৯২ (ক) ধারার ফল [ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল ]

আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় –৯২ (ক) ধারার ফল। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।

৯২ (ক) ধারার ফল

 

৯২ (ক) ধারার ফল

 

সব চাইতে বেশী মূল্য দিতে হল আওয়ামী লীগকে। আওয়ামী লীগের প্রায় বারশত কর্মী ও নেতা এবং প্রায় তিরিশ জন পরিষদ সদস্য কারাগারে নিক্ষিপ্ত হল। আপনাদের সাধারণ সম্পাদককে বন্দী করে ঢাকা সেন্ট্রাল জেলে পাঠানো হল এবং ঢাকা সেন্ট্রাল জেলের সম্মুখে সংঘটিত এক ঘটনাকে অবলম্বন করে তার বিরুদ্ধে দাঙ্গার ও ডাকাতীর অভিযোগে এক মিথ্যা মামলা রুজু করা হল।

শত শত কর্মীর বিরুদ্ধে জারী হল গ্রেফতারী পরোয়ানা এবং যাদেরকে গ্রেফতার করা গেল না তাদের সম্পত্তি বাড়ি ঘর বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেওয়া হ’ল। আমাদের শ্রদ্ধেয় সভাপতি জনাব ভাসাণী এই সময় শান্তি সফর উপলক্ষে লন্ডনে অবস্থান করছিলেন তাকে পাকিস্তানে প্রবেশাধিকার হতে বঞ্চিত করা হল।আমাদের অন্যতম নেতা জনাব সোহরাওয়ার্দী বিগত নির্বাচনে অহঃরাত্র অনিদ্রা ও অনাহারে থেকে সারা পূর্ববঙ্গ ব্যাপী নির্বাচনী প্রচার কার্য্য চালানোর ফলে দূরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাপলক্ষে তখন জুরিখের হাসপাতালে মুমূর্ষু অবস্থায় কালাতিপাত করছিলেন।

মজলুম জনগণের ঐক্য জোটের প্রতীক আওয়ামী লীগের যখন এইরূপ সঙ্কটপূর্ণ অবস্থা তখন আমাদের শ্রদ্ধেয় সহ সভাপতি জনাব আতাউর রহমান খানই ৯২-ক ধারা জারীর বিরুদ্ধে, বেপরোয়া গ্রেফতারের বিরুদ্ধে এবং তদানীন্তন মুসলিম লীগ জুলুমশাহীর বিরুদ্ধে জোরালো আওয়াজ তুলে বিপননোম্মুখ জনগণের মনে সাহস সঞ্চার করেছিলেন।

 

তিনি তখন পূর্ব পাকিস্তানের বিক্ষুদ্ধ সাড়ে চার কোটি নরনারীকে কুচক্রী মুসলিম লীগ সরকারের উাণীতে প্ররোচিত না হবার জন্য আকুল আবেদন জানিয়েছিলেন। এই সময়ে জনতা জনাব হকের নেতৃত্বের প্রতি একদৃষ্টে তাকিয়েছিল, কিন্তু বড়ই পরিতাপের বিষয় যে পূর্ববাংলার আবাল বৃদ্ধ বণিতা যখন জনাব হকের প্রতি আস্থা স্থাপন করে তার নেতৃত্বের অপেক্ষা করছিল।

পূর্ববাংলার আইন পরিষনের দু’শ শাইত্রিশটি মুসলিম সদস্যের মধ্যে ২২২ জন সদস্যই যখন তার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ ছিল, অন্ধের মজলুম জননেতা ও আমাদের অন্যতম নেতা দূর দেশে বিপদ সমূল অবস্থায় থেকেও তার প্রতি যখন শুভেচ্ছা জানিয়ে অপেক্ষা করছিলেন, ধৈর্যধারণ করে ও বজ্রকঠিন সপথ নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকলে ভবিষ্যত জয় যার করায়ত্ত্ব ছিল।

তিনি সব কিছু ভূলে [ভুলে] গিয়ে মিঃ মোহাম্মদ আলীর প্রেরিত দূতের মারফতে এক গোপণ চুক্তিতে আবদ্ধ হয়ে ব্যাক্তি স্বার্থপরতার চরম পরাকাষ্ঠা দেখিয়ে, যে মিঃ মোহাম্মদ আলী পূর্ব বাংলার জনগণের ঐতিহাসিক বিজয়কে নস্যাৎ করেছে, জনগণের একুশ দফা দাবী পুরণে ওয়াদাবদ্ধ জনপ্রিয় সরকারকে অপসারিত করেছে, পনের শ কর্মী ও প্রায় চল্লিশ জনের মত পরিষদ সদস্যকে কারাগারে নিক্ষেপ করেছে, মজলুম জনগণের নেতা মাওলানা ভাসাণীকে দেশে প্রবেশাধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে।

 

৯২ (ক) ধারার ফল

 

যুক্তফ্রন্ট পার্লান্টোরী পার্টির তদানীন্তন নেতা জনাব হককে রাষ্ট্রদ্রোহী বলে ঘোষণা করেছে, আদমজী মিলের দাঙ্গা ঘটানোর মিথ্যে দুর্ণাম পূর্ব বাঙ্গলার জনগণ ও জন প্রিয় সরকারের উপর চাপিয়েছে সেই মিঃ মোহাম্মদ আলীর নিকট আত্মসমর্পণ করে এবং সমস্ত অভিযোগ স্বীকার করে নিয়ে পূর্ববাংলার জনগণের ললাটে কলঙ্ক লেপন করে রাজণীতি হতে অবসর গ্রহণ করলেন।

Leave a Comment