আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় –বঙ্গবন্ধু ও চার জাতীয় নেতা হত্যার বিচার। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।
বঙ্গবন্ধু ও চার জাতীয় নেতা হত্যার বিচার

বাংলা ভাষা, বাঙালী, জয় বাংলা, বঙ্গবন্ধু— এই চারটি শব্দ দিয়ে গাঁথা মালা আমাদের প্রিয় স্বাধীনতা। পাকিস্তানী ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদী কণ্ঠ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন বাংলার দুর্জয় তারুণ্যের প্রতীক। জীবন-যৌবনের ১১টি বছর জেলখানায় কাটিয়ে ১৩টি মিথ্যা ফৌজদারী মামলার আসামী হয়ে এবং একবার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা এবং আরেকবার মুক্তিযুদ্ধের সময় জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়েও কখনও স্বৈরাচারী শাসকদের অত্যাচার-অবিচারের নিকট তিনি মাথানত করেননি।
তিনি ছিলেন অকুতোভয় বাঙালীর এক যুগশ্রেষ্ঠ মহানায়ক। স্বাধীন বাংলাদেশের রূপকার মহান স্থপতি। তাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আজ আর শুধু একটি নাম মাত্র নয়- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মানে একটি নীতি, একটি আদর্শ, একটি আন্দোলন, একটি সংগ্রাম, একটি বিপ্লব, একটি বিদ্রোহ, একটি জাতি, একটি দেশ, একটি স্বাধীনতা ও একটি সংবিধান।
যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশে পুনর্বাসন, পুনর্গঠন ও পুনর্নির্মাণের কাজ শেষ করে বঙ্গবন্ধু যখন স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলার মহান ব্রত নিয়ে পা বাড়ালেন, ডাক দিলেন দ্বিতীয় বিপ্লবের, তখন দেশী-বিদেশী প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি ও স্বাধীনতার পরাজিত শত্রুরা এক জোট হয়ে বঙ্গবন্ধু গৃহীত বৈপ্লবিক কর্মসূচীকে প্রতিহত করার হীন উদ্দেশ্যে তার জীবনের উপর হানলো চরম আঘাত।
সাম্রাজ্যবাদের নীল নকশা অনুসারে তারা পঁচাত্তরের পনেরই আগস্ট বঙ্গবন্ধুর প্রায় অরক্ষিত বাসভবনে সশস্ত্র হামলা চালায়। ভাড়াটে দুর্বৃত্তরা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে, হত্যা করে কৃষক নেতা আবদুর রব সেরনিয়াবাত, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক শেখ ফজলুল হক মনি ও বঙ্গবন্ধুর সামরিক সচিব কর্নেল জামিলকে।
সেখানেই ষড়যন্ত্রকারীরা ক্ষান্ত হয়নি— ৩রা নভেম্বর কারাগারের অভ্যন্তরে চার জাতীয় নেতা সর্বজনাব সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমদ, এম মনসুর আলী এবং কামরুজ্জামানকেও তারা নৃশংসভাবে হত্যা করে। এই ট্রাজেডী আমাদের জাতীয় জীবনে এক কলংকজনক অধ্যায়।
১৯৭৫-উত্তর সরকার বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার বন্ধ করে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীতে খুনীদের আইন সম্মত শাস্তির বিধান হতে পরিত্রাণ দেবার বন্দোবস্ত করে। স্বঘোষিত খুনীদের তাদের প্রাপ্য শাপ্তি থেকে অব্যাহতি দেবার হীন প্রচেষ্টা সংবিধানকে লংঘন ও তার অবমাননার সমতুল্য। সংবিধান লংঘনকারীদের প্রতি জাতির জিজ্ঞাসা- কি অধিকার বলে সংবিধানের পবিত্রতাকে লংঘন করে খুনীদের বিচার থেকে অব্যাহতি দিয়ে তাদের দেশে-বিদেশে। পুনর্বাসনের প্রচেষ্টায় সচেষ্ট হলো? এমন কি বিচারপতি সায়েমের শাসনের সময় জেল হত্যার বিষয়ে তদন্ত কমিশন গঠিত হলেও আজও তার প্রতিবেদন দেশবাসীর সামনে উপস্থাপন করা হয়নি।

তাই কোন রাষ্ট্র প্রধানকে যাতে কতিপয় উচ্চাভিলাষী ও সন্ত্রাসী ঘাতকের হাতে প্রাণ হারাতে না হয় সেজনা সংবিধানের প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ও সংশোধনের মাধ্যমে খুনীদের আইনানুগ বিচারের নিশ্চয়তা বিধান করতে হবে, যাতে সরকার বা ক্ষমতার পরিবর্তন শুধু সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সংগঠিত হয়, খুন বা হত্যালীলার মাধ্যমে
