সংকটমোচন ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে আওয়ামী লীগের রূপকল্প (ভিশন ২০২১) ২০২১ সাল নাগাদ কেমন বাংলাদেশ দেখতে চাই

আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় –সংকটমোচন ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে আওয়ামী লীগের রূপকল্প (ভিশন ২০২১) ২০২১ সাল নাগাদ কেমন বাংলাদেশ দেখতে চাই। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।

Table of Contents

সংকটমোচন ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে আওয়ামী লীগের রূপকল্প (ভিশন ২০২১)২০২১ সাল নাগাদ কেমন বাংলাদেশ দেখতে চাই

 

সংকটমোচন ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে আওয়ামী লীগের রূপকল্প (ভিশন ২০২১) ২০২১ সাল নাগাদ কেমন বাংলাদেশ দেখতে চাই

 

১. গণতন্ত্র ও কার্যকর সংসদ

*একটি নির্ভরযোগ্য নির্বাচন ব্যবস্থা, নিয়মিত নির্বাচন, সরকারের জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুপ্রতিষ্ঠিত করা হবে। সংসদকে কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

২. রাজনৈতিক কাঠামো, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও গণঅংশায়ন

স্থানীয় সরকারকে প্রাধান্য দিয়ে রাজনৈতিক কাঠামোতে আমূল পরিবর্তন সাধন করা হবে। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নিয়ামক ভূমিকা পালন করবে স্থানীয় সরকার। এ উদ্দেশে জেলা ও উপজেলার স্থানীয় সরকারকে স্বনির্ভর ও স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

৩. সুশাসনের জন্য আইনের শাসন ও দলীয়করণ প্রতিরোধ

আইনের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত করার উদ্দেশে মানবাধিকার সংরক্ষণ করা হবে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত, রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনকে দলীয়করণ মুক্ত করা হবে। নিয়োগ ও পদোন্নতির ভিত্তি হবে মেধা, দক্ষতা, জ্যেষ্ঠতা, সততা এবং দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে প্রজাতন্ত্রের প্রতি আনুগত্য। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনে প্রশাসনকে ব্যবহার বন্ধ নিশ্চিত করা হবে।

৪. রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন

সন্ত্রাস, দুর্নীতি, ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার বন্ধ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গণতান্ত্রিক রীতিনীতি, স্বচ্ছ অর্থায়ন, শিষ্টাচার ও সহনশীল আচরণ প্রতিষ্ঠা করা হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরে গণতন্ত্র চর্চা ও অধিকতর সংস্কারের লক্ষ্যে যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

৫. দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন

স্বাধীন ও শক্তিশালী দুর্নীতিদমন কমিশনসহ দুর্নীতি দমনে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহকে আরো কার্যকর করে গড়ে তোলা হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। নাগরিক অধিকার সনদ রচনা, তথ্য অধিকার নিশ্চিত করা এবং সরকারি দলিল দস্তাবেজ কম্পিউটারায়ন এবং ক্ষমতার বিকেন্দ্রায়ন, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে দুর্নীতির পথগুলো সম্ভাব্য সকল উপায়ে বন্ধ করা হবে।

৬. নারীর ক্ষমতায়ন ও সম-অধিকার প্রতিষ্ঠা

রাষ্ট্র ও সমাজ জীবনে নারীর সমান অধিকার ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালের নারীনীতি পুনর্বহাল ও কার্যকর করা হবে, বৈষম্যমূলক আইনসমূহের সংস্কার করা হবে এবং সংসদে প্রত্যক্ষ ভোটে নারীর জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত করা হবে।

 

 ৭.অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও উদ্যোগক.

ক।মৌলিক চাহিদা পূরণ : 

সংবিধানের ১৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিকদের জন্য অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ জীবন ধারণের মৌলিক উপকরণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জাতীয় আয়ের গড় বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার ২০১৩ সালে ৮ শতাংশে এবং ২০১৭ সালে ১০ শতাংশে উন্নীত করে ২০২১ সাল পর্যন্ত অব্যাহত রাখা হবে। 

খ. জনসংখ্যা ও শ্রমশক্তির অভিক্ষেপ :

