আজকে আমদের আলোচনার বিষয় ছাত্রদের এগার দফা আন্দোলন
ছাত্রদের এগার দফা আন্দোলন

ছাত্রদের এগার দফা আন্দোলন
ভারতবর্ষে ব্রিটিশ বিরোধী বিভিন্ন জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে বাংলার ছাত্রসমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ লক্ষণীয়। পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পর পূর্বাঞ্চলের ওপর কেন্দ্রীয় সরকারের অযথা হস্তক্ষেপ, সাধারণ মানুষের অধিকার হরণ ও শোষণের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে বাংলার ছাত্র সমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ।
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতা অর্জন পর্যন্ত বিভিন্ন আন্দোলনে ছাত্র সমাজের ভূমিকা ছিল ইতিবাচক ও প্রশংসনীয়। তেমনি ১৯৬০-এর দশকের শেষদিকে ছাত্র সমাজের ১১ দফাভিত্তিক গণআন্দোলন বাংলাদেশের স্বাধিকার তথা স্বাধীনতা অর্জনের প্রেক্ষাপটে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করে।
১১ দফার পটভূমি
পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে পূর্ববাংলার ছাত্র সমাজের প্রথম সংঘবদ্ধ প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে ওঠে ১৯৫২ সালে বাংলা ভাষার দাবিকে কেন্দ্র করে। সরকার ছাত্র আন্দোলনকে কঠোর হস্তে দমন করতে চেষ্টা করলেও শেষপর্যন্ত ছাত্র সমাজই জয়ী হয়। অর্থাৎ সরকার বাংলা ভাষার দাবি মেনে নেয়। পূর্ববাংলায় দ্বিতীয়বার ছাত্র আন্দোলন গড়ে ওঠে ১৯৬২ সালে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে।
এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ দেশের আপামর ছাত্র সমাজ আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে এবং ছাত্র আন্দোলন আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে সকল আন্দোলন গড়ে তোলে । ১৯৬৬ সালে ৬ দফাভিত্তিক আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে পূর্ববাংলার ছাত্র সমাজ সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে।
বিশেষ করে সরকার ছয় দফাভিত্তিক আন্দোলন দমন করার লক্ষে আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী শেখ মুজিবুর রহমান সহ আরো অনেক নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করলে ছাত্র সমাজ সরকার বিরোধী আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ১৯৬৬ সালের ৭ জুন তারা পূর্ববাংলায় ব্যাপক গণআন্দোলন গড়ে তোলে। ঐদিন পুলিশের গুলিতে কয়েকজন ছাত্র নিহত এবং বহু ছাত্র গ্রেফতার হয়।
বস্তুতপক্ষে ৭ জুন ছাত্র সমাজের ওপর পুলিশী নির্যাতন পূর্ববাংলার ছাত্র সমাজকে সরকারের বিরুদ্ধে আরো উত্তেজিত করে তোলে। ৭ জুনের পর সরকার রবীন্দ্র সঙ্গীত ও দৈনিক ইত্তেফাক সহ কয়েকটি পত্রিকার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে সাথে ছাত্র সমাজ একাত্ম হয়ে বিক্ষোভ প্রকাশ এবং দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলে।
