আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় – সংকট উত্তরণ, উন্নয়ন ও অগ্রগতির পাঁচ বছর
উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া অতীতের পুঞ্জিভূত সমস্যা, অব্যবস্থা এবং বিশ্বমন্দার পটভূমিতে মহাজোট সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করে। এই সরকার সাফল্যের সঙ্গে পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ করে।
এ সরকারের মেয়াদকালে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বিশ্বমন্দা মোকাবিলা, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্য বৃদ্ধি রোধ ও জনগণের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে স্থিতিশীল রাখা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট সমাধানে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ, দারিদ্র্য বিমোচন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ বিপুল সাফল্য বয়ে এনেছে। সংকটজাল ছিন্ন করে উন্নয়ন অভিযাত্রায় বাংলাদেশ বিশ্বের পাঁচ শীর্ষ দেশের তালিকায় স্থান করে নেয়।

সংকট উত্তরণ, উন্নয়ন ও অগ্রগতির পাঁচ বছর
মন্দা মোকাবিলায় বিশেষ প্রণোদনা তহবিল ও টাস্কফোর্স গঠন এবং মনিটরিং প্রভৃতির ফলে মন্দার অভিযাত মোকাবিলায় সরকার সক্ষম হয়। আওয়ামী লীগের উন্নয়ন-দর্শনের আলোকে প্রণয়ন করা হয় পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা এবং রূপকল্প-২০২১ সামনে রেখে প্রেক্ষিত পরিকল্পনা পরিকল্পিত উন্নয়নের এ উদ্যোগের ফলে বিশ্বমন্দা সত্ত্বেও বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির গড় হার ৬.২ শতাংশে উন্নীত হয়। মাথাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ১৯০ ডলারে।
পক্ষান্তরে, চালসহ খাদ্যসামগ্রীর মূল্য কমে জনগণের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে আসে। খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি ২০০৮ সালের ১১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭.৫ শতাংশে স্থিতিশীল রাখা হয়। দারিদ্র্য হ্রাসে উল্লেখযোগ্য সাফল্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি অর্জন করে। পাঁচ বছরে দারিদ্র্য হ্রাস পায় ১০ শতাংশ। বাংলাদেশে মঙ্গা বা দুর্ভিক্ষ অতীতের বিষয়ে পরিণত হয়। চমকপ্রদ সাফল্য অর্জিত হয় কৃষি খাতে। খাদ্য উৎপাদনে বাংলাদেশ আবার আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠেছে। খাদ্য উৎপাদন ৩ কোটি ৭৫ লাখ টন ছাড়িয়ে যায়। শেষ দুই বছর সরকারকে চাল আমদানি করতে হয়নি।
বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিয়ে হলেও বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতার লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে বেড়ে দাঁড়ায় সর্বোচ্চ আরো ১১ হাজার মেগাওয়াটে । সিলেটের কৈলাশটিলা ও হরিপুরে দুটি নতুন তেলক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে; শাহবাজপুর- সুন্দলপুর ও শ্রীকাইলে আবিষ্কৃত হয়েছে দুটি গ্যাসক্ষেত্র।

গ্যাসের উৎপাদন ৫৯৩ মিলিয়ন ঘন ফুট ছাড়িয়ে যায় । গ্যাস অনুসন্ধানে এই প্রথম বাপেক্স ১২০০ বর্গকিমি এলাকাজুড়ে ত্রি-মাত্রিক সিসমিক জরিপ চালায় । আমদানি করা হয়েছে এটি নতুন গ্যাস অনুসন্ধান রিগ। ২০০৮ সালের তুলনায় ২০১৩ সালে দৈনিক আরও ৩ হাজার টন অতিরিক্ত কয়লা উত্তোলন করা হয়। নির্মাণাধীন থাকে নতুন ২৮টি স্থায়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র ।
২০০৯-১০ এই পাঁচ বছরে সরকারি এবং বেসরকারি খাতে প্রায় ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে বিে কর্মসংস্থান হয়েছে ১৮ লাখ ৭০ হাজার মানুষের।
প্রতিবছর রেমিটেন্স বেড়েছে ১০ শতাংশ হারে। র আয় ২০০৮-০৯ এর ১ হাজার ৫৫৬ কোটি ডলার; ২০১১-১২ অর্থবছরে বেড়ে ২ হাজার ৪৩০ কোটি বছ উন্নীত হয়েছে। রপ্তানি প্রবৃদ্ধির হার ১৯ শতাংশ। শিল্পোন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় ভৌত অবকাঠামো, তোলা হচ্ছে।
