কৃষি-বিপ্লব

আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় –কৃষি-বিপ্লব। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।

কৃষি-বিপ্লব

 

কৃষি-বিপ্লব

 

বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। অধিকাংশ জনসাধারণ গ্রামে বাস করে। তাই গ্রামবাংলার মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি ছাড়া জাতীয় বিপ্লব কার্যকরী করা সম্ভব নয়। সমস্ত দেশ আজ দারিদ্র্যে জর্জরিত, তদুপরি গ্রাম ও শহরের মাঝখানে বিরাট অর্থনৈতিক বৈষম্য বিরাজ করিতেছে। দীর্ঘদিনের ঔপনিবেশিকতা ও শোষণের ফলে গরীব কৃষককুল আজ প্রায় সর্বস্বান্ত। আওয়ামী লীগ এই শোষণের অবসান করিতে বদ্ধপরিকর।

এই শোষণের অবসাই ঘটাইতে হইলে একাধারে যেমন জোতদার ও সুদখোরের হাত হইতে গ্রামের কৃষকদের রক্ষা করিতে হইবে, অন্যদিকে শক্তিশালী সমবায় আন্দোলনের মাধ্যমে অধিক ফসল ফলাবার কাজকে ত্বরান্বিত করিতে হইবে।

যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের সমস্ত গ্রাম আজ চরম অর্থনৈতিক সংকটের সম্মুখীন। কৃষকের হালের বলদ নাই, বীজ নাই, সেচের ব্যবস্থা নাই। শেষ সম্বল ঘরের চালাটি পর্যন্ত হারাইয়া সর্বস্বান্ত হইয়া বসিয়াছে। তদুপরি কৃষককুল ঋণভারে জর্জরিত।

এমতাবস্থায় ঋণগ্রস্ত গরীব কৃষকদের ঋণের বোঝা হ্রাস করিয়া সমস্ত গ্রামের কৃষি বিপ্লবের প্রাথমিক ধাপ হিসাবে শক্তিশালী সমবায় আন্দোলন গঠন করা ছাড়া অন্য কোনও উপায় নাই। গ্রামের দরিদ্র ও পর্যদুস্ত কৃষককুলের সমবেত শক্তিই এই বিপ্লবের প্রধান হাতিয়ার হিসাবে কাজ করিবে। আওয়ামী লীগের কর্মীদের তাই সমবায় আন্দোলনে আত্মনিয়োগ করিতে হইবে।

সমবায়ের মাধ্যমে কৃষিকাজের যাবতীয় সামগ্রী সার, বীজ, বলদ, যান্ত্রিক বা উন্নত মানের লাঙ্গল, সেচের ব্যবস্থা, কীটনাশক ঔষধ ইত্যাদি সরবরাহ করিতে হইবে। তেমনি ছোট ছোট জমির মালিকদের সমবায়ের মাধ্যমে আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির চাষাবাদের প্রতি আগ্রহশীল ও পারদর্শী করিয়া তুলিতে হইবে।

কৃষিজাত দ্রব্যের উপযুক্ত বাজারের ব্যবস্থার জন্য সমবায়ের মাধ্যমে তাহাদের সংগঠিত করিতে হইবে। থানা ও ইউনিয়ন ভিত্তিতে কৃষিভা-ার ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়িয়া তুলিতে হইবে। কৃষি কেন্দ্রকে সমস্ত আধুনিক কৃষি সরঞ্জাম, বীজ, সার, শিক্ষা ও প্রচার-মূলক কেন্দ্রে পরিণত করিতে হইবে।

উন্নয়নের পরিকল্পনায় কৃষি ব্যবস্থার সাথে শিল্প উন্নয়নের সমন্বয় সাধন করিতে হইবে। কৃষি যন্ত্রপাতি ও শিল্পের উৎপাদন কল্পে উপযুক্ত শিল্প ও কলকারখানা দেশে গড়িয়া তুলিতে হইবে। প্রাথমিক পর্যায়ে থানায় থানায় ঋণ দানের সুপরিকল্পিত সংস্থা হিসাবে কৃষি ব্যাঙ্কের শাখা স্থাপন করিতে হইবে ।

ভূমি ব্যবস্থা

ঔপনিবেশিক শাসনের অঙ্গ হিসাবে সামন্তবাদী সমাজ-ব্যবস্থা ও তার শিকার বাংলার কৃষককুল যুগের পর যুগ শোষিত হইয়া আসিতেছে।

