আমাদের আজকের আলোচনার বিষয়ঃ ৫ম পাঞ্জাব এর পালটা হামলা। যা ” দ্য বিট্রেয়াল অব ইস্ট পাকিস্তান- এ এ কে নিয়াজি” বইয়ের অংশ।
৫ম পাঞ্জাব এর পালটা হামলা

৫ম পাঞ্জাব (শেরডিলস)-এর পাল্টা হামলা
আমি ৫ম পাঞ্জাব (শেরডিলস)-এ পৌঁছলাম সকালে। কামানগুলো যখন গন্তব্যে নেওয়া হচ্ছিল, আমি ব্যাটারি কমান্ডার মেজর জায়েদিকে সাথে নিই। তিনি আমার কাছে কামান মোতায়েন এবং কামানের নির্দিষ্ট লক্ষ্যস্থলের ব্যাখ্যা দেন।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসান আমাকে সৈন্য মোতায়েন এবং গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত স্থানের বর্ণনা দেন। ভারতীয়দের অবস্থান ছিল উঁচু ভূমিতে, আর ৫ম পাঞ্জাবের অবস্থান ছিল তুলনামূলক কিছুটা নিচু জায়গায় ।
আমাদের অবস্থানের এক জায়গায় ঢালু একটা জায়গা ছিল যা সুবিধাজনক বলে মনে হয়। কারণ, উঁচু অবস্থান থেকে শত্রুরা ঢালু বেয়ে নেমে এলে তারা আমাদের ছোটো ছোটো অস্ত্রের আওতায় এসে পড়বে। পেছনের অবস্থান থেকে আজাদ কাশ্মির ব্যাটালিয়নও শত্রুর ওপর মেশিনগানের গুলি চালাতে পারবে।
দুটি ব্যাটালিয়ন পরস্পরকে সহায়তা করে যাচ্ছিল। এলাকায় একটি পাহাড় ছিল, যে কেউ এখান থেকে পাকিস্তানিদের তৎপরতা দেখতে পারবে। লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসান আমাকে বললেন, ‘পাহাড়টি আগে আমাদের ছিল, কিন্তু বর্তমানে তা ভারতীয়রা দখল করে নেয়। আপনি আসার একদিন আগে আমরা অবস্থানটি হারাই । এটা এখন দখল করে নিয়েছে দুটি ভারতীয় সেনাদল।
আমি কর্নেল হাসানকে নির্দেশ দিই পরদিন পাল্টা হামলা চালিয়ে পাহাড়টি দখল করতে। যেহেতু ব্যাটারি কমান্ডার উপস্থিত ছিলেন, তাকে শত্রুর কয়েকটি লক্ষ্যস্থল দেখানো হয়। পরদিন সকালে আকস্মিক হামলা চালিয়ে শেরডিল পাহাড়টি দখল করে।
ভারতীয় সৈন্যদের বদলি নিয়োগ দেওয়া হচ্ছিল। পুরাতন সৈন্যদের সরিয়ে নতুন সৈন্য মোতায়েন করা হচ্ছিল। পাঞ্জাবের পাঁচজন আহত হন। নিহত হন এনএম নিয়াজি। সফল অভিযানের জন্য আমি ৫ম পাঞ্জাবকে অভিনন্দন জানাই এবং তাদেরকে নতুন এলাকার দায়িত্ব দিই।
আমি জেনারেল আখতারের সাথে যোগাযোগ করি এবং পাল্টা হামলার সাফল্য সম্পর্কে তাকে অবহিত করি। তিনি খুব খুশি হন। আমাকে পরিস্থিতির প্রয়োজনে যে-কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা দেন। আমি ব্রিগেডের ব্যাটালিয়নগুলো পরিদর্শন করি এবং কিছু পরিবর্তন আনি।
এক জায়গায়, বিচ্ছিন্ন লড়াই বেঁধে যায়। সরাসরি অ্যান্টি ট্যাংক গান ফায়ার করে আমরা শত্রুর অবস্থান মুক্ত করি। অস্ত্রগুলো খুলে নেওয়া হয় এবং জায়গা মতো বয়ে নিয়ে আবার পুনর্গঠন করা হয়।
এলাকাটা ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করার পর আমি উড়ি দখলের সিদ্ধান্ত নিই। রাওয়ালপিন্ডির অস্ত্রাগার থেকে আমি দুটি মাউন্টেন গান পাই এবং এগুলো এমন এক আদর্শ জায়গায় স্থাপন করি যেখান থেকে উড়িতে গোলাবর্ষণ করা যায়।
কিন্তু উড়িতে আক্রমণ চালানোর আগে আমাকে শিয়ালকোট যাবার নির্দেশ দেওয়া হয়, যেখানে শত্রুদের হামলা শুরু হয়েছে। মেজর জেনারেল আবরার আমার ১৪তম প্যারা ব্রিগেডকে তার অধীনে স্থানান্তর করার অনুরোধ জানান।

আমি আজাদ কাশ্মির ত্যাগ করি, শিয়ালকোট সেক্টরে পৌছাই এবং জিএসি ও সাঁজোয়া ডিভিশনের কাছে রিপোর্ট করি। এভাবে ১২তম ডিভিশন থেকে আমিও সাঁজোয়া ডিভিশনে স্থানান্তরিত হই এবং জেনারেল আবরারের নেতৃত্বে বেদিয়ানা, চাবিন্দা ও জাফর ওয়ালে যুদ্ধ করি। মেজর জেনারেল আখতার মালিকের অনুরোধে আমাকে ১২তম ডিভিশনে ফিরিয়ে নেওয়া হয় এবং মেজর জেনারেল আবরার হুসাইনের অনুরোধে আমাকে নেওয়া হয় শিয়ালকোট সেক্টরে।
