দ্য বিট্রেয়াল অব ইস্ট পাকিস্তান – আলহার এ আক্রমণ

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয়ঃ আলহার এ আক্রমণ। যা ” দ্য বিট্রেয়াল অব ইস্ট পাকিস্তান- এ এ কে নিয়াজি” বইয়ের অংশ।

আলহার এ আক্রমণ

 

আলহার এ আক্রমণ

 

আলহার এ আক্রমণ

একদিন বিশ্রামের পর আমি আলহার গ্রামে আক্রমণের জন্য জিওসির অনুমতি চাইলাম। ১/১ পাঞ্জাব রাখ বাবা বড়ো শাহে অবস্থান করছিল। তাদের প্রতিরক্ষা ব্যুহ সম্প্রসারিত করা হয়েছিল রেল লাইনের ওপারে ১০০ গজ সামনে।

এটা ছিল একটি চমৎকার প্রতিরক্ষা বিন্যাস। কিন্তু তাদের সম্মুখ ও দক্ষিণপাশ উন্মোচিত হয়ে পড়ে। অল্প কয়েকটা মাইন ও অল্প কয়েকটা ট্যাংক বিধ্বংসী কামানের সাহায্যে তাদের পক্ষে শত্রুর সাঁজোয়া ও পদাতিক হামলা প্রতিহত করা সম্ভব ছিল না।

তখন পর্যন্ত এ প্রচণ্ড লড়াইয়ে আমাদের সাঁজোয়া বহর ধ্বংস করার জন্য শত্রুপক্ষ তাদের সাঁজোয়া বাহিনী ব্যবহার করছিল। আমাদের সাঁজোয়া বহুর ধ্বংস করার জন্য ভারতীয়দের এ কৌশল ব্যর্থ হওয়ায় তারা সাঁজোয়া বাহিনীর সমর্থন নিয়ে পদাতিক হামলা শুরু করে।

১/১ পাঞ্জাবের অবস্থানে শত্রুর হামলার আশংকা ছিল। তাই প্রতিরক্ষা ব্রিগেড চালিয়ে যাবার জন্য ও তার অখণ্ডতা ধরে রাখার জন্য আমাদের জন্য আলহার গ্রাম দখল করা অপরিহার্য হয়ে পড়ে। এ গ্রামটির অবস্থান ছিল রাখ বাবা বড়ো শাহ্ থেকে প্রায় ১ হাজার ২০০ গজ দক্ষিণে।

সাঁজোয়া বাহিনীর সাহায্য ছাড়া এই সুরক্ষিত জায়গাটা দখল করা ছিল একটি দুঃসাধ্য কাজ, এতে প্রচুর প্রাণহানি ঘটতে পারতো। মর্টার ও আর্টিলারির তীব্র গোলাবর্ষণে একটি সুরক্ষিত এলাকা নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য প্রচণ্ড আঘাত, ভবন ধ্বংস ও প্রতিপক্ষের অবস্থান তছনছ করার প্রয়োজন হয়।

 

দাতিক হামলা শুরুর আগে এ ধরনের কাজ অপরিহার্য। কর্নেল আতার সাথে ফায়ার সাপোর্ট নিয়ে আলোচনা করা হয় । এ হামলার জন্য দুটি ব্রিগেড মর্টার প্লাটুন ও দুটি আর্টিলারি রেজিমেন্ট পাওয়া যায়। ভারতীয় সেনাবাহিনীর মনোবল ভেঙে দেওয়ার জন্য রেলওয়ে স্টেশন ও তার পাকা ভবনগুলোতে হামলা চালানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আমি লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইলাম দোস্ত, সিও বেলুচ ব্যাটালিয়নের সামনে। আমার পরিকল্পনা তুলে ধরি। এইচ আওয়ার নির্ধারণ করা হয় রাত ১টায় । তাদের সাথে আক্রমণকারী কোম্পানির আর্টিলারি অফিসাররা ছিল। হামলা শুরু হয় এবং আর্টিলারি ফায়ার শুরু হয় এইচ মাইনাস ৫ থেকে এইচ প্লাস ৪-এ।

রেলওয়ে স্টেশনের ওপর ফায়ার করে ফিল্ড আর্টিলারি এবং আলহারে ফায়ার করে মর্টার প্লাটুন। এইচ থেকে এইচ প্লাস হতে মর্টারগুলো রেলওয়ে স্টেশনে স্থানান্তর করা হয় এবং এইচ প্লাস ২ থেকে এইচ প্লাস ৪-এ আর্টিলারি ও মর্টারের সাহায্যে সরাসরি আলহারে আঘাত হানা হয়।

দুটি অবস্থানই দখল করা হয়। ১৫টি মৃতদেহ রেখে পালিয়ে যায় শত্রুরা। আমাদের হতাহত হয় প্রায় ১২ জন। আল্হার দখলে আসায় ব্রিগেডের প্রতিরক্ষা যথেষ্ট শক্তিশালী হয়ে ওঠে। সেখানে ব্রিগেডের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সমঝোতামূলক সমর্থন, গভীরতা ও ধারাবাহিকতা ছিল।

 

আলহার এ আক্রমণ

 

সৈন্যদের চমৎকার নৈপুণ্যের জন্য কমান্ডিং অফিসারকে অভিনন্দন জানানোর পর ডিভিশন হেডকোয়ার্টার্সকে গ্রাম দখলের খবর জানালাম। লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইলাম দোস্তকে ইমতিয়াজ-ই-সনদ’ পুরস্কার দেওয়া হয়।

Leave a Comment