আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় –আত্মসমালোচনা আত্মসংযম আত্মশুদ্ধি। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।
আত্মসমালোচনা আত্মসংযম আত্মশুদ্ধি
![আত্মসমালোচনা আত্মসংযম আত্মশুদ্ধি [ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল ] 2 আত্মসমালোচনা আত্মসংযম আত্মশুদ্ধি](https://bn.historygoln.com/wp-content/uploads/2007/01/আওয়ামী-লীগ01.jpg)
কিন্তু দেশ শাসন করতে হলে নিঃস্বার্থ কর্মীর প্রয়োজন। হওয়া কথায় চলে না। সেদিন ছাত্ররা আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিল। তাদের বলেছিলাম, আত্মসমালোচনা কর। মনে রেখ আত্মসমালোচনা করতে না পারলে নিজকে চিনতে পারবা না। তারপর আত্মসংযম কর, আর আত্মশুদ্ধি কর। তাহলেই দেশের মঙ্গল করতে পারবা।
আওয়ামী লীগ কর্মী ভাইয়েরা, কোনদিন তোমরা আমার কথা ফেলো নাই জীবনে। আমি কোনদিন কন্টেষ্ট করে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বা প্রেসিডেন্ট হই না। জীবনভরই তোমরা আমাকে সর্বসম্মতিক্রমে নেতৃত্ব দিয়েছো। তোমরা আমার কথায় রক্ত দিয়েছো, আজ শেষ দিন- কেন না আমি সভাপতি পদ ছেড়ে দিয়ে যাচ্ছি-তোমরা আমার কথা মনে রেখ। আমার কথা ভুলো না।
কোনদিন স্বার্থে অন্ধ হয়ে তোমাদের ডাক দেই নাই। কোনদিন কোন লোভের বশবর্তী হয়ে কোন শয়তানের কাছে মাথা নত করি নাই। কোনদিন ফাঁসির কাষ্ঠে বসেও বাংলার মানুষের সঙ্গে বেঈমানী করি নাই। আমিও বিশ্বাস করি তোমরা আমার কথা শুনবা, তোমরা আত্মসমালোচনা কর, আত্মসংযম কর। তোমরা আত্মশুদ্ধি কর। দুই চারটা-পাঁচটা লোক অন্যায় করে, যার জন্য এতো বড় প্রতিষ্ঠান যে প্রতিষ্ঠান ইতিহাস সৃষ্টি করেছে যে প্রতিষ্ঠান স্বাধীনতা এনেছে, যে প্রতিষ্ঠানের লক্ষ লক্ষ কর্মী জীবন দিয়েছে যে প্রতিষ্ঠান ২৫ বছর পর্যন্ত ঐতিহাসিক সংগ্রাম করেছে তার বদনাম হতে দেওয়া চলে না ।
আজ বাংলার নিভৃত কোণে আমার এক কর্মী পড়ে আছে যার জামা নাই, কাপড় নাই। তারা আমার কাছে আসে না। আপনাদের অনেকেই এখানে আছেন। কিন্তু আমি যদি চর কুকরী-মুকরী যাই আমার ঐ ধরনের কর্মীকে আজও দেখি। আমি যদি কক্সবাজার যাই, আমার গ্রামের একটা কর্মীকে দেখি। এদের সঙ্গে আমার রক্তের সম্বন্ধ। আজও আমি দেখি তার পরনে ছেঁড়া লুঙ্গি। আজও দেখি, সেই ছেঁড়া পায়জামা, ছেঁড়া সার্ট, পায়ে জুতা নাই। বাংলাদেশে আমার এ ধরনের লক্ষ লক্ষ কর্মী পড়ে আছে।
কিন্তু কিছু কিছু লোক যখন মধু-মক্ষিকার গন্ধ পায় তখন তারা এসে আওয়ামী লীগে ভীড় জমায়। আওয়ামী লীগের নামে লুটতরাজ করে। পারমিট নিয়ে ব্যবসা করার চেষ্টা করে। আওয়ামী লীগ কর্মীরা, আওয়ামী লীগ থেকে তাদের উৎখাত করে দিতে হবে। আওয়ামী লীগে থাকার তাদের অধিকার নাই। তাই বলছি, আত্মসমালোচনার প্রয়োজন আছে, আজ আত্মসংযমের প্রয়োজন আছে, আজ আত্মশুদ্ধির প্রয়োজন আছে।
তোমরা, আওয়ামী লীগের কাউন্সিলররা আজ যারা এখানে বসেছ তারা মনে মনে চিন্তা কর। বুকে হাত দিয়ে খোদার উপর নির্ভর কইরা বল যে, আমরা মানুষকে ভালবাসি। আমরা বাংলার মানুষকে ভালবাসি। আমরা ২৫ বছর সংগ্রাম করেছি। আমরা ইতিহাস সৃষ্টি করেছি। আমরা ইতিহাস রাখব। আমরা নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করব। আমরা দেশকে মুক্ত করব। তাহলেই আওয়ামী লীগের ইতিহাস থাকবে। তাহলে মরেও আমি শান্তি পাব। তা না হলে আমার বড় দুঃখ, বড় কষ্ট।
![আত্মসমালোচনা আত্মসংযম আত্মশুদ্ধি [ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল ] 3 আত্মসমালোচনা আত্মসংযম আত্মশুদ্ধি](https://bn.historygoln.com/wp-content/uploads/2007/01/আওয়ামী-লীগ02.jpeg)
সহকর্মী ভাইয়েরা, বোনেরা, নীতি ছাড়া, আদর্শ ছাড়া এবং যে কথা আমি বলেছিলাম আত্মসমালোচনা, আত্মসংযম ও আত্মশুদ্ধি ছাড়া তা হয় না। ন্যায়-নীতি ও আদর্শ সামনে রাখতে হবে। সে আদর্শ অনুযায়ী কাজ করতে হবে।
![আত্মসমালোচনা আত্মসংযম আত্মশুদ্ধি [ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল ] 1 আত্মসমালোচনা আত্মসংযম আত্মশুদ্ধি](https://bn.historygoln.com/wp-content/uploads/2024/09/আত্মসমালোচনা-আত্মসংযম-আত্মশুদ্ধি.jpg)