২০২১ সালে জনসংখ্যা হবে ১৬.৫ কোটি। শ্রমশক্তি হবে ১০.৫ কোটি।২০২১ সালের মধ্যে শ্রমশক্তির অন্তত ৮৫ শতাংশের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। বর্তমানে ৪.৫ কোটি কর্মরত শ্রমিকের সংখ্যা ২০১৩ সালে হবে ৫.৬ কোটি এবং ২০২১ সালে হবে ৯ কোটি। শিল্পের বিকাশ, কৃষির শ্রমঘন বৈচিত্র্য সাধন ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, রফতানি প্রসার ও জনশক্তি বৃদ্ধিসহ কর্মসংস্থানের নানা উদ্ভাবনী কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

গ. দারিদ্র্য নির্মূলঃ

আমাদের লক্ষ্য দারিদ্র্য হ্রাস নয় দারিদ্র্য নির্মূল। এ জন্য ২০১৫ সালে না হোক ২০১৭ সালে জাতিসংঘ ঘোষিত সহস্রাব্দ লক্ষ্যমাত্রা পূরণের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমান দারিদ্র্য বিমোচন কৌশলপত্র পুনর্মূল্যায়ন করে যথোপযুক্ত পিআরএসপি প্রণয়ন করা হবে।

২০২১ সাল নাগাদ বর্তমান দারিদ্র্যের হার ক্রমান্বয়ে ৪৫ থেকে ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে। ২০১৩ সালে দরিদ্র জনগোষ্ঠী হবে বর্তমানের ৬.৫ কোটির স্থলে ৪.৫ কোটি এবং ২০২১ সালে হবে ২.৫ কোটি। দারিদ্র্য নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অতি দরিদ্রদের জন্য গড়ে তোলা হবে টেকসই সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী।

ঘ. খাদ্য ও পুষ্টি :

বর্তমান খাদ্য ঘাটতি পূরণ করে ২০১২ সালের মধ্যে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা হবে। এ লক্ষ্য অর্জনের মাধ্যমে ২০২১ সালের মধ্যে দেশের ৮৫ শতাংশ মানুষের পুষ্টি চাহিদা নিশ্চিত করা হবে।

ঙ. স্বাস্থ্যসেবা:

২০২১ সালের মধ্যে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য দৈনিক ন্যূনতম ২১২২ কিলো ক্যালোরির উর্ধ্বে খাদ্য, সংক্রামক ব্যাধি সম্পূর্ণ নির্মূল, সকলের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, ২০১৩ সালের মধ্যে সকলের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন, ২০২১ সালের মধ্যে গড় আয়ুষ্কাল ৭০-এর কোঠায় উন্নীত, শিশু ও মাতৃ মৃত্যুর হার কমানো প্রভৃতি নিশ্চিত করা হবে।

চ. শিক্ষা:

২০১০ সালের মধ্যে প্রাথমিক স্তরে নিট ভর্তির হার ১০০ শতাংশ, ২০১৪ সালে নিরক্ষরতা সম্পূর্ণ দূর, শিক্ষার মানোন্নয়ন, বৈজ্ঞানিক ও কারিগরী জ্ঞানসম্পন্ন প্রজন্ম গড়ে তোলা এবং শিক্ষকদের উচ্চতর বেতন সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। প্রণয়ন করা হবে যুগোপযোগী শিক্ষানীতি।

ছ. শিল্প :

২০২১ সালের মধ্যে শিল্পায়নের সুদৃঢ় ভিত্তি রচনা করা হবে। জাতীয় উৎপাদনে শিল্প খাতের অবদান দ্বিগুণ উন্নীত করা, কৃষি ও শ্রমঘন শিল্পের উৎপাদনশীল বিকাশকে অগ্রাধিকার প্রদান, তথ্য-প্রযুক্তি খাতের সর্বোত্তম বিকাশ এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির ব্যবস্থা সংবলিত উন্নয়ন কৌশল গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হবে।

জ. জ্বালানি নিরাপত্তা :

প্রত্যাশিত উন্নয়ন ও শিল্পায়ন নিশ্চিত করতে জ্বালানি নিরাপত্তার দিক-নির্দেশনা সংবলিত জ্বালানি নীতি গ্রহণ করা হবে। ২০১৫ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন ৮ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করা হবে। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের সম্ভাব্য বিদ্যুৎ চাহিদা হবে ২০ হাজার মেগাওয়াট।

গ্যাসসম্পদের নিয়মিত জরিপ করে অধিকতর গ্যাস উৎপাদনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জ্বালানির চাহিদা পূরণে অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রের বায়োগ্যাস, জলবিদ্যুৎ, বায়ুশক্তি, সৌরশক্তিসহ সম্ভাব্য সকল উৎস ছাড়াও পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে আঞ্চলিক জ্বালানি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে ।

