কনভেনশন [ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল ]

আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় –কনভেনশন। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।

কনভেনশন

 

কনভেনশন

 

এর পর বাতিল গণপরিষদের স্থানে শাসনতান্ত্রিক কনভেনশন গঠনের প্রস্তাব নিয়ে জনাব সোহরাওয়ার্দী পূর্ববাংলায় আগমণ করেন। বন্ধুগণ! কন ভেনশন সম্বন্ধে বহু মিথ্যা প্রচার আমাদের বিরুদ্ধে হয়েছে এবং তার ফলে জনসাধারণের মধ্যে যে কিছুটা বিভ্রান্তির সৃষ্টিও হয়েছিল এ-কথা অস্বীকার করবার উপায় নেই। কাজেই জনগণের ভুল নিরশনের জন্য এ সম্বন্ধে আমাকে দু’একটা কথা বলতেই হবে।

কন ভেনশন ও গণপরিষদের ভিতর পার্থক্য এই ছিল যে, কন ভেনশনের সদস্যদের শুধু একটি শাসনতন্ত্র প্রণয়ণের ক্ষমতা ছিল এবং উহা আইন পরিষদ রূপে কাজ করবার অধিকারী ছিল না। ফলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভার সদস্যদিগকে বাধ্যগত ভাবে কন ভেনশনের সদস্য নির্বাচিত না হলেও চলত। এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভা কন ভেনশনের নিকট দায়ী থাকত না।

সেই হেতু ইহার একটি বিশেষ উপকারীতা ছিল যে কন ভেনশনের সদস্যদের ক্ষমতাদ্বন্দ্বে লিপ্ত হওয়ার কোনই সম্ভাবনা ছিল না এবং তারা দ্রুত একটি গঠণতন্ত্র প্রণয়ণের কাজে আত্ম নিয়োগ করতে পারত। ক্ষমতাশীন মন্ত্রীমণ্ডলীর প্রভাব ইহার উপর থাকত না বলেই ইহার দ্বারা একটি সুষ্ঠু গঠণতন্ত্র প্রণয়ণের সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু অপর পক্ষে গণপরিষদের দুইটি ক্ষমতা আছে যথা শাসনতন্ত্র প্রণয়ণ ও কেন্দ্রীয় আইন সভা হিসেবে কাজ করা।

 

কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সদস্য দিগকে একটি নির্দ্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গণ পরিষদের সদস্য হতেই হবে এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ইহার নিকটে দায়ী থাকবে সেইহেতু এর একটি অসুবিধাও আছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার প্রভাব এর ওপরে পুরাপুরি খাটানো চলে এবং এর সদস্যগণ গঠণতন্ত্র প্রণয়ণের দিকে বিশেষ দৃষ্টি না দিয়ে ক্ষমতা দ্বন্দ্বে লিপ্ত হতে পারে এবং একটি সুষ্ঠু গঠণতন্ত্রের পরিবর্তে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভার প্রভাবিত একটি গঠণতন্ত্র প্রণীত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

এই কারণ এড়াতেই জনাব সোহরাওয়ার্দী কন-ভেনশন গঠণের পক্ষপাতী ছিলেন। কন-ভেনশনের প্রস্তাবে উপরোক্ত সুবিধাগুলি থাকা সত্ত্বেও আপনাদের ওয়ার্কিং কমিটি অনভেনশনের [কনভেনশনের] প্রস্তাব গ্রহণ করতে অস্বীকার করে এবং পরবর্তী সময়ে যখন কন-ভেনশনের পরিবর্তে গণপরিষদ গঠণের প্রস্তাব করা হয় তখনই কেবলমাত্র উহা গ্রহণ করে। এই প্রসঙ্গে সংখ্যা সাম্যের কথা না তুললে আমার বক্তব্য অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। বন্ধুগণ।

এ কথা আপনাদের নিশ্চয়ই জানা আছে যে বিগত আট বছরে মুসলিম লীগ কুশাসনের ফলে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে এত ভুল বুঝাবুঝির ও পারস্পারিক বিদ্বেষের সৃষ্টি হয়েছে যে, সংখ্যাসাম্য গ্রহণ করা ব্যতীত উভয় পাকিস্তানের জনগণের মধ্যে ভ্রাতৃত্বভাব ও ঐক্য গড়ে তোলা সম্পূর্ণ অসম্ভব হয়ে উঠেছিল । কাজেই দেশের বৃহত্তর স্বার্থের খাতিরে এবং জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার জন্যই আপনাদের ওয়ার্কিং কমিটি সংখ্যাসাম্য নীতি গ্রহণ করে।

 

কনভেনশন

 

কিন্তু এ কথা ভুললে চলবে না যে আমরা শুধু কেন্দ্রীয় আইন পরিষদের ব্যাপারেই এই সংখ্যাসাম্য নীতি মেনে নেই নি, আমরা ব্যবসা বাণিজ্য, শিল্প, চাকুরী অর্থাৎ সর্বক্ষেত্রে উভয় পাকিস্তানের সংখ্যা সাম্য নীতি মেনে নিয়েছি এবং উহা আদায়ের জন্য জীবনপণ চেষ্টার ত্রুটি করব না। কিন্তু জনাব হক ও তার দল এ সম্বন্ধে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার জন্য সস্তা বুলি আওড়িয়ে লোকচক্ষে আমাদের প্রতিষ্ঠানকে হেয় প্রতিপন্ন করার যথেষ্ট চেষ্টা করেছে। কিন্তু আজ তিনি এবং তাঁর দল উহা মেনে নিয়েই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভায় আসন গ্রহণ করেছেন।

Leave a Comment