আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় –নিরক্ষরতার বিরুদ্ধে ও শিক্ষা প্রসারের জন্য গণজাগরণ সৃষ্টি করতে হবে। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।
নিরক্ষরতার বিরুদ্ধে ও শিক্ষা প্রসারের জন্য গণজাগরণ সৃষ্টি করতে হবে

শিক্ষা একটি জাতির মেরুদণ্ড শিক্ষা ছাড়া আধুনিক যুগে একটি জাতি টিকে থাকতে পারে না। একটি শিক্ষিত জাতি গড়ে তোলা ছাড়া একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো সম্ভব নয়- একথা আমি বার বার বলেছি।
কিন্তু স্বাধীনতার ২৫ (পঁচিশ) বছর পরও এ ক্ষেত্রে আমরা অনেক পিছিয়ে রয়েছি। বিগত সরকারগুলো শিক্ষাকে শুধু অবহেলাই করেনি, শিক্ষা খাতে শুধু বাজেট কমায়নি। রাজনীতির নামে ছাত্রদের হাত থেকে বই-খাতা-কলম-পেন্সিল ছিনিয়ে নিয়ে তাদের মধ্যে অস্ত্র বিতরণ করে তাদের সন্ত্রাসী বানানো হয়েছে।
শিক্ষাঙ্গনগুলোকে অবাধ জ্ঞান চর্চার মুক্তাঙ্গন নয়, অস্ত্র প্রতিযোগিতার অবাধ লীলাভূমিতে পরিণত করা হয়েছে। শিক্ষার মান কমেছে, শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। শিক্ষা এখন আর অধিকার নয়- পণ্যে পরিণত হয়েছে। আমরা এই অবস্থা থেকে জাতিকে মুক্ত করতে চাই।
ছাত্র সমাজকে রক্ষা করতে চাই। জাতিকে নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করে আধুনিক জ্ঞান- বিজ্ঞানের আলোয় আলোকিত করতে চাই। এ জন্য চাই রাষ্ট্র, সরকার ও জনগণের সম্মিলিত প্রয়াস, উদ্যোগ ও প্রচেষ্টা।
প্রয়োজন সমাজের সকল স্তরের জনগণ বিশেষত ছাত্র-শিক্ষক-বুদ্ধিজীবী সকলকে নিয়ে সামাজিক আন্দোলন। দেশব্যাপী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য বঙ্গবন্ধু আজ থেকে দু’দশক আগে দেশবাসীকে আহ্বান জানিয়েছিলেন।
কিন্তু দুঃখের সাথে বলতে হয়, জাতির জনকের নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর এই ধারা অগ্রসর হতে পারেনি, হতে দেয়া হয়নি। অথচ মানুষকে তার দায়িত্ব, অধিকার ও মর্যাদা সম্পর্কে সচেতন করা এবং উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করার জন্য শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই।
আমি আগামী ১০ (দশ) বছরের মধ্যে নিরক্ষরতামুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ঘোষণা করছি। জাতীয় কাউন্সিলের এই মহতী সমাবেশ থেকে আমি তাই ঘোষণা করতে চাই- শিক্ষার প্রসার, উন্নয়ন ও নিরক্ষরতা দূরীকরণের জন্য সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার যে আহ্বান জাতির জনক বঙ্গবন্ধু দিয়েছিলেন তা বাস্তবায়নের জন্য আওয়ামী লীগ সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ করবে।
বিশেষত শিক্ষক ও ছাত্র সমাজকে এ ব্যাপারে উদ্যোগী হতে আমি আজ আহ্বান জানাচ্ছি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছুটির সময়ে, পরীক্ষার পর ছাত্র ও শিক্ষকদের সমন্বয়ে নিরক্ষরতা বিরোধী ব্রিগেড গঠন, এলাকায় এলাকায় সাক্ষরতা সমিতি গঠন ও কর্মক্ষেত্রে শিক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করার উদ্যোগ অবশ্যই আমাদের নিতে হবে।
এ ক্ষেত্রে ছাত্র সমাজের অগ্রবাহিনী হিসেবে বাংলাদেশ ছাত্র লীগকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। ছুটির সময় ছাত্র লীগের নেতা-কর্মীরা সাধারণ ছাত্রদের সাথে নিয়ে গ্রামে-গঞ্জে পাড়া-মহল্লায় বস্তিতে গিয়ে নিরক্ষরতার বিরুদ্ধে সাক্ষরতা অভিযান চালাতে হবে।

এ কাজে যারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে তারাই হবে আগামী দিনের পথ প্রদর্শক ও নেতা। এ’কাজে মুহূর্ত বিলম্ব নয়, এখনই ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। ছাত্র রাজনীতির ধারা পাল্টাতে হবে। ছাত্র ও যুব সমাজকে সৃষ্টির কাজ, দেশ গড়ার কাজে নেতৃত্ব দিতে হবে।
