নির্বাচনী আইন ও বিধির সংস্কার

আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় – নির্বাচনী আইন ও বিধির সংস্কার। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।

Table of Contents

নির্বাচনী আইন ও বিধির সংস্কার

 

নির্বাচনী আইন ও বিধির সংস্কার

 

১. নির্বাচনে টাকার খেলা বন্ধ করার জন্য-

ক. প্রার্থী বা প্রার্থীর পক্ষে অন্য যারা যেভাবেই ব্যয় করুন, তা প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয় হিসেবে গণ্য হবে এবং তা কোনক্রমে নির্বাচনী ব্যয়ের সীমা লংঘন করবে না। প্রতি নির্বাচনী এলাকায় একজন নির্ধারিত কর্মকর্তা এই বায় মনিটর করবেন এবং নির্বাচন কমিশনকে নিয়মিত রিপোর্ট প্রদান করবেন। এই রিপোর্টের সাথে প্রার্থীর দেয়া নির্বাচনী ব্যয়ের বিবরণ মিলিয়ে দেখা হবে।

খ. প্রার্থীর নির্বাচনী আয়-ব্যয়ের বিবরণ সর্বসাধারণকে জ্ঞাত করতে উন্মুক্ত দলিল হিসেবে রাখতে হবে এবং প্রচার মাধ্যমকে তা সরবরাহ করতে হবে। যে কোন ভোটার এ ব্যাপারে তাদের আপত্তি জানাতে পারবে। 

গ. নির্বাচনী কাজে আয়-ব্যয়ের হিসাব এক মাসের মধ্যে জমা দিতে হবে এবং তা করতে না পারলে ঐ নির্বাচন বাতিল বলে ঘোষণা করতে হবে।

ঘ. নির্বাচনে কমিশনে আয়-ব্যয় ও সম্পদের মিথ্যা তথ্য প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

ঙ. খেলাপী ঋণ এক বছর পূর্বে পুনঃতফসিলীকরণ করা না হলে ঋণখেলাপী কোন প্রার্থী নির্বাচনে অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন । ঋণখেলাপীর জামিনদারও অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে।

২. প্রার্থীদের সম্পদ ও পরিচয় প্রকাশ-

ক. প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আগেই তার নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের সম্পদের বিবরণ, কোন রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে তার স্বার্থ জড়িত আছে কিনা সে সম্পর্কে বিবরণ দিতে হবে।

খ. হাইকোর্ট যেভাবে নির্দেশ দিয়েছে সেই অনুযায়ী প্রার্থীদের শিক্ষাগত, অন্যান্য যোগ্যতা ও কোন ক্রিমিনাল রেকর্ড আছে কিনা সেই তথ্যসহ অন্যান্য তথ্যসমূহ প্রার্থীর মনোনয়ন পত্রের সাথে সংযুক্ত করতে হবে।

গ. নির্বাচন কমিশন এই সব তথ্য জনগণকে অবহিত করার ব্যবস্থা করবে যাতে ভোটাররা প্রার্থীর যোগ্যতা-অযোগ্যতা সম্পর্কে অবগত থাকেন।

৩. প্রার্থী মনোনীত হবার যোগ্যতা-

ক. নিজে অথবা পরিবারের কেউ ঋণখেলাপী হলে, কালো টাকার মালিক বলে বিবেচিত হলে,

খ. অবসর গ্রহণ অথবা চাকুরীচ্যুতির পাঁচ বছর অতিক্রম না করলে,

গ. স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতাকারী যুদ্ধাপরাধী হলে কেউ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবে না। স্বতন্ত্র প্রার্থীর ক্ষেত্রেও এই বিধি প্রযোজ্য হবে।

ঘ. দলের মনোনয়ন প্রাপ্তির ক্ষেত্রে তৃণমূল থেকে স্বচ্ছ মনোনয়ন প্রক্রিয়ার ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা, দলের অভ্যন্তরে গণতান্ত্রিক পদ্ধতির অনুসরণ এবং মনোনয়ন প্রাপ্তির জন্য অর্থ দ্বারা প্রভাবিত করার ঘটনা কার্যকরভাবে রোধ করার ব্যবস্থা করতে হবে।

৪. নির্বাচনকে সন্ত্রাস, পেশী শক্তির প্রভাব ও দুর্বৃত্তমুক্ত করতে-

ক. নির্বাচনে সকল প্রকার বল প্রয়োগ, অস্ত্র বহন ও প্রদর্শন পরিপূর্ণ নিষিদ্ধ করা এবং বল প্রয়োগের ঘটনার কঠোর শাস্তির বিধান করতে হবে।

খ. নির্দিষ্ট মেয়াদে ফৌজদারী দণ্ডাদেশ প্রাপ্ত ব্যক্তি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না।

৫. নির্বাচনে ধর্ম ও সাম্প্রদায়িকতার ব্যবহার- 

ক. নির্বাচনে ধর্মের সর্বপ্রকার ব্যবহার, সাম্প্রদায়িক প্রচার প্রচারণা ও ভোট চাওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে নিষিদ্ধ করতে হবে।

