আন্তঃবাহিনী,আন্তঃ সেনাবাহিনী ও বেসামরিক-সামরিক সহযোগিতা

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয়ঃ আন্তঃবাহিনী,আন্তঃ সেনাবাহিনী ও বেসামরিক-সামরিক সহযোগিতা। যা ” দ্য বিট্রেয়াল অব ইস্ট পাকিস্তান- এ এ কে নিয়াজি” বইয়ের অংশ।

আন্তঃবাহিনী,আন্তঃ সেনাবাহিনী ও বেসামরিক-সামরিক সহযোগিতা

 

আন্তঃবাহিনী,আন্তঃসেনাবাহিনী ও বেসামরিক-সামরিক সহযোগিতা

 

আন্তঃবাহিনী, আন্তঃসেনাবাহিনী ও বেসামরিক-সামরিক সহযোগিতা

পূর্ব পাকিস্তান সরকারে কর্মরত সকল সার্ভিস, শাখা ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে টিম ওয়ার্ক ও সহযোগিতা ছিল চমৎকার। আমি সাফল্যের সাথে যুদ্ধ পরিচালনা এবং স্থানীয় ও ভারতীয়দের সাথে মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের বিস্তর অভিজ্ঞতা থেকে লাভবান হয়েছি।

এটা আমার জন্য খুবই গর্বের বিষয় যে, আমি আমার সৈন্যদের সবসময় উৎফুল্ল এবং পাকিস্তানের সংহতি রক্ষায় জীবনদানে প্রস্তুত দেখেছি। জেনারেল হেডকোয়ার্টার্স পাকিস্তান সেনাবাহিনীর শ্রেষ্ঠ অফিসারদের পূর্ব পাকিস্তানে পাঠিয়েছিল ।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের আগে, পূর্ব পাকিস্তানে ভারতের বড় আকারের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার কোনও পরিকল্পনা ছিল না। ১৯৬২-এর চীন-ভারত যুদ্ধের পর থেকে, ভারতীয় সেনা পূর্ব কমান্ডের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল ভারতের উত্তর ও পূর্ব সীমান্ত, শিলিগুড়ি করিডোর রক্ষা করা        এবং মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, মণিপুরে বিদ্রোহী এবং পশ্চিমবঙ্গে নকশালদের বিরুদ্ধে লড়াই করা।

 

১৯৪৮ সাল থেকে বেশিরভাগ পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনী পশ্চিম পাকিস্তানে অবস্থান করছিল এবং পূর্ব পাকিস্তান সম্পর্কে সেনাবাহিনীর কৌশলগত ভূমিকা ছিল পশ্চিম পাকিস্তানে ভারতকে পরাজিত না করা পর্যন্ত সেখানে ভূমিকা রাখা।পাকিস্তান সেনাবাহিনী পূর্ব কমান্ড শেষ পর্যন্ত যমুনা, পদ্মা ও মেঘনা দ্বারা বেষ্টিত অঞ্চল বৃত্তাকার ঢাকা বরাবর তাদের বাহিনীকে কেন্দ্র করে ঢাকাকে শেষ রক্ষার পরিকল্পনা করেছিল।

এসব অফিসার বিদ্রোহ চলাকালে এবং ভারতের সাথে যুদ্ধে শত্রুর বিরুদ্ধে কখনো সম্মুখভাগে আবার কখনো বা পশ্চাদভাগে থেকে তাদের ইউনিট ও ফরমেশনগুলোকে দক্ষতার সাথে নেতৃত্ব দিয়েছেন। প্রচণ্ড প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে তারা অদ্বিতীয় সাহস ও বীরত্বের পরিচয় দিয়েছেন।

পাকিস্তান নৌবাহিনী

ভাইস অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ শরীফের কমান্ডে মাত্র ৪টি গানবোট নিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের নৌবাহিনী গঠিত হয়েছিল। সমুদ্র ও নদীতে শত্রুর শ্রেষ্ঠত্ব সত্ত্বেও আমাদের নৌসেনারা তেজস্বিতা, সাহসিকতা ও দক্ষতা দেখিয়েছে।

 

আন্তঃবাহিনী,আন্তঃ সেনাবাহিনী ও বেসামরিক-সামরিক সহযোগিতা

 

তারা কোনো কোনো ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীকে সহায়তা দিয়েছে। বিলোনিয়া অপারেশনে তাদের অবদান প্রশংসনীয়। ক্যাপ্টেন জমিরের নেতৃত্বে নৌসেনারা সেখানে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। ক্যাপ্টেন জমির সব সময়ই তার কর্তব্য পালনে প্রস্তুত ছিলেন। এবং ঝুঁকি গ্রহণে কখনো ভয় পেতেন না।

Leave a Comment