অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো ছাড়াও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের ভেতর দিয়ে গত পাঁচ বছরে যেসব পরিবর্তন ও অগ্রগতি সাধিত হয়েছে

আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় – অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো ছাড়াও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের ভেতর দিয়ে গত পাঁচ বছরে যেসব পরিবর্তন ও অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।

অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো ছাড়াও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের ভেতর দিয়ে গত পাঁচ বছরে যেসব পরিবর্তন ও অগ্রগতি সাধিত হয়েছে

 

 

অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো ছাড়াও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের ভেতর দিয়ে গত পাঁচ বছরে যেসব পরিবর্তন ও অগ্রগতি সাধিত হয়েছে

 

২০১২ সালের মধ্যে খাদ্যে আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনের কথা সর্বজনবিদিত। কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষি উৎপাদনে বৈচিত্র্য আনা, কৃষি গবেষণা এবং কৃষির আধুনিকায়নে অর্জিত হয়েছে যুগান্তকারী সাফল্য। সারের দাম কয়েক দফা হ্রাস, কার্ডের মাধ্যমে কৃষি উপকরণ বিতরণের ব্যবস্থা, মাত্র ১০ টাকায় কৃষকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগদান এবং বর্গাচাষিদের বিনা জামানতে কৃষি ঋণ প্রদান প্রভৃতি পদক্ষেপের ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিরাট পরিবর্তন দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।

ধান ছাড়াও শাক-সবজি, ফল-মূল, তেল, ভুট্টা ও মসলা জাতীয় ফসলের উৎপাদন ক্রমান্বয়ে বেড়ে চলেছে। পাট ও পাঁচ শতাধিক ছত্রাকের জীবনরহস্য আবিষ্কার, পুষ্টি (ভিটামিন ‘এ’) সমৃদ্ধ উন্নত ধান বীজ উদ্ভাবন, লবণাক্ততা, খরা ও জলমগ্নতা সহিষ্ণু উচ্চফলনশীল ধানের জাত উদ্ভাবনসহ অন্যান্য কৃষি পণ্যের হাইব্রিড জাত আবিষ্কার বাংলাদেশের কৃষিতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা করেছে।

একটি যুগোপযোগী শিক্ষানীতি প্রণীত ও বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রাথমিক স্তরে শতভাগ শিশুর ভর্তি, প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত প্রতিবছর বিনামূল্যে বই বিতরণ, পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে পাবলিক পরীক্ষার প্রবর্তন, ঝরে পড়ার হার হ্রাস, ছাত্রীদের অনুপাত বৃদ্ধি এবং প্রাথমিকে ৭৮ লাখ ৭০ হাজার ১২৯ জন, মাধ্যমিক স্তরে ৪০ লাখ ও উচ্চ মাধ্যমিক থেকে ডিগ্রি পর্যন্ত ১ লাখ ৩৩ হাজার শিক্ষার্থীর সরকারি বৃত্তি পাওয়া প্রভৃতি শিক্ষাক্ষেত্রে যুগান্তকারী অগ্রগতির স্বাক্ষর।

২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ এবং ১ লাখ ৩ হাজার ৮৪৫ শিক্ষক-শিক্ষয়িত্রীর চাকরি সরকারিকরণ করা হয়েছে। প্রধান শিক্ষকসহ শিক্ষকদের পদমর্যাদা, বেতন-ভাতা, ট্রেনিং ও দক্ষতা বাড়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

দেশের প্রায় সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পর্যায়ক্রমে মাল্টিমিডিয়া ও ইন্টারনেট সংযোগ প্রদান, কম্পিউটার ল্যাব প্রতিষ্ঠা, প্রতি উপজেলায় একটি করে বিদ্যালয়কে মডেল বিদ্যালয়ে পরিণত করার কার্যক্রম চলছে। অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন, ভর্তি পরীক্ষা, পরীক্ষার ফল প্রকাশ প্রভৃতি কার্যক্রম জনগণের প্রশংসা অর্জন করেছে।

