আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় –প্রতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।
প্রতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা

৫৯। (ক) আওয়ামী লীগের নীতি, আদর্শ, উদ্দেশ্য, কর্মসূচী, গঠনতন্ত্র, নিয়মাবলী বা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থের পরিপন্থী কোন কার্য, পূর্ব পাক আওয়ামী লীগ কাউন্সিল, ওয়ার্কিং কমিটি বা পার্লামেন্টারী বোর্ড বা পার্লামেন্টারী পার্টির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোন কার্য্য করিলে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে পূর্ব পাক আওয়ামী লীগ ওয়ার্কিং কমিটি যে কোন সদস্যের বিরুদ্ধে যে কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে।
(খ) পূর্ব পাক আওয়ামী লীগ ওয়ার্কিং কমিটির শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে পূর্ব পাক আওয়ামী লীগ কাউন্সিলের নিকট প্রতিষ্ঠানের সাধারণ সম্পাদকের মারফত আপিল করা চলিবে এবং এরূপ ক্ষেত্রে কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে।
(গ) আপিলের দরখাস্ত সাধারণ সম্পাদক প্রাপ্তির রসিদ দিয়া গ্রহণ করিবেন এবং কাউন্সিলের নিকট পেশ করিতে বাধ্য থাকিবেন। অন্যথায় কাউন্সিলের যে কোন সদস্য সভাপতির অনুমতি লইয়া বিষয়টি বিবেচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য উত্থাপন করিতে পারিবেন।
(ঘ) কাউন্সিল সভা আহ্বানের নোটিশ দেওয়ার ৭ দিনের মধ্যে উক্ত আপিলের দরখাস্ত সাধারণ সম্পাদকের নিকট দাখিল করিতে হইবে। সাধারণ সম্পাদক এইরূপ ক্ষেত্রে উক্ত বিষয়গুলি কাউন্সিলের কার্যসূচিভুক্ত করিতে বাধ্য থাকিবেন ।
(ঙ) শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নোটিশ প্রাপ্তির ১৫ দিনের মধ্যে আত্মপক্ষ সমর্থন করিয়া উপযুক্ত কারণ দর্শাইবার জন্য সুযোগদানের উদ্দেশ্যে সাধারণ সম্পাদক পোষ্টাল রেজিষ্ট্রেশন যোগে নোটিশ দিতে বাধ্য থাকিবেন।
(চ) শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণিত হইলে অপরাধের গুরুত্ব অনুসারে যে কোনরূপ শাস্তি প্রদানের ক্ষমতা পূর্ব পাক আওয়ামী লীগ ওয়ার্কিং কমিটির থাকিবে।
(ছ) প্রতিষ্ঠানের কোন সদস্যের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে শান্তি প্রদানের জন্য নিম্নস্থ যে কোন শাখা আওয়ামী লীগের লিখিত অনুরোধ পত্র পাইয়া মহকুমা আওয়ামী লীগ ওয়ার্কিং কমিটির নিজেদের সিদ্ধান্ত সমেৎ উক্ত অনুরোধপত্র জিলা ওয়ার্কিং কমিটির নিকট পাঠাইবে। জিলা ওয়ার্কিং কমিটি এ সম্বন্ধে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিয়া উক্ত বিষয় বিবেচনা ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য পূর্ব পাক আওয়ামী লীগ ওয়ার্কিং কমিটির নিকট পূর্ব পাক আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের মারফত পাঠাইবে।
এতদ্ভিন্ন জিলা আওয়ামী লীগ নিজে প্রতিষ্ঠানের কোন সদস্যের বিরুদ্ধে উপরোক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আবশ্যক বোধ করিলে জিলা ওয়ার্কিং কমিটির সিদ্ধান্ত জানাইয়া বিষয়টি বিবেচনা ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য পূর্ব পাক আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের মারফত পূর্ব পাক আওয়ামী লীগ ওয়ার্কিং কমিটির নিকট পাঠাইতে পারিবে।
(জ) প্রতিষ্ঠানের কোন সদস্যের বিরুদ্ধে শান্তি মূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা একমাত্র পূর্ব পাক আওয়ামী লীগ ওয়ার্কিং কমিটির থাকিবে।
(ঝ) প্রত্যেক শাখা আওয়ামী লীগ তাহার উপরোক্ত শাখার নিকট হইতে মঞ্জুরি লইবে। এতদ্ভিন্ন আবশ্যক বোধে পূর্ব পাক আওয়ামী লীগ ওয়ার্কিং কমিটি যে কোন শাখাকে সরাসরি মঞ্জুরি প্রদান করিতে পারিবে।
(ঞ) কোন শাখা আওয়ামী লীগের মধ্যে প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত কোন গোলযোগ বা বিরোধ দেখা দিলে উপরোস্থ শাখা উহা নিস্পত্তি করিতে পারিবে কিন্তু এই নিষ্পত্তির বিরুদ্ধে পূর্ব পাক আওয়ামী লীগ ওয়ার্কিং কমিটির নিকট আপিল করা চলিবে এবং উহার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে।

প্রাতিষ্ঠানিক নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল
৬০। পূর্ব পাক আওয়ামী লীগ ওয়ার্কিং কমিটির প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন সংক্রান্ত গোলযোগ নিষ্পত্তির জন্য ৫ জন সদস্য সম্বলিত একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করিতে পারিবে এবং এই ট্রাইব্যুনালের উপর যে কোনরূপ ক্ষমতা ন্যাস্ত করিতে পারিবে। এই ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ওয়ার্কিং কমিটির নিকট আপিল করা চলিবে। ওয়ার্কিং কমিটির সিদ্ধান্তই এ ব্যাপারে চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে।