বাংলাদেশে সামন্ত ভূস্বামীদের উচ্ছেদ সাধন করা হইলেও সামন্তবাদী প্রভাব এখনও বিরাজমান এবং সরকারী আমলা, টাউট, মুনাফাখোর ও সুদখোর ব্যবসায়ীদের হাত হইতে বাংলার কৃষককুলকে মুক্ত করিতে হইবে।

গ্রাম বাংলার অর্থনৈতিক জীবনে এই আমূল পরিবর্তন আনিতে হইলে আইন প্রবর্তনের সাথে সাথে শক্তিশালী জনমত ও আন্দোলন সৃষ্টি করিতে হইবে এবং সমবায় সংস্থাগুলিকে মজবুত করিয়া প্রতি গ্রামকে সমবায় আন্দোলনের অন্তর্ভুক্ত করিতে হইবে।

আওয়ামী লীগ স্বাধীনতাত্তোর বিপ্লবী সরকারের প্রথম কর্মসূচী হিসাবে জোতদার ও বৃহৎ কৃষক পরিবারের ১০০ বিঘার উপরে জমি রাষ্ট্রায়ত্ত করার নীতি ঘোষণা করিয়া ভূমি সংস্কারের প্রথম সোপান রচনা করিয়াছেন।

সেই সাথে ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা মাফ করিয়া আওয়ামী লীগের বিঘোষিত কর্মসূচীকে বাস্তবায়ন করা হইয়াছে। পরবর্তী পদক্ষেপ হিসাবে ভূমিহীন কৃষকের মাঝে জমি বণ্টন ও অর্থকরী পেশা গ্রহণের সুযোগ দানের মাধ্যমে তাহাদের জীবিকা নির্বাহের উপযুক্ত ব্যবস্থা করিতে হইবে।

কৃষক ছাড়া অন্যান্য পেশাদার শ্রেণীর হাতে যাহাতে কৃষি জমি না যায় তাহার জন্য উপযুক্ত আইন প্রণয়ন করিতে হইবে। সত্যিকার চাষীকে জমির মালিকানা এবং যৌথ খামার ও সমবায়ের মাধ্যমে তাহার ফলন বৃদ্ধি ও ফলভোগের সুযোগ সৃষ্টি করিতে হইবে। ঔপনিবেশিক আমলের ঋণভার হইতে কৃষকদের মুক্ত করিতে হইবে। 

পাট

ঔপনিবেশিক শোষণের ফলে যেমন পাটচাষীরা শোষিত হইয়াছে তেমনি বিশ্বব্যাপী পাটের বাজার নানাভাবে সংকুচিত ও ব্যাহত করা হইয়াছে। বিশেষ করিয়া গত ২৪ বৎসর পাকিস্তানের একচেটিয়া পুঁজিবাদী গোষ্ঠী পাট-ব্যবসার মাধ্যমে বাংলাদেশকে নির্মমভাবে শোষণ ও বঞ্চনা করিয়াছে।

পাট আমাদের জাতীয় অর্থনীতির মেরুদ-। কারণ অধিকাংশ কৃষকের সবচেয়ে বড় অর্থকরী ফসল যেমন পাট, তেমনি পাট বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সর্বোচ্চ মাধ্যম।

আওয়ামী লীগ তাই সরকার গঠনের পর পরই দলের নীতি ও কর্মসূচী অনুযায়ী পাট-ব্যবসা ও পাট-শিল্পকে জাতীয়করণ করিয়াছে। পাটের বহির্বাণিজ্য ও পার্ট-শিল্প হইতে বিচ্ছিন্ন করিয়া দেখা সম্ভব নয় এবং সেই কারণে উভয় ব্যবসাকে সরকারী আয়ত্তে আনয়ন করা হইয়াছে।

পাটের আন্তর্জাতিক চাহিদা ও কৃষকের শ্রম, খরচ ও ভরণ পোষণের মাপকাঠির উপরে ভিত্তি করিয়া পাটের এমন একটি পরিকল্পিত মূল্য নির্ধারণ করিতে হইবে যাহাতে কৃষক পাটের ন্যায্য মূল্য পায়। জাতীয়করণের মাধ্যমে মুনাফাখোরের হাত হইতে আমরা বাংলার পাটচাষীকে মুক্তি দিতে সক্ষম হইয়াছি।

জাতীয়করণকে ফলপ্রসূ ও কার্য্যকরী করিয়া তুলিতে হইলে সমাজের বিভিন্ন স্তরে এবং বিশেষ করিয়া পাটচাষীদের মধ্যে সমবায় আন্দোলনের বিশেষ ভূমিকাকে কিছুতেই অবহেলা করা চলিবে না। দেশের বিভিন্ন অংশে পাট ক্রয় কেন্দ্র স্থাপন যেমন আবশ্যকীয় তেমনি পাট ক্রয় কেন্দ্রকেও সমবায় কেন্দ্রে পরিণত করিবার কর্মসূচী গ্রহণ করিতে হইবে।