খ. ধর্মীয় উপাসনালয়- মসজিদ, মন্দির, গীর্জা, মঠ, ওয়াজ, ধর্মসভায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কোন প্রকার নির্বাচনী প্রচার, পোস্টার, হ্যান্ডবিল বিলি নিষিদ্ধ করতে হবে।

 

৬. নির্বাচনে সকলের সমসুযোগ দান-

ক. পোস্টার, লিফলেট, বৈদ্যুতিক বিজ্ঞাপন ব্যবহার, মাইক, নির্বাচনী ব্যানার, দেয়াল লিখন, গেইট নির্মাণ ইত্যাদি বিষয়ে যে সব নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা আছে তা ব্যতিক্রমহীনভাবে পালন করতে হবে। স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচ কর্মকর্তা এই বিষয়ে নিশ্চিত করবেন এবং এ ক্ষেত্রে কোন প্রকার আইন ও বিধি ভংগ করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করবেন।

খ.নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার দিন থেকে সকল দলের কেন্দ্রীয় সমাবেশ, মহাসমাবেশ, রাগী, জনসভার বায়কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

গ. নির্বাচনী করা রেডিও-টিভির সময় সমভাবে বণ্টন করা এবং তার খরচের উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে হবে।

ঘ. এসব প্রতিটি বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানের ব্যবস্থা রাখতে হবে এবং লংঘনকারীদের প্রার্থিতা বাতিল করতে হবে ।

৭. নির্বাচন পরিচালনার স্বচ্ছতা বিধান-

(ক) নির্বাচন পরিচালনার জন্য নিয়োগকৃত প্রিজাইডিং অফিসার, এ্যাসিস্ট্যান্ট প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারদের তালিকা নির্বাচনের ১৫ (পনের) দিনের পূর্বেই প্রার্থীদের সরবরাহ করতে হবে যাতে এই বিষয়ে কোন আপত্তি উত্থাপিত হলে তা নির্বাচনের পূর্বেই নিষ্পত্তি করা যায়। 

(খ) নির্বাচনের ভোট গ্রহণ কেন্দ্রের তালিকাও একই ভাবে ১৫ (পনের) দিন পূর্বে প্রকাশ করতে হবে।

জনগণকে অবহিত করতে উভয় বিষয়েই স্থানীয়ভাবে প্রচারের ব্যবস্থা করতে হবে।

৮. নির্বাচনে আইন-শৃংখলা রক্ষাবাহিনীর ভূমিকা-

ক. নির্বাচনের নিরাপত্তা বিধান, সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও নির্বাচনী আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে নির্বাচনের সময় আইনশৃংখলা রক্ষাবাহিনী নির্বাচন কমিশনে ন্যস্ত করতে হবে এবং তার পূর্ণনিয়ন্ত্রণ নির্বাচন কমিশনের থাকবে।

খ. আইনশৃংখলা রক্ষাবাহিনীর সংজ্ঞা পরিবর্তন ও তাদের বিচারিক ক্ষমতা প্রদান করে এর পূর্বেকার তত্ত্বাবধায়ক সরকার ১৯৭২ সালের পি,ও নং-১৫৫ তে বিধি-৮৭এ এবং ৮৯এ-এর মাধ্যমে যে পরিবর্তন সাধন করেছে তা বাতিল করতে হবে এবং ১৯৭২ সালের ঐ জনপ্রতিনিধি আদেশ ও ১৯৯১ সালের নির্বাচনী আইন অনুযায়ী নির্বাচনকালে সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য আইনশৃংখলা রক্ষাবাহিনীর দায়িত্ব ক্ষমতার যে এখতিয়ার ছিল তা পুনর্বহাল করতে হবে।

৯. রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক চর্চা নিশ্চিত করা-

ক. নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলসমূহকে গণতান্ত্রিক বিধি বিধানের ভিত্তিতে পরিচালনা, দলের কর্মকর্তাদের নিয়মিত নির্বাচন, দলের আর্থিক বিবৃতি নির্বাচন কমিশনকে প্রদান বাধ্যতামূলক করতে হবে।

খ. নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নির্বাচনের ব্যাপারে রাজনৈতিক কর্মীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করতে হবে।

 ১০. রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ-

ক. নির্বাচন আচরণ বিধি যা রয়েছে তা কঠোরভাবে প্রয়োগ এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে তার জন্য সহযোগিতা প্রদান করতে হবে। নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা প্রদানের জন্য কেন্দ্র ও জেলা পর্যায়ে সর্বদলীয় পরামর্শ কমিটি গঠন করতে হবে।

 

নির্বাচনী আইন ও বিধির সংস্কার

 

১১. Projection meeting এর আয়োজন নির্বাচন কমিশন করবে।

১২. সংরক্ষিত মহিলা আসনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।

১৩. ইলেকট্রনিক ভোটিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে।

Leave a Comment