ইংরেজদের উপমহাদেশে আগমন, ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি || এইচএসসি ও পলিটেকনিক

ইংরেজদের উপমহাদেশে আগমন, ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ক্লাসটি এইচএসসি [ HSC ] তথা একাদশ শ্রেণী [ Class 11 ] এবং দ্বাদশ শ্রেণী [ Class 12 ] এর ইতিহাস [ History ] বিষয় এর, ১ম অধ্যায়ের [ Chapter 1 ] পাঠ।

 

ইংরেজদের উপমহাদেশে আগমন, ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি

 

রানি এলিজাবেথের রাজত্বকালে ইংরেজগণ দুর্ধর্ষ স্প্যানিশ আর্মাডা’ ধ্বংস করলে ( ১৫৮৮ খ্রিঃ) ইংরেজ বণিকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি হয় । সামুদ্রিক প্রাধান্য লাভের জন্য ইংরেজ জাতির মধ্যে নতুন উৎসাহের সঞ্চার ঘটে। ফ্রান্সিস ড্রেকও র‍্যাফল ফীচ ভারত প্রদক্ষিণ করে স্বদেশে প্রত্যাবর্তনান্তে প্রাচ্যের বিপুল ঐশ্বর্য এবং ব্যবসা বাণিজ্যের সম্ভাবনার কথা প্রচার করলে প্রাচ্যে বাণিজ্য বিস্তারের জন্য ইংরেজ বণিকরা আগ্রহী হয়ে ওঠে ।

 

কয়েকজন বণিকের আবেদনক্রমে রানি এলিজাবেথ এক রাজকীয় সনদ দ্বারা ‘ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি’ নামে (১৬০০ খ্রিঃ ) এক বণিক সংঘকে প্রাচ্য দেশে পনেরো বছরের জন্য একচেটিয়া বাণিজ্য অধিকার প্রদান করেন। ১৬০৮ খ্রিস্টেব্দে এই কোম্পানির উদ্যোগে ভারতে বাণিজ্য বিস্তারের চেষ্টা শুরু হয়।

ক্যাপ্টেন হকিন্স :

ক্যাপ্টেন হকিন্স ইংল্যান্ডরাজ প্রথম জেমস-এর সুপারিশপত্র নিয়ে মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের দরবারে উপস্থিত হন (১৬০৮ খ্রিঃ ) । হকিন্স জাহাঙ্গীরের কাছ থেকে সুরাটে বাণিজ্য কুঠি স্থাপনের অনুমতিও লাভ করেন। তবে পোর্তুগিজ বণিকদের বিরোধিতার ফলে ইংরেজগণ বিশেষ সুবিধা করতে ব্যর্থ হয়। ১৬১২ খ্রিস্টাব্দে ক্যাপ্টেন বেস্ট পোর্তুগিজদের পরাজিত করেন এবং সম্রাট জাহাঙ্গীরের ফরমান দ্বারা ( ১৬১৩ খ্রিঃ ) সুরাটে ইংরেজ কুঠি স্থাপনের অনুমতি লাভ করেন।

টমাস রো :

১৬১৫ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ডরাজ প্রথম জেমস-এর দূত রূপে স্যার টমাস রো মুঘল রাজসভায় আসেন। তখন এদেশে ইংরেজ বণিকদের দুর্দিন চলছে। টমাস রো’র উদ্দেশ্য ছিল মুঘল সম্রাটের সাথে একটি বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করা। ব্যক্তিগতভাবে রো ছিলেন পণ্ডিত, ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন এবং সদালাপী। তাই মুঘল সম্রাটকে মুগ্ধ করে তিনি শর্তসাপেক্ষে ইংরেজদের জন্য ব্যবসার অনুমতি লাভ করেন। চার বছরের মধ্যেই সুরাট, আহমেদাবাদ, আগ্রা, ব্রোচ প্রভৃতি স্থানে ইংরেজদের বাণিজ্যকুঠি স্থাপিত হয়।

অবশ্য তখনও পোর্তুগিজ বিরোধিতা ইংরেজদের ব্যতিব্যক্ত করে রেখেছিল। ১৬৬১ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ডরাজ দ্বিতীয় চার্লসের সাথে পোর্তুগাল রাজকন্যা ক্যাথরিন বার গাঞ্জা’র বিবাহ হলে উভয় দেশের মধ্যে শত্রুতার অবসান ঘটে। দ্বিতীয় চার্লস যৌতুক হিসেবে প্রাপ্ত বোম্বাই শহরটি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে প্রদান করলে এটিই ইংরেজদের প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্রে পরিণত হয়। এরপর একে একে মসুলি পত্তনম, মাদ্রাজ, বালেশ্বর, পাটনা, কাশিমবাজার প্রভৃতি স্থানে ইংরেজদের বাণিজ্যকুঠি নির্মিত হয় ।

জব চার্নক :

ধীরে ধীরে ইংরেজগণ ভারত সংক্রান্ত নীতির পরিবর্তন ঘটায় এবং অস্ত্রবলে ক্ষমতা বিস্তারের সিদ্ধান্ত নেয়। ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দে তারা মুঘলদের পরাজিত করে হুগলি দখল করে । জব চার্নক উলুবেড়িয়াতে (হাওড়া জেলা ) কুঠি নির্মাণের অনুমতি লাভ করেন। ঔরঙ্গজেব ও জব চার্নকের মধ্যে স্বাক্ষরিত এক চুক্তি দ্বারা কোম্পানি কলকাতা, সুতানুটি ও গোবিন্দপুর ক্রয়ের অধিকার লাভ করে ( ১৬৯০ খ্রিঃ)। ১৭০০ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ডরাজ তৃতীয় উইলিয়াম এর নামানুসারে নির্মিত হয় ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ ।

এই সময় অপর একটি ব্রিটিশ কোম্পানি এদেশে বাণিজ্য অধিকার লাভ করলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি স্বদেশীয়দের প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্মুখীন হয় । শেষ পর্যন্ত ব্রিটিশ মন্ত্রিসভার চাপে দুটি কোম্পানি সংযুক্ত করে ” The United Company of Merchants of England Trading to the East Indies ” নামে পরিচিত হয়। এরপর ইংরেজ কোম্পানি অপ্রতিহত গতিতে এগিয়ে চলে এবং কালক্রমে সমগ্র ভারতের শাসন ক্ষমতাও দখল করে।

 

ইংরেজদের উপমহাদেশে আগমন, ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি নিয়ে বিস্তারিত ঃ

Leave a Comment