পাট চাষীদের মাধ্যমে পাট ক্রয়ের কাজ সফল করিবার জন্য সমবায় আন্দোলন অপরিহার্য। আওয়ামী লীগের কর্মীদের তাই দায়িত্ব হইবে পাটচাষীদের সমবায় গঠন করা।পাটচাষীরা যাহাতে দুর্নীতিপরায়ণ ও অপরিণামদর্শী কর্মচারী, টাউট বা মধ্য-ব্যবসায়ীদের হাতে হয়রান না হয় তাহার দিকে সজাগ দৃষ্টি রাখিতে হইবে।

পাট উৎপাদনের হার গত ২৪ বছরে বৃদ্ধি প্রাপ্তির পরিবর্তে হ্রাস পাইয়াছে। উৎপাদনের হার বৃদ্ধি না করিতে পারিলে পাট চাষীদের উন্নতি সম্ভব নহে। সেই কারণে আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক উপায়ে পাটচাষের উন্নতি সাধন আশু প্রয়োজন। উন্নতমানের বীজ, সার ও পাট ধোয়ার অন্যান্য সুবিধা সৃষ্টি করিতে হইবে।

পাটচাষের উপরে প্রশিক্ষণ-কেন্দ্র ও গবেষণাগার স্থাপন অতি আবশ্যক। ইহা ছাড়া পাটজাত দ্রব্যের ও পাটের বিভিন্ন প্রচার ব্যবহারের উপর গবেষণা ও গবেষণামূলক তথ্যের ব্যবহার ও পরিকল্পনা করিতে হইবে। পাটের আন্তর্জাতিক বাজারের উপর উপযুক্ত তথ্য ও গবেষণা প্রয়োজন এবং আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণ ও নীতি-নির্ধারক বোর্ড গঠন করিতে হইবে। 

আখ

আখচাষীদের অবস্থাও কৃষকের অন্যান্য সমস্যার মত দুর্বিসহ আকার ধারণ করিয়াছে। আখের উপযুক্ত মূল্য হইতে কৃষক বঞ্চিত। আখ মাড়াইয়ের অধিকার হইতে যেমন বঞ্চিত তেমনি আখা বিক্রয়ের সুবিধার অভাবে এবং দুর্নীতিবাজ কর্মচারী ও টাউটদের অত্যাচারে আখচাষী জর্জরিত। আওয়ামী লীগ তাই আখচাষীদের ন্যায্যমূল্য সংরক্ষণের জন্য বদ্ধপরিকর। SIDDED LED

চিনিকল

আওয়ামী লীগের চিনিকল জাতীয়করণ নীতি উক্ত আদর্শেরই অনুসারী। আখ ক্রয়-বিক্রয় আখচাষী সমবায়ের মাধ্যমে সংগঠিত করিবার জন্য আওয়ামী লীগ সমস্ত প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে। উন্নতমানের বীজ ও সার সরবরাহ করিতে হইবে এবং উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও গবেষণাগার স্থাপন করিতে হইবে।

চিনি ও চিনিজাত উৎপাদন আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন ও বিদেশে রপ্তানী করিবার সম্ভাবনা সম্পর্কে একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করিতে হইবে। চিনিকল ও আখচাষীদের স্বার্থের সমন্বয়ে পরিকল্পনাকে ফলপ্রসূ করিতে হইবে।

তামাক

বাংলাদেশের উত্তর ও দক্ষিণ অঞ্চলের বিভিন্ন জেলা বিশেষতঃ রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর ও কুষ্টিয়া প্রভৃতি জেলায় উৎকৃষ্ট তামাক উৎপন্ন হয়। অন্যান্য জেলাতেও ভাল তামাক উৎপাদনের যথেষ্ট সম্ভাবনা রহিয়াছে।উপযুক্ত বাজারের অভাবে তামাক চাষী তামাদের ন্যায্য মূল্য লাভে বঞ্চিত। তামাক চাষের উন্নত ও উপযুক্ত বাজারের সুবিধা ও ন্যায্য মূল্যের নিশ্চয়তা বিধান করার জন্য আওয়ামী লীগ বদ্ধপরিকর। 