৬ দফা দাবিকে কেন্দ্র করে পূর্ববাংলায় যখন ছাত্র জনতা দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলে তখনই সরকার আন্দোলনের গতিধারা স্তিমিত করার জন্য ১৯৬৮ সালের জানুয়ারি মাসে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা শেখ মুজিবুর রহমান সহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে “আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা” নামক এক মিথ্যা মামলা দায়ের করে এবং নেতৃবৃন্দকে কারারুদ্ধ করতে থাকে।
এ সময় একদিকে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দকে কারারুদ্ধ অপরদিকে অন্যান্য দলের নেতৃবৃন্দকে নিষ্ক্রিয়তায় পূর্ববাংলায় সরকার বিরোধী আন্দোলন অনেকটা স্তিমিত হয়ে পড়ে। বাঙালির এমনি সংকটময় মুহুর্তে আন্দোলনের নেতৃত্ব গ্রহণ করে এদেশের ছাত্র সমাজ বিশেষত ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়নের দু’টি অংশ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)।
এ অবস্থায় ১৯৬৯ সালের ৫ জানুয়ারি ডাকসু কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় এবং উক্ত সম্মেলনে ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়ন (মতিয়া ও মেনন) এবং ডাকসুর যৌথ উদ্যোগে “সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ” গঠিত হয়। ডাকসুর সহ-সভাপতি (ছাত্রলীগ নেতা) তোফায়েল আহমেদ এবং সাধারণ সম্পাদক (জাতীয় ছাত্র ফেডারেশন) নাজিম কামরান চৌধুরী এবং অন্যান্য কয়েকজন ছাত্রনেতা উক্ত কেন্দ্রীয় সংগ্রাম পরিষদের সদস্য ছিলেন।
এ সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগেই পূর্ববাংলার আপামর জনসাধারণের দাবি সম্বলিত ঐতিহাসিক ১১দফা দাবি প্রণীত হয়। এ ১১ দফা কর্মসূচির মধ্যে পূর্ববর্তী ৬ দফাকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
১১ দফার রূপরেখা
১ম দফা:
এ দফায় ছাত্রদের শিক্ষা সংক্রান্ত ও অন্যান্য অধিকার সংক্রান্ত ১৭টি দাবি উত্থাপিত হয়। যথা—
ক. স্বচ্ছল কলেজসমূহকে প্রাদেশিকীকরণের নীতি পরিত্যাগ করা প্রাদেশিকীকরণকৃত কলেজসমূহকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দেয়া।দেয়া দেয়া দেয়া এবং জগন্নাথ কলেজসহ
খ. শিক্ষার ব্যাপক প্রসারের জন্য প্রদেশের সর্বত্র বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে স্কুল-কলেজ স্থাপন করা এবং বেসরকারি উদ্যোগে সুপ্রতিষ্ঠিত স্কুল-কলেজসমূহকে সত্ত্বর অনুমোদন দেয়া। এবং সঙ্গে কারিগরি শিক্ষা প্রসারের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, পলিটেকনিক টেকনিক্যাল ও কমার্শিয়াল ইনস্টিটিউট স্থাপন করা।
গ. প্রদেশের কলেজসমূহে দ্বিতীয় শিফটে নৈশ ক্লাস চালু করা।
ঘ. ছাত্র বেতন শতকরা ৫০ ভাগ হ্রাস করা। স্কলারশীপ ও স্টাইপেন্ডের সংখ্যা বৃদ্ধি করা এবং আন্দোলনে জড়িত থাকার অপরাধে এসকল সুযোগ থেকে বঞ্চিত না করা ।
ঙ. হল, হোস্টেলের ডাইনিং হল ও ক্যান্টিন খরচার শতকরা ৫০ ভাগ সরকার কর্তৃক সাবসিডি হিসেবে প্রদান করা।
চ. হল ও হোস্টেলের অন্যান্য সমস্যার সমাধান করা।
ছ. মাতৃভাষার মাধ্যমে সর্বস্তরে শিক্ষার ব্যবস্থা চালু করা। অফিস আদালতে ভাষা বাংলা চালু করা। সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধিক সংখ্যক অভিজ্ঞ শিক্ষক নিয়োগ এবং শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধিসহ বাক্ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা ।
