গোলটেবিল বৈঠক

আজকে আমদের আলোচনার বিষয় গোলটেবিল বৈঠক

গোলটেবিল বৈঠক

 

গোলটেবিল বৈঠক

 

গোলটেবিল বৈঠক

১৯২৭ থেকে ১৯৩০ খ্রি. পর্যন্ত কয়েক বছর ভারতবর্ষের ভবিষ্যত সাংবিধানিক কাঠামো সম্পর্কে চিন্তা- ভাবনা এবং আলাপ-আলোচনা চলতে থাকে। এ সময়ে যে সত্যটি পরিষ্কার হয়ে যায় তা ছিল এই যে, যে কোন শাসনতান্ত্রিক পরিকল্পনার গ্রহণযোগ্যতা ত্রিপক্ষীয় মতৈক্যের ওপর নির্ভরশীল; সেই তিন পক্ষ ছিল বৃটিশ সরকার, কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ।

এছাড়াও অন্যান্য ছোট ছোট দল ও স্বার্থের প্রশ্নও জড়িত ছিল, যথা- হিন্দু মহাসভা, শিখ সম্প্রদায়, দেশীয় রাজ্যসমূহ, ভারতীয় খ্রিস্টান সম্প্রদায় ইত্যাদি। তবে ইতোমধ্যে দেখা গেছে যে, প্রধান তিন পক্ষের মধ্যে শাসনতান্ত্রিক প্রশ্নে প্রবল মতানৈক্য ছিল। তদুপরি ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দের মে মাসে পেশকৃত সাইমন কমিশনের রিপোর্ট ভারতীয় দলগুলো কর্তৃক গৃহীত হবে এমন সম্ভাবনা ছিল না, কেননা প্রায় সবকটি প্রধান দল সাইমন কমিশন বয়কট করেছিল।

ইতোমধ্যে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মধ্যকার সমঝোতার অভাব এবং উভয় দলের অবস্থান যথাক্রমে নেহরু রিপোর্ট এবং জিন্নাহর চৌদ্দ দফার মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়েছে। এমতাবস্থায় বৃটিশ সরকার লন্ডনে একটা সর্বদলীয় গোলটেবিল বৈঠকের সম্ভাবনার কথা ঘোষণা করে। সাইমন কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার বেশ কয়েকমাস আগেই ভাইসরয় লর্ড আরউইন ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দের ৩১ অক্টোবর এই ঘোষণা দেন।

কিন্তু ঐ বছরের ডিসেম্বর মাসে কংগ্রেসের লাহোর অধিবেশনে *পূর্ণ স্বরাজ’ অর্জন দলের লক্ষ্য হিসেবে ঘোষণা করে প্রস্তাব গৃহীত হয়। অর্থাৎ অতপর কংগ্রেসের দাবি কেবলমাত্র ডোমিনিয়ন স্ট্যাটাস-এর মধ্যে সীমিত থাকল না। ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দের ১২ মার্চ থেকে গান্ধী লবণ করের বিরুদ্ধে আইন অমান্য (civil disobedience) আন্দোলন শুরু করেন।

ঐ দিন তিনি সবরমতি আশ্রম থেকে সমুদ্র তীরবর্তী ডান্ডির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে এপ্রিলের ৫ তারিখ তিনি গন্তব্যে পৌঁছেন। পরদিন আইন অমান্যের উদ্দেশ্যে নিজ হাতে সমুদ্রতীরে লবণ তৈরি করেন। গান্ধীর কার্যক্রমের প্রতি সারা ভারতের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়। এই অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে গান্ধীসহ কংগ্রেসের প্রথম সারির নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতার করা হয়। সুতরাং, শুরুতেই সর্বদলীয় গোলটেবিল বৈঠকের সাফল্যের সম্ভাবনা তিরোহিত হয়ে যায়।

