আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় –গৌরবোজ্জ্বল সাফল্য ও সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।
গৌরবোজ্জ্বল সাফল্য ও সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত

অমিত সম্ভাবনার দেশ- প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ। দীর্ঘ প্রায় সোয়া দুশো বছরের পরাধীনতা এবং ঔপনিবেশিক উত্তরাধিকার ছিল এই সম্ভাবনা বাস্তবায়নের প্রধান প্রতিবন্ধক। বিংশ শতাব্দীতে বাঙালি জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন প্রিয় মাতৃভূমির স্বাধীনতা।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবিস্মরণীয় নেতৃত্বে মহান মুক্তিযুদ্ধের ভেতর দিয়ে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় বাঙালি জাতির সম্ভাবনার প্রধান বাধাটি অপসারিত করেছিল। খুলে দিয়েছিল পশ্চাৎপদতা, অনুন্নয়ন ও দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার সদর দরোজাটি। শুরু হয়েছিল অন্ধকার থেকে আলোর পানে অভিযাত্রা।
স্বাধীনতার পর যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশের পুনর্গঠনের প্রাথমিক ও দুরূহ কাজটি প্রায় সম্পন্ন করে এনেছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু। কিন্তু বাঙালি জাতির দুর্ভাগ্য তিনি বেশি সময় পাননি। জনকল্যাণ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের এক সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যাভিসারী স্থিতিশীল উন্নয়নের পথ রচনার কাজটি শুরু করতে-না-করতেই ইতিহাস থমকে দাঁড়ায়।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারের হত্যা করা হয়। সূচিত হয় উল্টোরথের যাত্রা। দীর্ঘ ২১ বছরব্যাপী জাতির বুকে চেপে বসে সামরিক-অসামরিক নানা পোশাকের হিংস্র স্বৈরশাসন।স্বৈরতন্ত্র কেবল লুটপাট করেই ক্ষান্ত হয়নি, তারা যেমন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে গড়ে উঠতে দেয়নি, তেমনি সীমিত সম্পদের এই দেশের উন্নয়নের সম্ভাবনাময় সুযোগগুলো নসাৎ করে দিয়েছে। ফলে বাংলাদেশের কপালে দারিদ্র্য ও অনগ্রসরতার কলঙ্ক চিহ্নটি আজও মুছে ফেলা সম্ভব হয়নি ।
এই দৃশ্যপটের পরিবর্তন সূচিত হয় ১৯৯৬ সালে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে এক বিজয়ী গণআন্দোলনের পটভূমিতে ওই একই বছরের ১২ জুন অনুষ্ঠিত হয় অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। নির্বাচনে জিতে দেশ সেবার দায়িত্বভার গ্রহণ করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার (১৯৯৬-এর ২৩ জুন থেকে ২০০১ সালের ১২ জুলাই পর্যন্ত) পাঁচটি বছর রাষ্ট্র পরিচালনায় স্থাপন করেছে অভূতপূর্ব সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শুরু হয় অর্থনৈতিক মুক্তি ও দেশ গড়ার নবতর সংগ্রাম। একটি আধুনিক যুগোপযোগী ও পরিকল্পিত উন্নয়ন-কৌশলের ভিত্তিতে সরকারের উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনার লক্ষ্যে প্রণীত ২১ দফা কর্মসূচি সংবলিত নির্বাচনী ইশতেহার এবং ১৯৯২ সালে প্রণীত অর্থনৈতিক নীতিমালাকে সামনে রেখেই উল্লিখিত পাঁচটি বছর আওয়ামী লীগ রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে।

এই স্বল্প সময়ের পরিসরে অতীতের জমে ওঠা সকল সমস্যার সমাধান সম্ভব না হলেও, আওয়ামী লীগ চেষ্টা করেছে পশ্চাৎগামী উল্টোরথের রশি টেনে ধরতে। ফলে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশ। জাতির মনে সঞ্চারিত হয়েছিল নতুন আশাবাদ। আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে শুরু করেছিল হত-দরিদ্র থেকে মধ্যবিত্ত সাধারণ মানুষ। অচলায়তনের অর্গল খুলে গিয়েছিল। অর্থনীতির চাকা ঘুরতে শুরু করেছিল সম্মুখ পানে।