জ. অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষাকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক করা।
ঝ. মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন এবং অটোমেশন প্রথা বিলোপ, নমিনেশনে ভর্তি প্রথা বন্ধ, মেডিকেল কাউন্সিল অর্ডিন্যান্স বাতিল, ডেন্টাল কলেজ পূর্ণাঙ্গ কলেজে পরিণত করণসহ মেডিকেল ছাত্রদের ও নার্সদের সকল দাবি মেনে নেয়া।
ঞ. প্রকৌশল শিক্ষার অটোমেশন প্রথা বিলোপ, ১০% ও ৭৫% কল বাতিল, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সুব্যবস্থা, প্রকৌশল ছাত্রদের শেষ বর্ষেও ক্লাস নেওয়ার ব্যবস্থাসহ সকল দাবি মেনে নেয়া ।
ট. পলিটেকনিক ছাত্রদের ‘কনডেন্স কোর্সের সুযোগ দেয়া এবং বোর্ড ফাইনালে পরীক্ষা বাতিল করে একমাত্র সিমেস্টার পরীক্ষার ভিত্তিতেই ডিপোমা দেয়া ।
ঠ. টেক্সটাইল, সিরামিক, লেদার টেকনোলজি এবং আর্ট কলেজ ছাত্রদের দাবি অবিলম্বে মেনে নেওয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে বাণিজ্য বিভাগকে পৃথক ‘ফ্যাকাল্টি’ করা ।
ড. কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ছাত্রদের ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়া। কৃষি ডিপ্লোমা ছাত্রদের ‘কনডেন্স’ কোর্সের দাবিসহ কৃষি ছাত্রদের অন্যান্য দাবি মেনে নেয়া ।
ঢ. ট্রেন, স্টিমার ও লঞ্চে ছাত্রদের ‘আইডেন্টিটি কার্ড দেখিয়ে শতকরা ৫০% ভাগ কম ভাড়ায় টিকিট দেয়ার ব্যবস্থা করা এবং পশ্চিম পাকিস্তানের ন্যায় ১০ পয়সা ভাড়ায় শহরের যে কোন স্থানে যাতায়াতের সুযোগ দেয়াসহ ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য অধিক সংখ্যক বাসের ব্যবস্থা করা। সরকারি ও আধা সরকারি উদ্যোগে আয়োজিত খেলা-ধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ছাত্রদের ৫০% কন্সেশন দেয়া।
ণ. চাকরির নিশ্চয়তা বিধান করা।
ত. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কুখ্যাত অর্ডিন্যান্স সম্পূর্ণ বাতিল ও বিশ্ববিদ্যালয় সহ অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন দেয়া ।
থ. শাসকগোষ্ঠীর শিক্ষা সংকোচন নীতির প্রামাণ্য দলিল জাতীয় শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট ও হামুদুর রহমান কমিশন রিপোর্ট সম্পূর্ণ বাতিল পূর্বক ছাত্র সমাজ ও দেশবাসীর স্বার্থে গণমুখী ও বৈজ্ঞানিক শিক্ষা ব্যবস্থা কায়েম করা।
২য় দফা :
প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটে প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। বাক্ স্বাধীনতা, ব্যক্তি স্বাধীনতা এবং দৈনিক ইত্তেফাকের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার সহ সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।
৩য় দফা :
এ দফায় পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্ত শাসনাধিকার সম্বলিত ৬টি দাবি উত্থাপিত হয়। যথা—
ক. দেশের শাসনতান্ত্রিক কাঠামো হবে ফেডারেশন শাসনতান্ত্রিক রাষ্ট্র সংঘ এবং আইন পরিষদের ক্ষমতা হবে সার্বভৌম ।
খ. দেশরক্ষা, বৈদেশিক নীতি ও মুদ্রা ব্যতীত অন্যান্য বিষয়ে অঙ্গরাষ্ট্রগুলোকে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা প্রদান করা।
