আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় – ইস্তেহারের উপসংহার। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।
নির্বাচনী ইস্তেহারের উপসংহার
![নির্বাচনী ইস্তেহারের উপসংহার [ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল ] 2 নির্বাচনী ইস্তেহারের উপসংহার](https://bn.historygoln.com/wp-content/uploads/2015/01/মুক্তিযুদ্ধোত্তর-বঙ্গবন্ধুর-সরকার-ও-জাতীয়-পুনর্গঠন-1.jpg)
আমাদের জাতীয় জীবনের অন্যতম প্রধান সমস্যা হচ্ছে আমাদের অতীত। দীর্ঘদিন এদেশের বুকে বিদেশী শাসন কায়েম ছিল। পুরাতন শাসককুল আমাদের সমাজদেহকে কলুষিত ও পঙ্গু করে দেওয়ার জন্য সর্বদা এখানে দুর্নীতি ও প্রতিক্রিয়াশীল ভাবধারার দূষিত জীবাণু সংক্রামিত করেছে। আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের জনগণের সংগ্রামের ইতিহাসের প্রতিটি স্তরে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দিয়ে সকল প্রতিক্রিয়াশীল সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্তের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে।
আর তারই অনিবার্য সাফল্য হিসেবে আজ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হতে পেরেছে। বাংলাদেশের জনগণ আজ সর্বপ্রথম নিজেদের রচিত সংবিধানের মাধ্যমে নিজেদেরকে শাসন করার অধিকার অর্জন করেছে। কিন্তু উপনিবেশিক শাসনের দুষ্ট প্রতিক্রিয়া থেকে আজও আমাদের সমাজদেহ মুক্ত হতে পারেনি। সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে পুরাতন শাসন ও শোষণের অবশেষ আবহাওয়াকে দূষিত করছে।
দুঃখের ভাগাড় এই স্বাধীন বাংলাকে সোনার বাংলা করে গড়ে তুলতে হবে। সমাজদেহকে দুর্নীতি, শোষণ ও কলুষমুক্ত করতে হবে। আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের জাতীয় গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও মুক্তি আন্দোলনের দায়িত্ব সার্থকভাবে সম্পাদন করছে। আমাদের সংগ্রামী ইতিহাসের অভিজ্ঞান আমাদের অমূল্য সম্পদ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
আমরা সৌভাগ্যবান যে জাতীয় পুনর্জাগরণ ও পুনর্গঠনের উদ্যোগ পর্যায়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ন্যায় বিশ্বনন্দিত জনগণ অধিনায়ককে জাতির কর্ণধার হিসেবে পেয়েছি। তাই ঘোর কালো রাত্রির তমিশ্রা-আচ্ছন্ন আঁধারেও আমরা প্রভাত-সূর্যের আগমনী সংগীত শুনতে পাচ্ছি। ফুলে-ফলে-শস্যে, শিল্প ও সম্পদে আমরা আবার বাংলাদেশকে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছি। আমাদেরকে এই দেশ গড়ার সংগ্রামে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হবে।
আমাদেরকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশে মুজিববাদ কায়েম করতে হবে। আমাদের সংবিধানে জনগণের মৌলিক অধিকার সমূহের বিকাশের প্রত্যয় গ্রহণ করা হয়েছে। আমরা পুরাতন মানসিকতা কাটিয়ে ওঠার সংকল্প ঘোষণা করেছি। বাংলাদেশের সোনার মানুষের ভাঙ্গা সংসারকে পূর্ণ করে তোলার সংগ্রামী যাত্রা আমাদের শুরু হয়েছে।
আমাদের স্বাধীনতা আমাদের জনগণের জন্য বিপুল প্রতিশ্রুতি বয়ে নিয়ে এসেছে। পরাধীনতার বিদেশী শোষণ বিতাড়িত হবার ফলে আমাদের অনাগতকালের সূর্য-সৈনিকদের আমাদের ভাবী বংশধরদের জন্য সুন্দর সম্ভাবনাময় জীবনের দুয়ার খুলেছে। সমকালীন ইতিহাসের পাদপীঠে দাঁড়িয়ে সে সম্ভাবনাকে বাস্তবায়নের মহান দায়িত্ব ও কর্তব্য আমরা পালন করতে চলেছি। আমাদের নবতর জীবন গড়ে তোলার সংগ্রামী কাফেলা তার যাত্রা শুরু করেছে।