আওয়ামী লীগ সরকার ইতোমধ্যে ৬টি নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছে, আরও ৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ৯টি নতুন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ১ হাজার কোটি টাকার স্থায়ী তহবিল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়ক ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করা হয়েছে। দেশে সাক্ষরতার হার ৬৫ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে।

ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন আর স্বপ্ন নয়, বাস্তব। শিক্ষা ব্যবস্থায় তথ্যপ্রযুক্তির ব্যাপক সম্প্রসারণ ছাড়াও প্রশাসন, ব্যাংকিং, চিকিৎসাসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং গণযোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে তথ্যপ্রযুক্তিরা ব্যবহারে বাংলাদেশ এখন দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষে। প্রতিটি ইউনিয়নে ইন্টারনেট সংযোগ প্রদান করে ইউনিয়ন তথ্য ও সেবাকেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে। বাংলাদেশে এখন প্রায় ৩ কোটি ৮৬ লাখ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। মানুষ ব্যবহার করছে ১০ কোটি মোবাইল সিম। মোবাইলে থ্রি-জি চালু করা হয়েছে এবং অচিরেই ফোর-জি চালু হবে।

স্বাস্থ্য খাতে বিশেষত শিশু স্বাস্থ্য উন্নয়নে সাউথ সাউথ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশে বর্তমানে শিশুমৃত্যুর হার প্রতি হাজারে ৫৩, মাতৃমৃত্যু হার প্রতি হাজারে ১৪৩ জন। গউএ-তে নির্ধারিত ২০১৫ সালের এই লক্ষমাত্রা বাংলাদেশ ২০১৩ সালেই অর্জন করেছে। এ ছাড়া মানুষের গড় আয়ুস্কাল বেড়ে ৬৭.৭ বছরে উন্নীত হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মোট ১৩ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক চালু ও ২৪টি নতুন সরকারি হাসপাতাল চালু হয়েছে। ১০০ শয্যার জেলা হাসপাতাল ২৫০ শয্যায় এবং ২৫০ শয্যার হাসপাতাল ৫০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যা সংখ্যা ৩০ থেকে ৫০-এ উন্নীত হয়েছে।

৭টি সরকারি নার্সিং ইনস্টিটিউটকে কলেজে উন্নীত, ১২টি নতুন নার্সিং ইনস্টিটিউট স্থাপন এবং ৪টি নতুন হেলথ টেকনোলজি ইনস্টিটিউট চালু করা হয়েছে। স্থাপিত হয়েছে ১ হাজার ৩৫টি নতুন বেসরকারি হাসপাতাল। টেলিমেডিসিন ও ইন্টারনেট সংযোগের ফলে ইউনিয়ন ও উপজেলা থেকে বিশেষায়িত হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসাসেবার সুযোগ সৃষ্টি ও বাড়ানো হচ্ছে।

সরকারি হাসপাতাল, কমিউনিটি ক্লিনিক ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে বিনামূল্যে ঔষধ বিতরণ করা হচ্ছে। সংক্রামক ব্যাধি নির্মূল ও প্রতিরোধে বাংলাদেশ অগ্রগণ্য। বাংলাদেশ বর্তমানে ৯০টি দেশে ঔষধ রপ্তানি করছে। ডাক্তার ও নার্সসহ স্বাস্থ্য খাতে প্রায় ৩০ হাজার জনকে নিয়োগ দান করা হয়েছে।

নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ সরকার জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের সংখ্যা ৫টি বাড়িয়ে ৫০টি করেছে। রাজনীতিতে নারীর বর্ধিত অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করার জন্য ইউনিয়ন কাউন্সিল ও উপজেলা পরিষদে এবং পৌরসভায় সংরক্ষিত নারী আসন এক-তৃতীয়াংশে উন্নীতকরণ এবং সরাসরি নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বর্তমানে দেশের প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলের নেতা, স্পিকার ও সংসদ উপনেতা নারী। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব, জেলা প্রশাসক, পুলিশের উচ্চপদ, সশস্ত্র বাহিনী ও জাতিসংঘ শান্তি মিশনে নারীর অংশগ্রহণ- নারীর ক্ষমতায়নের ক্রমোন্নয়নের উজ্জ্বল স্বাক্ষর। বাংলাদেশে নারী-পুরুষের সংখ্যানুপাত ৪৯.৫ : ৫০.৫, যা কেবল জনমিতিক ভারসাম্যপূর্ণ নয়ই, পৃথিবীতে বিরল এই অনুপাত নারী-শিশুর প্রতি সমাজের সমতাপূর্ণ আচরণের প্রতিফলন ।