গ. দু’অঞ্চলের জন্য একই মুদ্রা থাকবে। এ ব্যবস্থায় মুদ্রা কেন্দ্রের হাতে থাকবে। কিন্তু শাসনতন্ত্রে এমন বিধান রাখতে হবে যাতে পূর্ব পাকিস্তান থেকে মুদ্রা পশ্চিম পাকিস্তানে পাচার হতে না পারে। এ বিধানে পশ্চিম পাকিস্তানে একটি ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থাকবে এবং দু’অঞ্চলের জন্য দু’টি পৃথক রিজার্ভ ব্যাংক থাকবে ও পূর্ব পাকিস্তানের জন্য পৃথক অর্থনীতি প্রবর্তন করতে হবে।
ঘ. সকল প্রকার ট্যাক্স, খাজনা, কর ধার্য ও আদায়ের ক্ষমতা থাকবে আঞ্চলিক সরকারের হাতে। আঞ্চলিক সরকার আদায়কৃত রাজস্বের নির্ধারিত অংশ সঙ্গে সঙ্গে ফেডারেল তহবিলে জমা দিবে এবং এ মর্মে রিজার্ভ ব্যাংক সমূহের ওপর বাধ্যতামূলক বিধান শাসনতন্ত্রে থাকবে।
ঙ. ফেডারেশনের প্রতিটি রাষ্ট্রে বহির্বাণিজ্যের পৃথক হিসাব থাকবে এবং এক্ষেত্রে অর্জিত মুদ্রা অঙ্গরাষ্ট্রগুলোর এখতিয়ারে থাকবে। ফেডারেল সরকারে প্রয়োজনীয় মুদ্রা অঙ্গরাষ্ট্রগুলো সমানভাবে অথবা শাসনতন্ত্রের নির্ধারিত ধারা অনুযায়ী প্রদান করবে।
দেশ-জাত দ্রব্যাদি বিনা শুল্কে অঙ্গরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আমদানি-রপ্তানি চলবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য সম্পর্কে বহির্বিশ্বের সাথে চুক্তি সম্পাদন, বিদেশে ট্রেড মিশন স্থাপন এবং আমদানি রপ্তানি করার অধিকার অঙ্গরাষ্ট্রগুলোর হাতে থাকবে।
চ. পূর্ব পাকিস্তানকে মিলিশিয়া বা প্যারা-মিলিটারি রক্ষীবাহিনী গঠনের ক্ষমতা প্রদানসহ পূর্ব পাকিস্তানে অস্ত্র কারখানা নির্মাণ ও নৌ-বাহিনীর সদর দফতর স্থাপন করা।
৪র্থ দফা :
পশ্চিম পাকিস্তানের বেলুচিস্তান, উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ, সিন্ধুসহ সকল প্রদেশের স্বায়ত্তশাসন প্রদান পূর্বক সাব-ফেডারেশন গঠন।
৫ম দফা :
ব্যাংক-বীমা, পাট ব্যবসা ও বৃহৎ শিল্প জাতীয়করণ করা।
৬ষ্ঠ দফা :
কৃষকের ওপর হতে খাজনা ও ট্যাক্সের হার হ্রাস করা এবং বকেয়া খাজনা ও ঋণ মওকুফ করা। সার্টিফিকেট প্রথা বাতিল করা এবং তহশিলদারের অত্যাচার বন্ধের ব্যবস্থা করাসহ পাটের সর্বনিম্ন মূল্য মণ প্রতি ৪০ টাকা ধার্য করা এবং আখের ন্যায্য মূল্য প্রদান করা।
৭ম দফা :
শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি ও বোনাস প্রদান এবং শিল্প, বাসস্থান, চিকিৎসা ইত্যাদির সুব্যবস্থা নিশ্চিত
করা। কৃষকের স্বার্থবিরোধী কালাকানুন প্রত্যাহার করা এবং ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের অধিকার প্রদান করা।
৮ম দফা :
পূর্ব পাকিস্তানের বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও জলসম্পদের সার্বিক ব্যবহারের ব্যবস্থা করা ।
৯ম দফা :
জরুরী আইন প্রত্যাহার, নিরাপত্তা আইন ও অন্যান্য নির্যাতনমূলক আইন প্রত্যাহার করা।
১০ম দফা :
সিয়াটো, সেন্টো, পাক-মার্কিন সামরিক চুক্তি বাতিল পূর্বক জোট বহির্ভূত স্বাধীন ও নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি কায়েম করা।
১১তম দফা :
দেশের বিভিন্ন কারাগারে আটক সকল ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক, রাজনৈতিক কর্মী ও নেতৃবৃন্দের অবিলম্বে মুক্তি, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও হুলিয়া প্রত্যাহার এবং আগরতলা মামলাসহ রাজনৈতিক কারণে জারিকৃত সকল মামলা প্রত্যাহার করার দাবি।
