আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় –গণতন্ত্র না সন্ত্রাস। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।
গণতন্ত্র না সন্ত্রাস

একদল লোক গণতান্ত্রিক পন্থাকে নস্যাৎ করার চেষ্টা করছে। আমরা গণতন্ত্র বিশ্বাস করি। আমরা গণতান্ত্রিক অধিকার দিয়েছি। পাঁচ বৎসর পর নির্বাচন কর। যদি নির্বাচনে তোমরা কেউ আসতে পার, যে কোন দল মেহেরবানী করে চলে আস। আওয়ামী লীগ গদি ছেড়ে চলে যাবে। কিন্তু তোমরা জান, যে যতই বক্তৃতা কর, আর মানুষ যতই বক্তৃতা শুনুক না কেন ভোট দেবার সময় তোমাদের অবস্থা যা আছে- আগেও যা হয়েছে পরেও তাই হবে। সে জন্যই তোমরা জনগণের উপর আস্থা রাখ না।
একদিকে গণতান্ত্রিক অধিকারকে ব্যবহার করব আর অন্যদিকে রাতের অন্ধকারে আওয়ামী লীগ কর্মীকে মারবো, প্রগতিশীল কর্মীকে মারবো, আর বলবো অস্ত্র নিয়ে মোকাবেলা করবো, বলবো অল্প নিয়ে বিপ্লব করব। কোন স্বাধীন দেশে কোন গণতান্ত্রিক দেশে এটা এলাউ করা যায় না। বহু সহ্য করা হয়েছে। দুই বৎসর সহ্য করা হয়েছে। বলা হয়, বঙ্গবন্ধু কঠোর হও। বঙ্গবন্ধু কঠোর কি-না আইয়ুব খান, ইয়াহিয়া খান, চৌধুরী মোহাম্মদ আলী নসরুল্লাহ খান, লিয়াকত আলী খান সবাই জানেন ।
কিন্তু বঙ্গবন্ধু চেয়েছিল কি? বাংলার মানুষ তাকে জাতির পিতা করেছে। বাংলার মানুষ তাকে প্রধানমন্ত্রী করেছে। বাংলার মানুষকে আমি বুঝবার চেষ্টা করেছি। তাদের বলতে চেষ্টা করেছি, তোমরা কাজ কর। তোমরা গণতন্ত্রের পথ কথা বলে রাতের অন্ধকারে গুলী মারবা, বা অস্ত্র ফেরত দেবা না, সে অধিকার তোমাদের নাই, সে অধিকার অবলম্বন কর। দুটো খেলার অধিকার তোমাদের নাই।
গণতান্ত্রিক অধিকারও তোমরা ব্যবহার করবা আর বিপ্লবের তোমাদের দেওয়া হবে না। এটা মনে রাখা দরকার সহ্যের সীমা অতিক্রম করে যাওয়া হয়েছে। জনগণ দেখতে চাও জনগণ দেখবা। কয়েক হাজার লোক মিটিং-এ যোগদান করলেই মনে করো না যে হয়েছে। এখনও আওয়ামী লীগ ডাক দিলে রেসকোর্স ময়দানে লক্ষ লক্ষ লোক এসে হাজির হবে।
মনে করো না যেন বড় একটা কিছু হয়ে গেছ। সাবধান হয়ে যাও। একদল বলে অমুক তারিখ থেকে সশস্ত্র বিপ্লব শুরু কর। তারপরেও আমি কিছু বলি না। তবুও তারা বলে কি যে, আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকারের মধ্য হাত দেয়া হয়েছে। কিন্তু তোমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার নাই, থাকতে পারে না। নইলে আওয়ামী লীগ কর্মীরা অন্ধকারে মরে?
আওয়ামী লীগ কর্মী এবং প্রগতিশীল কর্মী যারা স্বাধীনতা সংগ্রাম করেছে আমি তাদের কাছে অস্ত্র চেয়েছিলাম। তারা অস্ত্র জমা দিয়েছে। কিন্তু তোমরা গোপনে কিছু কিছু অস্ত্র রেখে দিয়েছো এবং সেগুলি গোপনে ব্যবহার করছো। আজ যদি আওয়ামী লীগ কর্মী বা প্রগতিশীল কর্মীর কাছে একদিন অস্ত্র দিয়ে দেয়া হয় তাহলে একজনের অস্তিত্ব বাংলাদেশে থাকবে না। আমাকে বাধ্য করো না।

দেশের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করো না, যাও গণতন্ত্রের অধিকার আছে বক্তৃতা কর। বাই-ইলেকশন হবে, ইলেকশনে নামো। ইউনিয়ন কাউন্সিল ইলেকশনে জিততে পারে না রাত্রিবেলা এসে চেয়ারম্যানকে গুলী করে মারে। কয় কি করলাম বিপ্লব করলাম। কি বিপ্লব চেয়ারম্যান মারছে। বাবা এতো শুনি নাই। আমার মনে হয় এখানে যত দেশের লোকেরা আছেন, যদি শোনেন সবাই হাসবেন। কারণ তাহলে বিপ্লবের ইতিহাস বদলিয়ে লিখতে হবে।
