আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় – বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ খাতে অগ্রগতি। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ খাতে অগ্রগতি

- দীর্ঘকালের অবহেলার ফলে সৃষ্ট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে আওয়ামী লীগ সরকার এই খাতে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা নিয়ে চাহিদার বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
- ১৯৯৫/৯৬ অর্থবছরে দেশে বিদ্যুতের কার্যকর উৎপাদন ক্ষমতা ছিল ১৬৪২ মেগাওয়াট। আমাদের সরকার পাঁচ বছরের অক্লান্ত পরিশ্রম ও সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করায় কার্যকর বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৩৮০৩ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়।
- ১৯৯৪/৯৫ অর্থবছরে মাথাপিছু বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল ৯১ কিলোওয়াট ঘণ্টা, ২০০০-২০০১ সালে সেটা বেড়ে দাঁড়ায় ১২০ কিলোওয়াট ঘণ্টা। গত পাঁচ বছরে মাথাপিছু বিদ্যুৎ উৎপাদন ১৯.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।
- বাজেটে বিদ্যুৎ খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়। ২০০০/০১ অর্থবছরে ১,৭৭০ কোটি টাকার জায়গায় ২০০১/০২ অর্থবছরে ২,২০২ কোটিতে উন্নীত করা হয়। অর্থাৎ বরাদ্দ প্রায় ২৪.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।
- মেঘনাঘাট, হরিপুর, ময়মনসিংহ ও বাঘাবাড়িতে প্রস্তাবিত বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ শেষ হলে অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জন করবে বলে আশা করা হয়।
- বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি ও অ্যানার্জি সিকিউরিটি অর্জনের লক্ষ্যে সরকার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তও গ্রহণ করে।
- বিদ্যুৎ উৎপাদনকে উৎসাহিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে বেসরকারি খাতে ১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন প্রকল্প হাতে নেয়া হয়।
- ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালের জুন পর্যন্ত পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ৫৪ হাজার ৪৮৯ কি.মি. বিদ্যুৎ বিতরণ লাইন নির্মাণ করে ১৩ হাজার ৭১৩টি গ্রামকে বিদ্যুতায়িত এবং বিভিন্ন শ্রেণীর ৫,৫৫,৩৭৮ জন গ্রাহককে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করে। • বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর সংরক্ষণ ও পুনর্বাসনের কাজ দীর্ঘদিনের অবহেলার কারণে খুবই কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করা সত্ত্বেও নিয়মিত প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ অসম্ভব হয়ে
- বেসরকারি খাতে ২২৩৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়, যার মধ্যে ১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র চালু করা হয়।বৈদ্যুতিক জেনারেটর আমদানির ওপর শুল্ক ও ভ্যাট মওকুফের সুবিধা প্রদানের ফলে বেসরকারি খাতে ৫০০ মেগাওয়াট স্থির বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।
- পল্লী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড প্রতিদিন প্রায় ৭টি গ্রামে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হয়।
- আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ১৩, ৭১৩টি গ্রামকে বিদ্যুতায়িত করা হয়।
- ৩২ হাজার নতুন সেচ পাম্প দেয়া হয়।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ
- জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করার জন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালা ও পদ্ধতি প্রণয়ন করা হয়।
- চতুর্থ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাকালে জ্বালানি খাতে অগ্রগতির লক্ষ্যমাত্রা বার্ষিক ৯.২৮ শতাংশের বিপরীতে ১৫.১৩ শতাংশ অগ্রগতি অর্জিত হয়।
- আওয়ামী লীগ সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের মোট ২৩টি অনুসন্ধান বরকের মধ্যে ৮টি-তে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য স্থানীয় ও বিদেশী সংস্থার সাথে চুক্তি অনুযায়ী চারটি কোম্পানি তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের কাজ শুরু করে।
- ১৯৯৬ সালের জুন মাসে গ্যাসের ব্যবহার ছিল ২৫২.৯৫৪ বিলিয়ন ঘনফুট। ২০০০/০১ সালে তা ৩৪৮.৭১৪ ঘনফুটে উন্নীত হয়েছে।
- অতি দ্রুততার সাথে আশুগঞ্জ-বাখরাবাদ গ্যাস পাইপ লাইন চালু করা হয়। ফলে চট্টগ্রামে অতিরিক্ত ৮০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ব্যবহার করা সম্ভব হয়।দৈনিক ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুটের অধিক গ্যাস উৎপাদনের মাধ্যমে ২০০১/২০০২ বছরে এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ গ্যাস উৎপাদনের রেকর্ড স্থাপিত হয়।
- সিলেট অঞ্চলে ৫ হাজার টনের একটি এল.পি.জি. প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়, যা বিকল্প জ্বালানি সরবরাহ করে পরিবেশ সংরক্ষণে অবদান রাখে।
- দেশে খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান, আবিষ্কার ও উত্তোলনের অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ওপর আওয়ামী লীগ সরকার বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে।

- আওয়ামী লীগ সরকার যেসব উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল, তা অব্যাহত থাকলে আগামী ২০০৩/০৪ সাল নাগাদ বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত হওয়া এবং বছরে ১ মিলিয়ন টন কয়লা উত্তোলন করা সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়।
- বড়পুকুরিয়া খনি থেকে উত্তোলিত কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্পের কাজ আওয়ামী ল আমলেই শুরু হয়। আগামী ২০০৩/০৪ সাল নাগাদ চালু হলে এই তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা দেখা দেয়।
