আজকে আমদের আলোচনার বিষয় ওয়ারেন হেস্টিংস
ওয়ারেন হেস্টিংস

ওয়ারেন হেস্টিংস
আঠার শতকের সত্তরের দশকে ভারতে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে ওঠে। বিশেষ করে ইংরেজদেরকে মারাঠা, হায়দ্রাবাদ ও মহীশূর এই তিন শক্তিশালী শত্রুর সম্মুখীন হতে হয়েছিল। অন্যদিকে পশ্চিম গোলার্ধে ব্রিটিশ সরকার বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিল। যেমন ফরাসি বিপ্লবোত্তর সমস্যা, স্পেনের যুদ্ধ এবং আমেরিকান উপনিবেশগুলোর সম্মিলিত বিদ্রোহ ইত্যাদি।
পুরাতন শত্রুর বিপদ দেখে ভারতে ফরাসি শক্তি ইংরেজদের আঘাত করার যে প্রস্তুতি নিয়েছিল, সেটাও দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ভারতে ব্রিটিশ শক্তির এই দুর্দিনে বুদ্ধিমান, উদ্যোগী, অভিজ্ঞ ওয়ারেন হেস্টিংস গভর্নর হিসেবে নিযুক্ত হন এবং ইংরেজদের বিলীয়মান শক্তি ও মর্যাদা পুনরুদ্ধার করেন। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি এবং ভারতের অভিজাতবর্গের ওপর নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছিল। এজন্যে তাঁকে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ইস্পীচ (বিচার) করে।
হেস্টিংসের অভ্যন্তরীণ নীতি
হেস্টিংস যখন বাংলার গভর্নর হলেন তখন চারিদিকে অরাজক ও বিশৃক্সখল অবস্থা বিরাজ করছিল। তাঁর পূর্বসূরী ক্লাইভ-এর দ্বৈত শাসনের ফলে দেশে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয় এবং রাজকোষও শূন্য হয়ে পড়ে। কোম্পানির দুর্নীতিবাজ কর্মচারীদের অত্যাচারে বাংলার জনগণ সর্বশান্ত হয়ে পড়ে। এই বিপদজনক পরিস্থিতিতে তিনি অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন যা বাংলা তথা ভারতে ব্রিটিশ শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সহায়ক হয়েছিল।
রাজস্ব সংস্কার
১৭৭২ খ্রি. হেস্টিংস দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে রাজস্ব আদায়ের সম্পূর্ণ দায়িত্ব কোম্পানির হাতে ন্যস্ত করেন। ১৭৬৫ খ্রি. দিওয়ানী লাভের পর দিওয়ানী পরিচালনার আইনগত অধিকার ছিল কোম্পানির । কিন্তু বাংলার রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব ছিল নায়েব দেওয়ান মুহাম্মদ রেজা খানের ওপর এবং বিহারের রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব ছিল নায়েব দেওয়ান সীতাব রায়ের ওপর।
কোম্পানির ডাইরেক্টররা নায়েব ও দিওয়ানদের সততায় বিশ্বাস করতেন না এবং তাদের ধারণা হয়েছিল যে, এরা রাজস্ব আত্মসাৎ করে ফেলে। এজন্যে হেস্টিংস প্রচলিত ব্যবস্থার অবসান করে রেজা খান ও সীতাব রায়কে পদচ্যুত করেন। তিনি দুর্নীতির অভিযোগে তাদের বিচারের আয়োজন করেন। তবে তারা নির্দোষ প্রমাণিত হন। তিনি রাজকোষের অবস্থা উন্নতির জন্যে নবাবের বাৎসরিক ভাতা ৩২ লক্ষ থেকে অর্ধেকে নামিয়ে ১৬ লক্ষ টাকায় স্থির করেন।
