আমদানি ব্যয় ও রপ্তানি আয় ঘাটতি হ্রাস [ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল ]

আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় –আমদানি ব্যয় ও রপ্তানি আয় ঘাটতি হ্রাস। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।

আমদানি ব্যয় ও রপ্তানি আয় ঘাটতি হ্রাস

 

আমদানি ব্যয় ও রপ্তানি আয় ঘাটতি হ্রাস

 

  • ১৯৯৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত আমদানি ব্যয় শতকরা ৭.৩৫ বৃদ্ধি পায়। কিন্তু এ সময়ে রপ্তানি আয় ৮.১০% বৃদ্ধি পায়।
  • বিএনপির শেষ বছর অর্থাৎ ১৯৯৫/৯৬ অর্থবছরে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩.৮৮৪ মার্কিন ডলার। ২০০০/০১ অর্থবছরে রপ্তানির পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়ে ৬,৪৭৭ মার্কিন ডলারে দাঁড়ায় । স্মর্তব্য যে, এই সাফল্য অর্জিত হয়েছিল ১৯৯৭-৯৮ পূর্ব এশিয়ার মন্দা, ১৯৯৮ সালের প্রলয়ঙ্করী বন্যা এবং ২০০০ সালের বিশ্বব্যাপী মন্দার পটভূমিতে।
  • বাংলাদেশ ব্যাংকের দৈনিক তথ্যের ভিত্তিতে নির্ণীত প্রকৃত কার্যকর বিনিময় হার অনুসরণ করে টাকার মূল্যমান ডলার ও পাউন্ডের বিপরীতে নিয়মিত পরিবর্তন করে এশীয় অর্থ-সংকটের ভূমিধস অবমূল্যায়ন ঠেকিয়ে রাখা সম্ভব হয়। ক্রমাগত সীমিত অবমূল্যায়নে একদিকে যেমন রপ্তানি উৎসাহিত হয়, অন্যদিকে তেমনি প্রবাসী নাগরিকদের পাঠানো অর্থের পরিমাণও বৃদ্ধি পায়। বিগত বিএনপি সরকারের শেষ বছর অর্থাৎ ১৯৯৫/৯৬ সালে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের পরিমাণ ১২১৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে আওয়ামী লীগের শেষ বছর অর্থাৎ ২০০০/০১ অর্থবছরে ২০০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়ায়।

     বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ

  • আওয়ামী লীগ সরকারের ৫ বছরের শাসনামলে মাঝেমধ্যে কিছুটা টানাপড়েন সত্ত্বেও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ মোটামুটি সন্তোষজনক পর্যায়ে স্থিতিশীল ছিল। বিএনপি আমলের শেষ বছরে একসঙ্গে ১০০০ বিলিয়ন রিজার্ভ খরচ হয়ে স্থিতি ছিল ২০৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ঊর্ধ্বমুখী রেখে এবং ১৯৯৭ ও ১৯৯৮-এর প্রলয়ঙ্করী বন্যার মোকাবিলা করেও ১৯৯৯ সালের জুন মাসে রিজার্ভ থাকে ১৬০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

 রাজস্ব কমিশন

  • দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য অধিকতর সম্পদ সংগ্রহের উপায় সম্পর্কে পরামর্শ দেয়ার জন্য একটি রাজস্ব কমিশন গঠন করা হয়।

 সরকারি ব্যয় পর্যালোচনা কমিশন

  • সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারের সমস্ত ব্যয় পর্যালোচনা করে সুপারিশ পেশ করার জন্য একটি সরকারি ব্যয় পর্যালোচনা কমিশন স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়।

 

আমদানি ব্যয় ও রপ্তানি আয় ঘাটতি হ্রাস

 

 ভিআইপি কার্ড

  • বিদেশে কর্মরত যে প্রবাসী নাগরিক বছরে এক লাখ, পঞ্চাশ হাজার বা বিশ হাজার ডলারের বেশি অর্থ দেশে পাঠাবেন, তাদের যথাক্রমে বিশেষ ভিআইপি কার্ড, গোল্ড কার্ড ও সিলভার কার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এসব কার্ডধারী ব্যক্তিবৃন্দ যাতে বিনা কমিশনে ট্রাভেলার্স চেক ভাঙাতে পারেন, বিমানবন্দরে বিশেষ সুযোগ-সুবিধা পান ও দেশের অভ্যন্তরে বিমান, রেলওয়ে ও সড়ক পরিবহন সংস্থার টিকিট ক্রয়ে অগ্রাধিকার পান, সেই বিধান রাখা হয়।

Leave a Comment