কংগ্রেস পার্টি যোগদান করবে না এটা নিশ্চিত জেনেও বৃটিশ সরকার গোলটেবিল বৈঠকের ব্যাপারে অগ্রসর হয়। জুলাই মাসে (১৯৩০) ভাইসরয় কংগ্রেসকে বৈঠকে যোগদানে রাজি করানোর উদ্যোগ নেন। তিনি এই মর্মে আশ্বাস দেন যে, সম্মেলনের কার্যক্রম সাইমন কমিশনের রিপোর্ট দ্বারা বাধাগ্রস্ত হবে না।

এছাড়া লিবারেল নেতা তেজবাহাদুর সাপ্রন্ড ও এম.আর. জয়াকরকে জেলখানায় গান্ধী, মতিলাল নেহরু এবং জওহরলাল নেহরুর সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই উদ্যোগ ব্যর্থ হয়। দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে বাদ দিয়ে কংগ্রেসের পক্ষে বৈঠকে যোগদান সম্ভবপর ছিল না।

গোলটেবিল বৈঠক যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম অধিবেশন চলে ১২ নভেম্বর ১৯৩০ থেকে ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দের ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত। সম্মেলনের উদ্বোধন করেন রাজা পঞ্চম জর্জ এবং এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী রামজে ম্যাকডোনাল্ড। ৮৯জন প্রতিনিধি এই অধিবেশনে যোগদান করেন। কংগ্রেস ব্যতীত সমস্ত ছোট বড় ভারতীয় রাজনৈতিক দল এতে অংশগ্রহণ করে।

এছাড়াও যোগদান করেন দেশীয় রাজ্যসমূহ এবং তিন বৃটিশ রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিগণ। মুসলিম নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আগা খান, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, মোহাম্মদ শফি এবং মোহাম্মদ আলী প্রমুখ। লিবারেল দলের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সাপ্রভ ও জয়াকর এবং হিন্দু মহাসভার প্রতিনিধি হিসেবে ছিলেন বি.এস. মুজে।

এছাড়া ছিলেন শিখনেতা সম্পূরণ সিং ও উজ্জ্বল সিং, অস্পৃশ্য নেতা বি. আর. আম্বেদকর, এ্যাংলো-ইন্ডিয়ান নেতা কর্নেল গিডনি, ভারতীয় খ্রিস্টানদের নেতা কে.টি. পল এবং ব্যবসায়ী শ্রেণীর প্রতিনিধি হুবার্ট কার। দেশীয় রাজ্যগুলোর পক্ষ থেকে যোগদান করেন বিকানির, কাশ্মির, ভোপাল ও পাতিয়ালার নৃপতিবৃন্দ এবং হায়দ্রাবাদ, মহীশূর ও গোয়ালিয়রের প্রধামন্ত্রীগণ ।

ইতোমধ্যে বৃটিশ সরকার প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের ভিত্তিতে ভারতকে ডোমিনিয়নের মর্যাদা দিতে প্রস্তুত হয়। এর প্রেক্ষিতে দুটি সমস্যার সমাধান বিশেষ জরুরি বলে প্রতীয়মান হয়। প্রথমটি ছিল দেশীয় রাজ্যসমূহের ফেডারেশনভুক্তির প্রশ্ন, দ্বিতীয়টি ছিল সাম্প্রদায়িক সমস্যা। প্রথমটির ব্যাপারে সম্মেলন একটা সমাধান খুঁজে পাবে বলে আশার সঞ্চার হয়। দ্বিতীয় সমস্যাটি বরাবরের মত দুর্লঙ্ঘ্য বিবেচিত হয়।

অধিবেশনের প্রথম বক্তা ছিলেন তেজবাহাদুর সাপ্রন্ড। তিনি দেশীয় রাজ্যসমূহের প্রতিনিধিদেরকে দেশের মঙ্গলের জন্য ফেডারেশনে যোগদানের আহ্বান জানান। প্রত্যুত্তরে নৃপতিদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন বিকানিরের মহারাজা। তিনি স্বীকার করেন যে, ভারতীয় শাসনতান্ত্রিক সমস্যার সমাধান একটা সর্বভারতীয় ফেডারেশনের মধ্যে নিহিত।