গত পাঁচ বছরে দেশি-বিদেশি প্রায় ৬ হাজার বড় শিল্প প্রকল্প নিবন্ধিত হয়েছে। এতে প্রায় ১৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। খুলনা ও সিরাজগঞ্জে দুটি বন্ধ পাটকল পুনরায় চালু করা হয়েছে। পাট শিল্পের পুনরুজ্জীবন ঘটেছে। সুষম শিল্পোন্নয়নের লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বেশ কয়েকটি বিশেষায়িত শিল্প এলাকা গড়ে তোলা হচ্ছে। স্থাপিত হয়েছে লক্ষাধিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প।

জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। খাদ্যে আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনের ফলে গত দুই বছর চাল আমদানি করতে হয়নি। গ্রামীণ হত-দরিদ্রদের মধ্যে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতাধীন দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে টেস্ট রিলিফ, ভিজিএফ, কাবিখা এবং স্বল্পমূল্যে ও বিনামূল্যে নিয়মিত খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে। ফলে মঙ্গা হয়নি। না খেয়ে কেউ মারা যায় নি। আপদকালীন সময়ের জন্য খাদ্য গুদামের ধারণ ক্ষমতা ১৪ থেকে ১৯ লাখ টনে উন্নীত করা হয়েছে।

প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য ও বনাঞ্চল রক্ষা, পানিসম্পদের উন্নয়ন, নৌপথের নাব্যতা রক্ষা এবং সেচ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে গ্রহণ করা হয়েছে বহুমুখী পদক্ষেপ। ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে মধুমতি, গড়াই, যমুনা, বুড়িগঙ্গা, কুশিয়ারা প্রভৃতি নদীর দীর্ঘ নৌ-পথসমূহের নাব্যতা পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। মধুমতি ও

গড়াই নদী খননের ফলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় লবণাক্ততা হ্রাস, সুন্দরবন এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষা সম্ভব হচ্ছে। উপকূলীয় বাঁধ সংরক্ষণ, মজবুতকরণ ও সম্প্রসারণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনে সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ দেশের অন্যতম হিসেবে সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গ্রহণ করা হয়েছে জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা-২০০৯। সরকার নিজস্ব অর্থায়নে জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করেছে। বাস্তবায়িত হচ্ছে বহুমুখী কর্মসূচি।

যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং জাতীয় উন্নয়নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার লক্ষ্যে সড়ক, রেল ও নৌ- পথের সম্প্রসারণ ও সংস্কারের বিপুল কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়িত হয়েছে এবং চলমান রয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কের চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ এগিয়ে চলছে। মহসড়কগুলোর নিয়মিত সংস্কার করা হচ্ছে।

তিস্তা সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয় সরকারের অধীনে গত পাঁচ বছরে নির্মাণ করা হয়েছে ২৯ হাজার ৬৭২ কিলোমিটার সড়ক এবং ১ লাখ ৬৩ হাজার ৫৯৬ মিটার ব্রিজ ও কালভার্ট। বিআরটিসির বহরে ৯৫৮টি নতুন বাস সংযোজিত হয়েছে। রেল মন্ত্রণালয় আলাদা করা হয়েছে। কমিউটার রেল চালু, ২২ কিলোমিটার নতুন রেলপথ নির্মাণসহ রেলপথের আধুনিকায়ন চলছে। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।

