খলজী ও তুঘলক বংশ

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় খলজী ও তুঘলক বংশ। খিলজি রাজবংশ ছিল তুর্কি-আফগান বংশোদ্ভুত মুসলিম রাজবংশ। ১২৯০ থেকে ১৩২০ সাল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এই রাজবংশ দক্ষিণ এশিয়ার বিরাট অংশ শাসন করে। জালালউদ্দিন ফিরোজ খিলজি এই রাজবংশের পত্তন করেন। এটি দিল্লি সালতানাত শাসনকারী দ্বিতীয় রাজবংশ। আলাউদ্দিন খিলজির সময় খিলজিরা সফলভাবে মোঙ্গল আক্রমণ ঠেকাতে সক্ষম হয়। তুগলক সাম্রাজ্য ১৩২০ সালে গিয়াসউদ্দিন কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত একটি তুর্কি মুসলিম রাজবংশ যারা ১৩২০ থেকে ১৪১৩ পর্যন্ত দিল্লী সালতানাতের শাসক ছিল। এই সালতানাতের রাজধানী ছিল দিল্লি। এই সাম্রাজ্য মধ্যযুগে ভারতবর্ষের বিস্তীর্ণ অঞ্চল শাসন করেছে।

খলজী ও তুঘলক বংশ

 

খলজী ও তুঘলক বংশ

 

দিল্লি সালতানাতের ইতিহাসে খলজী ও তুঘলক বংশের শাসনকাল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। খলজী বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক ছিলেন আলাউদ্দিন খলজী, যিনি ভারতে মুসলিম সাম্রাজ্যের সম্প্রসারণে এবং নানাবিধ সংস্কারের মাধ্যমে মুসলিম শাসন দৃঢ়ীকরণে অবদান রেখেছিলেন। প্রথম দুটি পাঠে খলজী যুগের ইতিহাস স্থান পেয়েছে।

তুঘলক বংশের শাসন প্রতিষ্ঠা, মুহাম্মদ বিন তুঘলক ও ফিরোজ শাহ তুঘলকের শাসনকাল নিয়ে রচিত হয়েছে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম পাঠ। ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলিম শাসনের ইতিহাসে মুহাম্মদ বিন তুঘলক অত্যন্ত আকর্ষণীয় চরিত্র। বিভিন্ন সংস্কার সাধনের চেষ্টায় তিনি তাঁর প্রতিভার সাক্ষ্য রেখেছিলেন।

 

google news logo
আমাদেরকে গুগল নিউজে ফলো করুন

 

খলজী বংশের উৎপত্তি সম্পর্কে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ আছে। মুসলমান ঐতিহাসিক জিয়াউদ্দিন বারাণী বলেন, দিল্লিতে কাচান ও সুরখা’র নেতৃত্বে তুর্কি দল এবং জালালউদ্দিন খলজীর নেতৃত্বে খলজী দল পরস্পরের সাথে প্রতিদ্বন্দ্ব্বিতায় অবতীর্ণ হয়েছিল। খলজীগণ ছিল তুর্কি জাতি হতে সম্পূর্ণ পৃথক ও স্বতন্ত্র ।

 

খলজী ও তুঘলক বংশ

 

এর বেশি কোনো বর্ণনা বারাণী দেননি। পরবর্তী ঐতিহাসিক নিজামউদ্দিনের মতে, খলজীগণ ছিল চেঙ্গিস খাঁর জামাতা কুলিজ খাঁ’র বংশধর। কুলিজ খাঁর নামানুসারে তাঁর বংশধরগণ ‘কালিজ’ ও ‘খালিজ’ নামে পরিচিত হয়। নিজামউদ্দিনের এই মত সমর্থন করে ঐতিহাসিক ফিরিস্তা কালিজ খাঁকে খলজী বংশসম্ভূত এবং জালালউদ্দিন খলজীকে কুলিজ খাঁর বংশধর বলে অভিহিত করেন। যাহোক, গভীরভাবে বিচার করলে খলজীগণকে তুর্কি বংশসম্ভূত বলেই মনে হয়।

Leave a Comment