হেস্টিংসের উদ্দেশ্য ছিল রাজস্ব আয় বৃদ্ধি এবং ব্যবসা-বাণিজ্য বিস্তার করা। হেস্টিংস রাজস্ব আয় বৃদ্ধির জন্যে একটি ক্ষুদ্র ভ্রাম্যমান কমিটি গঠন করেন। এই কমিটির সদস্যরা প্রত্যেক জেলায় উপস্থিত হয়ে জমিদারদের সাথে সরাসরি বন্দোবস্ত করতেন। জমিদারদের সাথে পাঁচ বছরের জন্যে বন্দোবস্ত করা হল। কোম্পানির রাজস্ব আদায়কারীকে বলা হতো সুপারভাইজার।
হেস্টিংস তাদের নাম বদল করে তাদেরকে কালেক্টর নামকরণ করেন। রাজস্ব কোষাগারকে মুর্শিদাবাদ থেকে কলিকাতায় স্থানান্তর করা হয়। গভর্নর এবং তার কাউন্সিলের সদস্য নিয়ে রাজস্ব বোর্ড গঠন করা হয়। দিওয়ানী সংক্রান্ত যাবতীয় কাজের দায়িত্ব এই বোর্ডের হাতে দেয়া হয়। হেস্টিংসের রাজস্ব বিষয়ক নতুন নীতি তখনও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর্যায়ে ছিল। নতুন নীতিতে সাফল্য এসেছিল খুবই কম।
তাই দেখা যায় যে, ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দের নভেম্বর মাসে মাত্র এক বছর আগে গৃহীত জমি বন্দোবস্তের পদ্ধতি নিয়ে নবগঠিত রাজস্ব বোর্ড দীর্ঘ আলোচনা করেছিল। তখন ওয়ারেন হেস্টিংস চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের প্রস্তাব করেছিলেন। কিন্তু স্বল্প সময়ে রাজস্ব ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করতে হবে বলে অস্থায়ী ব্যবস্থা গৃহীত হয়। এই ব্যবস্থায় বাংলা-বিহার-উড়িষ্যাকে ছয়ভাগে ভাগ করে ছয়টি প্রাদেশিক কাউন্সিল গঠন করেন।
প্রত্যেক কাউন্সিলের কাজে সাহায্যের জন্য একজন করে দেশীয় দেওয়ান নিয়োগ করা হয়। এই ব্যবস্থা যখন চালু হল তখন প্রতি জেলায় কালেক্টর পদ উঠিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু এই পদক্ষেপ সমুচিত ছিল না। ১৭৭৬ খ্রি. হেস্টিংস আমিনি কমিশন গঠন করে রাজস্ব সংক্রান্ত বহু মূল্যবান তথ্য সংগ্রহ করেন এবং এই কমিশনের সুপারিশের পর প্রাদেশিক কাউন্সিল বাতিল করে পুনরায় কালেক্টরদের নিয়োগ করেছিলেন।
রাজস্ব সংস্কার ও জমিদারি বন্দোবস্তের ক্ষেত্রে হেস্টিংস যে অস্থিরতার পরিচয় দেন, তাতে জমিদারি ব্যবস্থার বহু বছরের ভিত্তি ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। রাজস্ব আদায় কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছিল, কিন্তু জমিদাররা পূর্বে বিদ্বান, ধর্মীয় নেতা প্রমুখকে ভূমিদান করে যে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কাজ করতেন, তা বন্ধ হয়ে যায়। রাজস্ব আদায়ই তখন একমাত্র কাজ হয়ে দাঁড়ায়।
বিচার বিষয়ক সংস্কার
নবাবী আমলে রাজস্ব আদায় এবং ভূমির মালিকানা সংক্রান্ত মামলার বিচার করতেন দেওয়ান এবং ফৌজদারি মামলার বিচার করতেন কাজী। ১৭৬৫ খ্রি. দিওয়ানী লাভের পর কোম্পানি দিওয়ানী মামলার বিচারের বিষয়টি নিজেদের হাতে নিল। কিন্তু ফৌজদারি বিচারের দায়িত্ব ছিল নবাবের নিযুক্ত কাজীর ওপর।