১১ দফাভিত্তিক আন্দোলনের বিস্তার
এগার দফার দাবিগুলোতে সমাজের সব স্তরের মানুষের দাবি সন্নিবেশিত হওয়ায় ১৯৬৯-এর জানুয়ারি মাসে যখন ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়নের উদ্যোগে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সহযোগিতায় গঠিত ছাত্র সংগ্রাম কমিটি আন্দোলনের ডাক দেয় তখন সারা দেশের জনগণ ও ছাত্র সমাজ সে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে।
দেশের জনমত তখন এমন তীব্রভাবে আন্দোলনমুখী হয়ে উঠেছিল যে জানুয়ারির (১৯৬৯) তৃতীয় সপ্তাহে সরকারি ছাত্র সংগঠন হিসেবে পরিচিত এন.এস.এফ. দলে ভাঙ্গন ধরে এবং এর একাংশ এগার দফা আন্দোলনে যোগ দেয় । ঊনসত্তরের গণআন্দোলন শুরু হয়েছিল মূলত জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি থেকে এবং ফেব্রুয়ারির ২২ তারিখ আগরতলা মামলার প্রত্যাহার হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত এ তীব্র গণআন্দোলন অব্যাহত থাকে।
ছাত্র সংগ্রাম কমিটি যখন এগার দফাভিত্তিক আন্দোলন গড়ে তুলেছিল তার সাথে যুক্ত হয় ‘ডাক’-এর আট দফাভিত্তিক আন্দোলন। উভয় দল ১৭ জানুয়ারি আগরতলা মামলার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ দিবস আহ্বান করে। ঐদিন সরকার দেশে ১৪৪ ধারা জারি করে। কিন্তু তা সত্ত্বেও ‘ডাক’ মিছিল নিয়ে বার লাইব্রেরির দিকে অগ্রসর হয় এবং পুলিশ তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে।
অপরদিকে সংগ্রাম পরিষদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় সভা আহ্বান করে এবং ছাত্ররা মিছিল বের করলে পুলিশ লাঠিচার্জ, কাঁদুনে গ্যাস ও রায়ট কার থেকে লাল রঙের পানি নিক্ষেপ করে ছাত্রদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এর প্রতিবাদে ২০ জানুয়ারি ঢাকা ও সারা পূর্ববাংলায় ছাত্র ধর্মঘট আহ্বান করা হয়।
এদিন ছাত্ররা পুলিশের বাধা অমান্য করে মিছিল বের করলে ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে একজন পুলিশ অফিসরের গুলিতে ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামান শহীদ হন। আসাদুজ্জামানের মৃত্যুতে ছাত্র ও গণআন্দোলন আরো তীব্ররূপ লাভ করে। এর প্রতিবাদে ২১ জানুয়ারি থেকে ৩১শে জানুয়ারি পর্যন্ত প্রায় প্রত্যেক দিনই হরতাল, প্রতিবাদ মিছিল চলতে থাকে।
সরকার আন্দোলন স্তিমিত করতে পুলিশ বাহিনীকে লেলিয়ে দেয়। পুলিশের সাথে সংঘর্ষে বহু ছাত্র আহত ও নিহত হয়।
১৯৬৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসও ছিল ঘটনাবহুল এবং পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক উত্তপ্তকর অবস্থা।
পূর্ব পাকিস্তানে ১১ দফাভিত্তিক আন্দোলন যখন চরম পর্যায়ে তখন ১ ফেব্রুয়ারি আইয়ুব খান বিরোধী দলীয় রাজনীতিকদের সাথে আলাপ-আলোচনার প্রস্তাব দিলে ছাত্র সমাজ আগরতলা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে তা প্রত্যাখ্যান করে। ৬ ফেব্রুয়ারি আইয়ুব খান ঢাকা সফরে আসলে সর্বত্রই প্রতিরোধের সম্মুখীন হন।