চা

আমাদের চা-শিল্পে দক্ষতার একান্তই অভাব। আমাদের দেশে একর প্রতি গড়-পড়তা মাত্র ১২ মণ চা উৎপাদিত হয়। পক্ষান্তরে অন্যান্য দেশে এক প্রতি গড়-পড়তা উৎপাদনের পরিমাণ প্রায় ৩৫ মণ। উন্নতমানের চায়ের বীজ উৎপাদনের জন্য আমাদের দেশে কোন চেষ্টা করা হয় নাই বলিলেই চলে।

চা উৎপাদনের জন্য উপযুক্ত ভূমি নিরূপণ, সার ও কীটনাশক ঔষধের যথোপযুক্ত ব্যবহারের মাধ্যমে গড় পড়তা উৎপাদনের হার বৃদ্ধি করা যাইতে পারে। উৎপাদনের হার কম হইলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত, যেমন ইজারা বাতিল প্রভৃতি।

চা বোর্ডের কর্মচারীদের চা সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান থাকা উচিত যাহাতে চা-বোর্ড উহার দায়িত্ব সম্যকভাবে পালন করিতে পারে। চায়ের বাজারে মূল্যের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ব্যবস্থাও করিতে হইবে। বর্তমানে চায়ের বাজারে যে অব্যবস্থা প্রচলিত আছে তাহা দূর না হইলে একটি চা মার্কেটিং বোর্ড গঠন করিতে হইবে।

আমাদের দেশে নির্বিচারে বনভূমি নষ্ট করার ফলে দেশে এই প্রাকৃতিক সম্পদের অচয় হইতেছে। আমাদের অবিলম্বে বনজ সম্পদ সম্পর্কে জরিপ অনুষ্ঠান ও এই সম্পদ রক্ষার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন। অবিলম্বে এই সমস্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা ইহবে এবং ব্যাপক পরিকল্পনার মাধ্যমে বনজ সম্পদের ব্যবহার ও ইহার অপচয় রোধের চেষ্টা করিতে হইবে।

প্রাকৃতিক সম্পদ

অতীতে বাংলাদেশে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে প্রাকৃতিক সম্পদের অনুসন্ধান ও ইহার বিকাশের প্রতি চরম উপেক্ষা প্রদর্শন করা হইয়াছে। আজ পর্যন্ত কোন ব্যাপক পানি ও ভূতাত্ত্বিক জরীপ কার্য চালানো হয় নাই। এই জরীপ কার্য চালানো হইলে হয়ত খনিজ ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদ আবিষ্কার করা সম্ভব হইত। আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদের আবিষ্কার ও সুব্যবহারের জন্য অবিলম্বে এই সমস্ত জরীপ কার্য চালাইতে হইবে।

মৎস্য চাষ

আমাদের দেশে শতকরা সত্তর জন লোক প্রোটিনের অভাবে ভুগিতেছে। সেই জন্য মৎস্য চাষের প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত বেশী। মৎস্য চাষের বিকাশের জন্য একটি ব্যাপক পরিকল্পনা আবশ্যই গ্রহণ করিতে হইবে।

ইহাতে আমরা একদিকে যেমন মৎস্য রপ্তানী করিয়া বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করিতে সক্ষম হইব অন্যদিকে সাধারণ মানুষের প্রোটিনের অভাব দূর হইবে। মৎস্য চাষ উন্নয়ন ব্যাংক প্রতিষ্ঠা, মৎস্য পোতাশ্রয়ের উন্নয়ন এবং বিজ্ঞান সম্মত উপায়ে মৎস্য চাষের ব্যবস্থা প্রভৃতি এই পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত হইবে। জেলেদের সমবায় সংস্থা গঠন ও মৎস্য চাষের উন্নয়নের জন্য তাহাদের প্রচেষ্টাকে সর্বতোভাবে সাহায্য করিতে হইবে।

গৃহপালিত পশুর উন্নয়ন, হাঁস-মুরগী ও ডায়রী ফার্ম

অতীতে আমাদের দেশে গৃহপালিত পশুর উন্নয়ন, হাঁস-মুরগী ও ডায়রী ফার্ম প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অত্যন্ত অবেহলা প্রদর্শন করা হইয়াছে। বিজ্ঞান সম্মত উপায়ে এই সবের বিকাশ সাধনের জন্য বাংলাদেশে ব্যাপক কর্মসূচী গ্রহণ করিতে হইবে।

বিদ্যুৎ শক্তি

আমাদের অর্থনৈতিক উন্নতির ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তির প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। ইহা আমাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিকাশে অত্যন্ত সহায়তা করিবে। আওয়ামী লীগ পল্লী অঞ্চলে বিদ্যুৎ শক্তি সরবরাহ করার পরিকল্পনা প্রণয়ন করিবে।