ওয়ারেন হেস্টিংস ১৭৭২ খ্রি. বিচার বিভাগের প্রচলিত ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করে সংস্কার সাধন করেন। তিনি প্রত্যেক জেলায় একটি করে দিওয়ানী ও ফৌজদারি আদালত স্থাপন করেন। এগুলোর নতুন নামকরণ করা হল মফস্বল দিওয়ানী ও মফস্বল ফৌজদারি আদালত।
অন্যান্য সংস্কার
হেস্টিংস দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে আরো কতিপয় সংস্কার সাধন করেন। প্রথমত, প্রত্যেক আদালতের মামলা সংক্রান্ত নথি সংরক্ষণ। দ্বিতীয়ত, বারো বছরের মধ্যে মামলা না করলে মামলা তামাদি হয়ে যাওয়া। তৃতীয়ত, অত্যধিক পরিমাণ জরিমানা নিষিদ্ধ করা এবং সুদের হার নির্দিষ্ট করে দেওয়া ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার সাধন করেন। বিচার ব্যবস্থার ক্ষেত্রে তিনি দুটো ঐতিহাসিক কাজ করেন।
যেমন তিনি হিন্দু প্রজার কতিপয় বিচারে হিন্দু ধর্মশাস্ত্র এবং মুসলিম প্রজার ক্ষেত্রে কোরআনের বিধিবিধান প্রয়োগের নীতি অনুসরণের নির্দেশ দেন। দ্বিতীয়ত, বিচার প্রার্থীর কাছ থেকে কাজী এবং মুফতি বিচারের ব্যয় হিসেবে অর্থ গ্রহণ করতেন। হেস্টিংস এই ব্যবস্থা পরিবর্তন করে তাদের জন্যে বেতন প্রদানের ব্যবস্থা করেন।
হেস্টিংসের পররাষ্ট্র নীতি
হেস্টিংস গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে দেখলেন যে, কোম্পানি ইতোমধ্যে বাংলায় বণিক সংঘ থেকে শাসক-রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়েছে। ফলে ভারতের অন্যান্য রাজ্যসমূহ এবং রাজনৈতিক শক্তির প্রতি সুনির্দিষ্ট নীতি অনুসরণ করা প্রয়োজন। হেস্টিংসের সীমান্ত নীতি ছিল বাস্তবধর্মী এবং এক্ষেত্রে তিনি বেশ সাফল্য অর্জন করেন।
তিনি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের মধ্যে নতুন কোন অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত করেননি, তবে মোঘল সম্রাটের শক্তি খর্ব করেন এবং মারাঠা ও মহীশূরের সাথে শক্তি পরীক্ষায় অবতীর্ণ হন। অযোধ্যার নবাবকে অধীনতা পাশে আবদ্ধ করে ভবিষ্যত ইংরেজ সাম্রাজ্য বিস্তারের পথ উন্মুক্ত করে দেন।
তার সীমান্ত বা পররাষ্ট্র নীতিকে তিনভাগে ভাগ করে আলোচনা করা যায় : (ক) মুঘল সম্রাটের সাথে সম্পর্ক, (খ) অযোধ্যা ও রোহিলাখন্ডের সাথে সম্পর্ক, ও (গ) পশ্চিম ও দক্ষিণ ভারতে যথাক্রমে মারাঠা ও মহীশূর সম্পর্কিত সমস্যা।
হেস্টিংস ও মুঘল সম্রাট শাহ আলম
আঠার শতকের সত্তরের দশকে মারাঠারা দুর্ধর্ষ শক্তিতে পরিণত হয়ে ভারতীয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করে। ১৭৭১ খ্রি. তারা দিল্লি দখল করে এবং সেখানে শাহ আলমকে পুন:স্থাপন করে। শাহ আলম অযোধ্যার কারা এবং এলাহাবাদ জেলা মারাঠাদের প্রদান করেন। এ অবস্থায় হেস্টিংস দেখলেন যে, সম্রাট মারাঠাদের হাতের পুতুলে পরিণত হয়েছেন এবং ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি দিওয়ানীর জন্যে সম্রাটকে প্রতি বছর যে ২৬ লক্ষ টাকা দিত, তিনি তা বন্ধ করে দেন।
