কিছু উচ্চাভিলাসী নেতারদের পদত্যাগ

আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় –কিছু উচ্চাভিলাসী নেতারদের পদত্যাগ । যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।

কিছু উচ্চাভিলাসী নেতারদের পদত্যাগ

 

কিছু উচ্চাভিলাসী নেতারদের পদত্যাগ

 

সামরিক শাসনের চির অবসান ঘটিয়ে অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে সার্বভৌম সাংসদ ও জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠার দুর্বার আন্দোলন সৃষ্টির বলিষ্ঠ প্রত্যয়ে যখন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগসহ ১০ দল, পরিষদ, শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্যপরিষদ পথচলা শুরু করেছে, জনমনে সৃষ্টি হয়েছে নবান্ন আশা, ঠিক তেমনি এক সময়ে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জনাব আবদুর রাজ্জাক তাঁর উচ্চাভিলাস চরিতার্থ করার মানসে দলের অভ্যন্তরে আত্মকলহ ও দ্বন্দ্ব দৃষ্টিতে লিপ্ত হন।

তারই ইংগিতে ঢাকা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনি টিউটে ছাত্রলীগ (-) ১লা মে /৮২ তারিখে সম্মেলন অনুষ্ঠান করে। সম্মেলনে তারা আওয়ামী লীগ সংগঠন এর সভানেত্রী সম্পর্কে আপত্তিকর বিভ্রান্তিকর বক্তব্য তুলে ধরে মূল সংগঠনের সুনাম ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অপপ্রয়াসে লিপ্ত হয়।

উল্লেখ্য যে, ছাত্রলীগ (আজ) এবং ছাত্রলীগ (ফ-ডু) এই উভয় গ্রুপই নিজেদের আওয়ামী লীগের সহযোগী ছাত্র সংগঠন হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছিল। ছাত্রলীগ (জা-জা) নিয়মতান্ত্রিকভাবে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে গঠিত কমিটি (-) সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত এবং তাদের নিজেদের সিদ্ধান্ত ও স্বাক্ষর-লংঘন ও অস্বীকার করে পৃথক কমিটি ঘোষণা করে।

তবুও সংগঠনের বৃহত্তর স্বার্থে তাদেরই অনুরোধে এ বিরোধের ন্যায়ানুগ সমাধানের লক্ষ্যে উভয় গ্রুপকে তাদের কর্মতৎপরতা স্থগিত রাখার আহ্বান জানানো হয় এবং একটি উপদেষ্টা কমিটি এ বিষয়ের ফয়সালার দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং ১৯৮২-এর ৪ঠা জানুয়ারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় একই মঞ্চে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালনের অনুরোধ জানানো হয়।

কিন্তু একটি অংশ সেই অনুরোধ উপেক্ষা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে শেষ শহীদকে নিয়ে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান করে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ নেতাদের উপস্থিতিতে বটতলার অনুষ্ঠানে চালানো হয় নগ্ন সশস্ত্র হামলা।

শুধু তাই নয়, আওয়ামী লীগের সকল অনুরোধ উপেক্ষা করেই অনুষ্ঠিত হয় উপরোক্ত ১লা মে- র সম্মেলন। বস্তুতঃ ছাত্রলীগ (-2) কর্তৃক সৃষ্ট সংকট আওয়ামী লীগ সংগঠনে একটি অবাঞ্ছিত পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। সভানেত্রী শেখ হাসিনা ঐকান্তিকতার সাথে সংকট নিরসনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, কতিপয় ব্যক্তি দলীয় সংকট মোচনের পথে অগ্রসর না হয়ে সংকটকে আরও ঘনীভূত করে তুলতে সচেষ্ট হন। সভানেত্রী দলীয় পরিস্থিতি বিচার বিবেচনার জন্য কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভা আহ্বান করলেন।

 

নির্বাহী সংসদের মতামত গ্রহণের পর কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের বর্ধিত সভা আহ্বান করা হয়। জনাব আবদুর রাজ্জাক তাঁর গ্রুপসহ বর্ধিত সভায় যোগদান হতে বিরত রইলেন। তারা বাইরে থেকে সংকটকে আরো ঘনীভূত করে তুললেন।

এমনি পরিস্থিতিতেও সভানেত্রী নাম ধৈর্য ও সহনশীলতার পরিচয় দিয়ে দলীয় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বললেন, “সভায় অনুপস্থিত থাকা শৃংখলা বিরোধী কাজ না। তবুও জনাব রাজ্জাক এবং তার গ্রুপের বোধোদয় হলো না। অবস্থা ক্রমশঃ আয়ত্বের বাইরে চলে গেল। ৩রা আগস্ট জনাব আবদুর রাজ্জাকসহ কেন্দ্রীয়, কার্যনির্বাহী সংসদের ৬ জন নেতার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হলো।

ওঠা আগষ্ট রাজ্জাক সাহেবরা কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের এক তৃতীয়াংশেরও কম সংখ্যক সদস্য মিলিত হয়ে সংগঠনের ৯ জন নেতার বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেয়ার ধৃষ্টতা প্রকাশ করলে জনগণের কাছে তাদের আসল রূপ প্রকাশ পায়। তাঁরা দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সাহস পেল না।।

সমানী বন্ধুরা,

আপনারা জানেন, ১৯৪৯-এ আওয়ামী লীগের জন্যের পর হতেই বহুবার বহু নেতা-কর্মী স্বীয় স্বার্থে ও উচ্চাভিলাস। ছরিতার্থ করার মানসে এবং বিভিন্ন ষড়যন্ত্র ও অন্তত শক্তির প্ররোচনায় কেউ কেউ আওয়ামী লীগ সংগঠনকে “ডানপন্থীদের সংগঠন” রূপে আখ্যায়িত করে নিজেদের তথাকথিত অতি-বিপ্লবী বাম রাজনীতি ও প্রগতির ধ্বজাধানীর পরিচয় দিয়ে, আবার কেউ কেউ একই অভিন্ন কারণে আওয়ামী লীগ সংগঠন “বামপন্থীদের সংগঠন” রূপে আখ্যায়িত করে নিজেদের তথাকথিত Western Democracy, Free Economy ও ইসলামের অকৃত্রিম খাদেম পরিচয় দিয়ে সংগঠন ত্যাগ করেছেন।

এসব নেতা-কর্মীদের নাম উল্লেখ না করেও একটা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে পারি, তাদের পরাগ কোন সময়ই বাংলার গণ-মানুষের প্রাণপ্রিয় সংগঠন আওয়ামী লীগকে দুর্বল করেনি; বরঞ্চ সংগঠনকে করেছে অধিকতর প্রাণবন্ত ও গতিশীল।

 

কিছু উচ্চাভিলাসী নেতারদের পদত্যাগ

 

কর্মী ও গণ-মানুষের সংগঠন আওয়ামী লীগে কোন নেতার দল ত্যাগ কোন দিন সংকট সৃষ্টি করেনি, পলকে করতে পারেনি দুর্বল। মূল সংগঠনের যে কয়জন নেতাকে তিনি সংগে নিতে পেরেছিলেন তাদের অনেকেই রাজ্জাক সাহেবের দূরভিসন্ধি ও নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে আবার মূল সংগঠনে এসে। সভানেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বংগবন্ধুর আদর্শ ও কর্মসূচী বাস্তবায়নের সংগ্রামে লিপ্ত রয়েছেন।

Leave a Comment