৯ ফেব্রুয়ারি ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ পল্টনের জনসভায় আগরতলা মামলাসহ সমস্ত রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার, গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি এবং সকল কালো আইন বাতিলসহ আন্দোলনে নিহতদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করে। ১২ ফেব্রুয়ারি আইয়ুব খান ঢাকা ত্যাগ করে চলে যান এবং ঘোষণা দিয়ে যান যে, আগরতলা মামলা প্রত্যাহার করা সম্ভব নয়।
তার এরূপ ঘোষণার কারণে অবস্থার আরো অবনতি ঘটে। এর প্রতিবাদে ১৪ ফেব্রুয়ারি ডাক-এর আহ্বানে সমগ্র পাকিস্তানে হরতাল পালিত হয়। ইতোমধ্যে ১৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে আগরতলা মামলার বিচারাধীন আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে গুলি করে হত্যা এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং প্রক্টর ড. শামসুজ্জোহাকে হত্যার প্রতিবাদে পূর্ব পাকিস্তানে গণআন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ লাভ করে।
প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান কৌশলগত কারণে ১৭ ফেব্রুয়ারি তারিখে এক ঘোষণায় ২১ ফেব্রুয়ারিকে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেন। কিন্তু তাতেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় অগত্যা ২২ ফেব্রুয়ারি ‘ফৌজদারী আইন’ প্রত্যাহারপূর্বক আগরতলা মামলাসহ সকল রাজনৈতিক মামলার আসামীদের নিঃশর্ত মুক্তি প্রদান করে। এর মধ্যদিয়ে ১১ দফা আন্দোলনের একটা বড় লক্ষ অর্জিত হয়।
কারামুক্ত শেখ মুজিবুর রহমানকে ২৩ ফেব্রুয়ারি পল্টন ময়দানে সর্বদলীয় ছাত্র-জনতা এক সম্বর্ধনায় ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করে । ২২ ফেব্রুয়ারির পর থেকে প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান অনেকটা নমনীয় নীতি অনুসরণ করতে থাকেন। ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে সমঝোতার লক্ষে গোলটেবিল বৈঠক শুরু হয়। পূর্ব পাকিস্তানের অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমান সর্বদা ৬ দফা ও ১১ দফা ভিত্তিক দাবিতে অনড় থাকেন।
অবশেষে ১০ মার্চ আইয়ুব খান এক গোল টেবিল বৈঠকে সংসদীয় নির্বাচন সংক্রান্ত দাবির প্রতি সম্মতি জ্ঞাপন করেন। ১৫ মার্চ জেনারেল আইয়ুব খান জাতির উদ্দেশে এক ভাষণে পদত্যাগের কথা ঘোষণা করে জেনারেল ইয়াহিয়া খানের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। বস্তুতপক্ষে আইয়ুব খানের পদত্যাগের মধ্যদিয়েই ১১ দফাভিত্তিক গণঅভ্যুত্থানের বিজয় সূচিত হয়।
এরপরও ৬ দফা ও ১১ দফাভিত্তিক আন্দোলন অব্যাহত থাকে। তবে আন্দোলনের গতি অহিংসরূপে অগ্রসর হয় এবং প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া কর্তৃক সাধারণ নির্বাচন ঘোষণা পর্যন্ত (১৯৬৯ সালের ২৮ নভেম্বর) অব্যাহত থাকে ।
১১ দফা আন্দোলনের গুরুত্ব
বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থরক্ষা ও গণমানুষের দাবি আদায়ের ক্ষেত্রে ছাত্র সমাজের ১১ দফাভিত্তিক আন্দোলন অত্যন্ত তাৎপর্যবহ অধ্যায় রচনা করে। বিভিন্ন দিক থেকে এ আন্দোলন ছিল গুরুত্বপূর্ণ-
ছয় দফার গুরুত্ব বৃদ্ধি:
