আমাদের আজকের আলোচনার বিষয়ঃ জেনারেল হেডকোয়ার্টার্স এ উপস্থাপন। যা ” দ্য বিট্রেয়াল অব ইস্ট পাকিস্তান- এ এ কে নিয়াজি” বইয়ের অংশ।
জেনারেল হেডকোয়ার্টার্স এ উপস্থাপন

জেনারেল হেডকোয়ার্টার্স এ উপস্থাপন
শত্রুর অতীতও সম্ভাব্য তৎপরতা, মুজাহিদ, ইপকাফ ও অন্যান্য বাহিনীসহ সৈন্য মোতায়েন এবং বৈদিশক হুমকি মোকাবেলা ও বিদ্রোহ দমনে আমার গৃহীত ব্যবস্থাদি সম্পর্কে ব্রিফিং দানের জন্য আমি আমার চিফ অব স্টাফ ব্রিগেডিয়ার বাকির সিদ্দিকী ও আমার সেকেন্ড-ইন-কমান্ড মেজর জেনারেল জামশেদকে জেনারেল হেডকোয়ার্টার্সে পাঠাই। আমি জেনারেল হেডকোয়ার্টার্সকে জানাই যে-
“বিদ্রোহ দমনে সফল হওয়ায় আমি আশংকা করছি যে, পূর্ব পাকিস্তানে শুরু মওসুম শুরু এবং চীনা গিরিপথগুলো অবরুদ্ধ হয়ে এলে ভারত আমাদের বিরুদ্ধে হামলা করবে। সম্প্রতি মুক্তিবাহিনী ও গেরিলাদের অস্বাভাবিক তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আমাদের সীমান্ত বরাবর ভারতীয় সৈন্য সমাবেশের খবর পাওয়া গেছে। যুদ্ধ আসন্ন বলে মনে হচ্ছে। নভেম্বর অথবা ডিসেম্বরের মধ্যে শত্রুর সমরসজ্জা সম্পন্ন হওয়া মাত্রই যুদ্ধ শুরু হতে পারে।
বর্তমানে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে লড়াই করার মতো অনুকূল অবস্থা আমাদের নেই। গেরিলা তৎপরতা চলছে আমাদের বিরুদ্ধে এবং গেরিলারা সেতু, কালভার্ট, সড়ক ও রেললাইন ধ্বংস করছে এবং স্থানীয় লোকজনের অধিকাংশ আমাদের প্রতি বৈরি। বেসামরিক প্রশাসন একটি প্রতীকী সংগঠনে পরিণত হয়েছে।
সেনাবাহিনীর সহায়তায় রাজাকার ও মুজাহিদরা যেখানে যেখানে সক্রিয় কেবল সেখানে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। মিল-কারখানায় কর্মরত শ্রমিকরা ৮০ ভাগ উৎপাদন পুনরুদ্ধার করেছে। কিন্তু হুমকি দেওয়া হচ্ছে তাদেরকে।
বড়ো বড়ো শহরগুলোতে স্বাভাবিক কাজ-কর্ম শুরু হয়েছে। কিন্তু গেরিলা হামলায় জনগণের মধ্যে আতঙ্ক ও ভীতি সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা এবং আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্যদের অভিষেকের মাধ্যমে একটি রাজনৈতিক নিষ্পত্তির জন্য আমি সুপারিশ করেছিলাম।

আমার এ সুপারিশ গ্রহণ করা হলে আগ্রাসী শক্তিকে মোকাবেলায় আমার কাজ সহজ হতো। কিন্তু এবার আমাকে পশ্চাৎভাগ ও সম্মুখভাগ থেকে লড়াই করতে হবে।