ফলে বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিয়োগের আগ্রহ বেড়েছে। মানবসম্পদ উন্নয়ন ও শিক্ষা খাতে তাৎপর্যপূর্ণ সাফল অর্জিত হয়েছে। এবারই প্রথম কেবল নতুন শিক্ষ প্রণয়নই নয়, তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
প্রাথমিক স্কুলের ১০০ শতাংশ ভর্তির লক্ষ্যমাত্রা প্রায় অর্জিত হয়েছে। শিক্ষার গুনগত উৎকর্ষ সাধনের লক্ষ্যে প্রাথমিক এবং নিম্ন মাধ্যমিক স্তরে সাফল্যের সঙ্গে পাবলিক পরীক্ষা পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। মাদ্রাসা ছাত্রদের বিনামূল্যে সময়মতো বই পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এ বছর ২৭ কোটি বই বিনামূল্যে বিতরণ কর হয়েছে।
বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও নিজস্ব প্রযুক্তির বিকাশে মহাজোট সরকার বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করে। বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের গবেষণার ফলে আবিষ্কৃত হয়েছে পাটের জন্মরহস্য বা জেনোম সিকোয়েন্সিং। এরই ধারাবাহিকতায় পাটসহ উদ্ভিদের জন্য ক্ষতিকারক জন্য ছত্রাকের জন্যরহস্য আবিষ্কৃত হয়েছে।

এ আবিষ্কারের ফলে বাংলাদেশের পাট ও পাটশিল্প কেবল তার হৃত গৌরবই উদ্ধার করবে না, পাটের উৎপাদন বৃদ্ধি ও পাটের বহুমুখী ব্যবহারের নতুন সম্ভাবনাও সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশের कृষিবিজানীৱা লবণাক্ততা সহিষ্ণু নতুন জাতের ধানবীজ আবিষ্কার করেছেন, যা দেশের দক্ষিণাঞ্চলে ধানচাষে বিরাট পরিবর্তন সম্ভব করে তুলবে।
ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রাথমিক লক্ষ্য কার্যত ইতোমধ্যেই অর্জিত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্যাটার্নকেই পরিবর্তন করে দিয়েছে। ই-সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য তথ্যপ্রযুক্তি সুবিধা এখন তৃণমূল পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হয়েছে।
২০১৩ সালের শেষে বাংলাদেশে কোটি মানুষ মোবাইল সিম ব্যবহার করছে। ৩ কোটি মানুষ ইন্টারনেট সুবিধা লাভ করে। তথ্যপ্রবাহ অবারিত করে দেওয়ার পাশাপাশি জনগণের তথ্য জানার অধিকার নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বাচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সংস্কৃতি গড়ে তোলার জন্য প্রণয়ন করা হয় তথ্য অধিকার আইন। একই সঙ্গে গঠন করা হয়েছে তথ্য কমিশন।
স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ ও উন্নয়নের ফলে সারাদেশে ১২ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করা হয়। দক্ষিণ এশিয়ার মাতৃমৃত্যু ও নবজাত শিশু মৃত্যুর হার হ্রাসে বাংলাদেশ অগ্রগণ্য। গড় আয়ুষ্কালও ৬৯ বছরে উন্নীত হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় গঠন করা হয় ‘ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ড’। নারী পুরুষের বৈষম্য হ্রাস এবং সর্বক্ষেত্রে লিঙ্গসমতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নারীর ক্ষমতায়নে আওয়ামী লীগ অঙ্গীকারাবদ্ধ।
এ সময়ে নতুন নারীনীতি প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন ১৫টি বাড়ানো হয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা অবৈতনিক করা হয়েছে। সরকারি চাকরিতে নারীদের জন্য ১০ শতাংশ পদ সংরক্ষিত রাখার বিধান কার্যকর করা হচ্ছে। প্রশাসন, বিচার বিভাগ, সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং কূটনৈতিক প্রভৃতি ক্ষেত্রে উচ্চপদে নারীর অবস্থান বেড়েছে।
সরকারের এসব সাফল্যের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ অর্জন করেছে সম্মানজনক এমডিজি পদক-২০১০, ইন্দিরা গান্ধী শান্তি পুরস্কার-২০১০, সাউথ সাউথ পদক-২০১১, ইউনেস্কো কালচারাল ডাইভারসিটি পদক-২০১২ ও এফএও ডিপ্লোমা অ্যাওয়ার্ড-২০১৩ এবং সাউথ সাউথ সহযোগিতা পুরস্কার-২০১৩।
শান্তি, গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে পাঁচ বছরের সাফল্য তর্কাতীত। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন ও বিচারের রায় কার্যকর করা হয়েছে। জেলহত্যার পুনর্বিচার সম্পন্ন হয়েছে। জাতিকে কলস্বমুক্ত করতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলছে।