ছাত্র সমাজ তাদের ১১ দফা দাবির মধ্যে ছয় দফা দাবি অন্তর্ভুক্ত করে ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবির গুরুত্ব বৃদ্ধি করেছে। এর মধ্যদিয়ে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ছাত্র সংগঠনের যোগসূত্র রচিত হয় এবং যৌথভাবে দাবি আদায় সম্ভব হয়। ১৮ জানুয়ারি হতে আন্দোলন প্রধানত ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।
আন্দোলনে ঐক্য সৃষ্টি:
১১ দফাভিত্তিক আন্দোলন বিস্তারের আগে বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে বিশ্বাসী কয়েকটি দল ছাড়া এর প্রতি অনেক দল সমর্থন দেয়নি। কিন্তু আসাদের শহীদ হওয়ার পর জামাত, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ছাত্র হত্যার প্রতিবাদ জানায়। এর প্রতিবাদে বিরোধীদল পরিষদের অধিবেশন বর্জন করে। এমন কি পিন্ডি ও করাচিতে ছাত্ররা ১১ দফার পক্ষে সহানুভূতি জানায়। সরকারি দল এন.এস.এফ.-এ ভাঙ্গন ধরে এবং একাংশ ১১ দফা সমর্থন দেয় ।
মধ্যবিত্ত ও কৃষক শ্রেণীর স্বার্থরক্ষা:
১১ দফা দাবির মধ্যে ছাত্র সমাজ মধ্যবিত্ত ও কৃষক শ্রেণীর স্বার্থ সম্বলিত দাবি সংযুক্ত করে সর্বস্তরের মানুষের সমর্থন লাভে সক্ষম হয়।
দুর্বার গণআন্দোলন সৃষ্টি:
ছয় দফাভিত্তিক আন্দোলন স্তিমিত হয়ে পড়লে ছাত্র সমাজ ১১ দফাভিত্তিক এক দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে তুলতে সক্ষম হয়। এ গণআন্দোলন ১৯৬৯ সালে এক গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়।
আগরতলা মামলা প্রত্যাহার:
ছাত্রদের এগার দফা আন্দোলনের চাপে বাধ্য হয়ে প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান আগরতলা মামলা প্রত্যাহার করে সকল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মুক্তি প্রদান করে এবং আলোচনার সূত্রপাত করে।
আইয়ুব খানের পদত্যাগ:
আইয়ুব খান প্রবল প্রতাপের সাথে এক দশক সামরিক শাসন অব্যাহত রাখার পর অবশেষে ১৯৬৯ সালে প্রবল ছাত্র আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এদিক থেকে ১১ দফা আন্দোলনের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম।
সংসদীয় গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার স্বীকৃতি:
সামরিক সরকার আইয়ুব খান দুর্বার ছাত্র আন্দোলনের মুখে ১৯৬৯ সালের ১০ মার্চ গোল টেবিল বৈঠকে সংসদীয় গণতন্ত্র ও সার্বজনীন ভোটাধিকারের প্রতি সম্মতি জ্ঞাপন করেন। যদিও তা কার্যকর হয়েছিল জেনারেল ইয়াহিয়া খানের সময়। কিন্তু আইয়ুব খানের মতো সামরিক জান্তা কর্তৃক অনুরূপ স্বীকৃতি প্রকারান্তে গণআন্দোলনেরই বিজয় হয়েছিল।
বাংলা ভাষার মর্যাদা বৃদ্ধি:
এগার দফায় সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবি উত্থাপনের মাধ্যমে ছাত্র সমাজ বাংলা ভাষার মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে। তাছাড়া এগার দফা আন্দোলনে আইয়ুব খান কর্তৃক ২১ ফেব্রুয়ারিকে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেন। এর ফলে বাংলা ভাষার মর্যাদা বৃদ্ধি পায় এবং ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদী চেতনা আরো সুদৃঢ় হয়।
অর্থনৈতিক মুক্তির দাবি:
