আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় –দেশবাসীর দুর্দিনে আওয়ামী লীগ নিশ্চুপ থাকেনি। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।
দেশবাসীর দুর্দিনে আওয়ামী লীগ নিশ্চুপ থাকেনি

আমরা “নির্বাচিত স্বৈরাচারের’ প্রতিভূ বিএনপি-এর গণতন্ত্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের কাছে মাথা নত করিনি। কি পরিস্থিতিতে আমরা পঞ্চম সংসদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলাম তা আপনারা জানেন। সংসদের ভেতরে সংগ্রাম ও আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের সকল প্রচেষ্টা সকল পথ যখন তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী রুদ্ধ করে দেয়- আমরা তখন বাধ্য হই সংসদ থেকে পদত্যাগ করতে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আমরা সংসদে গিয়েছিলাম।
সেই সংসদে যখন জনগণের সমস্য সমাধানের পথ বন্ধ করে দেয়া হলো, আমরা পদত্যাগ করে ফিরে এলাম জনগণের কাছে। জনগণ আমাদের সাথে যোগ দিয়ে রাস্তায় নেমে এলো। ‘নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সাধারণ নির্বাচন’— এই একটিমাত্র দাবিতে সমগ্র জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনের পথে নেমে এল।
জনগণের ভোট ও ভাতের অধিকার হরণকারীদের বিরুদ্ধে অভিন্ন দাবিতে ইস্যুভিত্তিক ঐক্য ও স্বাতন্ত্র্যের নীতি-কৌশল অবলম্বন করে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ধাপে ধাপে আন্দোলন অগ্রসর ও বেগবান হয়। সমাবেশ, হরতাল, ধর্মঘট, বিক্ষোভে আন্দোলন ক্রমশ ব্যাপক ও জঙ্গিরূপ ধারণ করে। শাসকগোষ্ঠীর গণবিচ্ছিন্নতা যত বাড়তে থাকে ততই তারা হিংস্র দমননীতির আশ্রয় নিয়ে আন্দোলনকে স্তব্ধ করতে উদ্যত হয়।
গণবিচ্ছিন্ন বিএনপি তাদের একদলীয় স্বৈরতান্ত্রিক শাসন টিকিয়ে রাখার জন্য সর্বশেষ মরিয়া চেষ্টা করে। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারী ভোটারবিহীন নির্বাচনী প্রহসনের ব্যবস্থা করে। দেশবাসী ঘৃণাভরে ঐ একতরফা নির্বাচনী তামাশা বর্জন করে। আর এই জন্য আত্মাহুতি দিতে হয় ১৫০ জন নিরীহ দেশবাসীকে। এই নির্বাচনী প্রহসন জনগণের মনে ঘৃণার আগুন জ্বালিয়ে দেয়।
জনগণের ঘৃণা ও ক্রোধ বিস্ফোরিত হয়। আন্দোলন নতুন মাত্রা অর্জন করে। আমরা অসহযোগের কর্মসূচী দেই। বিক্ষোভে ফেটে পড়ে বাংলাদেশ। শাসকগোষ্ঠী বিএনপি সব দিক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। প্রতিষ্ঠিত হয় জনতার মঞ্চ। জনগণের ক্ষোভ ও ঘৃণা গণঅভ্যুত্থানে রূপান্তরিত হয়। অবশেষে জনগণের দাবির কাছে নতি শিকার করতে বাধ্য হয় স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠী।

৩০শে মার্চ বিএনপি সরকারের পতন ঘটে। বিচারপতি হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত হয় নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার। বিজয় সূচিত হয় জনগণের। আর এই বিজয়ী জনগণই ১৯৯৬ সালের ১২ই জুন অনুষ্ঠিত অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের ভেতর দিয়ে সুদীর্ঘ ২১ বছর পর দেশ শাসনের ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করে এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে দেশ সেবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করে। জনগণ ফিরে পায় তার হারানো ভোটের অধিকার।
