আমাদের আজকের আলোচনার বিষয়ঃ ঈদের দিন এর পাক্কালে পরিস্থিতি। যা ” দ্য বিট্রেয়াল অব ইস্ট পাকিস্তান- এ এ কে নিয়াজি” বইয়ের অংশ।
ঈদের দিন এর পাক্কালে পরিস্থিতি

ঈদের দিনের প্রাক্কালে পরিস্থিতি (২১শে নভেম্বর)
আমাদের পাকিস্তানি সৈন্যরা তখন রণাঙ্গনে অবস্থান গ্রহণ করছিল এবং স্থানীয় রাজাকাররা মুক্তিবাদিীকে উৎখাত করার চেষ্টা করছিল। নিয়মিত সৈন্যরা রাজাকারদের শক্তি বৃদ্ধি করছিল এবং উভয়ে ভারতীয় সৈন্যদের ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছিল।
ভারতীয় সেনাবাহিনী ভুরুঙ্গামারি, কামালপুর, আটগ্রাম, চাঁদপুর, বিলোনিয়া, বেনাপোল এবং হিলিতে হামলা চালায়। বিদ্রোহ দমনে নিয়োজিত অধিকাংশ সৈন্য প্রত্যাহার করা হয় এবং রাজাকার ও মুজাহিদরা তাদের স্থলাভিষিক্ত হয়। রিজার্ভ সৈন্য পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী রিজার্ভ বাহিনী পাঠানো হয় নি। তাই আমরা নতুন করে রিজার্ভ বাহিনী গঠন করি। একটি বৈরি পরিবেশে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে আমাদের সৈন্য ও অফিসাররা ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল | ডিভিশনগুলোতে ট্যাংক রেজিমেন্ট ও দূরপাল্লার কামান ছিল না।
এ ছাড়া ইউনিটের অস্ত্রশস্ত্র ও সাজ-সরঞ্জামের ঘাটতি ও ভারসাম্যহীনতা ছিল মারাত্মক। হেডকোয়ার্টার্স একটি ভারী ও দুটি মাঝারি আর্টিলারি রেজিমেন্ট। ও একটি ট্যাংক রেজিমেন্ট পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু এ প্রতিশ্রুতি পূরণ করা হয় নি।
দ্বিতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনী মোটেও সুসজ্জিত ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ছিল না। জেনারেল হেডকোয়ার্টার্স মুক্তিবাহিনীর দখল থেকে কয়েকটি এলাকা উদ্ধার অভিযানের অগ্রগতি সম্পর্কে খোজ-খবর নিচ্ছিল। আমাদের তখনো রাজনৈতিক মিশন ছিল যে, মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় সৈন্যদের বাংলাদেশের কোনো ভূখণ্ড দখল করতে দেওয়া যাবে না। তাই আমাদেরকে সীমান্তে ও অভ্যন্তরে উভয় ফ্রন্টে লড়াই করতে হয়েছে।
যে কয়টি ব্যাটালিয়ন পাঠানোর কথা ছিল সেগুলোর মধ্যে প্রথম ব্যাটালিয়নও ২৪শে নভেম্বর পর্যন্ত পৌঁছতে পারে নি। ৮টি ব্যাটালিয়নের স্থলে মাত্র দুটি ব্যাটালিয়ন পাঠানো হয়। আমাকে এ কথা বলা হয় নি যে, অন্যান্য ব্যাটালিয়নগুলো পাঠানো হবে না।

এটা ছিল লেফটেন্যান্ট জেনারেল শুন হাসানের আকেরটি নিষ্ঠুর কৌতুক। শত্রু হামলা করার জন্য উদ্যত হয়। আমরা চাঁদপুরে আরেকটি এডহক ডিভিশন গঠনের সিদ্ধান্ত নিই এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী যুদ্ধের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।