৬ দফার মত এগার দফায় বাংলার মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির দাবি তুলে ধরা হয়। ফলে বাংলার মানুষ নিজেদের ওপর পশ্চিম পাকিস্তানিদের শোষণ আরো ভাল করে উপলব্ধি করে।
শিক্ষার প্রসারের পথ উন্মুখ:
ছাত্র সমাজ তাদের এগার দফায় পূর্ব পাকিস্তানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ছাত্র- ছাত্রীদের কতিপয় দাবি তুলে ধরার মাধ্যমে পূর্ববাংলার শিক্ষার বিস্তারের পথ উন্মুক্ত করেছে।
রাজনীতিতে ছাত্রদের গুরুত্ব বৃদ্ধি :
পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্র সমাজ ১১ দফাভিত্তিক দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা এবং দেশবাসীর প্রাণের দাবি সরকারের সম্মুখে তুলে ধরার মত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে এ অঞ্চলের রাজনৈতিক অঙ্গনে ছাত্র সমাজের গুরুত্ব বৃদ্ধি করেছিল।
স্বাধীনতার বীজ নিহিত:
ছাত্রদের দুর্বার আন্দোলনে আইয়ুবের পতনের পর সকল আন্দোলনে ছাত্র সমাজ অসামান্য কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখে। ১৯৭০ সালে নির্বাচন ও একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ৬ দফাভিত্তিক স্বায়ত্তশাসন অর্জনে ছাত্ররা অগ্রণী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। একাত্তরের অসহযোগ আন্দোলন ও মুক্তিযোদ্ধাদের বড় অংশ ছিল ছাত্র ও তরুন। তাদের অবদান ও আত্মত্যাগের ফলে স্বল্প সময়ে বাঙালি স্বাধীনতার স্বাদ গ্রহণ করে ।
সারসংক্ষেপ
পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক ক্রান্তিলগ্নে ছাত্র সমাজ তাদের ১১ দফা নিয়ে উপস্থিত হয়। এই এগার দফায় দেশের সর্বস্তরের মানুষের দাবি স্থান পাওয়ায় ছাত্র সমাজ ব্যাপক জনসমর্থন লাভে সক্ষম হয়। আর এগার দফাভিত্তিক গণঅভ্যুত্থানের চাপে সামরিক জান্তা আইয়ুব খান আগরতলা মামলা প্রত্যাহার, রাজবন্দিদের মুক্তি প্রদান ও সর্বশেষে নিজে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
এর মধ্যদিয়েই এগার দফা তথা ছাত্র সমাজের বিজয় সূচিত হয়। বাংলার রাজনৈতিক অঙ্গনে ছাত্র সমাজ তাদের মর্যাদাসম্পন্ন স্থান করে নিতে সক্ষম হয়। তাই ৬ দফার মতো এগার দফাও সকল আন্দোলনে প্রেরণা যোগায়। ছাত্র সমাজ আন্দোলনের যে দীক্ষা ও কৌশল গ্রহণ করে তা একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে বাস্তবায়নের সুযোগ পায় ।
সহায়ক গ্রন্থপঞ্জি
১। হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধঃ দলিলপত্র, দ্বিতীয় খন্ড, ঢাকা, তথ্য মন্ত্রণালয়, ১৯৮৪ ।
২। ড. মোহাম্মদ হাননান, বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাস, দ্বিতীয় খন্ড, ঢাকা, আগামী প্রকাশনী, ১৯৯৪ ।
৩। সালাহ্উদ্দিন আহমদ ও অন্যান্য সম্পাদিত, বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাস ১৯৪৭-১৯৭১, ঢাকা, আগামী প্রকাশনী, ১৯৯৭।

সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন :
১। ছাত্রদের এগার দফা আন্দোলনের পটভূমি সংক্ষেপে লিখুন।
২। ১১ দফা আন্দোলন কিভাবে আইয়ুব খানের পতনকে ত্বরান্বিত করে সংক্ষেপে লিখুন।
রচনামূলক প্রশ্ন :
১। সংক্ষেপে ছাত্রদের ১১ দফার বর্ণনা দিন। বাংলাদেশের ইতিহাসে এর গুরুত্ব মূল্যায়ন করুন।