বঙ্গবন্ধু সুদীর্ঘ পঁচিশ বৎসর সাধনার মাধ্যমে বাঙালী জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন। সেই ঐক্যবদ্ধ শক্তির দুর্বার আঘাত হেনে আমরা স্বাধীন বাংলার পতাকা তুলেছি। পাকিস্তানী ফ্যাসিস্ট শক্তি ইতিহাসের বর্বরতম নৃশংস যুদ্ধ আমাদের উপর চাপিয়ে দিয়েছিল। সংক্ষিপ্ততম সময়ে বিজয়ের মাধ্যমে সেই যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে আমরা আমাদের জাতির জন্য মর্যাদা এবং জনগণের জন্য নিরাপত্তা ও সুখময় জীবনের প্রতিশ্রুতি অর্জন করেছি।
বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের পতাকাতলে বাঙালী জাতির ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দারিদ্র্য, দুঃখ, অভাব, অনাচার, দুর্নীতি ও সর্বপ্রকার প্রতিক্রিয়াশীল ভাবধারার অবশিষ্টাংশের বিরুদ্ধে পরিচালিত সংগ্রামে জয়যুক্ত হবার জন্য আমাদেরকে এই সংগ্রামী ঐক্য অটুট রাখতে হবে। সেই ঐক্যকে আরও সংহত ও মজবুত করতে হবে। আমাদের ভাবী কালের নাগরিকদের জন্য সুখ-সমৃদ্ধি ও শান্তির নীড় নির্মাণের জন্য আজ আমরা বাংলাদেশের
প্রতিটি মানুষকে নবতর সংগ্রামের প্রদীপ্ত শপথ গ্রহণ করার আহ্বান জানাচ্ছি। সমাজতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে সফল করে তুলবার জন্য আমাদেরকে নতুন প্রত্যয় নিয়ে কর্মক্ষেত্রে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। আর তার জন্য পুরাতন প্রতিক্রিয়াশীল ভাবধারা ও মানসিকতাকে পরিবর্জন করে নিজেদেরকে আত্মশুদ্ধ করে নতুন সংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর দেশগড়ার আহ্বানে সাড়া জাগিয়ে সমাজতান্ত্রিক জীবনযাত্রার সোপান নির্মাণের জন্য লোভ-লালসাহীন সমাজবাদী জীবনদর্শনকে গ্রহণ করতে হবে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে একদিন বাংলার নির্ভীক জনগণ সশস্ত্র মুক্তি সংগ্রামে অংশ নিয়েছিল। তিনি বলেছেন, সোনার বাংলা গড়বার জন্য সোনার মানুষ চাই। তাই আজ আবার বঙ্গবন্ধুর নির্দেশেই বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষকে তাদের ভাগ্য-উন্নয়নের মহান সংগ্রামে সুখ-সমৃদ্ধির জন্য অগ্রসর হতে হবে। এবং আগামী ৭ই মার্চের নির্বাচন সেই পথে একটি পদক্ষেপ বলে গণ্য হচ্ছে।
![নির্বাচনী ইস্তেহারের উপসংহার [ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল ] 3 নির্বাচনী ইস্তেহারের উপসংহার](https://bn.historygoln.com/wp-content/uploads/2015/01/স্বাধিকার-থেকে-স্বাধীনতা-3.jpg)
এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের ৩০০টি আসনে প্রার্থী মনোনীত করেছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবারও আমাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এই মহান নেতৃত্বে, জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে পরিচালিত সংগ্রামে আমাদের জয়যুক্ত হতে হবে। আমাদেরকে সর্বপ্রকার শোষণ, দুঃখ, দারিদ্র্য, দুর্নীতিমুক্ত সাম্যবাদী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। আজিকার দিনে এই হোক আমাদের অঙ্গীকার, এই হোক আমাদের শপথ।
![নির্বাচনী ইস্তেহারের উপসংহার [ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল ] 1 নির্বাচনী ইস্তেহারের উপসংহার](https://bn.historygoln.com/wp-content/uploads/2024/09/নির্বাচনী-ইস্তেহারের-উপসংহার.jpg)