কক্সবাজারে সম্প্রসারিত আধুনিক বিমানবন্দর নির্মাণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ বিমানের বহরে নতুন বোয়িং বিমান সংযোজন করা হয়েছে। রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের যানজট নিরসনে ইতোমধ্যে ছোট-বড় বহুসংখ্যক উড়ালপথ বা ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হয়েছে। ঢাকা মহানগরীতে মেট্রোরেল নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে কুতুবখালী পর্যন্ত ২৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের কাজ চলছে। আরও অনেক ফ্লাইওভার নির্মাণাধীন রয়েছে।

হাতিরঝিল প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে ঢাকা মহানগরীর একটি অংশ বিশ্বের সেরা শহরগুলোর মতো আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন রূপ ধারণ করেছে। এ প্রকল্প এবং নবনির্মিত ফ্লাইওভার নেটওয়ার্ক ঢাকা-কে বিশ্বমানের আধুনিক নগর স্থাপত্যের মর্যাদা দান করেছে।

বিভিন্ন শিল্পে শিশুশ্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শিশুদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ক্রীড়া, তাদের প্রতি বৈষম্য ও নির্যাতন বন্ধ করে আনন্দময় শৈশব নিশ্চিত করতে আইনি ব্যবস্থাসহ সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে বহুমুখী কর্মসূচি গ্রহণ করা

প্রতিবন্ধীদের বিশেষ করে অটিস্টিক শিশু-কিশোরদের কল্যাণে অটিজম ট্রাস্ট গঠনসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত উদ্যোগ ছাড়াও তার বিশেষজ্ঞ কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের উদ্যোগে জাতীয় পর্যায়ে এবং জাতিসংঘেও অটিজমের ব্যাপারে বিশ্ব পরিসরে সচেতনতা সৃষ্টি ও কল্যাণমূলক প্রস্তাব পাস হয়েছে। শ্রমিক-কর্মচারীদের কল্যাণে সংশোধিত শ্রমনীতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি দুই

দফায় ১৬০০ থেকে ৫৩০০ টাকা পুনর্নির্ধারণের ফলে ২০১০ সালের পরে মজুরি বেড়েছে ৩৭০০ টাকা। অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক ভাতা ৯০০ থেকে ৩০০০ টাকায় বৃদ্ধি করা হয়েছে। তাদের জন্য আবাসন প্রকল্প ও মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আয়বর্ধক ভবন ও বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স নির্মাণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় স্তম্ভের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। সম্মুখ সমরের ১৩টি স্থানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধে বিদেশি বন্ধুদের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ কয়েক দফায় তাদের বিশেষ ‘সম্মাননা’ জানানো হয়েছে।

 

অবাধ তথ্যপ্রবাহ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। তথ্য অধিকার আইন জনগণের তথ্য জানার সুযোগ নিশ্চিত করেছে। সংবাদপত্রকে শিল্প হিসেবে ঘোষণার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বেসরকারি

খাতে আরও বেশ কিছু টেলিভিশন চ্যানেল ও এফএম রেডিও-র অনুমতি দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় ভিত্তিতে বহুসংখ্যক কমিউনিটি রেডিও চালু করা হয়েছে। সাংবাদিকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অষ্টম প্রয়োজ বোর্ড গঠন করা হয়েছে।

দেশের শিশু-কিশোর যুবক ও যুব মহিলাদের ৬৪টি জেলায় এবং ৬টি সরকারি কলেজে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি জেলায় এবং পর্যায়ক্রমে উপজেলায় স্টেডিয়াম নির্মাণ ও সংস্কারের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এই সময়কালে বাংলাদেশ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের আয়োজক হিসেবে সুনাম অর্জন। করেছে। ক্রিকেট, ভারোত্তলন, গলফ এবং হকিতে এশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জিত হয়ে বহুমুখী সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বাঙালি সংস্কৃতির অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের মুক্তধারাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ উদ্যোগে রবীন্দ্রনাথের সার্ধশত জন্মবার্ষিকী, নজরুলের বিদ্রোহী কবিতার ৯০ বছর পূর্তি এবং কবির ১১৩তম জন্মোৎসব পালিত হয়েছে। জাতীয় জাদুঘরে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত সর্বাধুনিক গ্যালারি নির্মাণ, বাংলা একাডেমিতে লেখক জাদুঘর, বাংলা একাডেমির উদ্যোগে বাংলা ব্যাকরণ প্রণয়ন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের কার্যক্রম চালু এবং ক্ষুদ্র নৃ-জাতি গোষ্ঠীর ঐতিহ্য সংরক্ষণের আইন প্রণয়ন ও অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