তদুপরি হেস্টিংস ১৭৭৩ খ্রি. বানারসের সন্ধি দ্বারা অনেকটা অন্যায়ভাবে অযোধ্যার নবাবকে কারা এবং এলাহাবাদ প্রদান করেন। বিনিময়ে অযোধ্যার নবাব ইংরেজদেরকে ৫০ লক্ষ টাকা প্রদান করেন এবং নিজ ব্যয়ে অযোধ্যায় একদল ইংরেজ সৈন্য রাখার প্রতিশ্রুতি দেন। ঠিক হয় যে, অযোধ্যার নবাব প্রয়োজনে ইংরেজ সৈন্যদের সাহায্য গ্রহণ করতে পারবেন।
হেস্টিংস চেয়েছিলেন যে, অযোধ্যাকে মারাঠা এবং ইংরেজদের মধ্যবর্তী রাজ্য (Buffer state) হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা এবং এটাই ছিল তার অযোধ্যা নীতির মূল লক্ষ্য।
রোহিলা যুদ্ধ
রোহিলাখন্ড ছিল হিমালয়ের পাদদেশে, অযোধ্যার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত এক উর্বর ক্ষুদ্র রাজ্য। আফগান সরদার হাফিজ রহমত খাঁ ছিলেন এই রাজ্যের শাসক। অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলার লোলুপ দৃষ্টিতে পড়ে এই ক্ষুদ্র রাজ্যটি। মারাঠা আক্রমণ থেকে রোহিলা রাজ্যকে রক্ষা করার নামে সুজাউদ্দৌলা যখন রহমত খাঁর কাছে চল্লিশ লক্ষ টাকা দাবি করেন, তখন তিনি এই বিপুল পরিমাণ টাকা দিতে অস্বীকার করেন।
এমতাবস্থায় সুজাউদ্দৌলা ইংরেজদের কাছে সৈন্যবাহিনী প্রেরণের অনুরোধ করেন এবং তাদেরকে যুদ্ধের ব্যয় ছাড়াও অতিরিক্ত চল্লিশ লক্ষ টাকা প্রদানে সম্মত হলেন। কোম্পানির আর্থিক লাভের জন্যে হেস্টিংস ইংরেজ সেনা প্রেরণ করেন। ফলে যৌথ বাহিনীর হাতে রোহিলারা পরাজিত হয়, যুদ্ধক্ষেত্রে রহমত খাঁ নিহত হন এবং রোহিলাখন্ড অযোধ্যার অন্তর্ভুক্ত হয়।
এজন্যে হেস্টিংসের তীব্র সমালোচনা করা হয়ে থাকে, কারণ তিনি ব্রিটিশ সৈন্যকে ভাড়াটিয়া হিসেবে ব্যবহার করে মানবিক ও নৈতিক অপরাধ করেছিলেন। কিন্তু এই সমালোচনা সম্পূর্ণ সঠিক নয়। কোম্পানির দরকার ছিল অর্থের, হেস্টিংস এই অর্থ পেয়েছিলেন। তদুপরি তিনি তাঁর মিত্র রাজ্য অযোধ্যাকে শক্তিশালী করতে কৌশলগত কারণে রোহিলাখন্ড আক্রমণে সুজাউদ্দৌলাকে সহায়তা করেন ।
হেস্টিংসের মারাঠা ও মহীশূর নীতি
১৭৭৯ খ্রি. দক্ষিণ ভারতের শক্তিগুলো যেমন হায়দ্রাবাদের নিজাম, মারাঠা এবং মহীশূর ইংরেজদের বিরুদ্ধে সামরিক সংঘ স্থাপন করে। হেস্টিংসের কূটনীতির ফলে তা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। ১৭৮২ খ্রি. প্রথম ইঙ্গ- মারাঠা যুদ্ধের অবসান হয় সালবাই চুক্তি দ্বারা। এর ফলে ইংরেজরা দুর্ধর্ষ মারাঠা শক্তির কাছ থেকে প্রায় কুড়ি বছর কোন প্রতিরোধ বা আক্রমণের সম্মুখীন হয়নি।
হেস্টিংস গুন্টুর প্রদেশ নিজামকে ঘুষ হিসেবে প্রদান করে তাকে মিত্র হিসেবে পেয়ে যান। অন্যদিকে দ্বিতীয় মহীশূর যুদ্ধ ইংরেজদের অনুকূলে অবসান হয়। হেস্টিংস হায়দার আলীর আকস্মিক মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র টিপু সুলতানের সাথে চুক্তি সাক্ষর করে মিত্রতা স্থাপন করেন।