তবে তিনি এ ব্যাপারে ধীরে সুস্থে অগ্রসর হওয়ার পক্ষে মত প্রকাশ করেন এবং দেশীয় রাজ্যসমূহের ওপর কোন প্রকার জবরদস্তির পথ পরিহার করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ভারতীয় রাজন্যবর্গ ফেডারেশনে যোগদান করতে প্রস্তুত শুধুমাত্র নিজেদের স্বাধীন ইচ্ছার ভিত্তিতে এবং এই শর্তসাপেক্ষে যে এতে তাঁদের রাজ্যের এবং জনগণের ন্যায্য অধিকার রক্ষিত হবে।

সাম্প্রদায়িক সমস্যার সমাধান অনেক দুরূহ কাজ বলে প্রমাণিত হয়। এই সমস্যা আরো জটিলতর হয়ে ওঠে যখন ড. আম্বেদকর অস্পৃশ্যদের জন্য পৃথক নির্বাচনের অধিকার দাবি করেন। অপরদিকে মুসলিম প্রতিনিধিবৃন্দ প্রত্যাশিতভাবেই মুসলমানদের জন্য রক্ষাকবচ (safeguards) ব্যতীত কোন শাসনতান্ত্রিক ফর্মুলা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। শেষ পর্যন্ত ভবিষ্যত সাংবিধানিক কাঠামোর ব্যাপারে কোন অগ্রগতি হয়নি।

 

ফলে ১৯ জানুয়ারি (১৯৩১) গোলটেবিল বৈঠকের প্রথম অধিবেশন সমাপ্ত হয়ে যায়। ইতোমধ্যে গান্ধী এবং অন্যান্য কংগ্রেস নেতৃবৃন্দকে মুক্তি দেওয়া হয়। প্রখ্যাত কংগ্রেস নেতা মতিলাল নেহরু ৫ ফেব্রুয়ারি (১৯৩১) মারা যান। রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনের জন্য সাপ্রন্ড প্রমুখ লিবারেল নেতৃবৃন্দ ভাইসরয়ের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার জন্য গান্ধীকে সম্মত করান।

১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে গান্ধী-আরউইন আলোচনা হয়— যা ৫ মার্চ একটা চুক্তিতে পরিণতি লাভ করে। এই ছিল বিখ্যাত গান্ধী-আরউইন চুক্তি। পরবর্তী গোলটেবিল বৈঠকে গান্ধীর যোগদানের জন্য এই সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর প্রধান শর্তসমূহ ছিল নিম্নরূপ-

১) আইন অমান্য আন্দোলন স্থগিত করা হবে;

২) রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে বৃটিশ পণ্য বর্জনের নীতি ত্যাগ করা হবে;

৩) সাধারণ আইনের পরিসীমার মধ্যে ভারতীয় পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ এবং মাদকদ্রব্য বর্জনের আন্দোলন ইত্যাদি পরিচালিত হবে;

৪) যাদের বাসস্থানের নিকট লবণ তৈরি করা সম্ভব তারা লবণ তৈরি করতে পারবে, তবে বিক্রির জন্য নয়;

৫) সহিংসতার অপরাধ ব্যতীত আইন অমান্য আন্দোলনকালে গ্রেফতারকৃতদেরকে মুক্তি দেওয়া হবে ।

কংগ্রেস নেতৃবৃন্দের মধ্যে যাঁরা খুব শীঘ্র স্বাধীনতার কথা ভাবছিলেন তাঁদেরকে গান্ধী- আরউইন চুক্তি হতাশ করে। তথাপি ২৯ মার্চ করাচিতে অনুষ্ঠিত দলের পুর্ণাঙ্গ অধিবেশনে (Plenary Session) এই চুক্তি অনুমোদিত হয়। চুক্তির কড়া সমালোচকদের অন্যতম জওহরলাল নেহরু শেষ পর্যন্ত অনুমোদনের পক্ষে প্রস্তাব করেন। তবে এই অধিবেশনে ভারতের পূর্ণ স্বাধীনতার লক্ষ্য অক্ষুন্ন থাকবে বলেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