উয়ারী বটেশ্বর ও বিক্রমপুর অঞ্চলে প্রত্নতাত্ত্বিক খননের মাধ্যমে প্রাচীন নগর সভ্যতা ও বৌদ্ধ বিহার আবিষ্কার এবং দেশের অন্যান্য প্রত্ন এলাকাগুলোতে উৎখনন অব্যাহত আছে। পুরাকীর্তি সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে ১৯৭৪ সালে প্রণীত জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতির আলোকে সশস্ত্র বাহিনীর পুনর্গঠন, উন্নয়ন এবং আধুনিকায়নের জন্য ফোর্সেস গোল-২০৩০ প্রণয়ন করা হয়েছে। এর আওতায় সশস্ত্র বাহিনীর সাংগঠনিক কাঠামোতে প্রয়োজনীয় সংযোজন, পরিবর্ধন এবং আধুনিকায়নের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন ফর্মেশন, ইউনিট ও প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠাসহ, তিন বাহিনীর জনবল, গুণগত মান ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে।

সেনাবাহিনীতে সিলেট অঞ্চলের প্রতিরক্ষার জন্য নতুন একটি পদাতিক ডিভিশন ও একটি কম্পোজিট ব্রিগেড প্রতিষ্ঠাসহ বহু ইউনিট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর আধুনিকীকরণ ও সমরশক্তি বৃদ্ধির জন্য নতুন প্রজন্মের ট্যাংক, সেলফ প্রপেলড গান, আধুনিক ট্যাংক বিধ্বংসী অস্ত্র, অত্যাধুনিক হেলিকপ্টার, লোকেটিং রাডার সংযোজন করা হয়েছে।

আধুনিক এপিসি এবং অন্যান্য আর্মড যানবাহনের সমন্বয়ে একটি ম্যাকানাইজড পদাতিক ব্রিগেড প্রতিষ্ঠাসহ আরও বহু উন্নয়নমূলক কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সেনাবাহিনীর সমরশক্তি ও চলাচলের ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আধুনিক অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং যোগাযোগ সরঞ্জামাদি সংযোজন অব্যাহত রয়েছে।

নৌবাহিনীর শক্তি ও দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আধুনিকায়নের জন্য বিদেশ থেকে নতুন যুদ্ধ জাহাজ সংগ্রহ করা হয়েছে। এ ছাড়া দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আমাদের নিজস্ব শিপইয়ার্ডে তৈরি যুদ্ধ জাহাজও সংযোজন করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাফট ও হেলিকপ্টার সংযোজন করা হয়েছে। সাবমেরিন সংযোজনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনী গঠনের লক্ষ্যে গ্রহণ করা হয়েছে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য নতুন নেভাল কমান্ড প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। পটুয়াখালীতে একটি পূর্ণাঙ্গ নৌ ঘাঁটি প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম চলছে।

বিমান বাহিনীর দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার লক্ষ্যে বিমান বাহিনীতে প্রথমবারের মতো ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রসহ সংযোজিত হয়েছে সর্বাধুনিক সরঞ্জাম। অত্যাধুনিক যুদ্ধ বিমান ও হেলিকপ্টার সংযোজন এবং যুদ্ধ বিমানসহ বিভিন্ন সরঞ্জামের সুষ্ঠু ও সাশ্রয়ী রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বঙ্গবন্ধু অ্যারোনটিক্যাল সেন্টার স্থাপন আওয়ামী লীগ সরকারের একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ ।

সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের কল্যাণের জন্য বহু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। রেশনের মান বৃদ্ধি, নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সন্তানদের শিক্ষা ব্যবস্থার সুযোগ বৃদ্ধিসহ বহু কল্যাণমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের অনুসৃত পররাষ্ট্রনীতির জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধি ও ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। সমুদ্রসীমা নিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে বিরোধের শাস্তিপূর্ণ সমাধান- যা সমুদ্র বিজয় হিসেবে আখ্যায়িত- বাংলাদেশ তার ভূ-খণ্ডের ৭৫ শতাংশের সমান ১ লাখ ১১ হাজার ৬৩১ বর্গকিলোমিটার সমুদ্রসীমায় সার্বভৌমত্ব অর্জন করেছে।

ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, ভূটান, শ্রীলংকাসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বমূলক সম্পর্ক সুদৃঢ় এবং দ্বি-পাক্ষিক ও বহু-পাক্ষিক সহযোগিতা সম্প্রসারিত হয়েছে। ভারতের সঙ্গে স্থল সীমান্ত চিহ্নিতকরণ ও ছিটমহল হস্তান্তর সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

ভারত, ভুটান ও নেপালের সাথে উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতার ভিত্তিতে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন ও অভিন্ন নদীর অববাহিকাভিত্তিক যৌথ ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বন্ধ এবং রোহিঙ্গাদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ব্যাপারে দ্বি-পাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিরবচ্ছিন্ন কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত আছে।

আঞ্চলিক, উপ-আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রকে বহুমুখীকরণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে সার্ক, বিমসটেক, ডি-৮, আসিয়ান রিজিওনাল ফোরাম (এআরএফ), এশিয়া কো-অপারেশন ডায়ালগ (এসিডি), এশিয়া ইউরোপ মিটিং (আসেম)-সহ গুরুত্বপূর্ণ সকল ফোরামে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছে। ভারত মহাসাগরে বাংলাদেশের স্বার্থ সমুন্নত রাখতে ইন্ডিয়ান ওশান রিম এসোসিয়েশন (আইওআরএ)-এ পালন করা হচ্ছে সক্রিয় ভূমিকা।

বাংলাদেশ, চীন, ভারত ও মিয়ানমারের (বিসিআইএম) অর্থনৈতিক করিডোরের বিভিন্ন উদ্যোগে বাংলাদেশও সামিল রয়েছে। সদস্য রাষ্ট্রসমূহ ঢাকায় বিমসটেক-এর হেড কোয়ার্টার স্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। মুসলিম উম্মাহর সাথে সহযোগিতা বৃদ্ধি, অভিবাসী ও প্রবাসীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আওয়ামী লীগ সরকার বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়েছে। কোনো বিচ্ছিন্নতাবাদী, জঙ্গিবাদী ও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী শক্তিকে বাংলাদেশের ভূ-খণ্ড ব্যবহার করতে না দেওয়ার নীতি দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করেছে।

জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের সক্রিয় ভূমিকা, অবদান ও প্রস্তাব প্রশংসিত হয়েছে। জাতিসংঘ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাস্তি ও সমৃদ্ধির মডেল গ্রহণ করেছে।

 

অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো ছাড়াও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের ভেতর দিয়ে গত পাঁচ বছরে যেসব পরিবর্তন ও অগ্রগতি সাধিত হয়েছে

 

অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এমডিজি অ্যাওয়ার্ড-২০১০, ইন্দিরা গান্ধী শাস্তি পুরস্কার-২০১০, সাউথ সাউথ অ্যাওয়ার্ড-২০১১, ইউনেস্কো কালচারাল ডাইভার্সিটি পদক-২০১২, এফএও ডিপ্লোমা অ্যাওয়ার্ড-২০১৩ এবং সাউথ সাউথ কো- অপারেশন অ্যাওয়ার্ড-২০১৩-তে ভূষিত হয়েছেন।

Leave a Comment