সভানেত্রী পদে জননেত্রী শেখ হাসিনা 

আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় –সভানেত্রী পদে জননেত্রী শেখ হাসিনা । যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।

সভানেত্রী পদে জননেত্রী শেখ হাসিনা 

 

সভানেত্রী পদে জননেত্রী শেখ হাসিনা 

 

সংগ্রামী বন্ধুরা,

আপনারা সকলেই জানেন, বিগত ‘৮১ সালের ১৪, ১৫ ও ১৬ই ফেব্রুয়ারী তারিখে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল অধিবেশন বিপুল আনন্দ-উল্লাস, বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় বিপ্লবের আদর্শ ও কর্মসূচী বাস্তবায়নের দৃঢ় অঙ্গীকার, স্বৈরাচার ও সামরিক গণতন্ত্রের চির অবসান ঘটিয়ে জনগণের হৃত অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং সার্বভৌম সংসদ ও গণতান্ত্রিক শাসন ও সরকার প্রতিষ্ঠার বন্ধু-শপথ নিয়ে সর্বসম্মতিক্রমে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু-তনয়া, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রতীক শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী নির্বাচিত করে।

এই কাউন্সিলেই দলের সাংগঠনিক কাঠামোকে আন্দোলন ও যৌথ নেতৃত্বের উপযোগী বিন্যাস করে ‘প্রেসিডিয়াম’-এর প্রবর্তন করা হয়, এবং বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যে ৭ দফা কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়। উক্ত ৭ দফা কর্মসূচী ও ঘোষণার মধ্যে সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যা ও জাতীয় চার নেতা হত্যার বিচার দাবী এবং শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাকে পূর্ণ মর্যাদায় দেশে ফিরিয়ে আনার দাবী ছিল অন্যতম প্রধান দাবী। 1

১৭ই মে ‘৮১ সাল। সারা দেশের গ্রাম, গঞ্জ, শহর, বন্দর হতে লাখ লাখ অধিকারবঞ্চিত মুক্তিপাগল জনতা ফুটে এল রাজধানী ঢাকায়। স্বাধীনতার বজ্রবাণী “জয় বাংলা” ধ্বনিতে প্রকম্পিত হল ঢাকার আকাশ বাতাস। “হাসিনা তোমায় কথা দিলাম- পিতৃ হত্যার বদলা নেব।”

“শেখ হাসিনার আগমন-শুভেচ্ছা স্বাগতম”, ধ্বনিতে মুখরিত হলো রাজধানী ঢাকা। বস্তুতঃ ১৭ই মে ৮১ আবার প্রমাণ হলো, “মুজিব বাংলার, বাংলা মুজিবের।”

লাখ লাখ জনতার প্রাণ ঢালা উষ্ণ সম্ভাষণ এবং গোটা জাতির শেহানীয় ও ভালবাসার ডালা মাথায় নিয়ে প্রিয়স্বদেশভূমিতে ফিরে এলেন জনতার আশীর্বাদ-ধন্যা নেত্রী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিপ্লবী সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

সেদিন গগণ বিদারী মেঘ গর্জন, ঝঞ্ঝা-বিক্ষুব্ধ প্রকৃতি যেন জাতির জনক হত্যার বদলা নেয়ার লক্ষ্যে গর্জে উঠেছিল, আর অবিরাম মুষলধারে বারি-বরষণে যেন ধুয়েমুছে যাচ্ছিল বাংলার মাটিতে পিতৃ হত্যার জমাটবাধা পাপ আর কলংকের চিহ্ন।

ঝাড়, বাদল আর জনতার আনন্দাশ্র এতে অবগাহন করে শেরে বাংলা নগরে লাখ লাখ জনতার সংবর্ধনার জবাবে শেখ হাসিনা বললেন, “সব হারিয়ে আমি আপনাদের মাঝে এসেছি। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে তাঁর আদর্শ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে জাতির জনকের হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণে আমি জীবন উৎসর্গ করতে চাই।”

পরদিন দলীয় সভানেত্রী জাতীয় স্মৃতিসৌধ, শহীদ মিনার ও বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন- সংগ্রামের শপথ নিলেন। একই দিনে তিনি দলীয় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন।

 

ঐদিনই তিনি রওনা হলেন টুংগীপাড়ার উদ্দেশ্যে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কবর জেয়ারত করতে। ২১শে মে গোপালগঞ্জে অবিস্মরণীয় সংবর্ধনায় জননেত্রীকে স্বাগত জানান হলো। স্মরণকালের বৃহত্তম জনসভায় দাঁড়িয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিপ্লবী সভানেত্রী দৃপ্তকণ্ঠে ঘোষণা করলেন, “আমার আর হারাবার কিছুই নেই।

পিতা, মাতা, ভাই, বাসেল মনি সকলকে হারিয়ে আমি আপনাদের কাছে এসেছি। আমি আপনাদের মাঝেই তাদেরকে ফিরে পেতে চাই। আপনাদের নিয়েই আমি বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে তাঁর আদর্শ বাস্তবায়ন করে বাংলার দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চাই, বাদালী জাতির আর্থ-সামাজিক তথা সার্বিক মুক্তি ছিনিয়ে আনতে চাই।”

শুধু উলে জনসমুদ্র নয়, গোপালগঞ্জের আকাশ আর মাটিও যেন সেদিন জননেত্রীর সাথে দৃপ্ত শপথে শরীক হলো। গণসংযোগের কর্মসূচীর সূচনাতেই গোপালগঞ্জ সফরের পর ২৯শে মে সভানেত্রী শেখ হাসিনা হযরত শাহজালালের পুণ্যস্মৃতি-বিজড়িত সিলেট সফরে যান। সিলেটে অনুষ্ঠিত হয় স্মরণকালের বৃহত্তম জনসভা।

 

সভানেত্রী পদে জননেত্রী শেখ হাসিনা 

 

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী রূপে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ফলে দেশে গণ-জাগরণের ঢেউ জাগলো, গুনগত পরিবর্তন সূচিত হলো আন্দোলনের, সংগঠনের সাথে নতুন করে গণসম্পৃক্ততা সৃষ্টি হলো ব্যাপক ভাবে। দেশবাসী নতুন আলোর দিশা পেল। জিয়া ও তার সরকারের ঠুনকো জনপ্রিয়তার মুখোশ খসে পড়ল।

Leave a Comment