একই সঙ্গে পরবর্তী গোলটেবিল বৈঠকে কংগ্রেস প্রতিনিধি হিসেবে গান্ধীকে প্রেরণের সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়। দ্বিতীয় গোলটেবিল বৈঠক ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দের ৭ সেপ্টেম্বর শুরু হয় এবং ১ ডিসেম্বর শেষ হয়। এই বৈঠকে গান্ধীই একমাত্র নবাগত ছিলেন না, আরো কয়েকজন নেতা প্রথমবারের মত যোগদান করেন। তন্মধ্যে ছিলেন মদনমোহন মালব্য, ড. মোহাম্মদ ইকবাল এবং সরোজিনী নাইডু।

যেমন আশা করা গিয়েছিল, সকলের মনোযোগ গান্ধীর প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিল সর্বাপেক্ষা বেশি, কিন্তু শুরুতেই তিনি তিক্ততার সৃষ্টি করেন। তিনি দাবি করেন যে কংগ্রেস সমস্ত ভারতীয় স্বার্থ, শ্রেণী এবং সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি। এই দাবি কত অসার তা অল্পদিনের মধ্যেই প্রমাণিত হয় যখন তিনি সংখ্যালঘু কমিটির সদস্য হিসেবে সাম্প্রদায়িক সমস্যা সমাধানের ব্যর্থতার কথা স্বীকার করতে বাধ্য হন ।

সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী ম্যাকডোনাল্ড বলেন যে, যদি ভারতীয়রা সম্প্রদায়গত প্রশ্নে ঐকমত্যে পৌঁছতে না পারে তবে বৃটিশ সরকার একটা অন্তবর্তীকালীন পরিকল্পনা (Provisional scheme) দিতে বাধ্য হবে। এই অধিবেশনেও ড. আম্বেদকর অস্পৃশ্যদের জন্য পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থার দাবিতে অটল থাকেন। মৌলিক সমস্যা সমাধানে ব্যর্থতা সত্ত্বেও দ্বিতীয় গোলটেবিল বৈঠকে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়-

(১) উত্তর- পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশকে গভর্নর-শাসিত প্রদেশে পরিণত করা হবে;

(২) সিন্ধুকেও একই মর্যাদা দেওয়া হবে যদি তা আর্থিকভাবে সমুচিত বিবেচিত হয়।

ফেডারেশনের ব্যাপারে মতবিরোধ দেখা দেয়। উচ্চকক্ষ ও নিকক্ষের মধ্যে ক্ষমতার ভাগাভাগি, ফেডারেশনে যোগদানের বিনিময়ে দেশীয় রাজন্যবর্গের বিভিন্ন দর কষাকষি ইত্যাদি কারণে প্রথম বৈঠকে একটা ভারতীয় ফেডারেশন গঠনের যে সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল তা দ্বিতীয় বৈঠকে নস্যাৎ হয়ে যায়। হিন্দু- মুসলিম অনৈক্যের সুযোগে রাজন্যবর্গ ফেডারেশনে যোগদানের ইতিবাচক অবস্থান থেকে সরে যান। কাজেই দ্বিতীয় গোলটেবিল বৈঠকের ফলাফলও আশানুরূপ হয়নি।

ডিসেম্বর মাসের শেষদিকে গান্ধী দেশে ফিরে খুবই উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির সম্মুখীন হন। দ্বিতীয় গোলটেবিল বৈঠকের পূর্বেই ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দের এপ্রিল মাসে আপোসপন্থী আরউইনের স্থলে কঠোর নীতিতে বিশ্বাসী লর্ড উইলিংডনকে ভাইসরয় পদে নিয়োগ করা হয়েছিল। বাংলায় সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী আন্দোলন তখন তুঙ্গে। তদুপরি নেহরুর নেতৃত্বে যুক্তপ্রদেশে খাজনা বন্ধের (no tax) আন্দোলন শুরু হয়।

সীমান্ত প্রদেশে ‘লালকোর্তা’ নেতা আবদুল গাফ্ফার খান বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন আরম্ভ করেন। গান্ধীর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পূর্বেই গাফফার খান, তাঁর ভাই ডা. খান সাহেব এবং জওহরলাল নেহরু কারারুদ্ধ হন । ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দের ৪ জানুয়ারি গান্ধী এবং বল্লভভাই প্যাটেলকে গ্রেফতার করা হয়।

