আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় –আগামী দিনে করণীয়। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।
আগামী দিনে করণীয়

ভাই ও বোনেরা,
আমি গত ১০ (দশ) মাসের কাজের কিছু প্রসঙ্গ এখানে উল্লেখ করলাম। সাফল্যের বিস্তারিত বর্ণনা নিষ্প্রয়োজন। আমি আপনাদের পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, একটি সরকার পরিচালনার সাফল্য ব্যর্থতার মূল্যায়ন করার জন্য ১০ (দশ) মাস সময় নিশ্চয়ই যথেষ্ট নয়।
নিরঙ্কুশ সাফল্যের দাবি আমরা করছি না। নানা রকম বাধা, প্রধান বিরোধী দলের অসহযোগিতা ও ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত এবং সম্পদের প্রচণ্ড সীমাবদ্ধতার জন্য আমাদেরকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে অভাবিত সব বাধা। পুঞ্জিভূত সমস্যা ও বাধা- বিপত্তি সত্ত্বেও আমরা সাহস হারাইনি।
কেননা, আমাদের রয়েছে সুদীর্ঘ সংগ্রামের ঐতিহ্য। আমাদের সকল মহৎ কাজে ছায়ার মতো আছেন জাতির জনকের অন্তর্ভেদী প্রেরণা, আছে দেশপ্রেম, জনগণের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা, সারাদেশে জনগণের কল্যাণে নিবেদিত প্রাণ আপনাদের মতো বিশাল কর্মী বাহিনী।
শত সমস্যা সত্ত্বেও আমাদের সামনে রয়েছে সম্ভাবনার স্বর্ণ দুয়ার। আমাদের সম্পদ সীমিত। কিন্তু আমাদের রয়েছে মেধা, শ্রম ও অমিত সৃজনী ক্ষমতার অধিকারী সাড়ে বারো কোটি মানুষ।
এই মানুষকে যদি একবার জাগিয়ে তোলা যায়, সংগঠিত করা যায়; তাহলে তারা বিস্ময়ের চমক সৃষ্টি করতে পারে, অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারে যেমনটি করেছিল একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়। এই মানুষকে জাগিয়ে তুলে তাদের সংগঠিত করে জাতীয় পুনর্গঠনের কর্মযজ্ঞে উজ্জীবিত ও সংগঠিত করার সুকঠিন করণীয়- কর্তব্য নির্ধারণ করাই আজকের এই ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিলের কাজ।

আমরা শুধু অতীত নিয়ে গৌরব করে তৃপ্ত থাকতে চাই না। অতীতের গৌরব আমাদের প্রেরণার উৎস। অতীতের গৌরব থেকে প্রেরণা নিয়ে কঠিন বর্তমানকে ধৈর্য্যের সাথে মোকাবেলা করে সুকঠিন ভবিষ্যতকে জয় করতে চাই ।