ইতোমধ্যে কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়েছে। জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ দমনে সরকার জিরো টলারেন্স দেখানোয় বাংলাদেশে ২০০৯-২০১৩ কালপর্বে এর কোনো অভিপ্রকাশ ঘটেনি। ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা ও দশ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালানির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিচারাধীন মামলাগুলো নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় রয়েছে। দুর্নীতি প্রতিরোধে স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশনকে শক্তিশালী করা হয়েছে।
খালেদা জিয়ার দুই পুত্রের অর্থ পাচার মামলায় আদালত শান্তির রায় দিয়েছে। ইতোমধ্যে খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠপুত্র আরাফাত রহমান কোকোর সিঙ্গপুরে পাচার করা অর্থ দুর্নীতি দমন কমিশন ফেরত এনেছে।
২০১১ সালের ১০ মে সুপ্রিম কোর্ট ত্রয়োদশ সংবিধান সংশোধনী বাতিল করে দেওয়া হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে। রায়ে নির্দলীয় ও অনির্বাচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংবলিত ত্রয়োদশ সংশোধনীকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে বাতিল করা হয়। তবে চূড়ান্ত রায়ে বলা হয়, যদি জাতীয় সংসদ মনে করে তাহলে আরও দুবার তত্ত্বাবধায়ক সরকার রাখা যেতে পারে, তবে তা হতে হবে নির্বাচিত ব্যক্তিদের নিয়ে আপিল বিভাগের এই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ধারা বাতিল হয়ে যায়।
মুন সিনেমা হল নিয়ে মামলায় সাংবিধানিক সংশ্লিষ্টতা থাকায় বিএনপি জোট সরকারের আমলেই হাইকোর্ট সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করেছিল, ফলে ১৯৭৫-এর সামরিক অভ্যুত্থান, জিয়ার ক্ষমতা দখল, সামরিক শাসন এবং সংবিধান সংশোধনী অবৈধ ঘোষিত হয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে জোট সরকার আপিল বিভাগে রিভিউয়ের আবেদন করে। জোট সরকারের আমলে এই রিভিউয়ের নিষ্পত্তি স্থগিত থাকে। শেখ হাসিনার সরকারের আমলে, ২০১১ সালের ১১ মে আপিল বিভাগ রিভিউ নিষ্পত্তি করে দেয়। আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে।
২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী গৃহীত হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশে আবার ‘৭২-এর সংবিধানের মৌলিক নীতি-কাঠামো পুনঃস্থাপিত হয়। অপসারিত হয় মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় রাষ্ট্রপরিচালনার সকল আইনগত বাধা। নবম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো গঠিত হয়। বিরোধী দল থেকেও স্থায়ী কমিটির সভাপতি রাখার ঐতিহ্য সৃষ্টি করা হয়।
ক্রমশই জাতীয় সংসদ সকল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে নিজের অবস্থান দৃশ্যমান করে তোলে। এবারই প্রথম সকল দলের সঙ্গে আলোচনা ও সার্চ কমিটির মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করেন। অবাধ, নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হয়। দেশের স্থানীয় সরকারগুলোর নির্বাচন। জাতীয় সংসদের উপনির্বাচনগুলোও সকলের গ্রহণযোগ্যতা পায়। নির্বাচন কমিশনের আর্থিক স্বাধীনতা ও জনবল নিয়োগের কর্তৃত্ব নিশ্চিত করা হয়।
দেশের বিচার বিভাগ এখন স্বাধীন কমিশন গঠন করে আইন সংস্কারের প্রক্রিয়াও চলমান। মানবাধিকার কমিশন ইতোমধ্যে দেশের সকল দলমতের মানুষের আস্থা অর্জন করে। নিশ্চিত করা হয় বাংলাদেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও অবাধ তথ্যপ্রবাহ। দেশে এখন ২৪টি টিভি চ্যানেল, ৭টি বার্তা সংস্থা, ১১টি এফএম ও ১৪টি কম্যুনিটি রেডিও চালু আছে। প্রকাশিত হচ্ছে ৩২০টি দৈনিক পত্রিকা ও ১৫১টি সাপ্তাহিক।
