দারিদ্র্য নিরসন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার

আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় –দারিদ্র্য নিরসন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।

দারিদ্র্য নিরসন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার

 

দারিদ্র্য নিরসন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার

 

 দারিদ্র্য নিরসন ছিল আওয়ামী লীগের নির্বাচনী অঙ্গীকার। এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকারের নিরলস প্রচেষ্টায় দারিদ্র্য বিমোচন পরিস্থিতির লক্ষণীয় উন্নতি হয়। দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র ভেঙে সংবিধানে বর্ণিত মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো ক্রমান্বয়ে পূরণের লক্ষ্য থেকেই আমরা গতানুগতিক কর্মসূচির বাইরেও দারিদ্রা বিমোচনে বহুমুখী উদ্ভাবনী কর্মসূচী গ্রহণ করি। দারিদ্র্যের লজ্জাকর উত্তরাধিকার ঝেড়ে ফেলে স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও অঙ্গীকারের বাস্তবায়ন এবং দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই ছিল আমাদের সকল কর্মকাণ্ডের লক্ষ্য। এর ফলে-

  • আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা গ্রহণের সময় অর্থাৎ ১৯৯৬ সালে দেশের মোট জনসংখ্যার ৪৭ শতাংশ দারিদ্র-সীমার নিচে বাস করতো, আওয়ামী লীগ আমলে দারিদ্র্য হ্রাস পেয়েছে বার্ষিক ১ শতাংশ হারে।
  • এপ্রিল ১৯৯৬ থেকে ১৯৯৯ সময় পরিসরে মাথাপিছু ক্যালরি গ্রহণের পরিমাণ গ্রামাঞ্চলে ২২০৬.১ কিলো ক্যালরি থেকে ২২৭৪.২ কিলো ক্যালোরিতে এবং শহরাঞ্চলে ২২২০.২ কিলো ক্যালরি থেকে ২২৮৮.৩ কিলো ক্যালরিতে উন্নীত হয়েছিল।
  • মানব দারিদ্র্যসূচক বিএনপি আমলের ৪২ শতাংশ থেকে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ৩৪ শতাংশে নেমে আসে।
  • বাংলাদেশে প্রত্যাশিত গড় আয়ু (জন্মলগ্নে) ১৯৯৫-৯৬ অর্থবছরে ৫৮.৭ বছর থেকে ২০০০ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে পুরুষ ৬২ বছর এবং মহিলা ৬৩ বছর।
  • মানব উন্নয়ন সূচক ১৯৯৫-৯৭ এর ৪২.৬ শতাংশ থেকে ১৯৯৮-৯৯ সময় পরিসরে ৪৮.৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

ক. দরিদ্রদের জন্য বয়স্ক ভাতা

  • দেশের ইতিহাসে এবং দক্ষিণ এশিয়ায় এই প্রথম প্রত্যেক ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে ১০ জন (এর মধ্যে ৫ জন মহিলা) হিসেবে সারাদেশে মোট ৭ লাখ বয়োজ্যেষ্ঠ ও দরিদ্র ব্যক্তিকে মাসিক একশত টাকা হারে বয়স্ক ভাতা প্রদান করা হচ্ছে।
  • সারাদেশের ৭ লাখ দরিদ্রতম বয়স্ক নারী-পুরুষ, বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্ত মহিলাদের মাসিক ১০০ টাকা হারে নিয়মিত ভাতা প্রদান ।

খ. দুস্থ মহিলা ভাতা কর্মসূচি

  • অসহায় ও স্বামী পরিত্যক্ত দুস্থ মহিলাদের মধ্যে ৪৬১টি উপজেলায় ৪,৪৭৯টি ইউনিয়নে ২,৩৬,৫৯৫ জন অসহায় ও স্বামী পরিত্যক্ত মহিলা মাসিক একশত টাকা হারে ভাতা পাচ্ছেন। দক্ষিণ এশিয়ার অন্য কোনো দেশে এর দৃষ্টান্ত নেই ।

