার প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখিবে। আওয়ামী লীগ সর্বস্তরে এবং সর্বসময় শ্রমিক-শ্রেণীর পাশে থাকিবে ও শ্রমিক স্বার্থের সপক্ষে কাজ করিয়া যাইবে ।

শ্রমিক যাহাতে তাহার ন্যায্য মজুরী পায় এবং তাহার চাকুরীর নিশ্চয়তা থাকে তাহার জন্য কাজ করিয়া যাইতে আওয়ামী লীগ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। সমাজতান্ত্রিক সমাজ-ব্যবস্থায় শ্রমিকের বিশেষ সুযোগ-সুবিধা মঞ্জুর করিতে হইবে এবং পর-পৃষ্ঠায় বর্ণিত ন্যূনতম সুবিধা সৃষ্টির ব্যবস্থা করিতে হইবে।

১। বাসোপযোগী বাসস্থান (বিনা ভাড়ায় বা স্বপ্ন ভাড়ায়)। 

২। বিনা মূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা।

৩। অসুস্থকালীন বেতন-ভাতা ।

৪। বাৎসরিক এক মাসের সম্পূর্ণ বেতনসহ ছুটি।

৫। অবসর গ্রহণ বা পঙ্গু বা অক্ষমতার জন্য ভাতার ব্যবস্থা।

৬। শ্রমিকের সন্তানদের বিনা মূল্যে স্কুলের শিক্ষার ব্যবস্থা । 

৭। নারী শ্রমিকদের প্রসূতি কারণে ছুটির ব্যবস্থা ।

 

শ্রমিকদের ভূমিকা

 

সমাজতান্ত্রিক সমাজ-ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে শিল্প কল-কারখানা পরিচালনায় ও নীতি-নির্ধারণে শ্রমিকদের পক্ষ হইতে বিশেষ ভূমিকা থাকিবে। উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য শ্রমিককে বিশেষ উৎসাহমূলক বোনাস দিতে হইবে ।

ট্রেড ইউনিয়ন গঠন ও ইহার সুষ্ঠু ভূমিকা পালনে সরকারকে উপরিকল্পিত আইন প্রণয়ন করিবে। শ্রমিকদের কারিগরি জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করিতে হইবে। শ্রমিকদের পড়াশুনা, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক উন্নতির দিকে বিশেষ নজর দিতে হইবে।

Leave a Comment