ক্রীড়া ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও পাঁচ বছরে বাংলাদেশ ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে। সাফল্যের এই ধারা অব্যাহত আছে। এদেশের প্রতিরক্ষা বাহিনী অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় এখন শক্তিশালী সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীতে আধুনিক সমরাস্ত্র, যানবাহন এবং প্রযুক্তির সম্মিলন ঘটানো ছাড়াও সেনা সদস্যদের দক্ষতা বৃদ্ধির ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাদের সুযোগ-সুবিধা যথাসম্ভব বাড়ানো হয়েছে। এ দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনী এখন একটি আধুনিক প্রফেশনাল অজের বাহিনীতে পরিণত হয়েছে।

মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা মীমাংসা তথা সমুদ্রবিজয় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির সাফল্যের এক বিরাট মাইলফলক। ভারতের সঙ্গে অমীমাংসিত সমস্যাগুলোও পর্যায়ক্রমে সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত আছে। চীনসহ নিকট প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের বহুমুখী সহযোগিতার দ্বার উন্মোচিত হয়। বিশ্বসভায় বাংলাদেশ তার হৃত গৌরব পুনরুদ্ধার করে এক মর্যাদার আসনে সমাসীন হয়। শেখ হাসিনা কর্তৃক জাতিসংঘে ‘জনগণের ক্ষমতায়ন ও উন্নয়ন’ মডেল গৃহীত হওয়ায় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের সুনাম বৃদ্ধি ও ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়।
দেশগড়ার দুরূহ কর্তব্য পালন করেও দলের নিয়মিত কাউন্সিল অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নেওয়া হয়। আগের কমিটির মেয়াদ পূর্তির পর ২০১২ সালের ২৯ ডিসেম্বর দলের উনিশতম কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। এবারও বঙ্গবন্ধু কনভেনশন সেন্টারে একদিনের কাউন্সিলে ঘোষণাপত্রের সংশোধনী গৃহীত হয়। এবার গঠনতন্ত্রে কোনো সংশোধনী আনা হয় নি। কাউন্সিলে মূলত পূর্বতন কমিটি বহাল থাকলেও কিছু কিছু পদে পরিবর্তন হয়। ২০১২ সালে গঠিত কার্যনির্বাহী সংসদ নিম্নরূপ-
সভাপতি
১. শেখ হাসিনা এমপি
সভাপতিমণ্ডলী
২. সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দিন (২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর তারিখে প্রয়াত)
৩. সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী এমপি
৪. বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি
৫. আবদুল লতিফ সিদ্দিকী এমপি (২০১৪ সালের ১২ অক্টোবর তারিখে বহিষ্কৃত)
৬. শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি
৭. মোহাম্মদ নাসিম
৮. কাজী জাফর উল্লাহ
৯. সতীশ চন্দ্র রায়
১০. অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন এমপি
১১. ওবায়দুল কাদের এমপি
১২. নূহ-উল-আলম লেনিন
১৩. ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন (পরে অন্তর্ভুক্ত)
১৪. শূন্য
সাধারণ সম্পাদক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক
১৫.সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি – সাধারণ সম্পাদক
১৬. মাহবুব-উল-আলম হানিফ – যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক
১৭. ডা. দীপু মণি এমপি – যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক
১৮. জাহাঙ্গীর কবীর নানক এমপি – যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক
পদের আদ্যাক্ষর অনুযায়ী
১৯. আ হ ম মুস্তফা কামাল, এফসিএ, এমপি – অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক
২০. ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এমপি – আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক (দশম সংসদে স্পিকার হওয়ার পর পদটি শূন্য হয়)
২১. অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু এমপি – আইন বিষয়ক সম্পাদক
২২. ড. মো. আবদুর রাজ্জাক এমপি – কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক
২৩. অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন – তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক
২৪. ফরিদুন্নাহার লাইলী এমপি – ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক
২৫. অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খান এমপি – দফতর সম্পাদক