গ. প্রতিবন্ধীদের জন্য

  • প্রতিবন্ধীদের প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসনের জন্য ১০ কোটি টাকা প্রাথমিক অনুদান নিয়ে জাতীয় প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশন স্থাপন করা হয়।

ঘ. গৃহায়ণ তহবিল

  • গৃহায়ণ প্রকল্পের অধীনে মোট ২,২০০টি গৃহ নির্মাণ করা হয়েছিল অথবা নির্মাণাধীন ছিল। এর ফলে
  • ১ লাখ ২২ হাজার মানুষ উপকৃত হয়।
  • ২৯ হাজার হতদরিদ্র গৃহহীন পরিবারের জন্য গৃহ নির্মাণ করা হয়। আরো ১৮,০০০ গৃহ নির্মাণের
  • কাজ এগিয়ে নেয়া হয়েছিল।
  • এদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ১৭.২ কোটি টাকার ক্ষুদ্র ঋণ দেয়া হয়।
  • যাদের ভিটে আছে অথচ উপযুক্ত ঘর নেই, তাদের জন্য গৃহায়ণ তহবিল প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই
  • মধ্যে ১৮,৫০০ গৃহ নির্মাণ সমাপ্ত হয়েছিল।

ঙ. দরিদ্র ও অসহায় বয়স্কদের আবাসনের জন্য

  •  ষাটোর্ধ্ব বয়সের মানুষ বসবাস করবেন বলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে ৬০ জন মহিলা ও ৪০ জন পুরুষ।কর্মসূচির আওতায় ৩৩ হাজার পরিবারের গৃহ নির্মাণের জন্য ৬৬ কোটি টাকা ঋণ দেয়া হয়। এর  ৬টি বিভাগীয় শহরে ৬টি শান্তি নিবাস স্থাপনের কাজ শুরু করা হয়। এতে ১০০ জন অসহায়
  • ঐসব শাস্তি নিবাসে খাদ্য, কাপড়, চিকিৎসা ও বিনোদন ব্যবস্থাসহ বয়স্কদের সুস্থ থাকার প্রশিক্ষণ কর্মসূচি রাখা হয়।
  • ৬টি শাস্তি নিবাসে ১০ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়।

চ. আশ্রয়ণ প্রকল্প : গৃহহীনদের গৃহদান ও আত্মকর্মসংস্থান

  • ৫ বছরে (৯৭/৯৮-২০০১/২০০২) ৫০,০০০টি ভূমি ও গৃহহীন পরিবারকে আশ্রয় দেয়া হয়। বছরে প্রায় ১০,০০০ পরিবারের জন্য প্রায় ১০০০টি ঘর নির্মাণ করা হয়। • এই প্রকল্পের আওতায় ৫০,০০০ পরিবারকে কর্মসংস্থানের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।
  • ৫০,০০০ পরিবারকে ঋণ সুবিধা দেয়া হয়। গড়ে ঋণের পরিমাণ ছিল পরিবার পিছু ১০,০০০ টাকা।
  •  এই প্রকল্পের উল্লিখিত পাঁচ বছরে মোট ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ৩০০ কোটি টাকা ।

 

ছ. শহরের বস্তি থেকে ঘরে ফেরা কার্যক্রম

  • ঢাকাসহ বড় বড় শহরের বস্তিবাসীদের মধ্যে নিজ গ্রামে ফিরে যেতে আগ্রহীদের জন্য ঘরে ফেরা কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। এ পর্যন্ত ১৪ হাজার ২২০ জন বস্তিবাসী পরিবারকে ৫ কোটি টাকা প্রদান করে তাদেরকে তাদের নিজ নিজ গ্রামে পুনর্বাসিত করা হয়।
  • আরো ১০,০০০ বস্তিবাসীকে ঘরে ফেরা কর্মসূচির আওতায় আনার ব্যাপারটি প্রক্রিয়াধীন ছিল।