হেস্টিংসের অনৈতিক কাজ ও ইস্পীচমেন্ট
কোম্পানির আর্থিক সংকট দূর করতে হেস্টিংস অবৈধ অর্থ গ্রহণ করতেও কুণ্ঠাবোধ করেননি। রোহিলা নীতিতে তা প্রতিফলিত হয়েছে। এছাড়াও রাজা চৈৎ সিং ও অযোধ্যার বেগমদের নির্যাতন করে অর্থ সংগ্রহ করেন। তিনি বিখ্যাত জমিদার নবকুমারকে ব্যক্তিগত শত্রুতার জের ধরে ফাঁসিতে ঝুলিয়েছিলেন। এসব অনাচারের জন্যে তাকে পরবর্তীকালে ইস্পীচ করা হয়েছিল।
তবে হেস্টিংস ভারতে ইংরেজ রাজত্বের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। তিনি কোম্পানির শাসন ব্যবস্থায় শৃক্মখলা স্থাপন, পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন এবং সর্বোপরি কোম্পানির অর্থাভাব দূর করে ভারতে ইংরেজ রাজত্বের সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করে দেন। অন্যদিকে ভারতীয়দের স্বার্থ, মর্যাদা, ন্যায়নীতি কিংবা মানবতার দিক থেকে দেখলে হেস্টিংস অনেক নিন্দনীয় কাজ করেছেন।
বাংলা তথা ভারতে তাঁর কিছু গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তিনি ভারতে আধুনিক বিচার ব্যবস্থার গোড়াপত্তন করেন। কলিকাতা মাদ্রাসা ও রয়েল এশিয়াটিক সোসাইটি (Royal Asiatic Society) প্রতিষ্ঠা করেন তিনি ।
সারসংক্ষেপ
আঠার শতকের সত্তরের দশকে ভারতে বৃটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে ওঠে। এ সময় বাংলার গভর্নর নিযুক্ত হন ওয়ারেন হেস্টিংস। তিনি কোম্পানির শাসন ব্যবস্থায় শৃঙ্খখলা স্থাপন করেন; পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন এবং সর্বোপরি কোম্পানির অর্থাভাব দূর করে ভারতে ইংরেজ রাজত্বের সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করে দেন।
কিন্তু ভারতীয়দের স্বার্থ, মর্যাদা কিংবা ন্যায়নীতি মানবতার দিক থেকে দেখলে তিনি অনেক নিন্দনীয় কাজ করেছেন। দুর্নীতি এবং ভারতীয় অভিজাতদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগে বৃটিশ পার্লামেন্ট তাকে ইস্পীচ করে।
সহায়ক গ্ৰন্থপঞ্জী :
১. আবদুল করিম, বাংলার ইতিহাস (১২০০-১৮৫৭ খ্রি.)।
২. ড. মুহম্মদ আবদুর রহিম ও অন্যান্য, বাংলাদেশের ইতিহাস।
৩. এম.এ. রহিম, বাংলার মুসলমানদের ইতিহাস (১৭৫৭-১৯৪৭)।

সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন :
১। হেস্টিংসের সময় বাংলা ও বিহারের রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব কোম্পানি কেন নিজ হাতে তুলে নেয়?
২। হেস্টিংসের বিচার সংক্রান্ত সংস্কার আলোচনা করুন।
৩। হেস্টিংসকে কেন ইস্পীচ করা হয়?
রচনামূলক প্রশ্ন :
১। হেস্টিংসের অভ্যন্তরীণ নীতি পর্যালোচনা করুন ।
২। হেস্টিংসের পররাষ্ট্র নীতির একটি রূপরেখা অঙ্কন করুন।
৩। বাংলা তথা ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠায় হেস্টিংসের অবদান মূল্যায়ন করুন।