২৬. আলহাজ অ্যাড. শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ – ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক
২৭. ড. হাছান মাহমুদ এমপি – প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক
২৮. শূন্য – বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক
২৯. স্থপতি ইয়াফেস ওসমান – বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক
৩০. ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা এমপি – মহিলা বিষয়ক সম্পাদক
৩১. ক্যাপ্টেন এবি তাজুল ইসলাম (অব.) এমপি – মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক
৩২. দেওয়ান শফিউল আরেফিন টুটুল – যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক
৩৩. নূরুল ইসলাম নাহিদ এমপি – শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক
৩৪. লে. কর্নেল মুহাম্মদ ফারুক খান এমপি (অব.) – শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক (পরে এই পদের স্থলে আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক করা হয় এবং তার পরিবর্তে এমএ সাত্তারকে উক্ত পদের দায়িত্ব দেওয়া হয়)
৩৫. হাবিবুর রহমান সিরাজ – শ্রম ও জনশক্তি বিষয়ক সম্পাদক
৩৬. আসাদুজ্জামান নূর এমপি – সাংস্কৃতিক সম্পাদক
৩৭. ডা. বদিউজ্জামান ভূঁইয়া ডাবলু – স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক
৩৮. আহমদ হোসেন – সাংগঠনিক সম্পাদক
৩৯. মো. মিসবাহ্ উদ্দিন সিরাজ অ্যাড. – সাংগঠনিক সম্পাদক
৪০. বি এম মোজাম্মেল হক এমপি – সাংগঠনিক সম্পাদক
৪১. আ. ফ. ম. বাহাউদ্দিন নাছিম – সাংগঠনিক সম্পাদক
৪২. বীর বাহাদুর এমপি – সাংগঠনিক সম্পাদক
৪৩. আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন – সাংগঠনিক সম্পাদক
৪৪. খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি – সাংগঠনিক সম্পাদক
৪৫. মৃণাল কান্তি দাস – উপ-দফতর সম্পাদক
৪৬. অসীম কুমার উকিল – উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক
৪৭. এইচএন আশিকুর রহমান এমপি – কোষাধ্যক্ষ

সদস্য
৪৮. আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ
৪৯. অধ্যক্ষ মতিউর রহমান এমপি
৫০. মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম
৫১. সিমিন হোসেন রিমি এমপি
৫২. খায়রুজ্জামান লিটন
৫৩. ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি (পরে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য)
৫৪. অ্যাডভোকটে সুভাষ চন্দ্র বোস
৫৫. বেগম মন্নুজান সুফিয়ান এমপি
৫৬. মো. একেএম রহমতউল্লাহ এমপি
৫৭. অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী এমপি
৫৮. অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ শম্ভু এমপি
৫৯. এমএ মান্নান এমপি
৬০. মোস্তফা ফারুখ মোহাম্মদ এমপি
৬১. আবদুর রহমান এমপি
৬২. আখতারউজ্জামান
৬৩. অ্যাডভোকেট মমতাজ উদ্দিন মেহেদী
৬৪. র. আ. ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এমপি
৬৫. আলাউদ্দিন আহম্মদ চৌধুরী (মাহিম)
৬৬. মির্জা আজম এমপি
৬৭. ড. আবদুস সোবহান গোলাপ
৬৮. শ্রী সুজিত রায় নন্দী
৬৯. আমিনুল ইসলাম আমিন
৭০. একেএম এনামুল হক শামীম
৭১. নসরুল হামিদ বিপু এমপি
৭২. জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি।
দিনবদলের সনদ ও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার নিয়ে ২০০৮ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দেশবাসীর বিপুল ম্যান্ডেট পেয়েছিল। নানা প্রতিকূলতা, বাধা-বিপত্তি, সীমাবদ্ধতা এবং ষড় নাশকতা মোকাবিলা করে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারকে দেশ পরিচালনা করতে হয়েছে।
তবে আওয়ামী লীগ যেহেতু একটি রূপকল্প-২০২১ সামনে রেখে অগ্রসর হচ্ছে, সে কারণে তার দৃষ্টি কেবল এক বছরে সীমাবদ্ধ নয়। আওয়ামী লীগ ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার ব্যাপারে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখেই সরকার তার পাঁচ বছর মেয়াদ অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে সম্পন্ন করেছে।