জ.একটি বাড়ি একটি খামার কর্মসূচি

  • কৃষিনির্ভর অর্থনীতিতে সমৃদ্ধি আনার লক্ষ্যে কৃষক সমাজকে সহায়তাকল্পে প্রত্যেক কৃষকের বাড়িকে একটি আদর্শ খামারে রূপান্তরের কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির প্রতি আহ্বান জানান। এটি ছিল একটি চমৎকার প্রণোদনামূলক কর্মসূচি। ফসল উৎপাদন, মৎস্য চাষ, হাস-মুরগি ও গবাদিপশু পালন, ফলজ বৃক্ষরোপন এবং পরিবেশসম্মত বসতবাড়ির আঙিনা রচনায় ও পারিবারিক পুষ্টির সমস্যা দূরীকরণে, আয় বর্ধনমূলক কাজে নারীর অংশগ্রহণ এবং আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির ক্ষেত্রে এই কর্মসূচি প্রভূত অবদান রাখে ।
  • ১৪১ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পের মাধ্যমে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য প্রকল্প হাতে নেয়া হয়।
  • ২০০৫ সালের জুন মাসের মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ শেষ হলে ১০ লাখ লোক উপকৃত হবে বলে আশা করা হয়েছিল।

ঝ. কর্মসংস্থান ব্যাংক স্থাপন : ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচি

  • দেশের বেকার যুবকদের জন্য লাভজনক ও উৎপাদনমুখী কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ১৯৯৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার এই ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করে।
  • এ ব্যাংকের মাধ্যমে ২০০১ সালের জুন পর্যন্ত ৪৬১ জন বেকার যুবক ও যুব মহিলার মধ্যে ৪১ কোটি ৩ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়।
  • ১৪টি মন্ত্রণালয়ের ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্পসমূহে ৩৪৪৫ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়।
  • রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকসমূহ পুঞ্জীভূত ভিত্তিতে ৭০০৫ কোটি টাকার ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণ করে।

ঞ. আদর্শ গ্রাম স্থাপন কার্যক্রম

  • সরকার প্রথম পর্যায়ে ৮৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ১ হাজার ৮০টি আদর্শ গ্রাম স্থাপনের মাধ্যমে প্রায় ৪৫ হাজার ভূমিহীন পরিবারকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চালিয়ে যায়।
  • . পাঁচ বছরে ২৮ হাজার ১৫৬টি ভূমিহীন পরিবারকে ৪৬৩টি আদর্শ গ্রামে পুনর্বাসিত করা হয়।
  • আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা থেকে ১৮.১ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ গ্রহণ করা হয়।
  • বেসরকারি সংস্থাসমূহ পুঞ্জীভূত ভিত্তিতে ১ কোটি ২ লাখ ঋণ গ্রহীতার কাছে ১০,৯০০ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করে।

 

দারিদ্র্য নিরসন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার

 

ট. দারিদ্র্য দূরীকরণে খাদ্য কর্মসূচি

  • সরকার ১৯৯৮/৯৯ অর্থবছরে ২ লাখ ৫০ হাজার দুস্থ পরিবারকে ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে ৯ মাস ধরে প্রায় ৫৮৫ কোটি টাকার খাদ্য সাহায্য দেয়। একইভাবে ১৯৯৯/২০০০ সালে ২৩.৫৭ লক্ষ পরিবারকে তিন মাসের জন্য এবং ৪২.১৬ লক্ষ পরিবারকে দু’মাসের জন্য খাদ্য সাহায্য দেয়া হয়।
  • প্রতি বছর গড়ে খাদ্যশস্য বিতরণ করা হয় ১২.২৭ লক্ষ মেট্রিক টন করে। আমাদের সরকার আমলের দারিদ্র বিমোচন সংক্রান্ত কর্মসূচির ধরন, সংশ্লিষ্ট খাত/সুনির্দিষ্ট কর্মসূচির একটি বিস্তারিত ছকপত্র মনোযোগ আকর্ষণের জন্য পরবর্তী পৃষ্ঠায় সন্নিবেশিত করা হলো।

Leave a Comment