ঝ. ভৌত অবকাঠামো :

সড়ক, রেল, নৌ, বিমান পরিবহন ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থাকে ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত করা হবে। রাজধানীর সঙ্গে সমগ্র দেশের স্বল্প খরচে যোগাযোগের ক্ষেত্রে রেলপথকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। পদ্মা সেতু ও কর্ণফুলীতে ঝুলন্ত সেতু, টানেল নির্মাণ, বাংলাদেশকে এশীয় হাইওয়ে ও এশীয় রেলওয়ের সঙ্গে সংযুক্ত করা, বন্দর ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ ও তা’ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য উন্মুক্ত করা প্রভৃতি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

ঢাকায় পাতাল রেল/মনোরেল, সার্কুলার রেলপথ এবং এলিভেটেড (দোতলা) রাস্তা নির্মাণ করে গণপরিবহন সমস্যার সমাধান ও যানজটমুক্ত করা হবে। ঢাকার চতুর্দিকে বৃত্তাকার (অরবিটাল) জলপথ, বেড়িবাধ, সড়ক, রেলপথ নির্মাণ করা হবে। জলপথটি নিয়মিত ড্রেজিং করে নাব্য রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঞ. আবাসন :

২০১৫ সাল নাগাদ সবার জন্য বাসস্থান নিশ্চিত করা হবে। প্রতিটি ইউনিয়ন ও উপজেলায় ‘প্রোগ সেন্টার’ কেন্দ্রিক পল্লী নিবাস ও শহরাঞ্চলে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসহ আবাসন গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হবে।

ত. পরিবেশ :

আবহাওয়া পরিবর্তন ও বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে উদ্ভূত বিপর্যয় থেকে বাংলাদেশকে সুরক্ষার সর্বাত্মক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা, পরিকল্পিতভাবে বায়ু দূষণ প্রশমন, শিল্প ও যানবাহনজনিত পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধ এবং বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হবে। বনভূমি ও জলাধার সংরক্ষণ এবং নদী ভাঙন রোধসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে বাংলাদেশকে নিরাপদ ভূখণ্ডে পরিণত করা হবে।

থ. পানিসম্পদ :

ভবিষ্যতে পানিসম্পদ সংরক্ষণ, বাংলাদেশের প্রাপ্যতা, হিস্যা ও যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে বিদ্যমান পানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটানসহ একটি সমন্বিত পানিনীতি প্রণয়ন এবং আঞ্চলিক পানি নিরাপত্তা গড়ে তুলতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ উদ্যোগী ভূমিকা গ্রহণ করবে।

 

সংকটমোচন ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে আওয়ামী লীগের রূপকল্প (ভিশন ২০২১) ২০২১ সাল নাগাদ কেমন বাংলাদেশ দেখতে চাই

 

৮. বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ

ক. স্বাধীনতার অর্জনসমূহ :

মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও স্বাধীনতার অর্জনসমূহের সুরক্ষা এবং প্রতিটি নবীন প্রজন্মের মানস গঠনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গৌরববোধ সঞ্চারিত, স্বদেশানুরাগ এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসা জাগ্রত করার লক্ষ্যে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। দেশ গঠনে ও দেশ পরিচালনায় তরুণদের অংশগ্রহণ, তাদের সৃজনশীলতা বিকাশের সর্বোচ্চ সুযোগ দেওয়া হবে।

খ. সংস্কৃতি :

বাঙালি সংস্কৃতির অব্যাহত বিকাশকে বাধামুক্ত করা, আবিক্রিয়া, উদ্ভাবন, শিল্প, সাহিত্য, চিত্রকলা, সঙ্গীত ও ক্রীড়াসহ সুকুমার শিল্পের সৃজনশীল বিকাশ এবং আন্তর্জাতিক মান অর্জনের মাধ্যমে বিশ্ব সভ্যতায় আমাদের তরুণরা যাতে অবদান রাখতে পারে সে লক্ষ্যে রাষ্ট্র সর্বপ্রকার সুযোগ নিশ্চিত করবে।

গ. পররাষ্ট্র নীতি :

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ‘সকল রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্ব কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়’— এই মূলনীতি অনুসরণ করা হবে।

Leave a Comment