এই অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে ঐ বছরের ১৭ নভেম্বর থেকে ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে গোলটেবিল বৈঠকের তৃতীয় ও শেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এটি ছিল সবচেয়ে কম তাৎপর্যপূর্ণ অধিবেশন; এতে মাত্র ৪৬ জন প্রতিনিধি যোগ দিয়েছিলেন। কংগ্রেস নেতৃবৃন্দ ছিলেন অন্তরীণ। কোন বৃহৎ দেশীয় রাজ্যের শাসক ব্যক্তিগতভাবে যোগদান করেননি, যদিও অনেকে প্রতিনিধি পাঠিয়েছিলেন।

এমনকি বৃটেনের বিরোধীদল লেবার পার্টিও এ অধিবেশনে অনুপস্থিত ছিল। কাজেই এই বৈঠকে কোন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে না বা পুরাতন সমস্যাসমূহের কোন নতুন সমাধান পাওয়া যাবে না তা বুঝতে কারো অসুবিধা হয়নি। যেসব শর্তের ওপর একটা গ্রহণযোগ্য ও কার্যকর ভারতীয় শাসনতান্ত্রিক কাঠামো প্রণয়ন নির্ভরশীল ছিল তা পূরণ হয়নি।

গোলটেবিল বৈঠকসমূহের আগে, বৈঠক চলাকালীন সময়ে বা মধ্যবর্তী সময়ে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কোন ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ফলে এর মধ্যেই গোলটেবিল বৈঠকের ব্যর্থতার কারণ নিহিত ছিল। ভারতীয়দের মধ্যে অনৈক্যের সুযোগে পরবর্তী বছরগুলোতে বৃটিশ কর্তৃপক্ষ নিজস্ব ইচ্ছা ও পরিকল্পনা অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যাপারে তৎপর হয়।

সারসংক্ষেপ

ভারতবর্ষের জন্য একটা গ্রহণযোগ্য শাসনতান্ত্রিক কাঠামো প্রণয়নের উদ্দেশ্যে ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দের নভেম্বর থেকে ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে লন্ডনে গোলটেবিল বৈঠকের তিনটি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম ও শেষ বৈঠকের প্রাক্কালে কংগ্রেস নেতৃবৃন্দ কারারুদ্ধ ছিলেন। শুধু দ্বিতীয় অধিবেশনে কংগ্রেস দলের প্রতিনিধি হিসেবে মহাত্মা গান্ধী যোগদান করেন।

অধিবেশনসমূহে মুসলিম লীগ এবং অন্যান্য দল ও স্বার্থের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু সাম্প্রদায়িক ভাগ-বাটোয়ারা, ফেডারেশনের গঠন পদ্ধতি ইত্যাকার জরুরি বিষয়ে ভারতীয়দের মধ্যে মতৈক্যের অভাবে গোলটেবিল বৈঠক শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। অতপর বৃটিশ কর্তৃপক্ষ স্বীয় ইচ্ছানুসারে ভারতীয় সমস্যার সমাধানে অগ্রসর হয়।

সহায়ক গ্ৰন্থপঞ্জী :

১. S.M. Burke and Salim Al-Din Quraishi, The British Raj in India: An Historical Review, Dhaka, 1995.

২. Sumit Sarkar, Modern India, 1885-1947, Delhi, 1983.

 

গোলটেবিল বৈঠক

 

সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন :

১। গোলটেবিল বৈঠক কেন আহ্বান করা হয়েছিল?

২। ভারতীয় ফেডারেশনে যোগদানের ব্যাপারে দেশীয় রাজ্যসমূহের অবস্থান ব্যাখ্যা করুন।

রচনামূলক প্রশ্ন :

১। গোলটেবিল বৈঠকে আলোচিত প্রধান সমস্যাগুলো কি ছিল?

২। গোলটেবিল বৈঠক ব্যর্থ হয় কেন?

Leave a Comment