ইহা একদিকে যেমন অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়ক হইবে তেমনি অন্যদিকে ক্ষুদ্র শিল্প প্রতিষ্ঠা, নিরক্ষরতা দূরীকরণে ও আধুনিক কৃষি-পদ্ধতি সম্পর্কে শিক্ষাদানে সহায়তা করিবে এবং সাধারণ মানুষ বিংশ শতকের আরাম-আয়াস ভোগ করিতে সক্ষম হইবে। বিদ্যুৎ শক্তির উৎস কাজে লাগাইয়া বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করিতে হইবে। আমাদের উদ্দেশ্য হইবে আগামী পাঁচ বৎসরের মধ্যে ২৫০০ মিগাওয়াট সম্পন্ন শক্তি উৎপাদন ক্ষমতা অর্জন করা।

ফলের চাষ

আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ব্যাপকভাবে ফলের চাষ করিতে হইবে। সমবায় ভিত্তিতে এই সম্পর্কে বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করিতে হইবে। আমাদের উদ্দেশ্য হইবে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে ব্যাপকভাবে ফলের চাষ করিয়া ফলের মান ও উৎপাদন বৃদ্ধি করা ।

বন্যা নিয়ন্ত্রণ

প্রতি বৎসর বাংলাদেশে বন্যায় বিপুল ফসল নষ্ট হয় এবং মানুষের জীবন ও সম্পদের ক্ষতি সাধন করে। ইহা একটি জাতীয় বিপর্যয় ও সংকটরূপে দেখা দিয়াছে ।

বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। নদী যেমন বাংলার মাটিকে উর্বর করে তেমনি বন্যায় বিপুল ক্ষতি সাধন করে। বন্যাকে মানুষের মঙ্গল কাজে লাগইবার জন্য এবং ক্ষতির পরিমাণ হ্রাস করিবার জন্য একটি পরিকল্পনা গ্রহণ অতি আব্যশকীয়।

নদীর উৎপত্তিস্থল ভারতবর্ষে এবং নদীর মুখ ব্যাপ্তি ও সংগম বাংলাদেশে, তাই বাস্তব পরিকল্পনা গ্রহণ করার উদ্দেশ্যে ভারত ও বাংলাদেশের বন্ধুত্ব চুক্তিতে যৌথ কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত বন্যা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে একটি নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করিয়াছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ সামগ্রিক নদীর পানি, সেচ ও কৃষি ব্যবস্থার সাথে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত । তাই আওয়ামী লীগ বন্যা-নিয়ন্ত্রণকে কৃষি বিপ্লব ও বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনার অবিচ্ছেদ্য অংশ বলিয়া মনে করে।

নদীর গতিপথ নিয়ন্ত্রণ ও নদী বিষয়ক গবেষণা কেন্দ্ৰ

বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ এবং নদী আমাদের জীবন ও অর্থনীতির সাথে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। নদী বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য প্রাকৃতিক সম্পদ ।বাস্তবমুখী পরিকল্পনা ও গবেষণার মাধ্যমে নদীগুলিকে আমাদের মানুষের সম্পদ ও সমৃদ্ধির কাজে লাগইতে হইবে এবং নদীর ভাঙ্গন হইতে বন্দর ও শহর রক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে।

নদীগুলিকে বাণিজ্য ও যাতায়াতের উপযোগী করার জন্য সর্বপ্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে।বিগত দিনে এ বিষয়ে চরম অবহেলার পরিচয় দিয়াছে অতীতের সাম্রাজ্যবাদী শোষক গোষ্ঠী। অবিলম্বে নদী গবেষণা কেন্দ্র গঠন করার কাজ হাতে দিতে হইবে।

 

কৃষি-বিপ্লব

 

সেচ-ব্যবস্থা

বাংলাদেশে কৃষি-ব্যবস্থা প্রাকৃতিক জলবায়ু আবহাওয়ার উপর নির্ভরশীল। কিন্তু প্রাকৃতিক অবস্থাকে কৃষিকার্যে আরও উপযোগী করিয়া তোলার প্রচেষ্টার শৈথিল্য ক্ষমাহীন। সেচ ব্যবস্থার অভাবে একটি মাত্র ফসল উৎপাদনও বহু জায়গায় সফল হইয়া উঠে না । অথচ সেচ-ব্যবস্থার উন্নতি সাধন করিলে বিপুল জমিতে তিনটি ফসল পাওয়া সম্ভব। তাই গভীর নলকূপ, খাল ও নদী, নালা বিল হাওরের মাধ্যমে উন্নত সেচ ব্যবস্থার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হইবে ।

Leave a Comment